আলীকদমে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে ৫৩ পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বান্দরবান জেলা ইউনিটের উদ্যাগে ৩০ হাজার টাকা হারে ৫৩টি উপকারভোগী পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়েছে। ইকনোমিক সিকিউরিটি প্রজেক্টের আওতায় আয়বৃদ্ধিমূলক কাজের অনুকূলে নগদ অর্থ প্রদানের লক্ষ্যে এসব চেক বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বান্দরবান জেলার সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা সাংবাদিক একেএম জাহাঙ্গীর-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি ছিলেন লামা-আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মধ্যদিয়ে দারিদ্র বিমোচন করে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নানা মুখি কাজ করছে। এই এলাকা জমির পর্যাপ্ততা হেতু কৃষি ও পশু পালনের লাভজনক-অনুকুল পরিবেশ রয়েছে। সূতরাং উপকারভোগী পরিবাররা এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে নিজেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতি বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সমাজের বিভিন্ন সেবামূলক কাজে সর্বদাই সক্রিয় ভূমকিা পালন করছে। ইউনিটের সদস্যরা অত্যন্ত গতিশীল ও কর্মমূখর থেকে বিভিন্ন কার‌্যক্রম সম্পাদন করে আসছে। কার্যক্রমগুলোর মধ্যে দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা প্রদান, স্বেচ্ছায় রক্ত দান কর্মসূচির আয়োজন, রক্ত সংগ্রহ, প্রাথমিক চিকৎসা প্রদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ আয়োজন, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন  ইত্যাদি।

এর আগে ৫৩টি উপকারভোগী পরিবারের প্রধানদেরকে পশুপালন ও কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন, উপজেলা কৃষি ও প্রাণি সম্পাদ অফিসার। প্রশিক্ষণ শেষে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্যে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

সোসাইটির এরিয়া প্রজেক্ট অফিসার সামসুল আলম জানান, এই টাকায় উপকারভোগীরা আত্মনির্ভর হতে কাজ করছে কিনা; তা আগামী ২৪ মাস পর্যন্ত সোসাইটির কর্মকর্তারা নিবিড় মনিটরিং-এ থাকবে।

সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর জানান, এটি একটি পাইলট প্রকল্প, জেলার ৫টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চলছে। উপকারভোগীদের কর্মকাণ্ড ইতিবাচক হলে এই প্রজেক্ট আরো সম্প্রসারিত হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে ছিলেন, চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান, সদস্য অলিউর রহমান, প্যানেল চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, লামা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মো.কামরুজ্জামানসহ সোসাইটির ঢাকাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় উপকারভোগি গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




পার্বত্যনিউজ-এ সংবাদ প্রকাশের পর আলীকদমে স্কুলের টাকা লুটপাট তদন্তে কমিটি


আলীকদম প্রতিনিধি:
আলীকদম উপজেলার ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সরকারি বরাদ্দের ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক ও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যানের (স্লিপ) টাকা লুটপাটের বিষয়ে গত ১২ অক্টোবর পার্বত্যনিউজ-সহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা শিক্ষা কমিটি। মঙ্গলবার একটি বিদ্যালয়ের অনিয়মের তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইস্কান্দর নুরী। ‘আলীকদমে স্কুল মরোমত ও স্লপিরে টাকা লুটপাট’ শিরোনামে পার্বত্যনিউজ-এ ১২ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশিত হয়।

উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য অংশেথোয়াই মার্মা ও জিয়াবুল হক জানান, রবিবার অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত সভায় কয়েকটি স্কুলে স্লিপের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে আলোচনা হয়। এ ব্যাপারে তদন্ত করতে সভার বেশিরভাগ সদস্য একমত হন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইস্কান্দর নুরী বলেন, মঙ্গলবার অসতি ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে। চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও থোয়াইচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি বিদ্যালয়ে স্লিপসহ অন্যান্য অনিয়মের তদন্তের জন্য ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আলমগীরকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আলমগগীর জানান, প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তদন্তের জন্য আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে জেনেছি। তদন্তের চিঠি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, গত দুই অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক, ক্রীড়া পুরস্কার ও স্লিপের বিদ্যালয়ভিত্তিক বরাদ্দের টাকা কাজ না করে লুটপাট করেন কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এসব টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, অগ্রাধিকারভিত্তিক ছোট ছোট সংস্কার কাজ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তাসহ বিভিন্ন কাজে এসব টাকা ব্যয় করার কথা ছিল।




আলীকদমে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত

আলীকদম প্রতিনিধি:

‘অভিবাসনের ভবিষ্যৎ বদলে দাও, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াও’ স্লোগানকে মূলসুর করে বান্দরবানের আলীকদমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্প অফিসের সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুন ইয়াকুবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম। এতে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুনায়েদ কবির, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজা, খামারবাড়ি প্রকল্প সমন্বয়ক সান্তুনু মহাজন, কারিতাস-খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা মিসেস জেসমিন চাকমা প্রমুখ।

সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক-কৃষাণী ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের উপকারভোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে কারিতাসের উদ্যোগে ৫০জন উপকারভোগীর মাঝে চাহিদা ভিত্তিক আলু চারা বিতরণ করা হয় এবং ৩০জন কৃষকের মাঝে ভার্মি কম্পোস্ট সহায়তা প্রদান করা হয়।




আলীকদম ভ্রমণ ও লাল বাহিনীর ইতিহাস পাঠ

রিয়াদুল মল্লিক রানা, ঢাকা থেকে:

অফিসের রুটিন মাফিক কর্মব্যস্ততা, ঢাকা শহরের তীব্র যানজট আর যান্ত্রিক জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। আমরা চার বন্ধু মিলে তাই সিদ্ধান্ত নিলাম দূরে কোথাও ঘুরতে যাবো। প্রকৃতির কাছাকাছি নিরিবিলি পরিবেশে কোথাও। বন্ধু পিয়াল বললো, চল সাজেক বা নিলগীরি যাই। সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে কুন্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে কবির বলে উঠলো- ‘ওখানে নয়, চল আমরা এবার নতুন কিছু প্ল্যান করি। এবার আমরা গহীন পাহাড়ে যাবো যেখানে কেউ যায়না’। ‘গহীন পাহাড়’- শব্দটা শুনতেই রক্তের মধ্যে একটা রোমাঞ্চকর শীতল স্রোত বয়ে গেল। মামুনের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগড়াতে। ও বললো- চল বান্দরবানের আলীকদমে যাই। নিরিবিলি জায়গা, পর্যটক কম। মাতামুহুরি নদী আর পাহাড়ের অপূর্ব মিলন দেখা যাবে। সবাই রাজি হয়ে গেলাম।

সায়েদাবাদ থেকে হানিফ পরিবহনে চেপে বসলাম। গন্তব্য আলীকদম। দীর্ঘ যাত্রার পর চকোরিয়া নামে একটা জায়গাতে নামলাম আমরা। মামুন বললো, এখান থেকে নাকি চান্দের গাড়িতে করে আলীকদম যেতে হবে। চান্দের গাড়ি!!! সেটা আবার কি? খোলা একটা পিকআপ ভ্যানের মত গাড়ি, স্থানীয়রা বলে চান্দের গাড়ি। অগত্যা চান্দের গাড়িতে উঠে পড়লাম আমরা। সু-উচ্চ আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ বেয়ে এগিয়ে চলছে চান্দের গাড়ি। মনে হল যেন রোলার কোষ্টারে চড়েছি। অদ্ভূত, অপূর্ব, অসাধারণ পাহাড়ি দৃশ্য দেখতে দেখতে পৌঁছালাম আলীকদম। ছোট একটা উপজেলা। সুন্দর-সাজানো গোছানো।

পরিচয় হলো ইয়ারিং মুরং নামে মাঝবয়সী এক পাহাড়ির সাথে। তাকে আমাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বললাম। সব শুনে ইয়ারিং বললো যে, সে আমাদেরকে তার পাড়াতে (গ্রাম) নিয়ে যাবে। আলীকদম থেকে নৌকা যোগে ৫/৬ ঘণ্টা লাগবে। তারপর হেঁটে আরো ৩ ঘন্টার পথ। ইয়ারিং বললো- ‘আজ যাওয়া যাবে না। রাত হয়ে যাবে। রাতে পথে ডাকাতি হয়’। ডাকাতির কথা শুনে আমরা সবাই ভয় পেয়ে গেলাম কিন্তু সেটা প্রকাশ করলাম না। ফ্যাসফেসে গলায় পিয়াল বললো- ‘কারা ডাকাতি করে’? জবাবে ইয়ারিং বললো- ‘আগে শান্তিবাহিনী করতো এমন কিছু সন্ত্রাসী অস্ত্র জমা না দিয়ে এখনো পাহাড়ে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, খুন, গুম, ধর্ষণসহ নানান অরাজকতা করে বেড়াচ্ছে। ঐ দলেরই কিছু লোক এই এলাকায় আত্নগোপনে আছে’। ডাকাতির ভয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম পরদিন ভোরে আমরা ইয়ারিংয়ের পাড়াতে রওনা দিবো।

পরদিন সকালে ইঞ্জিন চালিত নৌকাযোগে যাত্রা শুরু করলাম আমরা। মনের মধ্যে এক অজানা ভয় কাজ করছে। এই ইয়ারিং নিজেই শান্তিবাহিনী না তো? ইয়ারিংকে বাজিয়ে দেখার জন্য আমরা নানান ধরনের প্রশ্ন করতে লাগলাম তাকে। কবির বললো- ‘আচ্ছা ইয়ারিং আপনি কি আগে শান্তিবাহিনীতে ছিলেন’? আমাদের প্রশ্ন শুনে হো হো করে হেসে উঠলো ইয়ারিং। সে বললো-‘আমি তো মুরং, আমি ছিলাম মুরংবাহিনীতে। আমি কিভাবে শান্তিবাহিনীতে থাকবো’? ‘মুরং বাহিনী’ কি সেটা জানার আগ্রহ জাগলো। ইয়ারিং বললো এ ব্যাপারে পোয়ামুহূরীতে (একটি জায়গার নাম) গিয়ে বিস্তারিত বলবে কারণ ইঞ্জিন নৌকার শব্দে ঠিকমত কথা শোনা যাচ্ছিলো না।

দুপুরে পৌঁছালাম পোয়ামুহূরী নামক জায়গাতে। ছোট একটা বাজার। আশেপাশে ১/২ কিঃমিঃ এর মধ্যে কোন জনবসতি নেই। ইয়ারিংকে জিজ্ঞেস করলাম এমন নির্জন স্থানে বাজার? শান্তিবাহিনী আসে না? জবাবে বাজারের সাথে লাগোয়া পাহাড়টি দেখিয়ে ইয়ারিং বললো- ‘এই পাহাড়ের উপরে সেনা ক্যাম্প আছে। শান্তিবাহিনী এখানে আসবে না ভয়ে’। একথা শুনে ভরসা পেলাম আমরা। ঠিক হলো রাতে আমরা পোয়ামুহূরী বাজারেই থাকবো।

ইয়ারিং আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিলো মেনপাত মুরং, ম্যাংকাই মুরং আর মেনরই মুরং নামে আরো কিছু মুরংদের সাথে। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর তাদের সবার কাছ থেকেই শুনতে থাকলাম শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে মুরং বাহিনীর সংগ্রামের ইতিহাস।

এক সময় বান্দরবান জেলার লামা আর আলীকদম ছিলো শান্তিবাহিনীর অভয়ারণ্য। তাদের অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা-লুণ্ঠন ও চাঁদাবাজিতে এই অঞ্চলের সাধারণ পাহাড়ি-বাঙ্গালীরা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকতো। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা বাংগালীরা ছিলো নিরস্ত্র, নিরীহ এবং অসহায়। তারা শান্তিবাহিনীর অত্যাচার মুখবুজে সহ্য করে গেছে। প্রতিরোধ করতে পারেনি। এই শান্তিবাহিনী মুরংদের উপরও নানাভাবে অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি করতো।

শান্তিবাহিনীর দাবী পূরণ করতে না পারলে মুরংদেরকে জীবন দিতে হতো। দিনের পর দিন শান্তিবাহিনীর এই অত্যাচারে একসময় অতিষ্ট হয়ে মুরংরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। দুক্কা মুরং, মেননাও মুরং, আনাচরণ ত্রিপুরা, পাখি মগ, রেনক্রি মুরং, মেনলে মুরং, প্রেনএ মুরং, হমকাম মুরং, মেনরাই মুরং, পারাও মুরং, রেংচু মুরং, বোলাই মুরং, লাংগি মুরং, রাংক্লাং মুরং, তংলক মুরং, চমবট মুরং, সেক্সে মুরং, মাংরূম মুরং এরকম আরো কিছু মুরং নেতারা মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৯৮৫ সালে আলীকদমের মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্টের কচ্ছইপ্যা মুখের লোংরা পাড়ার ঝিনঝিরিতে অবস্থিত শান্তিবাহিনীর একটি ক্যাম্পে একরাতে মেনলে মুরুং এর নেতৃত্বে মুরংদের একটি দল দা, কুড়াল, লাঠিসোটা ও গাদা বন্দুক নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই অতর্কিত হামলায় শান্তিবাহিনীর সদস্যরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে যে যার মতো করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। মেনলে মুরংয়ের দল ঐ আস্তানাটির দখলে নিয়ে নেয় এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গুলি হস্তগত করে তারা। এভাবেই মুরং বাহিনীর প্রাথমিক অস্ত্র ভান্ডার গড়ে উঠে। এই ঘটনার পর থেকে মুরংরা নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে আরো একতাবদ্ধ হয়ে শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

মুরুংদের এই সাহসিকতা দেখে এদের পাশে এসে দাঁড়ায় সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ফলে ১৯৮৫ সালে বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে ‘মুরুং বাহিনী’। লাল রং এর পোষাক পরতো বলে স্থানীয়রা তাঁদেরকে ‘লাল বাহিনী’ বা ‘গরম বাহিনী’ নামেও ডাকতো। পরবর্তীতে মুরং বাহিনীর সদস্যরা সরকার স্বীকৃত আনসার-ভিডিপিতে স্বেচ্ছায় যোগ দিয়ে এলাকার জনগণের জান-মালের নিরাপত্তাসহ নিজেদের ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে থাকে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি দমনে সেনাবাহিনী, বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি), পুলিশ ও আনসার-ভিডিপিদের সহায়তা করা এবং শান্তিবাহিনীর হাত থেকে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত উপজাতিদের নিরাপত্তা দান।

মুরংবাহিনী গঠিত হবার পর থেকে শান্তিবাহিনীরা মুরং নিধনের জন্য ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা দিনেরাতে বিভিন্ন সময়ে মুরং পাড়াগুলোতে হানা দিতে থাকে। তখন মুরং বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের পাড়ায় বাংকার খুঁড়ে ও চলাচল পথে বিশেষ পদ্ধতিতে ‘বাঁশকল’ নামে এক ধরণের ফাঁদ তৈরী করা শুরু করলো। বাঁশকলের ভয়ে পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা দিয়ে সহজভাবে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা চলাচলে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকতো।

ধীরে ধীরে মুরংবাহিনীর সুনাম সর্বমহলে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এ বাহিনীকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আশির্বাদ হিসেবে মনে করতে থাকে। শান্তিবাহিনীর ভয়াবহ তাণ্ডব ও অত্যাচারযজ্ঞ যখন তুঙ্গে তখন মুরংবাহিনী বীরবিক্রমে শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সাহসী ভূমিকা পালন করে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে যেখানে শান্তিবাহিনীর তাণ্ডবে অশান্তির আগুন জ্বলছিল সেখানে মুরংবাহিনীর একের পর এক শান্তিবাহিনীর উপর সফল আক্রমন আর কর্মতৎপরতার ফলে ১৯৮৬ সাল থেকে লামা ও আলীকদম উপজেলা শান্তিবাহিনী মুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়।

মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনছিলাম মুরংবাহিনীর সংগ্রামের ইতিহাস। এখানে ঘুরতে না এলে এই ইতিহাস হয়তো কখনোই জানা হত না। আমি নিশ্চিত আমার মত অধিকাংশ মানুষই পার্বত্য চট্টগ্রামের এইসব ইতিহাস জানেনা। ইয়ারিং মুরংকে জিজ্ঞেস করলাম- শান্তিচুক্তি তো হয়ে গেছে এখন কি পাহাড় শান্ত? নাকি এখনো সন্ত্রাস চলে? মুরংবাহিনী কি এখন আর আছে? জবাবে ম্যাংকাই মুরং বললো- ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের সাথে শান্তিবাহিনীর সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়।

শান্তিচুক্তির ফলে সংগত কারণে মুরং বাহিনীর কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। ফলে এরপর থেকে মুরং বাহিনীর কর্মতৎপরতা কমতে শুরু করে। মুরং বাহিনীর সেই হারানো ঐতিহ্য ও জৌলুস এখন তেমন একটা নেই। তবে কতিপয় উদ্যমী, ত্যাগী ও দেশপ্রেমিক মুরং যুবকরা তাদের বাহিনীর নামটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সদা তৎপর। পাশাপাশি যেকোন পরিস্থিতিতে তারা সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর পাশে থেকে সর্বদা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত আছে।

মেনপাত মুরং বলেন- এখনো মুরং বাহিনীকে ধ্বংস ও এ সম্প্রদায়ের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান সশস্ত্র আঞ্চলিক উপজাতীয় সংগঠনগুলো তৎপর রয়েছে। ফলে কিছু কিছু মুরং যুবক টাকার লোভে ঐ সমস্ত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হয়ে পড়ছে। এমনকি মুরং সম্প্রদায় বর্তমানে খ্রিষ্টান মিশনারীদের ধর্মীয় আগ্রাসনের টার্গেটে পরিণত হওয়ায় তাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশ দিন দিন বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে। তবে মুরং নেতারা তাদের সম্প্রদায়ের যুবকদেরকে এ সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়া এবং ধর্মান্তরিত হওয়া থেকে বিরত রাখতে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। মুরংবাহিনীর গর্বের সংগ্রামের ইতিহাস শুনতে শুনতে কখন যে ভোর হয়ে গিয়েছিলো তা টের পাইনি।

আমরা পরে আরো দুইদিন ওখানে ছিলাম। পোয়ামুহূরী ঝর্ণা, দামতুয়া জল প্রপাত, ডিমপাহাড়, ইন্দুমুখ, সিন্ধুমুখ, বড়আগলা, তরনীপাড়া নামক জায়গাগুলোতে ঘুরেছিলাম। মুরংদের সাথে থেকেছি, খেয়েছি, ঘুমিয়েছি। তাদের মত সহজ সরল মানুষ আমার জীবনে খুব কমই দেখেছি। ঢাকায় ফিরে আসার পর আবার সেই কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনের রুটিনে বাঁধা পড়েছি। তবে ক্ষণে ক্ষণে মন চলে যাচ্ছে পাহাড়ের বুক চিরে এঁকেবেঁকে বয়ে চলা মাতামুহূরী নদীর কোল ঘেঁসে গড়ে ওঠা ঐ স্বর্গরাজ্যে। যেখানে বাস করে শান্তিবাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ‘মুরং উপজাতি’। স্যালুট মুরংবাহিনীকে, স্যালুট মুরং উপজাতিকে।




আলীকদমে স্কুল মেরামত ও স্লিপের টাকা লুটপাট

আলীকদম  প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সরকারি বরাদ্দের ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক ও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যানের (স্লিপ) টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরাদ্দ আত্মসাতের বিষয়ে স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এসএমসি)’র একজন সভাপতি একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করলেও খামখেয়ালীপনায় রয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

অভিযোগ ও শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামত ৯ হাজার, প্রাক-প্রাথমিক ৫ হাজার ও ক্রীড়া পুরস্কারখাতে ২ হাজার ও স্লিপখাতে ৪০ হাজার হারে বিদ্যালয়ভিত্তিক বরাদ্দ পাওয়া যায়। এসব বরাদ্দের টাকায় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা শিক্ষক, অভিভাবক ও এসএমসির সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের জরুরি কি কাজ তা করার নির্দেশনা রয়েছে।

অসতি ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি মো. ওসমান গনি অভিযোগ করেন, তার বিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তার বিদ্যালয়ে স্লিপ, প্রাক-প্রাথমিক, ক্ষুদ্র মেরামত ও ক্রীড়াখাতে ৫২ হাজার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কোন কাজ না করে সমুদয় অর্থ আত্মসাত করেছেন প্রধান শিক্ষক কল্লোল দত্ত রাসেল।

অপরদিকে, থোয়াইচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি লাংরাও মুরুং বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তার বিদ্যালয়ে স্লিপ, প্রাক-প্রাথমিক, ক্ষুদ্র মেরামত ও ক্রীড়াখাতে ৫২ হাজার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কোনো কাজ না করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উথোয়াইচা মার্মা আত্মসাৎ করেছেন। একই অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা ইয়োংলক মুরুং। তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছি।

এসএমসি সভাপতি ওসমাগনি আরও জানান, আমি ইতোপূর্বে বিষয়টি সাবেক ও বর্তমান শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শিক্ষা অফিসের আসকারা পেয়ে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত করার সুযোগ পেয়েছেন।

চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে দুইজন প্রধান শিক্ষক পরিবর্তন হয়ে গেলেও কেনা হয়নি সংশ্লিষ্ট খাতের কোন মালামাল। অফিসে জমা আছে শুধুমাত্র কিছু ভূয়া ভাউচার। গত দুই অর্থবছরের লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দের অর্থ হরিলুট করেন প্রধান শিক্ষকরা। এ ব্যাপারে সাবেক দুই প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম ও হুমায়রা বেগমের সাথে কথা বললে পরস্পর বিরোধি তথ্য পাওয়া যায়।

প্রধান শিক্ষক হুমায়রা বেগম বলেন, আমি সেখানে যোগদানকালে কোন ধরণের স্লিপের মালামাল বুঝিয়ে দেননি পূর্বের প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম। স্লিপের মালামালও পাওয়া যায়নি। ভাউচারের একটি ফাইল দিতে চেয়েছিলেন, আমি নিইনি। ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম বলেন, এ সংক্রান্ত যাবতীয় মালামাল ও ভাউচার আমি হুমায়রা বেগমকে বুঝিয়ে দিতে এসেছি। এর দায় তার।

বরাদ্দ পেয়েও কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে মেজর জামান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পায়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেংপুং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, তার বিদ্যালয়ে সব মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। সেখানে ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত ক্লাস্টারে অনেক শিক্ষকরাও তা দেখেছেন। মেজর জামান পাড়া বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি উচাচিং মার্মা কার্বারি বলেন, কিছু মালামাল কেনা হয়েছে বলে জানি। তবে কত টাকা বরাদ্দ ছিল তা জানি না।

বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, অগ্রাধিকারভিত্তিক ছোট ছোট সংস্কার কাজ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তাসহ বিভিন্ন কাজে এসব টাকা ব্যয় করার কথা। কিন্তু উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বাস্তবে কানো কাজের চিহ্ন চোখে পড়ে না। বরাদ্দের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও হিসাব রক্ষণ অফিসকে নির্দিষ্ট হারে দিতে হয় উৎকোচ। আবার ভূয়া ভাউচারগুলি শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে ‘অনুমোদন’ নিতে টাকা গুণতে হয় প্রধান শিক্ষকদের।

অনেক ক্ষেত্রে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ম্যানেজ করে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকেরা ভুয়া ভাউচার তৈরি করে খরচের হিসাব সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষুদ্র মেরামতের কাজের সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং স্লিপের জন্য উপজেলার আলাদা কমিটি থাকলেও তদারকি হচ্ছে না। ফলে সরকারের এসব বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট অনেকের পকেটে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে আলীকদম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইস্কান্দার নুরী বলেন, এসব টাকা আগেই ডেসপাস হয়েছে। মাসিক সমন্বয়ে মিটিং-এ আলোচনা হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ আছে। সেখানে তদন্ত হবে।




আলীকদমে কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের সমাপনী ও ত্রৈমাসিক সভা

 

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদম উপজেলা কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ হলরূমে ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার, নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা, চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান, কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো, কৃষিবিদ মামুন ইয়াকুব, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুনায়েদ কবির, মৎস্য কর্মকর্তা কল্লোল কুমার সেন ও সন্তোষ মহাজন প্রমুখ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট রিপোর্ট তুলে ধরার পর উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়। খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের মাধ্যমে কারিতাস প্রান্তিক কৃষিক ও জুমিয়াদেরকে বাগান সৃজনে সহায়তা প্রদানের তথ্য তুলে ধরা হয়।

একইদিন উপজেলা কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের উপকারভোগীদের সাথে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ত্রৈমাসিক মতবিনিময় সভা উপজেলা পরিষদ হলরূমে ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে।




আলীকদমে পাথর নিয়ে তুঘলুকি কাণ্ড! জব্দকৃত পাথর চুরি: নিলাম স্থগিত

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদমে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জব্দ হওয়া পাথর চুরি(!) হওয়ায় বুধবার এ সংক্রান্ত একটি পূর্বনির্ধারিত নিলাম প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। এনিয়ে রহস্য ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। নিলাম স্থগিত ঘোষণা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া কথা জানিয়েছেন ইউএনও।

জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট আলীকদমের ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তৈনখাল সংলগ্ন লাইক্যার ঝিরির পাশে ৪ হাজার ২শ’ ঘনফুট পাথর জব্দ করেন। জব্দকালে থানার ওসি, চারজন হেডম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পাথরগুলি সরকারি ‘অনুমতি’ ছাড়া মজুত করা হয়েছিল।

জব্দের পর জেলা প্রশাসনের ‘অনুমতি’ নিয়ে পাথর নিলাম দেওয়ার জন্য গত ৪ অক্টোবর ইউএনও’র স্বাক্ষরিত ‘নিলাম বিজ্ঞপ্তি’ জারী করা হয়। বুধবার (১১ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ হলরূমে প্রকাশ্য নিলামের দিন ধার্য্য ছিল।

স্থানীয়রা এবং গোয়েন্দাসূত্র ইউএনওকে নিলামের আগে জানান, সংশ্লিষ্ট স্থানে পরিমাণমত পাথর নেই। ১০/১৫ ফুট পাথর রয়েছে সেখানে। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ইউএনও নিলাম প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করেন।

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী স্ইাদুর রহমান জানান, ‘এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনই সিদ্ধান্ত নিবেন’। আলীকদম মৌজার হেডম্যান অংহ্লাচিং মার্মা জানান, ‘আমি সার্ভেয়ারসহ সরেজমিন গিয়ে সেখানে পরিমাণমত পাথর দেখতে পাইনি’। ১০/১৫ ফুট পাথর রয়েছে মাত্র।

স্থানীয়রা জব্দকৃত পাথর ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দুর্বলতা ও উদাসীনতাকেই দায়ী করা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সমর রঞ্জন বড়–য়া। তিনি বলেন, ‘চুরি হওয়া পাথরগুলি নিলাম হলে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়া যেত’।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তিনি জানার পর পাথর নিলাম স্থগিত করেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আলীকদমে কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদম উপজেলা কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার, নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা, চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান, কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো, কৃষিবিদ মামুন ইয়াকুব, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুনায়েদ কবির, মৎস্য কর্মকর্তা কল্লোল কুমার সেন ও সন্তোষ মহাজন প্রমুখ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট রিপোর্ট তুলে ধরার পর উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়। খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের মাধ্যমে কারিতাস প্রান্তিক কৃষক ও জুমিয়াদেরকে বাগান সৃজনে সহায়তা প্রদানের তথ্য তুলে ধরা হয়।




দুরারোগ্য ক্যান্সারে স্বপ্নভঙ্গ: স্কুলশিক্ষিকা শিউলি বাঁচতে চায়

আলীকদম প্রতিনিধি:

২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত সায়রা রহমান শিউলি চট্টগ্রাম মেরনসান স্কুল এন্ড কলেজের একজন শিক্ষক।ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী ও দুই সন্তানের জননী শিউলী। পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।

সারাক্ষণ ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে প্রাঞ্জল, হাসিখুশি আর কোলাহলে কাটিয়ে দিতেন তিনি। বিষন্নতাকে পাশ কাটিয়ে চলাটাই ছিল তার স্বভাবের উল্লেখযোগ্য দিক। তিনি একজন সঙ্গীত শিল্পীও। তার এ হাসি খুশিভরা দিনগুলোকে অন্ধকার করে দিতে তার দেহে বাসা বেঁধেছে মরণ ব্যাধি ক্যান্সার। শিউলি বাঁচতে চায় তার দু-সন্তানের জন্য, তাদের অনাগত ভবিষ্যতের স্বপ্নবুনন করতে।

২০১৩ সালের অক্টোবরে তার দেহে ধরা পড়ে ব্রেষ্ট ক্যান্সার। নভেম্বরে চট্টগ্রাম সিএসসিআরএ সফল অস্ত্রপাচারের পর আত্মীয় স্বজনরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও স্থায়ী হয়নি এ স্বস্তি। হাড়ের ব্যাথায় যখন অস্থির শিউলি ঠিক তখনই লাখ টাকা ব্যয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে তার পাঁজরের হাঁড়ে ক্যান্সার। এরপর তাকে মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে কেমো থেরাপি ও রেডিও থেরাপি দেওয়া হয়।

কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়েল হাসপাতালে। সেখানে দু’মাসে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয় শিউলির চিকিৎসায়। তাতেও কিছু না হওয়ায় হতাশ হয়ে দেশে নিয়ে আসতে হয় তাকে।

পুনরায় মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়েল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার সারা শরীরে পাওয়া যায় ক্যান্সারের অস্তিত্ব। এরমধ্যে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সন্ধান পেয়ে তারা আবারও আশায় বুক বাঁধে শিউলীর স্বজনরা। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে প্রায় দশ লক্ষ টাকা মূল্যে দেওয়া হয় ছয়টি ইঞ্জেকশন।

কিছুদিন পর পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল দেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মুখে আশার বাণী শোনা গেছে। শিউলির দেহে ক্যান্সারের মাত্র অনেক কমে গেছে। এভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া ভাইদের জন্য এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে। আরও প্রায় বিশ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।

তার চিকিৎসার জন্য চাই হদয়বান মানুষদের সহায়তা। তাহার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর- ০১২৮৪৯, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, চকবাজার শাখা, চট্টগ্রাম। বিকাশ নম্বর- ০১৭৭২৫৭৭২৮৬।




আলীকদমে নয়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নয়া কমিটি

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় নয়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষিত হয়েছে। রবিবার (৮ অক্টোবর) আলীকদম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিং-এ মো. আবু বক্করকে আহ্বায়ক ও মোহাম্মদ হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠিত হয়। এতে এগারোজন যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সি. সহ-সভাপতি ফরিদ আহাম্মদ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাশুক আহামদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী ভূট্টো, আব্দুল হামিদ, বিএনপি নেত্রী ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার প্রমুখ।