আলীকদম আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন সম্পন্ন

Alikadam Ideal school election pic-1 copy

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবান জেলার আলীকদম আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের মাধ্যমিক শাখায় স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ১১জন প্রার্থীর মধ্যে ৫জন প্রার্থী ব্যালটের মাধ্যমে ভোটে নির্বাচিত হয়েছে।

প্রিন্সিপাল হানিচন্দ্র ত্রিপুরা জানান, সরকারি নির্দেশনা মতে, স্কুল কেবিনেট নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। কমিশন তফসিল ঘোষণা করে বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে জানিয়ে দেয়। বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ৬জন, ৭ম শ্রেণির ৪জন ও ৮ম শ্রেণির ৪জনসহ মোট ১৪জন শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট কেবিনেট প্রার্থী হয়। প্রার্থীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তাদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।

নির্বাচন কমিশন যাচাই বাছাই করে ১৪জন প্রার্থীর মধ্যে ৩জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল এবং ১১জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম সকল প্রার্থীকে একত্র করে নির্বাচনের আচরণবিধি পাঠ করে শোনায়।

২৪ এপ্রিল স্কুল ক্যাম্পাসে এ নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রার্থীরা তাদের হাতের লিখা শিক্ষামূলক  শ্লোগান সম্বলিত পোস্টারে সজ্জ্বিত করে ছিলো আলীকদম আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ আঙ্গিনা।

নির্বাচন কমিশন তিনটি বুথ তৈরি করে। নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয় প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার। পাশাপাশি ছিল আনসারটিম ও পুলিশ সদস্য। বাড়তি নজরদারীতে ছিলো দুই সদস্যের গোয়েন্দাটিম

এ দিন সকাল ১১টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।  বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখা ছাড়া মাধ্যমিকের মোট ১৬২জন ভোটারের মধ্যে ভোট কাস্ট হয় ১৪৮টি। ভোট গণনা শেষে ২টায় প্রধান শিক্ষক হানি চন্দ্র ত্রিপুরা এবং সকল শিক্ষক ও স্কুল ম্যানিজিং কমিটির উপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার একে একে বিজয়ী ৫জন স্টুডেন্ট কেবিনেট প্রতিনিধির নাম ঘোষণা করেন।

এরা হলেন, মাংকং ম্রো (৮ম শ্রেণি) ও শাফকাত শফিক (৮ম শ্রেণি), মাংওয়াই ম্রো (৭ম শ্রেণি), সংক্লম ম্রো (৬ষ্ঠ শ্রেণি) ও মঙ্গল চাকমা (৬ষ্ঠ শ্রেণি)।

২৭এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৫জন স্টুডেন্ট কেবিনেট প্রতিনিধি শপথ গ্রহণ করবেন। পরবর্তিতে তারা তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিয়ে স্কুল ও সহপাঠিদের উন্নয়নে কাজ করবেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, শিক্ষার্থীদের মাঝে গণতন্ত্র চর্চা ও নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনের এক উত্তম দিকদর্পণ এ স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে হৃদ্যতা,  সাহস, দক্ষতা ও নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জনের পথ তৈরি হবে। সঠিক গণতন্ত্র চর্চা, আগামী দিনের যোগ্য ও মেধাবী নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো প্রথম স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন ।




আলীকদমে ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের (ইউএনডিপি) আর্থিক সহায়তায় স্থাপিত ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণার পর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি মহল। ২০১১ সাল থেকে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। দুর্গম এলাকার বাসিন্দাসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও সরকার বিরোধীদের মধ্যে এই নিয়ে ষড়যন্ত্রও চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের ধুয়া তুলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র পাঠিয়েছেন  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

গহীন পাহাড়ি পল্লীর ওইসব গ্রামে মুরুং সম্প্রদায়সহ ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর সন্তানদের জন্য  আগে কোন স্কুল ছিল না। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আলীকদম উপজেলার দুর্গম এলাকার এ ২০টি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ইউএনডিপি’র ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক শিক্ষা সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় এসব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৫ সালের জুন মাসে শেষ হয়ে যায়। এর ফলে বিদ্যালয়ের দরিদ্র শিক্ষকরা সাময়িক কষ্টে পতিত হন। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ হস্তক্ষেপ করে। জেলা পরিষদের ঐকান্তিকতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০ ফেব্রুয়ারি আলীকদমের গহীন অরণ্যে স্থাপিত ওই ২০টি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়।

সূত্রে প্রকাশ, ইউএনডিপি’র ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক শিক্ষা সহায়তা’ প্রকল্প শুরু হয় ২০০৮ সালে। প্রল্পের নাম ছিল ‘মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্প’। ২০১০ সালের জুলাই মাসে ইউএনডিপি প্রকল্পটির দায়িত্ব পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করে। সে সময় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক শিক্ষা প্রকল্প’র নাম রাখা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা জানান, ইতোপূর্বে আলীকদমে ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। সরকারি প্রজ্ঞাপনে আরও ২০টি বিদ্যালয় যোগ হয়ে সর্বমোট ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হয়েছে।

শিক্ষা অফিসার বাসুদেব কুমার সানা বলেন, ইউএনডিপি স্থাপিত বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ হওয়ায় উপজেলার দুর্গম জনপদে শিক্ষার আলো দ্রুত প্রসারে সহায়ক হবে। এসব বিদ্যালয় সরকারিকরণ না হলে এলাকার জনগোষ্ঠী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকতো। ইউএনডিপির প্রকল্প শেষ হওয়ার পর বেতন ভাতা না পেয়ে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেতন না পেয়েও অবৈতনিকভাবে সার্ভিস দিয়ে আসছিল। তবে পার্বত্য জেলা পরিষদের তৎপরতায় এসব বিদ্যালয় সম্প্রতি জাতীয়করণ হওয়ায় শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও বিদ্যালয়সমূহে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

জানতে চাইলে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং মুরুং বলেন, কুরুকপাতা ইউনিয়নজুড়ে আগে একটিমাত্র প্রাইমারী স্কুল ছিল। সম্প্রতি সরকার আমার ইউনিয়নে আরও ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে মুরুং জনগোষ্ঠীর শিক্ষার পথ প্রসারিত করেছে। এরফলে শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা ছেলে মেয়েরা শিক্ষিত হবে। সরকারি এ আনুকুল্যতায় আমরা যারপরনেই কৃতজ্ঞ।

আলীকদম ইউপি চেয়ারম্যান ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় উদ্যোগে কখনো দুর্গম অঞ্চলের এসব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। কিন্তু এ সরকার শিক্ষাবান্ধব। তাই দুর্গম জনপদের বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করে সরকার পার্বত্যবাসীকে শিক্ষিত করার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকল্প তত্ত্বাবধায়ক উইলিয়াম মার্মা বলেন, ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ ও জেলা পরিষদের সার্বিক সহায়তায় ২০১০ সালে আলীকদম উপজেলার বিদ্যালয়বিহীন দুর্গম পল্লীতে ২০টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিগত ৬ বছর ধরে এসব বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা ও সরকারি নিয়ম মেনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিবছর পিএসসি পরীক্ষায় পাসের হারও সন্তোষজনক। উইলিয়াম মার্মা আরও জানান, ইতোমধ্যে ২০টি বিদ্যালয়ের অনুকুলে প্রয়োজনীয় ভূমি বন্দোবস্তি হয়ে গেছে। রিজার্ভ অভ্যন্তরে ৫টি বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে যে জটিলতা ছিল, কিছুদিন আগে ডি-রিজার্ভ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সে জটিলতাও কেটে গেছে।

উইলিয়াম মার্মা অভিযোগ করেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় শর্ত পালন করেই এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে। ইতোপূর্বে বিধি মোতাবেক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এসব বিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে মিথ্যাচার করে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সরকারকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। আর এ ষড়যন্ত্রে সরাসরি লিপ্ত হয়েছেন আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম।

নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা জানান, সরকারের এ মহতি প্রয়াসে ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার বিদ্বেষী একটি মহল নানান অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব প্রলাপে সরকারের উন্নয়ন কর্ম থেমে থাকবে না। বিশেষ করে ২০টি বিদ্যালয় সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাইনথপ ম্রো জানায়, ‘পাহাড়ের পিছিয়েপড়া নৃ-গোষ্ঠীর শিশুর ‘ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। ইউএনডিপি দুর্গম এলাকায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা সুযোগ নিশ্চিত করেছে। সরকার এ সব বিদ্যালয় জাতীয়করণ করায় পাহাড়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি, শিক্ষকতায় পেশায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ৮০ জন যুবক যুবতির ভবিষ্যত সুরক্ষা হলো।

এ ব্যপারে জানার জন্য আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবুল কালামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা হয় এ প্রতিনিধির। মেনকেউ মেনক্য পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজিব ম্রো জানান, এখানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও জাতীয়করণ করায় পিছিয়ে পড়া ম্রো জনগোষ্ঠীর শিক্ষারমতো একটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হলো। সত্রপাড়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসারে ইউএনডিপি’র মাধ্যমে চালু হওয়া এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি করণ করায় ইতিহাস সূচিত হলো।

 

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আলম বলেন, বর্তমানে সরকার নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষা উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করে ৮০ জন শিক্ষককে নিয়মিত করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়গুলোর নামে ভূমি বন্দোবস্তি অনুমোদন হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ অবিহিত আছেন। অহেতুক কেউ এর বিরোধিতা করে কিছু করতে পারবে না।

 




আলীকদম কিন্ডার গার্টেন ভবনের উদ্বোধন

alicodom pic-20.4

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় নিরাপত্তাবাহিনী পরিচালিত কিন্ডার গার্টেন স্কুলের নব-নির্মিত দুর্বার ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি স্কুলের ভবন উদ্বোধন করেন।

পরে বিদ্যালয় মাঠে অধ্যক্ষ নুরে জান্নাত শশীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আলীকদম ব্রিগেড কমান্ডার মো. ইকবাল আখতার মিঞা, জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মো. সারোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাকসুদুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নায়িরুজ্জামান, জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষীপদ দাস, লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবু মুছা ফারুকী ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।




শিশু তানিয়ার দায়িত্ব নিলো সমাজ সেবা অধিদপ্তর

Alicodom pic-18.4.2017
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
বান্দরবানের আলীকদম থানা পুলিশ ১৩ এপ্রিল উদ্ধারকৃত শিশু তানিয়া আকতারের(১৩)দায়িত্ব নিলেন সমাজ সেবা অধিদপ্তর। ৫ দিন পর সোমবার সমাজ সেবা অধিদপ্তরের ত্বত্তাবধানে তানিয়াকে কক্সবাজার শেখ রাসেল প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে ।

সূত্র জানায়, তানিয়ার বর্ণনা মতে তার পিতা মাদক ব্যবসায়ী এবং ঘরে সৎ মা। তার বাড়ী কক্সবাজার সদরে। সে বাড়ী থেকে পালিয়ে এসেছে।




আলীকদমের মাতামুহুরী ব্রিজে টমটমের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত

Alikadam Deth News-pic copy

আলীকদম প্রতিনিধি:

শুক্রবার বিকেলে আলীকদম মাতামুহুরী ব্রিজে অটোরিক্সা (টমটম) এর চাকায় পিষ্ট হয়ে এক শিশু নিহত। নিহত শিশুর নাম শাহরিয়া সুলতানা তাবাচ্ছুম (৯)। সে উপজেলার রোয়াম্ভু আব্বাস কার্বারী পাড়ার মো. জামাল উদ্দিনের মেয়ে এবং নয়াপাড়া ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসার ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার বিকেলে তাবাচ্ছুম (৯) বাড়ি ফেরার পথে মাতামুহুরী ব্রিজে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি টমটম ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। অটোরিক্সাটি তাবাচ্ছুমের বুকের উপর দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার ডাক্তার তাবাচ্ছুমের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাত ন’টায় তাবাচ্ছুম চলে যায় না ফেরার দেশে।

আলীকদম থানা উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তাবাচ্ছুমের অভিভাবকরা এটাকে নিছক দুর্ঘটনা মনে করে কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা নিতে চাননি। কারো ওপর কোন দাবি দাওয়া কিংবা অভিযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন।

অভিযোগ না থাকার বিষয়ে তাবাচ্ছুমের চাচা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, এটি আল্লাহর হুকুম ছিল বলেই হয়েছে। তাছাড়া এটি দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে আমাদের কোন অভিযোগ নেই।




আলীকদমের সহকারী শিক্ষিকা জয়নব স্টাডিট্যুরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন

Alikadam Teacher News.Pic

আলীকদম প্রতিনিধি :
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়ের অর্থানুকুল্যে ‘টিচার এডুকেশন-এ টিচার ট্রেনিং’এর ওপর স্টাডিট্যুরে যাচ্ছেন আলীকদম চম্পট পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জয়নব আরা বেগম। ১০ এপ্রিল (সোমবার) মন্ত্রণালয়ের এডমিন-২ ব্রাঞ্চ থেকে জারী করা এক পত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি নাসরিন জাহান স্বাক্ষরিত পত্রে জানা গেছে, ‘টিচার এডুকেশন এ- টিচার ট্রেনিং’এর ওপর স্টাডিট্যুরে ৩ জন সরকারি কর্মকর্তা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন প্রধান শিক্ষক ও ৩ জন সহকারি শিক্ষিকা রয়েছেন।

এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছেন, যশোরের জেলাপ্রশাসক এমডি হুমায়ুন কবির, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়ের মেন্টিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুল্লাহ, এসিটেন্ট প্রোগ্রামার এমডি মনিরুজ্জামান, বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক বিপারশি চাকমা ও আলীকদম উপজেলার চম্পট পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা জয়নব আরা বেগম।

উল্লেখ্য, সহকারি শিক্ষিকা জয়নব ২০১৫ সালের ৫-২২ জুলাই পর্যন্ত স্কুলস্ অনলাইন পার্টনারশীপের ওপর সরকারি আদেশে লন্ডন সফর করেন।

সেখানে তাকে লন্ডনের হেভারিংএর মেয়রের পক্ষ থেকে রানীর পোষাক পরিয়ে এওয়ার্ড প্রদান করেন।




আলীকদমে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ

01_760696

আলীকদম প্রতিনিধি :
পার্বত্য জেলা পরিষদ, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশ অমান্য করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন বহুলালোচিত প্রধান শিক্ষিকা। উল্টো কথিত ‘বদলি আদেশ’ ঠেকাতে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তায় নামিয়ে নিজের পক্ষে ‘মানববন্ধন’ও করিয়েছেন তিনি। একাজে একাট্টা হয়েছেন অন্যান্য সহকারি শিক্ষকরাও। অথচ সাম্প্রতিক আলীকদমের আলোচিত এ ঘটনা নিয়ে ‘রহস্যজনক নীরতবতা’ পালন করছেন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। কোন অদৃশ্য খুুঁটির জোরে কর্তৃপক্ষ ঠুঁটু জগন্নাথের ভূমিকায় রয়েছে তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২১-২৩ ফেব্রুয়ারি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের (পাজেপ) আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে ‘বইমেলা’র আয়োজন করা হয়। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন আলীকদম উপজেলার চম্পট পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও কবি জয়নব আরা বেগম। ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁর কবিতার বই ‘সমর্পিত শব্দাবলী’র মোড়ক উন্মোচন করেন পাজেপ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা। বইমেলার আহ্বায়ক চিংইয়ং ম্রো’র পরামর্শে ওইদিন সহকারি শিক্ষক জয়নবের ২ দিন (২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি) ছুটি মঞ্জুরির নির্দেশ দেন পাজেপ চেয়ারম্যান।

এদিকে, পাজেপ চেয়ারম্যানের নির্দেশের দু’দিন ছুটি মঞ্জুরির আদেশ পালনে গড়িমসি শুরু করেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা। এ ছুটি নামঞ্জুর করতে প্রধান শিক্ষিকার সাথে গাঁটছড়া বাধেন এসএমসি সভাপতি নুরুল আলমও।

এ দু’দিন ছুটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারি শিক্ষিকাকে প্রধান শিক্ষিকা দম্ভের সাথে বলেন, ‘পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছুটির কথা বললে তার কাছ থেকে চিঠি নিয়ে আসো। চেয়ারম্যানের মৌখিক নির্দেশ আমি শুনতে বাধ্য নই। আমি এই ছুটি মঞ্জুরও করবো না’। এ দম্ভোক্তিকে মেনে নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান, ‘জেলা পরিষদ ছুটি মঞ্জুর করলেও যখন প্রধান শিক্ষিকা মানছেন না, আমার করার কিছু নেই। জেলা পরিষদে গিয়ে ছুটি মঞ্জুর সংক্রান্ত চিঠি নিয়ে আসুন’। এ প্রতিবেদককেও তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানান খোদ উপজেলা শিক্ষা অফিসার বাসুদেব কুমার সানা।

এদিকে, গত ২০ মার্চ সংশ্লিষ্ট সহকারি শিক্ষিকা এ ঘটনার বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেন। ওইদিন পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আফসার, জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষ্মীপদ দাশ ও চিংইয়ং ম্রো’র উপস্থিতিতে ওই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আলোচনা হয়।

২১ মার্চ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা, এসএমসি সভাপতি নুরুল আলম, সহকারি শিক্ষিকা জাহানারা পারভীন লাকী ও জেসমিন আক্তারের ইন্ধনে বিদ্যালয় চলাকালীন সকাল সাড়ে দশটার দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসরুম থেকে বের করে পানবাজারস্থ রাস্তায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রার কথিত বদলী আদেশের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে নোংরা শ্লোগান এবং হাতে প্লেকার্ড তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ব্যক্তিস্বার্থে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে প্রধান শিক্ষিকাকে নিষেধ করেন। কিন্তু নিষেধ মানা হয়নি। পরেরদিনও একইভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তায় নামানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে এ দু’শিক্ষিকাসহ ডিপিএড-এ অবস্থারত শিক্ষিকা ডানা ফেসবুকে উস্কানীমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে পরিস্থিতিকে আরো সংকটময় করে তুলেন। এ ঘটনার বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেও রহস্যজনক নীরবতা পালন করতে দেখা যায়।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে কেন মানববন্ধন এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা সাংবাদিকদের বলেন,  ‘আমার বদলী আদেশ মানতে না পেরে সহকারি শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও কমিটির লোকেরা মানববন্ধন করেছে। বিদ্যালয় চলাকালীন কেন ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছেন এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি তিনি।

জানতে চাইলে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য চিংইয়ং ম্রো বলেন, সহকারি শিক্ষিকা জয়নবকে পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বইমেলায় থাকতে ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি ছুটি মঞ্জুরের নির্দেশ দেন পরিষদের চেয়ারম্যান। কিন্তু তা না মেনে দৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকা। এ ব্যাপারে পরিষদ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অপরদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিটন বড়ুয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকার বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা জানি। তবে আমার হাতে এ সংক্রান্ত চিঠি এখনো আসেনি।




আলীকদমে ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ

Alikadam (Bandarban) Praimary Education News 01-04-2017

আলীকদম প্রতিনিধি:

২০১১ সাল থেকে জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের (ইউএনডিপি) আর্থিক সহায়তায় ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় আলীকদম উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা সদর থেকে দুর্গমে মুরুংসহ একাধিক ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর বসবাস থাকলেও এর আগে সেখানে কোনপ্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আলীকদম উপজেলার এ ২০টি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউএনডিপি’র  ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক শিক্ষা সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় এসব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৫ সালের জুনে শেষ হলে মাঝপথে এসব বিদ্যালয় কিছুটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তক্ষেপে আবার প্রাণ ফিরে পায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জেলা পরিষদের তৎপরতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়  ২০ ফেব্রুয়ারি আলীকদমের দুর্গমে স্থাপিত ২০টি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়।

জানা গেছে, ইউএনডিপি’র ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক শিক্ষা সহায়তা’ প্রকল্প শুরু হয় ২০০৮ সালে।  শুরুতে এ প্রকল্পের নাম ছিল ‘মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্প’। ২০১০ সালের জুলাই মাসে ইউএনডিপি প্রকল্পটির পরিচালনার ভার পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করে। তখন প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক শিক্ষা প্রকল্প’।

উপজেলা শিক্ষা বিভাগ জানায়, ইতোপূর্বে আলীকদমে ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। সরকারি প্রজ্ঞাপনে আরও ২০টি বিদ্যালয় যোগ হয়ে সর্বমোট ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বাসুদেব কুমার সানা বলেন, ইউএনডিপি স্থাপিত বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ হওয়ায় উপজেলার দুর্গম জনপদে শিক্ষার আলো দ্রুত প্রসার সহায়ক হবে। এসব বিদ্যালয় সরকারিকরণ না হলে অন্তত আরও কয়েকযুগ ধরেই ওইসব এলাকার জনগোষ্ঠীর শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকতো।  ইউএনডিপির প্রকল্প শেষ হওয়ার পর বেতন ভাতা না পেয়ে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে কিছুটা হতাশা ছিল। তবে পার্বত্য জেলা পরিষদের তৎপরতায় এসব বিদ্যালয় সম্প্রতি জাতীয়করণ হওয়ায় সে সব বিদ্যালয়ে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং মুরুং বলেন, আগে আমার পুরো ইউনিয়নেই ছিল মাত্র একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে সদাশয় সরকারের ঘোষণা মতে আমার ইউনিয়নে আরও ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে। এরফলে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া মুরুংসহ অন্যান্য নৃ-জনগোষ্ঠী ও বাঙ্গালী ছেলে মেয়ে শিক্ষার সুযোগ পাবে। সরকারি এ আনুকুল্যে আমার ইউনিয়নবাসী খুবই খুশী।

অপরদিকে, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার উন্নয়নে সরকারি এ ঘোষণাকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ মনে করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধি জামাল উদ্দিন।  আওয়ামী লীগের এ নেতা মনে করেন, স্থানীয় উদ্যোগে কখনো দুর্গমের এসব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করতো না। এ সরকার শিক্ষাবান্ধব।  তাই দুর্গম জনপদের বিদ্যালয়গুলোকে সহজশর্তেই জাতীয়করণ করে সরকার পার্বত্যবাসীকে শিক্ষিত করার সুদুরপ্রসারি উদ্যোগ নিয়েছে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকল্প তত্ত্বাবধায়ক উইলিয়াম মার্মা বলেন, ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ ও জেলা পরিষদের সার্বিক আনুকুল্যে ২০১০ সালে আলীকদম উপজেলার দুর্গম ও বিদ্যালয়বিহীন পাহাড়ি গ্রামে ২০টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিগত ৬ বছর ধরে এ সব বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা ও সরকারি নিয়ম মেনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিবছর পিএসসি পরীক্ষায় পাসের হারও সন্তোষজনক।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় শর্ত পালন করেই এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে। এ সব বিদ্যালয়ে ইতোপূর্বে বিধি মোতাবেক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এ সব বিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে মিথ্যাচার করে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সরকারকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাইনথপ ম্রো বলেন, ‘প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার নৃগোষ্ঠীর শিশুরা মৌলিক অধিকার ‘শিক্ষা’ থেকে বঞ্চিত ছিল। ইউএনডিপি দুর্গম এলাকায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সে সুযোগ নিশ্চিত করেছে। সরকার এ সব বিদ্যালয় জাতীয়করণ করায় পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলোকশিখা নতুন করে প্রজ্জ্বলিত হবে।




 আলীকদম প্রেসক্লাব থেকে পতাকা নামিয়ে বখাটে যুবকের ফেসবুকে স্টাটাস

আলীকদম প্রতিনিধি:

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলীকদম প্রেসক্লাবে উত্তোলন করা জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেললেন স্থানীয় এক বখাটে যুবক। করিৎকর্মা এ বখাটে স্থানীয় প্রেসমিডিয়াকে বিতর্কিত করতে রবিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘প্রেসক্লাবে পতাকা উত্তোলন করা হয় নাই‘ মর্মে স্টাটাস দেয়।

প্রেসক্লাব সভাপতি জানান, ২৬ মার্চ ভোর ছয়টার দিকে প্রেসক্লাবে যথারীতি জাতীয় পতাকা তোলা হয়। কিন্তু দুপুরে স্থানীয় নুরুল আলম নামে এক যুবক তার ফেসবুক স্টাটাসে জানায় যে, ‘আলীকদম প্রেসক্লাবে জাতীয় পতাকা তোলা হয় নাই’।

প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, ফেসবুকে স্টাটাস দেয়া যুবক নুরুল আলম পানবাজার উপজাতীয় পল্লীতে অগ্নিসংযোগের অন্যতম হোতা। সম্প্রতি এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম তদন্ত শুরু করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেসক্লাবের পতাকা নামিয়ে ফেলে ফেসবুকে স্টাটাস দেয়। যাতে প্রেসক্লাবকে বিতর্কিত করা যায়। পতাকা নামিয়ে ফেলার বিষয়ে প্রেসক্লাব থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নুরুল আলমকে রবিবার সন্ধ্যায় কয়েকবার ফোন করা হলেও সে ফোন রিসিভ করেনি।




আলীকদমে মাসব্যাপী ক্রিকেট প্রশিক্ষণ সমাপ্ত

1464963514

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদমে মাসব্যাপী ক্রিকেট প্রশিক্ষণের সমাপ্তি হয়েছে। ক্রীড়া পরিদপ্তরের আওতায় এ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মো. সেলিমুল ইসলাম জানান, ক্রীড়া পরিদপ্তরের উদ্যোগে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত উপজেলা প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬জন করে সর্বমোট ৩০জন ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

এ প্রশিক্ষণের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন আলীকদম উপজলো নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ও জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন ভূইয়া।