যৌন হয়রানি: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

Untitled-1 copy

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

আর মাত্র দু’দিন পরেই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিচ্ছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে তিনি হবেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর ব্যক্তি। এত ক্ষমতাসম্পন্ন একজন প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা ঠুকে দিয়েছেন সামার হারভোস নামে এক যুবতী।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে ওই মামলা দায়ের করেন তিনি। এর আগে লস অ্যানজেলেসে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় যে প্রায় ডজনখানেক নারী ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন সামার জারভোস তাদের অন্যতম।

তিনিও নির্বাচনী প্রচারণার সময় অভিযোগ এনেছিলেন যে, ডনাল্ড ট্রাম্প তার কাছ থেকে অনাকাঙ্খিত যৌন সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। সামার জারভোস মামলায় দাবি করেছেন তার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি তাকে অবমাননাকর বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, এক সময় ডনাল্ড ট্রাম্পের টেলিভিশনে রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্সিস’-এর প্রতিযোগী ছিলেন সামার জারভোস। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, ৮ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। তার কয়েক সপ্তাহ আগে অক্টোবরে তিনি ও অন্য কয়েকজন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। কিন্তু তা অস্বীকার করেন ট্রাম্প। নতুন করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগকে তার মুখপাত্র হোপ হিকস হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, সামার জারভোস ও অন্য ‘নির্যাতিত’ নারীর পক্ষে আইনী লড়াইয়ে নেমেছেন উচ্চ পদস্থ এটর্নি গ্লোরিয়া অলরেড। হোপ হিকস তার সম্পর্কে বলেছেন, গ্লোরিয়ার কাছে এমন আরও অনেক আছে। হাস্যকর এসব কাহিনীর কোনো সত্যতা নেই। যখন ‘নির্যাতিত’ নারীরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন তখন তারা টুইটার, বিবৃতি, সাক্ষাতকার ও নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। নির্বাচনের আগে ১৪ই অক্টোবর নর্থ ক্যারোলাইনার চার্লটিতে এক নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, অভিযোগকারীরা তার নির্বাচনী প্রচারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে প্রকাশ্যে বানোয়াট কাহিনী প্রকাশ করছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সামার জারভোস যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার কয়েক ঘন্টা পরেই চার্লটিতে ট্রাম্প সমাবেশে বলেন, অল্প কিছু মানুষ নিজেরা বিখ্যাত হওয়ার জন্য মিথ্যা কথা বলছে। হতে পারে এর পিছনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

এমন মন্তব্যের কারণে সামার জারভোস তার মামলায় বলেছেন, ট্রাম্পের মিথ্যা বিবৃতি সামার জারভোসের সুনাম, সম্মান ও মর্যাদার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ট্রাম্প দাবি করেছেন সামার জারভোস ও অন্য নারীরা তার সম্পর্কে যে অভিযোগ এনেছেন তা ভুয়া। বিশেষ করে সামার জারভোস নিজে বিখ্যাত হতে ‘ফোনি’ কাহিনী সাজিয়েছে।

মামলার আগে লস অ্যানজেলেসে সংবাদ সম্মেলনে সামার জারভোস দাবি করেন, এমন অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে ডনাল্ড ট্রাম্পকে। সামার জারভোস মামলায় আরও বলেছেন, আমি চেয়েছিলাম ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে ফিরে যাবেন। কিন্তু তিনি যেহেতু তা করেন নি তাই আমার সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করা ছাড়া আমার সামনে কোনো বিকল্প ছিল না। এ জন্য সম্ভাব্য সব রকম ক্ষতিপূরণ চান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোষ স্বীকার করা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তার আইনজীবী অলরেড অনেক যৌন নির্যাতনের মামলা নিয়ে লড়ছেন।

যৌন হয়রানির অভিযোগে আদালতের কাঠগড়ায় বিখ্যাত কমেডিয়ান বিল কসবি। সংবাদ সম্মেলনে অলরেড বলেছেন, ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে আসবেন এমনটাই চাই আমরা। মামলায় বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে নিউ ইয়র্কে নিজের অফিসে অনুমতি না নিয়েই ট্রাম্প চুমু দিয়েছিলেন সামার জারভোসকে। পরে একই কা- ঘটান ক্যালিফোনিংয়ার বেভারলিতে একটি হোটেলে। স্পর্শ করেন তার শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গ। তাকে বিছানায় শুইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সবই করেন তাকে একটি সম্ভাব্য চাকরি দেয়ার নাম করে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ফাঁস হয়ে যায় ট্রাম্পের ২০০৫ সালের একটি ডিভিও। তাতে তিনি নারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর পরই সামার জারভোস ও অন্য নারীরা তাদের ওপর চালানো ‘নির্যাতনের’ বিষয়ে মুখ খোলেন। তারা সবাই প্রায় একই রকম বর্ণনা দেন। ওই ভিডিওর জন্য ট্রাম্প পরে ক্ষমা চান। বলেন, ওই ভিডিওতে যে কথোপকথন রয়েছে তা একটি বদ্ধঘরের সংলাপ। এর সঙ্গে প্রকৃত আচরণের কোনো সম্পর্ক নেই।




হলিউড তারকা লিন্ডসে লোহান ইসলাম গ্রহণ করেছেন

lindsay_lohan

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক : হলিউড অভিনেত্রী লিন্ডসে লোহান ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছেন। এমনই খবর জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। ব্যক্তিগত টুইটার এবং ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট থেকে নিজের সব ছবি সরিয়ে নিয়েছেন লোহান। একই সাথে ইন্সটাগ্রামের বায়োগ্রাফিতে ইংরেজিতে লিখেছেন ‘আলাইকুম সালাম’।

গত বছর কোরআন শরীফ হাতে লিন্ডসে লোহানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেসময় লোহান ডেইলিমেলকে বলেছেন, ‘আমার লন্ডনস্থ সৌদি আরবের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু যে কিনা আমার জন্য অনেক কিছু করে সে আমাকে এই কোরআন শরীফ উপহার দিয়েছে। আমি এটা পড়ার জন্য, শেখার জন্য নিয়েছি। এটা আমাকে স্বর্গীয় অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দিয়েছে। আমি কে, এর সত্যিকার অর্থ এই গ্রন্থে খুঁজে পেয়েছি। ‘

গত অক্টোবরে লোহান সিরিয়ার রিফিউজি শিশুদের দেখতে যান, সেসময় তুরস্কও ভ্রমণ করেন এই অভিনেত্রী। লোহানের বর্তমান ইনস্টাগ্রাম এক্টিভিটি ও কোরআন সম্পর্কে মন্তব্যে সুস্পষ্ট হয় যে লোহান মুসলিম ধরর গ্রহণ করেছেন, যেহেতু তিনি বলেছেন কোরআন তাঁকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। এমনটাই বলছে টেলিগ্রাফ ও ডেইলিমেলসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

সূত্র : কালেরকণ্ঠ




চাঁদের বুকে ঘুরে বেড়ানো নভোচারীর মৃত্যু

49476_bbc copy

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদের বুকে ঘুরে বেড়ানো মার্কিন নভোচারী জিন সারনেন ৮২ বছর বয়সে মারা গেছেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ এ তথ্য জানিয়েছে।

যে তিনজন ব্যক্তি চাঁদে দু’বার গিয়েছেন মি. সারনেন তাদের মধ্যে একজন। চাঁদে যাওয়া নভোচারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বশেষ ব্যক্তি। ১৯৭২ সালে চন্দ্র পৃষ্ঠে মি. সারনেন পা রেখেছিলেন। এরপর আর কেউ চাঁদে যাননি। সে সময় তিনি ‘অ্যাপোলো ১৭’ মিশনের কমান্ডার ছিলেন। এ পর্যন্ত ১২জন নভোচারী চাঁদে গিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে এখনো ছয়জন জীবিত আছে।

মি. সারনেন’র পরিবার জানিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মারা গেছেন। এর বেশি পরিবারের তরফ থেকে আর কিছু জানানো হয়নি।

অ্যাপোলো ১৭’ মিশনের নেতৃত্বে দেবার আগে তিনি দু’বার মহাকাশে গিয়েছিলেন-একবার ১৯৬৬ সালে এবং আরেকবার ১৯৬৯ সালে। ১৯৭৬ সালে তিনি নভোচারী হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন এবং এরপর টেলিভিশনের সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৩৪ সালের ১৪ই মার্চ শিকাগোতে তার জন্ম।

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা




ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের রেজ্যুলেশন

un_34686

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতিস্থাপন বন্ধের দাবি জানিয়ে ঐতিহাসিক এক রেজ্যুলেশন পাস করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এতে বসতি স্থাপনকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।

অতীতের অবস্থান থেকে সরে এই রেজ্যুলেশন পাসে যুক্তরাষ্ট্র তার ভেটো (আমি মানি না) ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি। এবার যুক্তরাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত ছিল। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।

মিশরের প্রস্তাবিত এই রেজ্যুলেশনের ওপর বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিহুয়ার চাপের মুখে মিশর শেষ মুহূর্তে প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়।

তবে সহ-প্রস্তাবক নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সেনেগাল প্রস্তাব উত্থাপনে অনড় থাকলে শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে এর ওপর ভোটাভুটি হয়।

রেজ্যুলেশনের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪ সদস্যই ভোট দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত ছিল। এরআগে ২০১১ সালে এ ধরনের একটি রেজ্যুলেশন ভেটো দিয়ে বাতিল করে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘে উড়ছে ফিলিস্তিনি পতাকা গত আট বছরে এই প্রথম ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো রেজ্যুলেশন গ্রহণ করলো।

এর আগে এই রেজ্যুলেশন ঠেকাতে ভেটো প্রয়োগের জন্য ওবামা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু। ট্রাম্প মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ফোন দিলে শেষ মুহূর্তে প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয় মিশর।

শেষ পর্যন্ত সব আশংকা উড়িয়ে দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া এই রেজ্যুলেশনে ১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতিস্থাপন বন্ধে ইসরাইলের প্রতি দাবি জানানো হয়।

স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে এক কিশোরের সাহসিকতাএতে বলা হয়, ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ উদ্যোগ টিকিয়ে রাখতে দখলকৃত ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন বন্ধ আবশ্যক। এই বসতি স্থাপনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের ঘোরতর লংঘন।

এদিকে এই প্রস্তাব পাসের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলি এক কূটনীতিক।

উল্লেখ্য, বসতিস্থাপনসহ ইসরাইলের ফিলিস্তিন নীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরোধ ছিল। এনিয়ে বেশ কয়েকবার তারা প্রকাশ্যে বাদানুবাদেও লিপ্ত হয়েছিলেন।




আরাকানে রোহিঙ্গাদের উপর হেলিকপ্টার নিয়ে হামলা করেছে বার্মিজ বিমান বাহিনী

%e0%a6%93%e0%a6%93%e0%a6%93%e0%a6%93

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:
মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর গুলিতে ২৮ জন রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার ২২ রোহিঙ্গা মুসলমানরা দরগির জার গ্রামের উপকণ্ঠে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে গুলিতে তারা নিহত হয়। এছাড়া, অন্য এলাকায় আরেকটি পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় আরো ছয় রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়েছে। খবর পার্সটুডে ও বিসিসি।

এর আগে হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গুলিবর্ষণ করার ঘটনা স্বীকার করে দেশটির সরকার। রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে বোমা ও গুলিবর্ষণের কিছু ছবি নতুন করে পাওয়া গেছে। তাছাড়া স্যাটেলাইট চিত্র থেকেও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাদের বাসস্থানে অগ্নিসংযোগের চিত্র ধরা পড়েছে।  এ হামলায় ৫ শয়ের মতো বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। প্রথমে এই অভিযোগ স্বীকার করতে চায়নি মিয়ানমার সরকার।

স্যাটেলাইট থেকে তোলা বিভিন্ন ছবি বিশ্লেষণের পর একই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ।

১২ নভেম্বর সকাল ১০ টায় মিয়ানমার আর্মি উত্তর মংডুর বিভিন্ন রোহিঙ্গা গ্রামে হামলা চালায়। এসময় তারা রোহিঙ্গাদের হত্যা করে ও তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

দুপুর ৩ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত ও রাতেও মিয়ানমার বিমানবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে বোমা ও ভারি মেশিনগানের গোলা ছুড়তে থাকে। এতে বিপুল পরিমাণ রোহ্ঙ্গিা মারা যায়। এসময় মিয়ানমার নৌ বাহিনী নাফ নদীতে তাদের টহল ও তৎপরতা বৃদ্ধি করে।

burma_sat_1

এদিকে ভয়ে রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষরা ঘর ছেড়ে ধান ক্ষেতে আশ্রয় নিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের খুজে বের করে গ্রেফতার করতে থাকে। ১২ নভেম্বরের এই হামলায় কমপক্ষে ৫ হাজার লোক তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর এবং ৩ ও ১০ নভেম্বরের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, রাখাইনের মংদাউ জেলার পিয়াং পিত, কিত ইয়ো পিন এবং ওয়া পিক গ্রামে ৪৩০টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে।

এইচআরডাব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস আজ (রোববার) বলেছেন, স্যাটেলাইট চিত্রগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, সেখানে ধারণার চেয়েও বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। গত মাসে সীমান্ত চৌকিতে দুর্বৃত্তদের হামলার পর থেকেই রাখাইন রাজ্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

দেশটির সরকার বলছে, রোহিঙ্গা মুসলমানেরা নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। তবে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে নি। রাখাইনে সেনাবাহিনীর অবরোধের কারণে মনে করা হচ্ছে, মুসলিম গ্রামগুলোতে যেসব ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে খোদ সেনারা জড়িত রয়েছে।

এদিকে বার্মাটাইমস নামের অনলাইনে প্রকাশিত এক রিপোর্টে দাবী করা হয়েছে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের মোকাবিলায় সেদেশের রাখাইন বুদ্ধিস্টদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে বিবিসির জোনাহ ফিশার বলছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালানো সেনাবাহিনীর মধ্যে জনপ্রিয় একটি সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, দেশটিতে রোহিঙ্গাদের অনেকেই পছন্দ করে না এবং বার্মিজদের অনেকেই তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখে।

মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশে লাখ লাখ মুসলমান দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা নতুন করে ফের মুসলমানদের ওপর হামলা শুরু করেছে।

রাখাইন প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। গত ৯ অক্টোবর অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাতে মিয়ানমারের ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর সেখানে নিরীহ মুসলমানদের ওপর ফের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলা শুরু হয়েছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ জানিয়েছে, মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলেছে, রাখাইনের মংদাউ জেলার তিনটি গ্রামের ৪৩০টি বাড়ি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে নতুন এক সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ২৫ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। সরকারী বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার সেনাদলের ওপর একদল লোক আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি এবং বল্লম নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে প্রায় ৫০০ মানুষ সেনাদলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং সৈন্যদের সাহায্যার্থে দুটি হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে রোহিঙ্গা গ্রামে গুলি চালানো হয় ।




ইহুদীবাদের সাথে পবিত্র আল আকসা মসজিদের কোনো সম্পর্ক নেই: ইউনেস্কোতে প্রস্তাব পাশ

আল আকসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পার্বত্যনিউজ (ঢাকা):

ইহুদীবাদের সাথে পবিত্র আল আকসা মসজিদের কোনো সম্পর্ক নেই মর্মে জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো গত বৃহস্পতিবার একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। প্রস্তাবে আল বুরাক বা পম্চিম তীরকে জেরুসালেমের দখলীকৃত ভূখণ্ড বলেও স্বীকার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাশ হওয়া এই প্রস্তাবে ২৪ টি দেশ পক্ষে ৬ টি দেশ বিপক্ষে এবং ২৬ টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। বিপক্ষে ভোটদানকারী রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, লিথুনিয়া ও এস্তানিয়া। মিশর, আলজেরিয়া, মরক্কো, সুদান, লেবানন, ওমান ও কাতার ৭ টি দেশ ইউনেস্কোতে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলো।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জেরুসালেম শহর ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদী নামক তিনটি বৃহৎ একেশ্বরবাদী ধর্মের সাথে সংযুক্ত থাকলেও আল আকসা মসজিদ কেবল মাত্র ইসলামের সাথে সংযুক্ত।

ভোটের আগের কয়েক সপ্তাহ ইসরাইলী কূটনীতিকরা ইউনেস্কোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে জনমত গড়তে ব্যাপক তৎপরতা চালায়।

প্রস্তাবে আল আকসা মসজিদে ইসরাইল কর্তৃক মুসলিমদের যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার সমালোচনা করা হয়।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেন ইয়ামিন নেতানিয়াহু ইউনেস্কোর এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে তাকে অবাস্তব নাট্যশালা আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘ একটি নৈতিক প্রহসনে পরিণত হয়েছে যখন এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইতিহাস রক্ষা, ধংস ও অস্বীকার শুরু করেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের সাথে আল আকসা মসজিদের সম্পর্ক অস্বীকার করার অর্থ চীনের সাথে মহাপ্রাচীর ও মিশরের সাথে পিরামিডের সম্পর্ক অস্বীকার করা। ইউনেস্কোর তার অধিকারের সীমা লংঘন করেছে জানিয়ে ইউনেস্কোর সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, পাশ হওয়া সত্যের চেয়ে ঐতিহাসিক সত্য বেশী শক্তিশালী।

এদিকে ফিলিস্তিনী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। পরবর্তী সপ্তাহে এটি ইউনেস্কোর নির্বাহী কমিটিতে উঠবে। এর আগেও গত এপ্রিলে ইউনেস্কো একই ধরণের আরেকটি প্রস্তাব পাশ করেছিলো।

এর আগে মেরি বেন ডোভ নামের বিখ্যাত ইসরাইলী প্রত্নতত্তবিদ ও এ বিষয়ে বহু গ্রন্থের লেখক, গবেষণা করে দেখিয়েছিলেন যে, পশ্চিম তীর ও আল আকসা মসজিদের সাথে ইহুদীবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।




মিয়ানমার সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলায় ৯ বিজিপি ৮ হামলাকারী নিহত: ৬৪ আগ্নেয়াস্ত্র ১০ হাজার গুলি লুট

two-arrested

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের মংডু এলাকার ট্যানাইসুট, কাউয়ারবিল ও নাকফুরায় তিনটি বিজিপি ক্যাম্পে অস্ত্র লুট ও পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার নৌ চলাচল ট্রানজিট বন্ধ রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। এতে করে মিয়ানমারের ঘটনায় টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় তেমন কোন প্রভাব পড়েনি।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার সংলগ্ন মংডু ও রাথেডং শহরের বর্ডার গার্ড পুলিশের(বিজিপি) তিনটি পোস্টে হামলার ঘটনায় পুলিশ ২ সন্দেহভাজন বাঙালীকে আটক করেছে।

রবিবার রাত ১.৩০ থেকে ৪.৩০ মিনিটে সংঘটিত এই হামলায় মিয়ানমার পুলিশের ৯ সদস্য ও ৮ হামলাকারী নিহত হয়েছে, ৫ বিজিপি সদস্য আহত এবং ২ হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ২৫০ হামলাকারী এ হামলায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ২৪০ জন হামলাকারী ৬৪ টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০ হাজার গুলি লুট করে নদী পথে পালিয়ে যায় বলে মিয়ানমারের সরকারী সূত্র স্বীকার করেছে।

আরাকান রাজ্য সরকারের সচিব ইউ টিন মং শোয়ে বলেন, ধৃতরা এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং তিন মাস ধরে স্থানীয়দের সহায়তায় এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মুসলিমদের দায়ী করলেও রাজ্য সরকারের সচিব ইউ টিন মং জানান, হামলাকারী কারা তা এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি রোহিঙ্গাদের জড়িত থাকার ব্যাপারেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশে-মিয়ানমার সীমান্ত গেইট ও শতাধিক স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয় এবং স্থানীয়ভাবে কারফিউ জারী করা হয়।

স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং মিয়ানমার নৌবাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে যাতে কোনো অপরাধী পালিয়ে না যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফস্থ বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ মিয়ানমারের ঘটনা প্রসঙ্গে সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মংডুস্থ কাউয়ারবিল বিজিপি সদর দফতর থেকে বিজিবিকে অনুরোধ করে  জানানোর পর থেকে হামলাকারীরা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিবির সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারীতে রাখা হয়েছে। সেই সাথে বাংলাদেশ থেকে কোন  ট্রানজিট বোট মিয়ানমার যায়নি এবং মিয়ানমার থেকে কোন ট্রানজিট পাস নিয়ে বাংলাদেশে আসেনি।  এছাড়া যে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে নাফ নদীতে জেলেদের মৎস্য শিকারের উপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ স্থল বন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব) আনোয়ার হোসেন জানান, রবিবার মিয়ানমার হতে কোন অভিবাসন যাত্রী বাংলাদেশে আসেনি এবং বাংলাদেশ হতে মিয়ানমারে কোন যাত্রী গমন করেনি। এছাড়া টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়া ট্রানজিট জেটি দিয়ে প্রতিদিন পারাপার করা উভয় দেশের লোকের একদিনের যাতায়াত বন্ধ ছিল।

টেকনাফ স্থল বন্দর কাস্টমস কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান জানান, মিয়ানমারের পন্যবাহী কোন ট্রলার স্থল বন্দরে  প্রবেশ করেনি।




বিজিপি ফাঁড়িতে হামলা: নিহত ১৬

বিজিপি

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের মংডুতে অজ্ঞাতনামা গোষ্ঠির হামলায় মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ বিজিপির অন্তত ৯ জন সদস্য এবং ৭ জন হামলাকারী নিহত হবার পর টেকনাফে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা নেয়া হয়েছে।- বিবিসি।

মিয়ানমারের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলছেন, রোববার ভোররাতে রাখাইন প্রদেশের মংডুতে বর্ডার গার্ড পুলিশের তিনটি পোস্টে হামলা চালায়।

টেকনাফে বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবু জর আল জাহিদ জানিয়েছেন, রাতে গোলাগুলির শব্দ শোনার পর তারা দোভাষীর মাধ্যমে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন।

মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী থেকেও তাদের জানানো হয়েছে যে তাদের কিছু আউটপোস্টে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে এবং সন্ত্রাসীরা যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় কিছু সূত্র বিবিসির বার্মিজ সার্ভিসকে বলেছে, এই হামলার সাথে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন বা আরএসও জড়িত রয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার থেকে এটি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে বাংলাদেশের একটি নিরাপত্তা সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্বত্যনিউজকে বলেন, বর্তমানে আরএসও’র যে সামরিক শক্তি রয়েছে তাতে একসাথে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর এতোগুলো ক্যাম্পে হামলার সক্ষমতা রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সূত্রের কাছে প্রাপ্ত তথ্য মতে, নাসাকা বাহিনী ভেঙে মিয়ানমার বিজিপি গঠন করে। এসময় নাসাকার সদস্যরা বিজিপিতে যোগ দিলেও সব নাসাকা সদস্য বিজিপিতে যোগ দিতে পারেনি। এই যোগ দিতে না পারা নাসাকা সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ রয়েছে। এই বিক্ষুদ্ধ ও অসন্তুষ্ট নাসাকা সদস্যরা এ হামলা চালাতে পারে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেও জানায় এই সূত্রটি।

সীমান্তের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সশস্ত্র হামলার পরপরই মায়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় জরুরী অবস্থা জারী করা হয়েছে। চলানো হচ্ছে ব্যাপক ধরপাকড়। শুরু হয়েছে রাখাইন এলাকায় দফায় দফায় দাঙ্গা হাঙ্গামা। বহু লোক নিহত হয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ খবরে জানা যায়, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের ৪৮ কিলোমিটার জুড়ে মায়ানমারের সেনাবাহিনী মোতায়েন সহ টহল দিচ্ছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বিজিবি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ সহ বাড়তি নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত সতর্কাবস্থা জারি করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম এলাকায় অবস্থান করে আরএসও তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করে মিয়ানমার।

এর আগে এবছরের মে মাসে টেকনাফের একটি আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা এবং ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি লুটের ঘটনায়ও আরএসও জড়িত ছিল বলে বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।




ফেনী নদী থেকে ২৬টি অবৈধ পানির পাম্প হাউজ তুলে নিতে ভারতকে বিজিবির চিঠি

88-copy

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় সীমান্তবর্তী ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম মহকুমার ১৭টি সীমান্ত পয়েন্টে সীমান্তবর্তী ফেনীনদী থেকে পানি উত্তোলনের জন্য   নো ম্যান্স ল্যান্ডে  ভারতের অবৈধভাবে স্থাপিত ২৬ টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ চালিত লো লিফট পাম্প মেশিন তুলে নিতে সেদেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)কে  পত্র দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার রামগড় সীমান্তের ওপারে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমে অনুষ্ঠিত দুদেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে বিএসএফের কাছে  পত্রটি হস্তান্তর করা হয়।

জানাযায়, বাংলাদেশের সাথে কোন ধরণের চুক্তি ছাড়াই ভারত দীর্ঘদিন থেকে এ  পাম্প মেশিনগুলোর মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে ফেণী নদী থেকে অবৈধভাবে  দৈনিক এক শতাধিক কিউসেক পানি তুলে নেয়। একতরফাভাবে পানি তুলে নেওয়ার ফলে শুষ্ক মৌসুমে ফেনী নদী  শুকিয়ে ধূধূ বালুচরে পরিনত হয়। রামগড়, উত্তর ফটিকছড়ি ও মিরেরসরাইয়ের সীমান্তের ওপারে পাম্প হাউজগুলো অবস্থিত। এদিকে  মৃতপ্রায় এ নদী খেকে ভারত চুক্তির মাধ্যমে আরো  ১ দশমিক ৮২ কিউসিক পানি তুলে নেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ভারত ফেনী নদীর জল প্রবাহ থেকে ৩০-৫০ গজ দূরে টেউ টিন দিয়ে তারা স্থায়ীভাবে পাম্প হাউজ নির্মাণ করে সেখানে বিদ্যুৎ চালিত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মোটর বসিয়ে নদী থেকে পানি তুলে নেয়। মোটর চালানোর জন্য প্রতিটি পাম্প হাউজে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে। মানুষের নজরে না আসার জন্য অধিকাংশ পাম্প হাউজ  মাটির নীচে টিন অথবা পাকা দেয়াল তৈরি করে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া  পাম্প হাউজ থেকে নদীর পানি পর্যন্ত খনন করে মাটির নীচ দিয়ে ৬-৮ ইঞ্চি জিআই এবং পিভিসি পাইপ বসানো হয়।  এসব পাম্প মেশিনের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করে সাব্রুম মহকুমার বিস্তৃীর্ণ সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার একর ফসলী জমিতে সেচ দেয় ভারত। আষাঢ় শ্রাবণ এ দুই মাস বর্ষার সময় ছাড়া বাকি ১০ মাসই ভারত পাম্প মেশিনের মাধ্যমে পানি তুলে নেয় । ১৯৮২ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে এ পাম্প হাউজগুলো স্থাপন করা হয় বলে জানা যায়।

বিজিবির গুইমারা সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল এম. জাহিদুর রশীদ জানান, ভারত ফেনীনদী থেকে ২৬টি পাম্প মেশিনের মাধ্যমে দৈনিক এক শতাধিক কিউসেক পানি তুলে নিচ্ছে। এখন বাংলাদেশের সাথে চুক্তির মাধ্যমে আরও এক দশমিক ৮২ কিউসেক পানি নিতে চায়। সাব্রুম মহকুমার বাসিন্দাদের পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে তারা  পানির এ দাবী করছে। তিনি বলেন, বুধবার সাব্রুমে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্তে দুদেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনীর  বৈঠকে ভারতীয় পক্ষকে ফেনী নদীর পাড়ে অবৈধভাবে স্থাপিত পানির পাম্প মেশিনগুলো তুলে নিতে অনুরোধ জানানো হয়। এ ব্যাপারে একটি লিখিতপত্রও বিএসএফকে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে স্থাপিত পাম্প মেশিনগুলো তুলে নেয়ার পর নদীর পানির পরিমান নির্ণয় করে হিস্যা অনুযায়ী  ভারত পানি  নিতে পারে। আমাদের এ বক্তব্যটিই ভারতীয় পক্ষকে পরিস্কারভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

 ঐ বৈঠকে বিজিবির গুইমারা সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার লে.কর্নেল এম. জাহিদুর রশীদ পিএসসি’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন রামগড়স্থ ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর হুমায়ুন কবির, গুইমারা সেক্টরের জি.টু.  মেজর রেজাউল হান্নান শাহীন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রামের নির্বাহি প্রকৌশলী খ.ম. জুলফিকার তারেক।

অপরপক্ষে বিএসএফের উদয়পুর সেক্টরের ডিআইজি ইয়াদ ভান্দ্রা’র নেতৃত্বে অন্যান্যের মধ্যে সাব্রুমের ৩১ বিএসএফ ব্যাটালিযনের কমান্ডিং অফিসার  টি সিং নেগী ও সাব্রুম মহকুমার পানি উন্নয়ন বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।




সৌদি আরবে কর্মরত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের ইসলাম গ্রহণ ও হজ্জ পালন

21295-british

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসলাম গ্রহনের পর সৌদিতে আরবে কর্মরত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সিনম কলিস এবারে হজব্রত পালন করেন। সৌদি আরবের ইতিহাসে এই প্রথম কোন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হজ্জ পালন করল। সৌদি আরবে নিয়োজিত ব্রিটিশ কূটনৈতিক সিমন কলিস এই বছর হজ্জ পালন করেন। তিনি হলেন প্রথম ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত যিনি মুসলিম হয়ে এই প্রথম হজ্জ পালন করলেন।

জনাব কলিস ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সৌদি আরবের বৃটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োজিত হন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম গ্রহন করেন। টুইটারে প্রকাশিত এক ছবিতে মিঃ কলিস এবং তার সহধর্মিণী হুদা মুজারকেচ কে সাদা ইহরাম পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। রাষ্ট্রদূত কলিস তাঁদের ইহরাম পরিহিত ছবি টুইটারে প্রকাশ করায় ফাওজিয়াহ আলবকর নামক এক তরুনিকে ধন্যবাদ জানান।

সেই তরুনি এক টুইটার বার্তায় বলেন, “সৌদিআরবে নিয়োজিত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত এই প্রথম হজ্জ পালন করলেন। যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম গ্রহন করেছেন আলহামদুলিল্লাহ্‌। সিনম কলিণের সাথে তার স্ত্রী সায়্যেদা হুদা”। ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ বৈদেশিক কমিশন এবং কমনওয়েলথ অফিসে যোগদানের অব্যবহিত পরেই, মিঃ কলিন ইরাক, সিরিয়া এবং কাতারে রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ত্ব পালন করেন।

তিনি দুবাই এবং বসরা তে কনস্যুলেট জেনারেল এর দায়িত্ত্বও পালন করেন। তিনি নয়া দিল্লি, তিউনিসিয়া এবং আম্মানেও দায়িত্ত্ব পালন করেন। হাজীগণ এখন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডন এবং কিরবানী করার মিনায় অবস্থান করছেন। এর পর তারা মক্কায় ফরে আসবেন এবং বিদায়ী তাওয়াফ করবেন। পাঁচদিন ব্যাপী এই হজ্জ শনিবারে শুরু হয়েছে এবং বৃহস্পতিবারে শেষ হবে।

সুত্রঃ গালফ নিউজ, সাউদী গেজেট, টিআরটি ওয়ার্ল্ড