আলীকদমে র‌্যাবের অভিযানে ১৩টি অস্ত্র ও ১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার: আটক ৩

আলীকদম প্রতিনিধি:

শুক্রবার(১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পান বাজারে র‌্যাবের অভিযানে ১৩টি অস্ত্র ও ১৯ রাউন্ড গুলিসহ ৩জনকে আটক করা হয়েছে। কক্সবাজার র‌্যাবক্যাম্পের এএসপি সৈয়দ মহসিনুল হক এ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পান বাজারে এ অভিযান চালায় র‌্যাব সদস্যরা।

এ সময় ১ নলা ৫টি ও ৮টি ওয়ানস্যুটার বন্দুকসহ ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এরা হলেন, মো. দুলাল (২৮), আসকার আলী (১৮) ও মো. ফারুক হোসেন (২৬)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আটককৃতরা আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলারঝিরি এলাকার বাসিন্দা। আটক ব্যক্তিরা দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে ফুলঝাঁড়ুর বান্ডিলের ভেতরে কৌশলে এসব অস্ত্র বহন করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আটক ও অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

কক্সবাজার র‌্যাব ক্যাম্পের এএসপি সৈয়দ মহসিনুল হক জানান, আটককৃতদের র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।




আলীকদমে বালি ভর্তি ট্রাককে জরিমানা

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদম উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অবৈধ বালি ভর্তি ট্রাককে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। কিছুদিন ধরে সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের অজুহাতে একশ্রেণির বালি ব্যবসায়ী নদী, খাল ও কৃষি জমির টপসয়েল খুঁড়ে অবৈধ বালি ব্যবসা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বুধবার দুপুরে জানান, ২০১০ সালের বালিমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ৪ ধারা মতে একটি বালি ভর্তি ট্রাক আটক করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বালি ভর্তি ট্রাকটি নয়াপাড়া ইউনিয়নের ভরাখাল থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করছিল। এ অভিযোগে ট্রাকের ড্রাইভার মো. পারভেজ (২১) এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে অভিযোগ আনা হয়। অভিযুক্ত ড্রাইভার চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মো. আকতারের ছেলে।

উল্লেখ্য, আলীকদমে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাস্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের অজুহাতে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ‘মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০’ এর তোয়াক্কা না করে মাতা মুহুরী নদী, বিভিন্ন খাল ও হোল্ডিং-খতিয়ানভূক্ত জমির টপসয়েল বিক্রির ব্যবসায় নেমেছে।

ঠিকাদাররা বলেন, এ উপজেলায় কোন বালিমহাল না থাকায় স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তাদেরকে বালি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সে সুযোগে বালু ব্যবসায়ীরা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অজুহাতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া যত্রতত্র থেকে বালি উত্তোলন করছে। এ কারণে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।




লামাকে জেলা করার গণআবেদন: আলীকদমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

 

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গণআবেদনের দাবিকে ভূয়া ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন মহল। তাদের দাবি আলীকদমবাসী কখনোই লামাকে জেলা ঘোষণার দাবি করেননি। আমরা পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাই।

উল্লেখ্য, ১৩ জানুয়ারি শনিবার একটি আঞ্চলিক দৈনিকে প্রকাশিত ‘লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গণআবেদন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদে প্রকাশ, লামাকে জেলা ঘোষণার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গণ আবেদন দেয়া শুরু করেছে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাবাসী। এ সংবাদ প্রকাশের পর আলীকদমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

উপজেলার চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মাস্টার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ভৌগলিক অবস্থার দিক থেকে লামার তুলনায় আলীকদমের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাছাড়া আলীকদম উপজেলা থেকে পার্শ্ববর্তী তিনটি উপজেলার দুরত্ব সর্বোচ্চ ২০-৩০ কিলোমিটারের মধ্যে। যার কারণে বান্দরবান জেলাকে ভেঙ্গে যদি নতুন একটি জেলা করতে হয় তাহলে সব দিক থেকে আলীকদমই উপযুক্ত। গণস্বাক্ষরে আলীকদমবাসীর স্বাক্ষর আছে মর্মে দাবিটি মূলত ভূয়া।

একইভাবে নিন্দা জ্ঞাপন করে আলীকদম প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমার জানামতে, কোন ব্যক্তি আলীকদমবাসী পরিচয়ে লামাকে জেলা করার দাবিসম্বলিত আবেদনে স্বাক্ষর করেননি। জেলার দাবি নিয়ে গণস্বাক্ষরের বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন কারো কাছ থেকে কাম্য নয়।

উন্নয়নকর্মী উইলিয়াম মার্মা বলেন, আমাদের জানামতে আলীকদমবাসীর পক্ষে কোন ব্যক্তি লামাকে জেলা করার আবেদনে স্বাক্ষর করেন নি। আলীকদমবাসীর নাম ব্যবহার করে এসব বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ লামাবাসীর জেলা ঘোষণার দাবিকেই মূলত খাটো করছে।

আলীকদমের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনএম মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, মহকুমা ডিমোশন হয়ে উপজেলায় রূপান্তর হয় তা কিভাবে জেলার দাবি রাখে ! বর্তমানে আলীকদম সেনা জোন থেকে ব্রিগেড ও ক্যান্টেন্টমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ হয়েছে। আগামীতে এয়ার ফোর্সের জন্য প্লেনের মাঠ হবে। বিজিবির সেক্টর কমান্ডের সদর দপ্তরটিও আলীকদম। আলীকদম সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়ায় একটি সরকারি আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হচ্ছে। আলীকদম থেকে লামা-থানছি পর্যন্ত সড়ক এবং হাইওয়ে হয়েছে। আলীকদম উপজেলায় বার্মার সাথে সাথে স্থল বন্দর হচ্ছে। আর এ সবের ঠিক মধ্যখানে আলীকদম উপজেলার অবস্থান। আলীকদমকে একটি প্রাকৃতিক দুর্গ বলা চলে। এমন সুন্দর, প্রকৃতির মানসকন্যা আলীকদমই জেলা হওয়ার একমাত্র দাবীদার। আশেপাশের সব উপজেলার সাথে মাত্র ৩০-৬০ মিনিটের মধ্যেই যে উপজেলার সাথে যোগাযোগ করা যায় যে উপজেলাটি জেলা না হয়ে পারে কি? আমি আশা করব যারা বিভিন্ন উপজেলাকে জেলা করার দাবি করেন তারা যেন একটু সুস্থ সুন্দর মন নিয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টি দিয়ে বিষয়টি ভাবেন।

অন্যদিকে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সমরঞ্জন বড়ুয়া জানান, লামাবাসীরা নিজেরাই নিজেদের কল্যান চান না। যার কারণে সরকার যখন লামা উপজেলার দুর্গম ইউনিয়নগুলোকে নিয়ে নতুন একটি উপজেলা সৃষ্টির জন্য ২৮ ডিসেম্বর গণশুনানীর দিন ধার্য্য করে, তখন লামার লোকজনই তার বিরোধিতা করেছে। সুতরাং লামাকে জেলা চাওয়াটা সম্পুর্ণ হাস্যকর। জেলা যদি হয় তাহলে আলীকদমই জেলা হওয়ার যোগ্য।




পাথর দস্যুতার কবলে লামা বন বিভাগের মাতামুহুরী রেঞ্জ

আলীকদম প্রতিনিধি:

পাথর দস্যুতার কবলে পড়েছে লামা বন বিভাগের মাতামুহুরী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। পাথর দস্যুরা এখন বেপরোয়া। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করে চলছে রাতে দিনে পাথর উত্তোলন। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযুক্তদের নামের তালিকা দিয়ে অভিযোগ করেছেন।

প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, বান্দরবান জেলার আলীকদমে মাতামুহুরী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমির ওপর দিয়ে ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আলীকদম-কুরুকপাতা-পোয়ামুহুরী সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। এ বনাঞ্চলটি লামা বন বিভাগের আওতাভূক্ত। ১ লক্ষ ৩ হাজার একর আয়তনের বিশাল এ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের খাল ও ঝিরি থেকে অবৈধ ভাবে লাখ লাখ ঘনফুট পাথর উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে আলীকদম উপজেলায় কোন ঝিরি-খাল থেকে পাথর উত্তোলনের সরকারি অনুমতি নেই। আমার দপ্তর থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে গত ২ জানুয়ারি একটি পত্র দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে।

অভিযোগকারী পারাও ম্রো বলেন, বর্তমানে মাতামুহুরী রিজার্ভের ঠাণ্ডারঝিরি, ধুমচিখাল, বুঝিখাল, তুলাতলী, বাগানঝিরি, মহেশখালীঝিরি, ক্রাইক্ষ্যংকলারঝিরি, বলিরঝিরি, কালাইয়ারছড়া, কচুরছড়া, লাম্বু, বাম্বু ও ফুইট্টারঝিরি থেকে নির্বিচারে পাথর আহরণ করা হচ্ছে। এসব পাথর উত্তোলন ও পরিবহন কাজে আলীকদমের আবুমং মার্মা, জামাল ওরফে বাইট্টা জামাল, ইউনুচ, আবুলকালাম ঠিকাদার, শুভরঞ্জন, নাছির, ইলিয়াছ, মংচিংথোয়াই ও অংহ্লাচিংএবংচট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আব্দুর রহিম জড়িত।

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, আব্দুর পাথর উত্তোলনের কাজে জড়িত শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীরা একটি সরকারি সংস্থার মদতপুষ্ট।

অভিযুক্ত আবু মংমার্মা বলেন, আমি রিজার্ভের বেশ কয়েকটি ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি। প্রশাসন তদন্তের মাধ্যমে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দিলেই আমি পাথর তুলবো। অপরদিকে, আবুল কালাম ঠিকাদার বলেন, আমি রিজার্ভের বাইরে থেকে নানান উপায়ে পাথর সংগ্রহ করছি। এসব পাথর সরকারি কাজে ব্যবহার হবে।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাইন থপ ম্রো বলেন, নির্বিচারে পাথর উত্তোলন করার কারণে এলাকার পরিবেশ-প্রকৃতির ক্ষতির আশঙ্কা আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব নিয়ে স্মারক লিপি ও অভিযোগ পেশ করায় আমাকে একটি সংস্থার লোকজন গত সপ্তাহে ডেকে নিয়ে হুমকী ও নাজেহাল করেছেন। এখন কোথাও অভিযোগ করার উল্টো অভিযোগকারীরাই হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

মাতামুহুরী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার সামসুল হুদা বলেন, বিভিন্ন ঝিরি ও খাল থেকে পাথর উত্তোলনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাথর শ্রমিক ও পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বনকর্মীরা রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। হাতেনাতে পাথর শ্রমিক, ব্যবসায়ী কিংবা পরিবহনে জড়িত গাড়ি পেলেই বনআইনে মামলা দেওয়া হবে।

লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বনআইন ১৯২৭ মতে পাথর হচ্ছে বনজ সম্পদ। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া যারা পাথর উত্তোলন করছে তাদেরকে হাতেনাতে ধরা গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ভাবেই সংরিক্ষত বনভূমি থেকে পাথর উত্তোলন করতে দিবে না বনবিভাগ।




 আলীকদমের বাবুপাড়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ৪ দোকান

আলীকদম প্রতিনিধি

আলীকদম উপজেলার বাবু পাড়ায় ফরেস্ট বিটের পাশে শনিবার(৬জানুয়ারি) রাতে আগুনে পুড়ে গেছে ৪টি দোকান। এতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছেন নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা। বৈদ্যুতিক শর্টসার্টিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জানান, শনিবার দিবাগত রাতে বাবু পাড়া ফরেস্ট বিটের পাশের বন্ধ দোকানপাটের দক্ষিণ কর্ণারে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। লামা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই চারটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবদুল হামিদ জানান, অগ্নিকাণ্ডে তার দোকানে রক্ষিত নগদ টাকাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। রবিবার(৭জানুয়ারি) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ, চাল ও কম্বল বিতরণ করা হয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে।




আলীকদম-ঢাকা শ্যামলী পরিবহনের বাস সার্ভিস উদ্বোধন

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদম উপজেলা হতে সরাসরি ঢাকায় বাসসার্ভিস উদ্বোধন হয়েছে শুক্রবার(৫জানুয়ারি) সন্ধ্যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের কমান্ডার লে. কর্ণেল মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান, পিএসসি।

এ উপলক্ষে প্রেসক্লাব চত্ত্বরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আলীকদম জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর নাফিউ, শ্যামলী পরিবহনের জিএম বাবুল আহমেদ ও টিপু সোলতান, চকরিয়া-লামা-আলীকদম জীপ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুর আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনকমান্ডার বলেন, আলীকদম-লামা থেকে সরাসরি ঢাকায় শ্যামলী পরিবহনের বাসসার্ভিস উদ্বোধনের মধ্য দিয়েএ জনপদ আরো একধাপ এগিয়ে গেলো। এর আগে লামা-আলীকদম থেকে রাজধানী ঢাকার সাথে সরাসরি কোন পরিবহন ছিলনা। শ্যামলী পরিবহনের মাধ্যমে এ দু’উপজেলার পরিবহন জগতে নব দিগন্তের সূচনা হলো। এর মাধ্যমে আলীকদমে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে আলীকদম জোন থেকে প্রদত্ত প্রেসনোটে বলা হয়, আলীকদমবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে জোন কমান্ডারের প্রচেষ্টায় শ্যামলী পরিবহন, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সাথে সমন্বয় করে এ পরিবহন চালু করেন। সরাসরি রাজধানীর সাথে শ্যামলী পরিবহন চালুর মাধ্যমে এখানকার জনসাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ এবং উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ লাভ করবে। প্রেস নোটে আরো বলা হয়, অল্প কিছুদিনের মধ্যে আরো একটি পরিবহনের বাস আলীকদম থেকে সরাসরি ঢাকায় যাত্রা শুরু করবে।




আলীকদমে সন্ত্রাস মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সভা

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদমে সন্ত্রাস মাদক ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার(৩জানুয়ারি) উপজেলার নয়াপাড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক উল্লাহ। ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি মো. মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক হাসান মাহমুদ, নয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, ইউপি সদস্য মো. ইছাহাক, আক্তার আহামদ, ইয়াছমিন আক্তার ও অংক্রা মার্মা প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বরোধী কার্যক্রমে সফলতা অর্জন করেছে। জনগণ সচেতন থাকলে জঙ্গিবাদ এ দেশে ঠাঁই পাবে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা না গেলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো যাবেনা। বর্তমানে দেশে মাতৃমৃত্যুর ও শিশুমৃত্যুর হার অনেক কমে গেছে।




আলীকদমে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩০তম জন্ম মহোৎসব উদযাপন

আলীকদম প্রতিনিধি:

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বান্দরবানের আলীকদমে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩০তম জন্ম মহোৎসব উদযাপন করা হয়েছে।

উপজেলা সদরস্থ সৎসঙ্গ কেন্দ্রের আয়োজনে ঠাকুরের এই জন্ম মহোৎসব উদযাপন হয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শংকর চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক উল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ও ইউপি মেম্বার সন্তোষ কান্তি দাশ।

অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচক ছিলেন প্রকৌশলী আশীষ চৌধুরী, সুভাষ আচার্য্য, তিমির কান্তি সেন, অনিল দেবনাথ, মৃদুল কান্তি ধর, অধ্যাপিকা রত্মা চক্রবর্তী, নারায়ণ মজুমদার, বন বিহারী দে, বিপ্লব চৌধুরী, পংকজ ইন্দু চৌধুরী, শ্যামল কান্তি চৌধুরী, অজয় ধর ও স্বপন দে প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সুব্রত মল্লিক।




আলীকদমে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এডভোকেসি সভা

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদমে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদযাপনের লক্ষ্যে বুধবার (২৭ডিসেম্বর) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এডভোকেসি সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘পরিকল্পিত পরিবার গড়ি, মাতৃমৃত্যু রোধ করি’ এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হবে।

এ উপলক্ষে বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, এমসিএইচএন্ডএফপি’র মেডিকেল অফিসার ডা. বেলাল উদ্দিন আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান, ফোগ্য মার্মা, ক্রাতপুং ম্রো ও প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ।

সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এম. দিদারুল আলম পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ’র উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ২০২২ সালে মাতৃমৃত্যুর হার ১০৫ (প্রতি লাখ জীবিত জন্মে), ২০৩০ সালে ৭০-এ কমিয়ে আনা (প্রতি লাখ জীবিত জন্মে), এসডিজি অর্জনের জন্য লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করার বিষয় উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষ্যে ৩০ ডিসেম্বর বাবুপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও সদর ক্লিনিক ও তৈন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে, ১ জানুয়ারি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে ২ জানুয়ারি তৈন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে, ৩ জানুয়ারি আমতলী কমিউনিটি ক্লিনিকে ও ৪ জানুয়ারি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে মা ও শিশু সেবা ও এলএআরসি-পিএম সেবা প্রদান করা হবে।




আলীকদমে মুখ থুবড়ে আছে পানি সরবরাহ প্রকল্প

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বিশুদ্ধ পানির সংকট লাঘবে গৃহীত পানি শোধনাগার প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এরফলে উপজেলার পাহাড়ি-বাঙ্গালী জনসাধারণ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, আলীকদম উপজেলার পানীয়জলের সংকট লাঘবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাতামুহুরী নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে এলাকায় সরবরাহের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গত ২০১১ সালের ১১ জুন প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালিন চেয়ারম্যান বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। কাজটি শুরুর পর ছয়মাস পর প্রকল্পের অর্থসংকটে থেমে যায়।

জানা গেছে, প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে আলীকম উপজেলার সদরসহ আশপাশের বাসিন্দাদের তীব্র পানি সংকট পোহাতে হয়। এ সংকট নিরসনে পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলা সদরে পানি শোধনাগার প্রকল্প হাতে নেয়। এ লক্ষ্যে উপজেলার পুরাতন ডাক বাংলো সংলগ্ন এলাকায় পানি শৌধানাগার নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের দীর্ঘ ৬ বছর পরও শেষ হয়নি এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলা সদর এলাকায় অন্তত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ বিশুদ্ধ পানির সুফল ভোগ করবেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল সূত্র জানায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে উপজেলা সদরে পানি শৌধানাগার নির্মাণ প্রকল্পের কারিগরি সহায়তা দেবার কথা রয়েছে।  তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের। প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করতে দেড় কোটি টাকার বরাদ্দ প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, আলীকদম পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব সরকারের উচ্চ মহলে চুড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বরাদ্দ আসলেই বাকী কাজ শুরু করা হবে।