আলীকদমের ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ হতে পারে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পাহাড়ি জলাশয় ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ হতে পারে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা। উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান। গত কয়েক বছর আগে সরকারি অর্থে মাছ চাষের জন্য কৃত্রিম জলাশয় সৃষ্টি করা হয়। এ জলাশয় ঘিরে রয়েছে পাহাড়। সেখানে কটেজ নির্মাণ করে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে ঢাকা ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা।

সম্প্রতি এলাকাটি ঘুরে দেখেছেন ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, পার্বত্য জেলাপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মোস্তফা জামান, ওসি কাজী সাইদুর রহমান, স্থানীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাংবাদিকরা।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার পাহাড়ি ক্রিকে মৎস্যচাষ’ প্রকল্পের আওতায় বছর তিনেক আগে নাইক্ষ্যংঝিরির  উথোয়াই মার্মার মালিকানাধীন জমিতে জলাশয়টি সৃজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। জলাশয় ঘিরে রয়েছে পাহাড়। এখন মাছ চাষ ছাড়াও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে এই জলাশয়।

নির্জন পাহাড়ের বুকের জলাশয়টিতে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন উথোয়াই মার্মা। তিনি যোগাযোগ করেন ঢাকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মাল্টিলিঙ্কেজ লি. এর সাথে। তারা জলাশয়টির নামকরণ করেন ‘হিলি লেক ক্যাসেল’। তাদের পরিকল্পনায় লেকের কুলে নির্মিত হচ্ছে কাঠ-বাঁশ দিয়ে কটেজ। সরকারি অনুমতি পেলে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হবে সেসব কটেজ।

প্রস্তাবিত ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ এর পাশের দুটি পাহাড়ে উথোয়াই মারমার জমি ছাড়াও রয়েছে ৫০/৬০ একর সরকারি খাস জমি। বিজ্ঞান ও পরিবেশ সচেতন চিন্তা-চেতনা নির্ভর এবং পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সংযোজন ঘটানো গেলে ‘হিলি লেকক্যাসেল’ হয়ে ওঠবে প্রাকৃতিক পরিবেশের এক অনন্য পর্যটন কেন্দ্র। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রস্তাবিত এই পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনা করা যেতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্ট কৃত্রিম এই লেক দৈর্ঘ্যে প্রায় ২০০ ফুট এবং প্রস্থে কোথাও ৫০, কোথাও ৩০ ফুট। ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীরতার লেকে সম্প্রতি সংযোজন করা হয়েছে কাঠের একটি নৈৗকা। নৌকায় চড়ে বৈঠা চালিয়ে লেকের এপার থেকে ওপারে ঘুরে বেড়ানো যায়।

মাল্টিলিঙ্কেজ লি. প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির জানান, তারা প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কাজ করা হয়েছে। অনুমোদনের পর এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে।

যেভাবে যাবেন: আলীকদম বাস স্টেশন থেকে লামা-আলীকদম সড়কের তারাবুনিয়ায় নামতে হবে। সেখান থেকে উত্তরদিকে কাঁচামাটির রাস্তা ধরে বাইকে অথবা পায়ে হেঁটে দুই কিলোমিটার এগুলেই নাইক্ষ্যংঝিরির বুকে‘ হিলি লেক ক্যাসেল’ দেখা যায়।

 




আলীকদমে মাতামুহুরী নদী থেকে জুম চাষীর লাশ উদ্ধার

লামা প্রতিনিধি:

আলীকদম উপজেলার মাতামুহুরী নদী থেকে লিংতই ম্রো (৫০) নামক এক জুম চাষীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলার চৈক্ষ্যং এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লিংতই ম্রো ৪নং কুরুক পাতা ইউনিয়নের আমেন পাড়ার লংকক ম্রো এর ছেলে।

করুক পাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, গত ১৯জুন সোমবার লিংতই ম্রো তার জুমের খামারে পূজা করতে যায়। সেখান থেকে সে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নি। বুধবার স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে নদীতে লাশ ভাসার সংবাদ পেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে।

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ময়না তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের আবেদন অনুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রিজিয়নের আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরের মুরুং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষুধ প্রদান করা হয়। আলীকদম সিএমএইচ এর মেডিকেল অফিসার ও একজন মহিলা ডাক্তার চিকিৎসা দেন।

এছাড়াও রোগবালাই, পরিচ্ছন্নতা ও শিশুদের টিকাদান সম্পর্কে অভিভাবকদের মোটিভেশন করা হয়।




আলীকদম অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদম অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে মঙ্গলবার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম, ভাইস চেয়ারম্যান কাইনথপ ম্রো, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার, ওসি কাজী সাইদুর রহমান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান ছাড়াও এতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এতে মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ মসজিদের খতিব মাওলানা মো. আইয়ুব।




স্বপরিবারে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপরিবারে বান্দরবান জেলা সদরের বাসায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছেন। জেলা সদরের অনতিদূরে মেঘলা মৃত্তিকা নামক স্থানে গাড়িটি (নং বান্দরবান-১১-০০২৩)নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসময় গাড়িটি রাস্তা থেকে অন্তত দশ হাত নিচে পড়ে যায়।

উপজেলা পরিষদের ড্রাইভার মো. মোস্তফা জানান, সোমবার সকালে চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বান্দরবান জেলা সদরের বাসায় যাচ্ছিলেন। গাড়িটি মেঘলা এলাকায় পৌঁছলে ব্রেক কাজ না করায় নিয়ন্ত্রণ হারায়। দুর্ঘটনায় গাড়িটির কিছু বহিরাংশ নষ্ট হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী ও ৩ কন্যা সন্তান আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১১ নভেম্বর, ২০১২ সালে উপজেলা পরিষদের এ গাড়িটি লামা-আলীকদম সড়কের কুমারী এলাকার কবিরের দোকান নামক স্থানে আরেকবার দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ওই সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আলীকদম থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কক্সবাজার রামুর ঈদগায় যাচ্ছিলেন।




লামা-আলীকদম সড়কে বিএটিবির রোপিত রেইনট্রি গাছই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ

আলীকদম প্রতিনিধি:

পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদমবাসীর দুঃসহ দুর্ভোগের আরেক নাম বিদ্যুৎ। বছর জুড়েই লেগে থাকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে লামা-আলীকদম সড়কে বিদ্যুৎ লাইনের পাশে রোপিত রেইনট্রি গাছ। সস্তা জনপ্রিয়তা কুড়াতে নব্বইয়ের দশকে কথিত এ সড়ক বনায়ন করেছিল ব্রিটিশ আমেরিকার ট্যোবাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)। দেশীয় আবহাওয়ার জন্য উপযোগী গাছ রোপন না করে সড়কের দু’পাশে লাগানো হয় রেইনট্রি গাছ।

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে অন্যান্য উপজেলার মতো লামা-আলীকদমে ঘরবাড়ি ও গাছপালা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি করুণ দশার সৃষ্টি হয় এ দু’উপজেলার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে। লামা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আওতাধীন এ দু’উপজেলার ৩৩ হাজার ও ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ে অর্ধ শতাধিক। শতাধিক স্থানে সড়ক বনায়নের ক্ষণভঙ্গুর রেইনট্রি গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়েছে বৈদ্যুতিক লাইনে।

বিএটিবির কথিত এ সড়ক বনায়নের গাছগুলি লামা-আলীকদমবাসীর জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে দেখা দেয়। ঘুর্ণিঝড় মোরার আঘাতের পর আলীকদম উপজেলা সদরে টানা ১১ দিন পর বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ থাকে। তিন সপ্তাহ হতে চললেও এখনো পর্যন্ত উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা সড়কের পাশে এ বনায়নকে অপরিকল্পিত হিসেবে দাবি করছেন। তাদের মতে, তামাক প্রক্রিয়া জাতকরণের কাজে তামাক কোম্পানীগুলোর তালিকাভূক্ত চাষীরা প্রতিবছর এ দু’উপজেলায় লক্ষ লক্ষ মন কাঠ পোড়ায়। বৃক্ষ নিধনের মহোৎসবকে আড়ালকরতে এবং সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের লক্ষ্যে বিএটিবি লামা-ফাঁসিয়াখালী, লামা-সুয়ালক ও লামা-আলীকদম সড়কের দু’পাশে অপরিকল্পিতভাবে রেইনট্রি গাছ রোপন করে। যা দ্রুত বর্ধনশীল। কয়েক বছর পরেই ডালপালা ছড়িয়ে পড়ে। সামান্য ঝড়ো বাতাসে রেইনট্রি গাছের ডালপালা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ভেঙ্গে পড়ে। ফলে বিপর্যয় ঘটে বিদ্যুৎ সরবরাহে। প্রতি বছর সড়ক বনায়নের ডালাপালা কর্তনে বিদ্যুৎ বিভাগ লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেয়। এ টাকা নিয়েও নয় ছয়ের অভিযোগ রয়েছে।

আলীকদম বাজারের ব্যবসায়ী ও আ’লীগ নেতা সমর রঞ্জন বড়ুয়া জানান, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ সড়কের পাশে বিএটিবির অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপন। গাছগুলো অনেক বড় হয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে প্রতিবন্ধকতা করছে। বাতাসে গাছের ডাল ভেঙ্গে বিদ্যুৎ লাইনে আচড়ে পড়ে। ফলে সব সময় লামা-আলীকদমে বিদ্যুৎ সরবরাহে নাজুক অবস্থা হয়। এসব গাছ আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হয়েছে বেশি। তাছাড়া এ সকল গাছ আবহাওয়া উপযোগীও নয়।

ঘূর্ণিঝড় মোরা পরবর্তী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জরুরী বৈঠকেও বিদ্যুৎ লাইনের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিএটিবির সড়ক বনায়নকে। এ গাছগুলি কেটে পামঅয়েল কিংবা অন্য কোন সৌন্দর্য বর্ধনকারী গাছ রোপনের পরার্মশ দেওয়া হয়েছে।

সড়কের পাশে রেইনট্রি গাছ লাগানোর ফলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী অলিউল ইসলাম বলেন, রেইনট্রিগুলো সামান্যবাতাসে ভেঙ্গে পড়ে। তাই এসব অপসারণ করে তাল, গর্জনসহ শক্ত জাতের গাছ লাগানো জরুরী হয়ে পড়েছে।




২০ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই আলীকদমের নয়াপাড়ায়


আলীকদম প্রতিনিধি:
ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র তাণ্ডবের ২০ দিন পার হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি আলীকদমের নয়াপাড়া ইউনিয়নে। এতে দুর্ভোগে রয়েছে ৫ হাজার মানুষ।

বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে লামা বিদ্যুৎ বিতরণের আবাসিক প্রকৌশলী অলিউল ইসলাম বলেন, ‘আসলে আমি জানতাম না যে আলীকদমে নয়াপাড়া নামে একটি ইউনিয়ন আছে’!

স্থানীয় সংবাদকর্মী হাসান মাহমুদ জানান, গত ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতের পর শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয় পাশাপাশি নয়াপাড়া ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটি ও তার ছিড়ে যায়। লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগ ১১ দিন পর আলীকদম উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেও এখনো উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার দুরে অবস্থিত নয়াপাড়া ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি সংশ্লিষ্টরা।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী গত ৪ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন কালে যেকোন মূল্যে তিন দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দিলেও বিদ্যুৎ বিভাগ তা আমলে নেয়নি।

অপরদিকে, সদর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এ বিষয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা বলেন, আমি আবাসিক প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করেছি। তিনি বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন এবং সরঞ্জাম ও লোকবলের স্বল্পতার কথা বলেন। তবে শীগ্রই বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।




পাহাড়ি ঢলে আলীকদমের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

 

আলীকদম প্রতিনিধি:

টানা তিনদিনের প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লামা-আলীকদম সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আলীক দমের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সোমবার বন্ধ থাকলেও মঙ্গলবার থেকে চালু হয়েছে।

তবে বর্ষণ বাড়লে আবার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে পাহাড় ধ্বস ও বন্যার আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে অন্যান্য সময় মাইকিং করা হলেও এবার কোন রকম মাইকিং করা হয়নি।

সূত্র জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত রোববার রাত থেকে অবিরাম বর্ষণের ফলে উপর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢালে  সোমবার দুপুর থেকে আলীকদম উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু করে।

প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে রোয়াম্ভু, নয়াপাড়া, বাজারপাড়া, ছাবের মিয়া পাড়া, রেপারপাড়া, চৈক্ষ্যং, ভরিরমুখ প্রভৃতি। এসব এলাকায় নদীর তীরবর্তী ও ঝিরি সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার আশঙ্কায় স্থানীয়রা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

আলীকদম ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন জানান, বন্যা পরবর্তী ত্রাণ তৎপরতা শুরু করা হবে। কোন কোন এলাকা প্লাবিত হয়েছে তার খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।




লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চরম বিপর্যয়

লামা প্রতিনিধি:

লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। গত এক মাস যাবত বিদ্যুৎ গ্রাহকগণ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছে। সড়কের পাশে অপরিকল্পিত বনায়ন, নিম্নমানের খুঁটি স্থাপন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড় মোরার কারণে উপজেলা সমূহের বিদ্যুৎ সরবরাহে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ঘূর্ণিঝড় মোরায় সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তেত্রিশ হাজার কেভি এবং এগারো হাজার ভোল্টেজের শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি ঘূর্ণিঝড় মোরায় ভেঙে গেছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। উপজেলা সদর সমূহে জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও তা দিনের দুই এক ঘন্টার বেশি থাকে না। বর্তমানে উপজেলাসমূহের দুই শতাধিক গ্রাম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পতিত। কবে নাগাদ উপজেলা সমূহের সর্বত্র বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে তা জানাতে পারছে না পিডিবি।

স্থানীয়রা জানায়, তামাক প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য লামা-আলীকদম-চকরিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির সড়কের দুইধারে বিএটিবি তামাক কোম্পানিগুলো অপরিকল্পিতভাবে রেইন ট্রি গাছ রোপণ করেছে। যা খুব দ্রুত বেড়ে উঠে এবং ডাল-পালা ছড়িয়ে পড়ে। সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় এসকল গাছের ডাল-পালা ভেঙ্গে গিয়ে ও উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আবার সামান্য বাতাসেই গাছ ভেঙ্গে বিদ্যুতের তার ও খুঁটি ভেঙ্গে যায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা।

তাছাড়া সড়কের দুপাশের গাছ-পালার ডাল নিয়মিত না কাটায় সামান্য বাতাসেই বিদ্যুৎ বিপর্যস্ত হয়। আলীকদম উপজেলা চেয়্যারম্যান মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, আলীকদমের বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারের কোন ধরণের নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পিডিবি মানুষ মনে করে না বলে মনে হয়। একটি এনজিওর লামা উপজেলা ব্যবস্থাপক মেহেরুন্নেছা মেরি জানিয়েছেন, বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনার কারণে ল্যাপটপের চার্জ থাকে না। সে কারণে নিয়মিত অফিস রিপোর্ট পাঠাতে পারি না।

গৃহিণী তাসলিমা আক্তার জানিয়েছেন, বিদ্যুতের অবব্যস্থাপনার কারণে-টিভি, ফ্রিজ, আইপিএস, মোবাইলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সামগ্রীগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে। লামা উপজেলা পরিষদ সদস্য জটিলা রানি শীল বলেছেন, স্থানীয় মেম্বার সাগর বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিকট থেকে মিটার প্রতি একশত টাকা নিয়েছেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ ঠিক করা হচ্ছে না।

অপর গৃহিণী রোকেয়া বেগম জানিয়েছেন, লো ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক সামগ্রীগুলো নষ্ট হয়ে যায়। মোটর দিয়ে পানি উঠানো যায় না। ফ্যান ব্যবহার করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই লামার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। লামা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় জানানো হয় যে, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে অফিস-আদালতের কাজকর্ম ঠিকমতো করা যায় না। অফিসিয়াল রিপোর্ট কম্পিউটার ও ল্যাপটপ হওয়ায় বিভাগীয় কার্যক্রমের রিপোর্ট প্রস্তুত ও প্রেরণ করা যায় না।

লামা ও আলীকদমের বিদ্যুৎ চকরিয়া থেকে এবং নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুতের তেত্রিশ হাজার ভোল্টেজের লাইন কক্সবাজার থেকে সংযোগ দেয়া হয়েছে। তেত্রিশ হাজার ভোল্টেজের লাইনসমূহের ব্যবহৃত তার ও খুঁটি খুবই নিম্নমানের বলে জানা গেছে।  আবার লামা আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুৎ বিতরণের নিয়ন্ত্রণ কক্সবাজার থেকে করা হয়। যে কারণে এ উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংশ্লিষ্টগণ খাম-খেয়ালিপনার আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। লোডশেডিং এ কোন ধরণের নিয়ম-নীতি মানা হয় না। বিদ্যুৎ কখন যাবে আর কখন আসবে গ্রাহকগণ সে বিষয়ে অবগত নন।

লামা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম বলেছেন, লামায় আমি নতুন যোগদান করেছি। মোরায় বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তারপরও বিপর্যয় থেকে কেটে উঠার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, লামা আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা বান্দরবান জেলার অধীনে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।




কারিতাসের কৃষি উপকরণ বিতরণ

 

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদমে কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের উদ্যোগে উপকার ভোগীদের মাঝে আমন বীজ বিতরণ করা হয়েছে। একশ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ৪০ কেজি ব্রি-৩৯, ৮০ কেজি ব্রি-৪৯ ও ৮০ কেজি বিআর-১১ ধান বিতরণ করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

মাঠকর্মকর্তা মিসেস জেসমিন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী সাইদুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মামুন ইয়াকুব, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জুনায়েদ কবির, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা কল্লোল কুমার সেন ও জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা নেছারুল আলম খান প্রমুখ।