মোটা টাকা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি গাড়ছে রোহিঙ্গারা: রিপোর্ট

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মাত্র ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে রোহিঙ্গারা৷ সম্প্রতি এমন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জি নিউজ৷ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে তারা৷

জি নিউজের রিপোর্ট অনুসারে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করেছে রোহিঙ্গারা৷ রফার জন্য তারা ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে৷ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীরা স্বীকার করেছে ওই টাকার বিনিময়ে মালদা জেলা দিয়ে প্রবেশ করতে পেরেছে তারা৷ যদিও এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করেনি কলকাতা 24×7

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন৷ সেখানে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয়, অনুপ্রবেশকারী৷ “রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয়৷ তারা সঠিক নিয়ম মেনে ভারতে প্রবেশ করেনি৷ কোনও রোহিঙ্গা আশ্রয়স্থলের কথা বলেনি৷ ওরা অনুপ্রবেশকারী৷” বলেন রাজনাথ৷

ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাস করছে রোহিঙ্গারা৷ NHRC সম্প্রতি একটি নোটিশ জারি করেছে৷ সেখানে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার কথা বলা হয়েছে৷ ডিসেম্বরে রোহিঙ্গা ও অন্য বেআইনি প্রবেশকারীদের আটকাতে পূর্ব ভারতের পাঁচ রাজ্যে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে এনিয়ে কথাও বলেন তিনি৷

নবান্নে ঘণ্টা দুয়েক আলোচনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আলোচনার ফল ভালো৷ পশ্চিমবঙ্গের মু্খ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন সমস্তরকম দরকারী সাহায্য করা হবে৷ নতুন বর্ডার আউটপোস্ট বসানো হবে৷ যেসব জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে কাঁটাতারের বেড়া বসানো হবে৷ জাতীয় সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তিনি বাকি রাজ্যগুলিকেও তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সমস্যা সমাধানের কথা বলবেন বলে জানিয়েছিলেন৷

তিনি স্বীকার করেছিলেন, ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার লম্বা বাংলাদেশ বর্ডার পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে৷ এর মধ্যে ৩ হাজার ৬ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া, সড়ক, ফ্লাডলাইট ও BOP রয়েছে৷ এখনও ১ হাজার ৯০ কিলোমিটার বর্ডারে কোনও কাজ হয়নি৷ ৬৮৪ কিলোমিটার কাঁটাতার ও পরিকাঠামো দিয়ে বাঁধা হয়েছে৷ কিন্তু ৪০৬ কিলোমিটার অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে৷ সেই জায়গাগুলো ব়্যাডার, ডে-নাইট লাইট ক্যামেরা ও সেন্সরের মতো প্রযুক্তি দিয়ে আটকানো হবে৷ সব জায়গায় বসানো হবে বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড৷ রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিতভাবে এই কাজ করবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি৷

 

সূত্র: কলকাতা 24×7




ওই রোহিঙ্গাদের কেন হত্যা করেছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী?

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমার সেনাবাহিনী সম্প্রতি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে, তাদের হাতে ১০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। তবে তারা ‘জঙ্গি’ ছিল বলে দাবি করেছে।

রাখাইনের ইনদিন গ্রাম থেকে পালিয়ে বাঁচা রোহিঙ্গারা বলেছেন, যে ১০ ব্যক্তিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, তারা ‘জঙ্গি’ ছিলেন না৷ তাদেরকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে৷ বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তারা এ তথ্য দেন৷

টেকনাফের বালুখালি ক্যাম্পে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের ইনদিন গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা ৩০ বছর বয়সি যুবতী মারজান এএফপিকে বলেন, স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের একদল লোক সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের গ্রামে আক্রমণ করে৷

‘‘তারা ১০ থেকে ১৫ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে নিয়ে বৈঠক করার কথা বলে নিয়ে যায়৷ পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি৷” বলছিলেন মারজান৷

মারজান জানান, তার স্বামীও সেই দলে ছিলেন৷ পরে অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে৷

‘‘ওরা আমাকে বললেন যে, আমার স্বামীর লাশ অন্যদের সঙ্গে একটি গণকবরে পাওয়া গেছে৷”

হোসেইন আহাম্মাদ নামের ইনদিন গ্রামের আরেক যুবক এএফপিকে জানান যে, যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা সবাই সাধারণ রোহিঙ্গা গ্রামবাসী ছিলেন৷ ‘‘তারা এমনকি কোনো আন্দোলনেও কখনো যাননি৷” বলেন তিনি৷

গেল বুধবারের আগ পর্যন্ত মিয়ানমার সেনারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলো৷

বুধবার দেশটির সেনাপ্রধানের অফিসের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে প্রথম ইনদিন গ্রামের গণকবরের সত্যতা স্বীকার করা হয় এবং বলা হয় যে, কয়েকজন গ্রামবাসী ও সেনাসদস্য মিলে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে৷ তবে নিহতদের ‘বাঙালি জঙ্গি’ বলে আখ্যায়িত করা হয়৷
এদিকে, এই ফেসবুক পোস্টের পর ব্যাপক সাড়া পড়েছে বিশ্বজুড়ে৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই হত্যাযজ্ঞকে ‘আইসবার্গের উপরিভাগ’ বলে অভিহিত করেছে৷ বলেছে, এমন অসংখ্য গণহত্যা, ধর্ষণ ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেবার ঘটনার তথ্য প্রমাণ আছে তাদের কাছে৷ তাঁরা এসব ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের ডাক দিয়েছে৷
ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

রোহিঙ্গাদের হত্যার বিষয়টি বড় আকারে তদন্তের দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও৷ মুসলিম দেশগুলোও বলছে যে, বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার৷

মিয়ানমার সেনাদের স্বীকারোক্তিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন মিয়ানমারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েল৷

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে এক ফোরামে তিনি বলেন, ‘‘আমি এই ঘটনার আরো স্বচ্ছ তদন্ত আশা করব৷ একইসঙ্গে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা দরকার৷ কারণ, এটি শুধু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারের দায় নয়, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ৷ ”

রোহিঙ্গা ফেরত আনতে জাপানের অর্থ

এদিকে, অং সান সূকির সঙ্গে দেখা করে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী তারো কোনো রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত আনার তাগিদ দিয়েছেন৷ শুক্রবার নেপিদোতে সু চি’র সঙ্গে সাক্ষাতের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে হবে৷

রাখাইনে শান্তি ফেরত আনা এবং বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া লাখো শরণার্থীকে ফেরত এনে তাদের পুনর্বাসনের জন্য মিয়ানমারকে ১৮০ কোটি টাকা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান৷

সু চি এই অর্থ সহায়তা দেবার অঙ্গিকার করবার জন্য জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান৷

রয়টার্সের সাংবাদিকদের সাজা

এদিকে, ঔপনিবেশিক যুগের ‘অফিসিয়াল সিক্রেসি’ আইনে গ্রেফতার করা রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লন ও কিঁয় সোয়ের ১৪ বছরের জেল হয়ে যেতে পারে৷ আদালত তাদের জামিন আবেদন এখনো মঞ্জুর করেননি৷ গত ১২ই ডিসেম্বর ইয়াঙ্গুনের কাছের একটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়৷ পুলিশের আমন্ত্রণেই সেখানে গিয়েছিলেন তারা৷ তারা দু’জন রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন৷

গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে৷ জাতিসঙ্ঘ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে আখ্যা দিয়েছে৷ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দাবি, তারা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে৷

 

সূত্র: নয়া দিগন্ত




বিতর্কিত আরাকান নেতা ডা. রেনিনসো রাজস্থলীর নিজ গৃহে

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

আদালতের অনুমতি নিয়ে সীলগালা প্রাসাদের তালা খুলে নিজ বসত ঘরে অবস্থান নিয়েছেন বহুল বিতর্কিত মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির নেতা রেনিনসু (রেনিজিউ)।

গত কয়েকদিন ধরে রাজস্থলী উপজেলাধীন কলেজ এলাকায় নিজ বাসায় ত্রিদেশীয় নাগরিক রেনিনসু অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, তিনি আদালত থেকে অনুমোদন নিয়ে এখানে এসেছেন এবং এ সংক্রান্ত কাগজপত্র তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন।

সন্ত্রাসবাদ অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত ৩টি মামলার আসামি মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা রেনিনসু দীর্ঘদিন কারাভোগের পর আদালত কর্তৃক জামিনপ্রাপ্ত হয়ে গত বছর ২০১৭ সালের ৫ জুন রাঙ্গামাটি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার স্ত্রী ও আত্মীয়রা বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে ডা. রেনিনসুকে খুঁজে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মীরসরাই এলাকায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা চোখ মুখ বাধা অবস্থায় রেনিনসুকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস কে বা কারা বিভিন্ন মানসিক নির্যাতন করে।

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডের নাগরিক বান্দরবান জেলা ও রাজস্থলী থানার ডা. রেনিনসুকে ফেলে রেখে যায় বলে তার আইনজীবী এড. উথোয়াইমং মারমা গণমাধ্যমকে জানান।

তার আইনজীবী উথোয়াইমং বলেন, ২৯ ডিসেম্বর ভোরের দিকে গুম ও অপহরণকারীরা আমার মক্কেল ডা. রেনিনসু তালুকদারকে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইতে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে তিনি গাড়িতে করে চট্টগ্রাম এসে পৌঁছান। পরে চট্টগ্রাম থেকে তিনি বাস যোগে চন্দ্রঘোনায় এসে রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকায় তার এক আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নেন। আরাকান আর্মির সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ডা. রেনিনসু তালুকদারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন, বৈদেশিক মুদ্রা ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে রাঙ্গামাটি আদালতে ৩টি মামলা রয়েছে। আদালতে হাজিরা দিতে আসলে আইনগত সহায়তার কারণে আমার মক্কেল ডা. রেনিনসু তালুকদার আদালতকে অবহিত করেন। এরপর থানায় জিডি করে বিষয়টি আদালতের গোচরে আনা হলে আদালত পুনরায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

তার আইনজীবী আরো বলেন, আমার মক্কেলের শারীরিক অবস্থা খুবই নাজুক। সে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সে যে কোন সময় মারা যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। রেনিনসু অপহরণের পর তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন বান্দরবান জেলায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

তার বড় মেয়ে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডের নাগরিক। বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ড দূতাবাস, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট তার পিতাকে ফেরৎ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) আরাকান আর্মির আলোচিত নেতা রেনিনসুকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এর আগে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে হন্য হয়ে খোঁজা আরাকান আর্মির এ নেতাকে মঙ্গলবার মধ্য রাতে রাজস্থলী উপজেলার ইসলামপুর আদর্শ নতুন পাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। রাজস্থলী থানা পুলিশের দায়ের করা ২টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রেনিনসু এক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজস্থলীর কলেজ পাড়া এলাকায় এক বিশাল সুরমা বাড়ি নির্মাণ করে। তাইতং পাড়া এলাকার এক মারমা তরুণীকে বিয়ে করে বসবাস করে আসছিলেন এবং সেই বাড়ি থেকেই আরাকান আর্মির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এরাবিয়ান হর্স পাচার করার সময় বান্দরবান সীমান্তে বিজিবি’র সন্দেহ হলে এরাবিয়ান হর্সসহ তার সহকারীকে আটক করে যৌথবাহিনী। তার খোঁজ-খবর নিয়ে রাজস্থলীর বিলাসবহুল বাড়িতে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে ২৮ আগস্ট বাড়িটির দুই কেয়ারটেকারসহ আরাকান আর্মির সদস্য মংয়ং রাখাইন ১৬৪ ধারায় গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা ৩জনই জেলহাজতে থাকাকালীন সময়ে পলাতক ছিলেন রেনিনসু। তার এই ঘটনার পূর্বে তিনি রাজস্থলীর পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃত্বের সাথে নিবিড় যোগাযোগ ছিল। তার বিলাসবহুল বাড়িতে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত মুঠোফোনের মাধ্যমে এবং সিসি ক্যামেরা দিয়ে নেদারল্যান্ড থেকে বাড়ির চার পাশের সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেন রেনিনসু। গত কয়েকদিন ধরেই রাজস্থলীতে তার অবস্থানের প্রেক্ষিতে এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।




রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং। বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ১০জন রোহিঙ্গাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে বরাবরের মতোই তিনি তাদের ‘বাঙালি জঙ্গি’ হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করেন।

সেনাপ্রধানের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, গ্রামবাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা মিলে ‘বাঙালি জঙ্গি’দের বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তাদের প্রথমে আটক ও পরে হত্যা করা হয়। তার ভাষায়, ‘ইনদিন গ্রামের কয়েকজন গ্রামবাসী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য স্বীকার করেছেন যে, তারা ১০জন বাঙালি জঙ্গিকে হত্যা করেছেন।’

২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ওই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। পরে নিহতদের গণকবর খুঁজে পাওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত মাসে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে মিয়ানমার। সেই তদন্তের প্রেক্ষিতেই ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানালেন দেশটির সেনাপ্রধান।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরুর পর জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে গত মাসে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে রাখাইনে সেনাদের হাতে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। জাতিসংঘ মহাসচিবকে লেখা এক চিঠিতে এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রামিলা প্যাটেন নামের ওই কর্মকর্তা।

প্রামিলা প্যাটেন হলেন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী জাতিসংঘের বিশেষ দূত। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি চারদিনের জন্য মিয়ানমার সফরে যান। জাতিসংঘ মহাসচিবকে তিনি জানান, সু চি’র সঙ্গে তার আলোচনা হলেও বৈঠকটি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কারণ রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগগুলো নিয়ে কথা বলতে চাইলে তা এড়িয়ে গেছেন সু চি।

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন




মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিকল্প নেই: আরসা

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক

রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে সহিংসতা চলছে তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে তাদের দাবি, রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সব সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আলোচনা করা হবে।

রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন অারাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০টির বেশি তল্লাশি চৌকিতে একযোগে হামলা চালায়।

এর জেরে রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলের রাখাইনে বিদ্রোহীবিরোধী অভিযান শুরু কেরে দেশটির সেনাবাহিনী। অভিযানে ব্যাপক সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াওয়ে সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে জাতিগত নিধনের চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আগস্টের অভিযানের পর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ছোট এই বিদ্রোহীগোষ্ঠী কোনো ধরনের হামলা চালায়নি। তবে গত শুক্রবার রাখাইনের প্রত্যন্ত একটি গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ট্রাকে হামলা চালিয়েছে রোহিঙ্গারা। প্রথমে স্থল মাইন বিস্ফোরণের পর সেনাবাহিনীর ট্রাক লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। এতে অন্তত ছয় সেনাসদস্য আহত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে আরসার নেতা আতা উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে রক্ষা, পুনর্বাসন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘বার্মার রাষ্ট্রীয়-সন্ত্রাসবাদ’ মোকাবেলা করার কোনো বিকল্প নেই।’

‘মানবিক সহায়তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করতে এমন সব সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অবশ্যই পরামর্শ করা হবে।’

শুক্রবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর হামলার দায় নিলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের এ সংগঠন। মিয়ানমার সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, দুই দেশের সরকার বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কাজ করলেও তা বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে বিদ্রোহীরা।

মুখপাত্র জ্য হতে বলেন, যারা ফিরে আসার চিন্তা করছে তাদের ভীতি প্রদর্শন করাই আরসার উদ্দেশ্য। এছাড়া এ অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা নেই বলেও তারা রোহিঙ্গাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর




রাখাইনে সেনাবাহিনীর গাড়িতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলা

পর্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ছয় সেনাসদস্য আহত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সেনাবাহিনীর গাড়িতে অতর্কিত হামলা হয়েছে। স্থল মাইনের বিস্ফোরণ ঘটানোর পর বিদ্রোহীরা সেনাবাহিনীর ওই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে।

শুক্রবার সকালে রাখাইনের মংডু শহরের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের সড়কে ওই হামলা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ওপর বিরল এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বিদ্রোহীরা।

মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে ধারাবাহিক হামলার জেরে গত বছরের ২৫ আগস্ট সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীবিরোধী অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত অভিযান, অগ্নিসংযোগ ও নিপীড়নের মুখে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়েছে।

জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে জাতিগত নিধনের অভিযোগ এনে নিন্দা করে আসছে। তবে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

৩০টির বেশি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার দায় স্বীকার করা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) গত ২৫ আগস্টের পর অল্প কয়েকটি বিক্ষিপ্ত হামলা চালিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, চরমপন্থী বাঙালি সন্ত্রাসীদের সংগঠন আরসার সদস্যরা সেনাবাহিনীর ট্রাকে শুক্রবারের হামলা চালিয়েছে। এতে আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মিয়ানমার সরকার বলছে, একটি গাড়িতে…ক্ষুদে অস্ত্র ও বাড়িতে তৈরি মাইনের বিস্ফোরণের পর প্রায় ২০ বিদ্রোহী হামলা করেছে। সেনাবাহিনী বলছে, অন্তত ১০ জন হামলায় অংশ নিয়েছে।

এদিকে, আরসা একজন মুখপাত্র ক্ষুদে বার্তায় রয়টার্সকে বলেছেন, তার সংগঠনের সদস্যরা ওই হামলা চালিয়েছে। ‘হ্যাঁ, সেনাবাহিনীর গাড়িতে সর্বশেষ হামলার দায় নিচ্ছে আরসা।’হামলার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য আরো পরে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, কোনো জঙ্গিাগোষ্ঠীর সঙ্গে আরসার সম্পর্ক থাকার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। আরসার এ মুখপাত্র বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান নিপীড়নের অবসানের লক্ষ্যে তারা লড়াই করছেন।

ইয়াঙ্গুনভিত্তিক মিয়ানমারের ম্যাগাজিন ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার স্থানীয় এক বাসিন্দার বরাত দিয়ে বলছে, গাড়িতে অতর্কিত হামলার সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। মিয়ানমারের সরকারি অপর এক দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, গাড়িতে হামলার ঘটনার পর মংডু থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের তারেইন গ্রামে এখনো গোলাগুলি চলছে।

সূত্র : জাগোনিউজ২৪




মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা গণহত্যা ও ধর্ষণসহ বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন ‘ওআইসি’র ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দুইদিন ধরে কক্সবাজারে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে শুক্রবার(৫জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প -২ এলাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

এসময় ‘ওআইসি’র ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্মানেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিটি ‘আইপিএইচআরসি’ চেয়ারপার্সন ড. রশিদ আল বালুসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দুইদিন ধরে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেছি। এতে আমরা যতটুকু জেনেছি মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর গণহত্যা ও ধর্ষণসহ বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা ওআইসি’র কাছে প্রতিবেদন পেস করবো।

প্রতিনিধিদলের সাথে ছিলেন, ওআইসি’র  ভাইস চেয়ারম্যান মেড এসকে ক্যাগওয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ড. রাইহানাহ বিতে আবদুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জমির, আবদুল ওহাব, মাহমুদ মোস্তফা আফিফি, এডামা নানা, নির্বাহী পরিচালক মার্গোব সেলিম বাট, হাফিদ এল হাসমি, আকমেদ আল গামদি, হাসান আবেদিন, মাহা আকিল, আব্দুল্লাহ কাবি ও মোহাম্মদ গালাবা সহ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিক ইস্যুতে কক্সবাজার পৌঁছেন ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ওইদিন দুপুরে জেলা প্রশাসনের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন প্রতিনিধি দল। সভায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময় ওআইসি’র প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।




রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবায় সরকারের সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে

উখিয়া প্রতিনিধি:

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, মিয়ানমারে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত বাংলাদেশে আশ্রিত বিপন্ন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় সরকার ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে তা বিরল। বিশেষ করে সুইস রেডক্রস রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবায় হেলথ সেন্টার চালু সহ স্যানিটেশন, গভীর নলকূপ স্থাপন ও মাতৃশিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতিকরনে কাজ করায় প্রশংসার দাবি রাখেন।

রবিবার(৩১ডিসেম্বর) সকালে উখিয়ার থাইংখালী তাজুনিমার খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত বিষয়ক সম্বনয়কারী ও সাবেক সচিব আরো বলেন রোহিঙ্গাদের মাঝে দ্রুত রোগবিস্তার যাতে ছড়িয়ে না পরে কলেরা ভ্যাকসিনের পাশা-পাশি হাম, পোলিও, থিপথেরিয়াসহ সংক্রামক রোগের ঠিকা প্রদান করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সুইস রেডক্রস ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন সোসাইটি পরিচালিত এবং ডিএপিএস’র অর্থায়নে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন কালে বিশেষ অতিথি ছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফিল্ড কো-ডিনেটর ডাক্তার মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সুইস রেডক্রসের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. নুর নবী, সুইস রেডক্রসের ফজলুর রহমান। এসময় সেনাবাহিনীর অফিসার, সরকারি কর্মকর্তা ও ক্যাম্প ব্যবস্থাপনার কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

সুইস রেডক্রসের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, ডিএপিএস পরিচালিত প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারে রোহিঙ্গাদেরকে স্বাস্থ্য সেবার পাশা-পাশি হাইজিং, ওয়াশ, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু সু-রক্ষা মানষিক স্বাস্থ্য সেবার  উপর কাজ করবে। এছাড়াও অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধে হেলথ কেয়ার সেন্টারে একটি পুষ্টিকনিকা কর্ণার চালু থাকবে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য সম্মত স্যানেটারি ল্যান্ট্রিন তৈরি, গভীর নলকূপ স্থাপনসহ নানা মানবিক সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সুইস রেডক্রস।




বার্মা সরকার ক্যাম্প নির্মাণ করছে রোহিঙ্গাদের জন্য

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বার্মা-বাংলাদেশের সম্পাদিত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় যেসব রোহিঙ্গাকে বার্মা ফেরত নিবে তাদের রাখার জন্য ক্যাম্প তৈরি করছে বার্মা প্রশাসন। বাড়ি ঘরে ফিরতে না দিয়ে ক্যাম্পে এক রকম নজরবন্দি রাখা হবে রোহিঙ্গাদের। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। আরাকান থেকে নানা মাধ্যমে এমন সব তথ্য পাওয়ার পর বাংলাদেশে সাময়িক আশ্রিত রোহিঙ্গারা আবারো ভয় পেতে শুরু করেছে।

জানাগেছে, আরাকান রাজ্যের উত্তরাঞ্চলর তাওংপিওয়ো লেটওয়ে (বার্মিজ নাম) গ্রামে একটি পুলিশ চেকপোস্টের পাশেই ইতোমধ্যে দু’টি ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের রাখার জন্য। এ সম্পর্কে বার্মার সরকার বলছে ফিরিয়ে নেয়া রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে ওই ক্যাম্পে রাখা হবে। এসব খবরে আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা। তারা বার্মায় ফিরে আবারও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে চান না।

দাতা সংস্থা অক্সফাম জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্যাম্পের অনেক রোহিঙ্গাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা নিজেদের পরিবারের লোকজনকে চোখের সামনে ধর্ষণ হতে এবং খুন হতে দেখেছেন। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাবে না, প্রয়োজনে তারা আত্মহত্যা করবে।

প্রসঙ্গত ২০১২ সালের সহিংসতার পর আরাকানে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাকে আইডিপি ক্যাম্পবন্দি করে রেখেছে প্রশাসন। তাদের কোন স্বাধিনতা নেই সেখানে।

এদিকে গতকাল শুক্রবারও ১৪২ জন রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠিয়েছে প্রশাসন।

 

সূত্র: Arakan Television




রোহিঙ্গা স্রোত থামছেনা: নতুন করে অনুপ্রবেশ করেছে ৫ শতাধিক

 

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

একদিকে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যাবাসন তোড়জোড় অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত আসছে রোহিঙ্গা। যাবার পালায় রোহিঙ্গা আসায় প্রত্যাবাসন সফলতা নিয়ে স্থানীয় জনমনে সংশয় ও সন্দেহ থাকলেও সীমান্ত এখনো খোলা রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী আগের মতো এখনো মানবতার কারণে রোহিঙ্গাদের বাধা দিচ্ছেনা। রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আরও ১৪২জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারে এসেছে।

তাদেরকে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার(২৯ডিসেম্বর) বিভিন্ন সময়ে ৪৭টি পরিবারের ওই সদস্যরা কক্সবাজারের টেকনাফে আসে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করা ১২৭ পরিবারের ৪১৭জন রোহিঙ্গাকে নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফের সাবরাং হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ৪৭ পরিবারের ১৪২ রোহিঙ্গাকে প্রথমে সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালীতে সেনাবাহিনীর ত্রাণকেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, সুজি, চিনি, তেল, লবণ, ত্রিপল ও একটি করে কম্বল দিয়ে গাড়িতে করে তাদের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা আলি জুহার (৪৭) জানান, তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থি সশস্ত্র যুবকদের অত্যাচার-নিপীড়ন মুখ বুঝে সহ্য করে খেয়ে না খেয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তারা মনে করছিলেন, আন্তর্জাতিক চাপে মিয়ানমার সরকার তাদের ওপর আর কোনো অত্যাচার করবে না। কিন্তু মিয়ানমার সেনা তাদের পাকা ধান কেটে নিয়ে গেছে। হাট-বাজারে যেতে দিচ্ছে না। দোকানপাট পুড়িয়ে ফেলায় অর্থ ব্যয় করেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না।

এসব কারণে তারা চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও কিছুতেই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যাচ্ছে না। কোনো না কোনো সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসছে। কিন্তু  তুলনায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অনেকটা কমেছে।