রাখাইনে জমির মালিকানা হারাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমারে ফেরত গিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমরা তাদের জমির মালিকানা দাবি করতে পারবেন না। এমনকি ফিরে গিয়ে দেখতে পাবেন তাদের জমি চাষ করা হয়েছে অথবা সরকার বিক্রি করে দিয়েছে। রাখাইনের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত দেশটির অন্তত হাফ ডজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিশেষ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রাখাইনে মিয়ানমার সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার নথিও দেখেছেন রয়টার্সের প্রতিনিধি। ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংঘবদ্ধ হামলার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ভয়ঙ্কর অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, আগস্টের শেষের দিকে রাখাইনে সেনাবাহিনী এবং উগ্র রাখাইন বৌদ্ধরা হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের মতো অপরাধ করছে। রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের চেষ্টায় এসব অপরাধ করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসাবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারলে তাদের যে কাউকে ফেরত নেয়া বলে অঙ্গীকার করেছেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত মিয়ানমারের অন্তত ছয়জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। যদিও এখনো কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে কীভাবে সু চির পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

মিয়ানমারে ফিরতে চাওয়া অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থীর একজন জামিল আহমেদ। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন জামিল। আগস্টের শেষের দিকে তিনি কীভাবে রাখাইন ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন সেবিষয়েও কথা বলেছেন।

আহমেদ যখন কথা বলছিলেন; তখন বেশ কিছু কাগজ এক হাতে ধরে রেখেছিলেন। এতে আছে, জমির চুক্তি সংক্রান্ত কিছু কাগজ ও রসিদ; এসব কাগজের মাধ্যমে ফেলে আসা জমি ও ফসলের মালিকানার প্রমাণ দেখাতে হবে তাকে।

৩৫ বছর বয়সী এই রোহিঙ্গা শরণার্থী বলেন, ‘আমি কোনো অলঙ্কার অথবা মূল্যবান বস্ত নিয়ে আসিনি।’ আমি শুধুমাত্র এসব নথি নিয়ে এসেছি। মিয়ানমারে সবকিছু প্রমাণ করার জন্য আপনাকে দলিল-দস্তাবেজ তুলে ধরতে হবে।’

 

সূত্র: jagonews24




রোহিঙ্গা সঙ্কট; মিয়ানমারকে পূর্ণ সমর্থন করল চীন

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

শান্তি এবং স্থিতিশীলতার সুরক্ষায় মিয়ানমারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন করেছে চীন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের উপ-মন্ত্রী জিও ইয়েঝু এ প্রসঙ্গে বলেন, বহির্বিশ্বের সহায়তা ছাড়াই রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সরকারের সক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করে চীন।

কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তাহব্যাপী চলমান জাতীয় কংগ্রেসের ফাঁকে জিও ইয়েঝু সাংবাদিকদের বলেন, রাখাইনসহ এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিয়ানমারের পদক্ষেপে সমর্থন রয়েছে চীনের। তিনি বলেন, মিয়ানমারের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন বুঝতে হবে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়েছে। কয়েক দশক ধরে সামরিক জান্তা সরকারের অধীনে থাকলেও মিয়ানমারের সঙ্গে সুদীর্ঘ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বেইজিংয়ের।

তিনি বলেন, চীন এবং মিয়ানমার বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশি রাষ্ট্র। যাদের সঙ্গে পর্বত এবং নদী সীমান্ত রয়েছে। রাখাইনে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে চীনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

সূত্র: কালের কন্ঠ




হিউম্যান রাইটস ওয়াচের স্যাটেলাইট ছবি বলছে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোই শুধু পুড়েছে

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পঁচিশে অাগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শুরুর পর এখন পর্যন্ত প্রায় ছয়লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে এটা এ পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা শরণার্থী সঙ্কট।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর যে দমনপীড়নের কারণে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ তাকে “পাঠ্যবইএ জাতিগত নিধনের উদাহরণের” সাথে তুলনা করেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করেছে বেসামরিক জনগণ তাদের লক্ষ্যবস্তু নয়।

হিউম্যান রাউটস ওয়াচ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে রাখইনের যে ছবি তুলেছে তা বিশ্লেষণ করে তারা বলছে ২০১৭ ‘র অাগস্টের পর উত্তর রাখাইনে আগুনে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক পুড়ে গেছে অন্তত ২৮৮টি গ্রাম।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে বহু এলাকা যেখানে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছিল সেসব এলাকা পুড়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে, কিন্তু কাছেই রাখাইনের স্থানীয় বৌদ্ধদের গ্রামগুলো অক্ষত রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ২৫ অাগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মংডুর শহরতলীতে। এর মধ্যে তাদের হিসাবে সবচেয়ে বেশি গ্রাম ধ্বংস হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বরের পর যখন দেশটির নেত্রী অং সান সুচি বলেছিলেন সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শেষ হেয় গেছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় ছয় লাখ শরণার্থী এখন বাস করছেন কক্সবাজার এলাকার বিভিন্ন শিবিরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শিবির কুতুপালং-এর পরিধি অাগস্ট মাসের পর বাড়ানো হলেও আশপাশে অস্থায়ী শিবিরগুলোতে এখন রয়েছেন প্রায় তিন লাখ ১২ হাজার শরণার্থী।

 

সূত্র: বিবিসি




সু চির ভাষণের পরই বেশি পুড়েছে রোহিঙ্গাদের গ্রাম

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

২৫ অগাস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শুরুর পর এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে, এটা এ পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা শরণার্থী সঙ্কট।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর যে দমনপীড়নের কারণে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে জাতিসঙ্ঘ তাকে “পাঠ্যবই-এ জাতিগত নিধনের উদাহরণের” সাথে তুলনা করেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করেছে বেসামরিক জনগণ তাদের লক্ষ্যবস্তু নয়।

হিউম্যান রাউটস ওয়াচ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে রাখইনের যে ছবি তুলেছে তা বিশ্লেষণ করে তারা বলছে ২০১৭’র অগাস্টের পর উত্তর রাখাইনে আগুনে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক পুড়ে গেছে অন্তত ২৮৮টি গ্রাম। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বহু এলাকা যেখানে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছিল সেসব এলাকা পুড়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে, কিন্তু কাছেই রাখাইনের স্থানীয় বৌদ্ধদের গ্রামগুলো অক্ষত রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ২৫ অগাস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মংডুর শহরতলীতে। এর মধ্যে তাদের হিসাবে সবচেয়ে বেশি গ্রাম ধ্বংস হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বরের পর যখন দেশটির নেত্রী অং সান সুচি বলেছিলেন, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শেষ হেয় গেছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় ছয় লাখ শরণার্থী এখন বাস করছেন কক্সবাজার এলাকার বিভিন্ন শিবিরে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শিবির কুতুপালং-এর পরিধি অগাস্ট মাসের পর বাড়ানো হলেও আশপাশে অস্থায়ী শিবিরগুলোতে এখন রয়েছেন প্রায় তিন লাখ ১২ হাজার শরণার্থী।

মিয়ানমারের বাহিনী রাখাইনে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ করছে – বলছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
সর্বশেষ এ সপ্তাহে যে ১৫ হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে ঢুকেছেন তারা বলছেন রাখাইনে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালানো এখন বন্ধ হলেও তাদের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণ এখনো অব্যাহত আছে। তারা বিবিসি বাংলার সাংবাদিককে বলেছেন রুজি রোজগারের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ছাড়া তাদের আর কোনো গতি নেই।

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের আশ্বাসে মিয়ানমারে গঠিত হচ্ছে নতুন দল

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ অন্যসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মিয়ানমারের সাবেক ছাত্রনেতা ও সু চির সহযোদ্ধা কো কো জি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ তার নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বলে জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।

দল গঠনে তিনি এখনো প্রচারণা না নামলেও এ বিষয়ে জাপানে বসবাসকারী মিয়ানমারের নাগরিকদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার দেশে জনবান্ধব একটি দল গঠন করতে চাই।’

মিয়ানমারে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি’র পরই সম্ভবত কো কো জি হয়ে উঠবেন সবচেয়ে সম্ভাবনাময়ী গণতান্ত্রিক নেতা। তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন গ্রুপ ‘৮৮ জেনারেশন স্টুডেন্টস’-এর নেতা হিসেবে প্রথম আলোচনায় আসেন। তার গ্রুপটি সু চি’র পক্ষ হয়ে আন্দোলন করে সেনা শাসনামলের অবসানের লক্ষ্যে ব্যাপক কাজ করে যায়। তাদের সংগ্রাম সফল হওয়ার পর গত ৫ বছর আগে দুই দশকের জেলজীবন থেকে মুক্তি পান জি।

২০১৫ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করে অং সান সু চি’র দল। আর এ জয়ের ফলে মিয়ানমার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যায়। কিন্তু জি বলেন, তার কাজ এখনো শেষ হয়নি। তিনি এনএইচকে’কে বলেন, তিনি নতুন একটি দল গঠন করতে চান, যা জনগণের জন্য একটি বিকল্প ধারা হবে।

সামরিক সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই নেতা মনে করেন, সু চি একা রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান করতে সক্ষম নন। সঙ্কট নিরসনে মিয়ানমারে ‘জবাবদিহিতামূলক বহুদলীয় গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

চলতি সপ্তাহে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান গিয়েছিলেন কো কো জি। এসময় বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে মায়ানমারের সংকট নিয়ে কথা বলেন তিনি।

তার একজন সমর্থক মনে করেন, ‘আমি নিশ্চিত কো কো জি মিয়ানমারের ভবিষ্যত নিয়ে কাজ করবে।’
রাখাইন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নিধনযজ্ঞ বললেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বারবারই তা অস্বীকার করে এসেছে। দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিও বিষয়টি নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে বরাবরই অস্বীকৃতি জানিয়েছে মায়ানমার সরকার। অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা বললেও এই ব্যাপারেও স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

তবে কো কো জি কথা বলেছেন নির্দিষ্ট করেই। তিনি বলেন, ‘তারা নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারে। এটা পাওয়ার পর তারা রাষ্ট্র থেকে সকল সুযোগ সুবিধা পাবে। সব নাগরিকই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের কাছে সমান সুবিধা উপভোগ করবে।’

শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যারা আইন লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এনএইচকে’র প্রতিবেদনে বলা হয়, কো কো জির নতুন দল কেমন করবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে নতুন এই গণতান্ত্রিক দেশে সু চিকে নিশ্চিতভাবেই চ্যালেঞ্জ জানাবে এই দল।

 

সূত্র: নয়াদিগন্ত




রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী রানিয়া আল আবদুল্লাহ। আগামী সপ্তাহে বিশেষ বিমানে চড়ে সরাসরি তিনি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা কক্সবাজার যাবেন। সেখানে দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বর্মী বর্বরতার লোমহর্ষক কাহিনীগুলো শুনবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মানবতার কল্যাণে বৈশ্বিকভাবে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কুইন রানিয়ার কক্সবাজার সফর রোহিঙ্গা ইস্যুতে জনমত সৃষ্টি বিশেষ করে ইস্যুটির ‘সংবেদনশীলতা’ বাড়বে। সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বাঙ্গনে এখন প্রতিনিয়ত সরব বাংলাদেশ। এ নিয়ে গতকালও সরকারের তরফে ঢাকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক্সক্লুসিভ ব্রিফিং হয়েছে।

সেখানে বর্মী বাহিনীর বর্বরতা বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরিকল্পিতভাবে আগ্রাসনের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে। রাখাইনে হত্যাযজ্ঞ বন্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও দেশটির সরকারের ওপর বৈশ্বিক চাপ আরো জোরালো করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, স্পর্শকাতর রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আগামী দিনে আরো সরব হবেন বাংলাদেশের কূটনীতিকরা। আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক যেখানে যেভাবে সুযোগ পাবেন সেখানে সেভাবেই পরিস্থিতির ভয়াবহা তুলে ধরা এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর অনুরোধ অব্যাহত রাখবেন তারা।

গত বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের সংকটসহ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উপর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের দুর্দশার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছে বাংলাদেশ। সেখানে বলা হয়েছে, অল্প সময়ে বাস্তুচ্যুত বিপুল (লাখ, লাখ) রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয়ের কারণে এখানে এক মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিস্তিন সমস্যার মতো রোহিঙ্গা সংকটেরও স্থায়ী সমাধান চেয়েছে বাংলাদেশ।

এতে আবারও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্মিলিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মাসুদ নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, ‘ইতিপূর্বে ও সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদের দ্বারা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেয়ার প্রেক্ষিতে আমরা এই সমস্যার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারছি এবং সঙ্গত কারণেই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দীর্ঘস্থায়ী এই অবৈধ দখল ও ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ গত তিন দশক ধরে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলা করছে।

এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আমরা নিরাপত্তা পরিষদের সম্মিলিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি। নিরাপত্তা পরিষদ এসব দীর্ঘস্থায়ী সংকটের শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঐকমত্য প্রদর্শন করছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তা না করলে দীর্ঘমেয়াদি এই সমস্যা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিবে।

ফিলিস্তিন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোভাবের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে দুই রাষ্ট্র সমাধান কাঠামোর ভিত্তিতে একটি স্বাধীন, টেকসই, সুসংহত ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশের দূত ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের কার্যকর মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বর্ধিত ও পর্যাপ্ত তহবিল সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থানও তুলে ধরেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে বৈঠকের টপ এজেন্ডা রোহিঙ্গা সংকট: এদিকে আগামী সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ ও কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার যৌথ পরামর্শ সভা এবং আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পার্টনারশিপ ডায়ালগে মুখ্য আলোচনা হবে রোহিঙ্গা সংকট।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ইস্যুও থাকবে। তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকা রোহিঙ্গা সংকট নিয়েই প্রভাবশালী দেশ দুটির কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণে নজর থাকবে ঢাকার।

উল্লেখ্য, আগামী রোববার কানাডার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠক হবে। বৈঠকে নেতৃত্ব দিতে ঢাকা আসছেন কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া বিষয়ক সহকারী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড ববিঅ্যাশ। ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাই কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদেরও আরো জানার এবং ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ততার আগ্রহ রয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের সব সংকটকালেই কানাডা পাশে ছিল, আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে।

আসন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, সুশাসন, নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কানাডায় বসবাসরত বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি নুর চৌধুরীর ফেরতের বিষয়টিও আলোচনায় তুলবে ঢাকা। সেখানে উন্নয়ন সহযোগিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, শ্রমমান, বিনিয়োগসহ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে অভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন পৃথক দুটি বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন।

 

সূত্র: মানবজমিন




বৌদ্ধ ভিক্ষু সেজে কয়েক শত কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

নিজেকে পরবর্তী বুদ্ধ দাবি করে ‘খুন তান’। আর এমন দাবি করে যুবতীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। কয়েক শত কিশোরীর কুমারিত্ব নষ্ট করেছে সে। বিনিময়ে তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে এমন ধারণা দেয়া হয়েছে। অভিভাবকরাও রীতি অনুযায়ী তাতে অনুমোদন দিয়েছেন। এ অভিযোগে মিয়ানমারের মন রাজ্য সরকার খুন তানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

এ কথা বলেছেন মন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. আয়ে জান। তিনি অনলাইন দ্য ইরাবতীকে বলেছেন, বৌদ্ধ ধর্মের অবমাননা করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছি আমরা। তবে খুন তান পালিয়ে গেছে। আমরা তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করতে পেরেছি।

দ্য ইরাবতীর রিপোর্টে আরো বলা হয়, জাত লিটে নামেও পরিচিত খুন তান। মনে করা হচ্ছে তিনি শান রাজ্যের তাঙ্গি জেলার হোপোং এলাকায় পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেফতার শান রাজ্য সরকারকে সহযোগিতা করছে মন রাজ্য সরকার। মন রাজ্যের থাটনের অধিবাসী কো খুন অং মাইও থেইন বলেছেন, কুন তানের জন্ম হোপোং-এর কোন থা গ্রামে। সাত বছর বয়সের সময় তিনি থাটনে চলে যান ১৮ বছর আগে।

তিনি স্থানীয় পা-ও জনগোষ্ঠীর সদস্য। বিশ্বাস করা হয়, পা-ও জাতিগোষ্ঠীর ভিক্ষু আলানতিয়া সায়াড অশিন সাক্কার হিসেবে তার মাধ্যমে পুনর্জন্ম হয়েছে। আলানতিয়া সায়াড অশিন সাক্কার’কে শুধু পা-ও জনগোষ্ঠীর বৌদ্ধরাই সম্মান করেন এমন না। সারা মিয়ানমার তাকে শ্রদ্ধা করে।

তবে এ বিষয়ে কো খুন অং মাইও থেইন বলেন, আমি যতদূর জানি খুন তান তো ভালভাবে বার্মিজ ভাষাই বলতে পারে না। আমার মতে নিজেকে আলানতিয়া সায়াড অশিন সাক্কার হিসেবে ঘোষণা দিতে পারেন না। তবে ভুল খবর প্রচার করে দিচ্ছে কিনা তা জানি না। আলানতায়া এলাকার পা-ও সম্প্রদায়ের অভিভাবকদের খুন তান আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের মেয়েরা যখন পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হবে তখন যদি তারা তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে তারা আশীর্বাদপুষ্ট হবে।

মন রাজ্য সরকারের পা-ও সম্প্রদায় বিষয়ক মন্ত্রী সান উইন্ট খাইং বলেছেন, এমন ঘটনার শুরু ২০১২ সাল থেকে। এরই মধ্যে খুন তান কয়েক শত মেয়েকে শয্যাসঙ্গী করেছে। এসব মেয়ের বেশির ভাগেরই বয়স ১৫ বছরের কাছাকাছি। কো খুন অং মাইও থেইন বলেন, পা-ও সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে। তাহলো, যদি ভাগ্যরেখা বা ভাগ্যগণনায় কারো ভবিষ্যত অশুভ দেখা যায় তাহলে তারা তা এড়াতে পারে একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে। সেটা হলো, এমন একজন ব্যক্তিকে বিয়ে করতে হবে যার ভবিষ্যত উজ্জল। এটা একান্তই একটি রীতি। এ ধরণের বিয়ে নামমাত্র।

এ রকম বিয়ে হলেই বর-কনেকে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হতে হবে এমন নয়। কিন্তু খুন তানের বিরুদ্ধে যুবতী মেয়েদের শয্যাসঙ্গী করার জন্য তাদের কুমারিত্ব দাবির যে অভিযোগ প্রকাশ পাচ্ছে মিডিয়ায় সে বিষয়ে আপত্তি আছে কো খুন অং মাইও থেইনের।

তিনি বলেন, খুন তান এমনটি করেছেন কিনা, কোনো কুমারির সঙ্গে শয্যা গ্রহণ করেছেন কিনা সে বিষয়ে তিনি কোনোই মন্তব্য করবেন না। ড. আয়ে জান বলেছেন, দু’মাস ধরে খুন তানের ওপর নজর রাখছিল তার সরকার। তার বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ডও আছে। কিন্তু কেউ মামলা না করায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায় নি।

এমন অভিযোগ যুবতীদের কাছ থেকে আসতে হয়। কিন্তু তারা তো এমন অভিযোগ করে নি। তাই আমাদের সরকার এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে জটিলতার মুখোমুখি ছিল। তবে ২রা অক্টোবর মন রাজ্য পার্লামেন্টের নারী ও শিশু অধিকার রক্ষা কমিটির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ আসে। তাতে বলা হয়, খুন তান পাঁচজন কিশোরীকে যৌন সঙ্গী করেছে।

এদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। আশপাশের গ্রামের তিনজনকে প্রলুব্ধ করেছে তাকে বিয়ে করতে। সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয়রা খুব কম শিক্ষিত। তারা বিশ্বাস করে যে, খুন তানই হয়তো প্রকৃত বুদ্ধ হতে যাচ্ছে। তাই তার কাছে তাদের কিশোরী মেয়েদের কুমারিত্ব বিলিয়ে দিলে তাদের কপাল খুলে যাবে। কিন্তু এর পিছনে রয়েছে অন্য কারণ।

খুন তান ওই সব কিশোরীকে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য অর্থ পরিশোধ করেছে না হয় তাদেরকে হুমকি দিয়েছে। ওদিকে থাটন জেলার জেনারেল প্রশাসনিক ডিপার্টমেন্ট এরই মধ্যে জায়িত চাউং গ্রামের এডমিনিস্ট্রেটরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে খুন তানের দুটি ধর্ষণের ঘটনা কেন থামাচাপা দেয়া হয়েছে।

 

সূত্র: মানবজমিন




মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমারে পাঁচ দিনের সফর শেষে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেফ্রে ফেল্টম্যান। তিনি মিয়ানমার সফরে গিয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও দেশত্যাগী রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিরাপদে স্বভূমে ফেরার আহ্বান জানান। ত্রাণকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু সবই অরণ্যে রোদন হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের এ আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ থেকে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এতে বলা হয়েছে, ২৫শে আগস্টের পর সেনাবাহিনীর নৃশংসতায় রাখাইন থেকে যে পাঁচ লাখ ৮২ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের বিষয়ে আলোচনা হয়। জেফ্রে ফেল্টম্যান এ নিয়ে আলোচনা করেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি ও সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে। এ ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠক হয়।

এ ছাড়া বিমানে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাখাইনে। বিমান থেকে তিনি দেখতে পান আগুনে পুড়ে যাওয়া গ্রামের পর গ্রাম। এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক বলেছেন, পাঁচ দিনের এ সফরে জেফ্রে ফেল্টম্যান মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের কাছে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁর আহ্বান পৌঁছে দিয়েছেন।

তিনি মানবিক সাহায্যকর্মীদের আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশের পূর্ণাঙ্গ অধিকার দাবি করেছেন। উত্তর রাখাইনেও বাধাহীন প্রবেশাধিকার দেয়ার কথা বলেছেন। বলেছেন, পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের জন্মভূমিতে ফিরতে দিতে হবে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে দাবি জানিয়ে আসছে, সাহায্য কর্মীদেরকে রাখাইন রাজ্যে কাজ করার অনুমতি দেয়ার জন্য। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নিজেদের বাড়িঘরে নিরাপদে ফেরার অধিকার দেয়ার দাবি জানাচ্ছে জাতিসংঘ। ডুজাররিক বলেন, আমি মনে করি না যে, জেফ্রের ওই সফরে আমরা দ্রুততার সঙ্গে কোনো বিজয় অর্জন করেছি। এটা হলো মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনা।

এ সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, রাখাইনে কেন সাহায্য পৌঁছে দিতে সাহায্যকর্মীদের এখনও বাধা দিচ্ছে মিয়ানমার। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা একটা মূল্যবান প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মিয়ানমার সরকারের কাছে করতে হবে। আমরা দেখতে চাই যত দ্রুত সম্ভব সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংগঠন জেনেভায় বলেছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের কাছে অবরুদ্ধ হয়ে আছে ১০ থেকে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র আন্দ্রে মাহিকিক বলেছেন, দেশ ছেড়ে যাওয়ার অথবা হত্যার হুমকি থাকা সত্ত্বেও অনেক রোহিঙ্গা এখনও তাদের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তবে যখন তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে তখনই তারা দেশ ছাড়ছেন, পালাচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। তারা একে জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের যুক্তি হলো, আগস্টে পুলিশ পোস্টে রোহিঙ্গাদের উগ্রপন্থিদের হামলার প্রেক্ষিতে তারা তাদেরকে উৎখাত অপারেশন বেছে নিয়েছে। ওদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে বেশ কিছু দাবি বা রেজুলেশনের কথা এসেছে। কিন্তু চীন ও রাশিয়ার কারণে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তারা নগ্নভাবে মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে।

 

সূত্র: মানবজমিন




ফেঁসে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দুই মাস ধরে চলা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার এ তদন্ত শুরু করেছে।

তবে লোক দেখানো এ তদন্ত করছে সেনাবাহিনীই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারাই তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ায় এর ফলাফল কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। তদন্তকারীরা সাদা কাগজে রোহিঙ্গাদের স্বাক্ষর গ্রহণ ও ছবি তুলে নিচ্ছে। এ দিকে মিয়ানমার সেনাদের অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে আরো আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আয়ে উইনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। গত বৃহস্পতিবার থেকে বুচিডং জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন বয়সের পাঁচজন করে রোহিঙ্গাকে জেলা অফিসে ডেকে নেয়া হয়। এতে তদন্তের প্রথম দিনে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও তাদের ছবি তুলেছে সাদা পোশাকধারী সৈন্যরা।

সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বুচিডং জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন বয়সের পাঁচজন করে রোহিঙ্গাকে জেলা অফিসে ডেকে নেয়া হয়। এরপর তাদের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। রোহিঙ্গারা নির্ভয়ে তাদের সাথে যা ঘটেছে তা তোলে ধরছে।

রোহিঙ্গারা এ তদন্ত টিমকে জানিয়েছেন, ‘সেনাবাহিনী আমাদের স্বজনদের হত্যা ও আমাদের মা-বোন ও মেয়েদের ধর্ষণ করছে, ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করছে। লাখ লাখ মানুষ বাংলাদেশে চলে গেছে। তদন্ত টিম বিশেষভাবে জানতে চান, তোমাদের জাতিগোষ্ঠীর নাম কী? এর উত্তরে রোহিঙ্গারা বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী’।

তথ্যদাতাদের বর্ণনা দিয়ে সূত্র আরো জানিয়েছে, রোহিঙ্গারা যেসব তথ্য তুলে ধরেছে, তদন্ত টিমের সদস্যরা তা লিপিবদ্ধ করেনি। কিন্তু কয়েকটি সাদা কাগজে প্রত্যকের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছে তারা। পরে তথ্যদাতা রোহিঙ্গাদের ছবিও তুলেছে তারা।

এ দিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আকিয়াবের রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল মাম্ব্রা থেকে ৩০ জন আলেমকে আটক করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি)। এ ঘটনায় আকিয়াবের রোহিঙ্গা পল্লীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের ধারণা, মংডু, বুচিডং এবং রাচিডংয়ের মতো আকিয়াবের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উচ্ছেদ করতে এ অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন।

অপর দিকে বুচিডংয়ের গুদামপাড়া বড় জামে মসজিদ ভাঙচুর করেছে উগ্রপন্থী রাখাইনরা। গত বৃহস্পতিবার রাখাইন ও মগদের একটি দল ওই মসজিদের আসবাবপত্র লুট করে এবং দরজা, জানালা, গ্রিল কেটে নিয়ে যায়। সূত্র আরো জানিয়েছে, ইতঃপূর্বে গুদামপাড়ায় অগ্নিসংযোগ করেছিল মিয়ানমারের বাহিনী। জীবন বাঁচাতে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। এখনো কিছু মানুষ পাহাড় ও বনে জঙ্গলে লুকিয়ে আছে।

সূত্র জানিয়েছে, ১৯ অক্টোবর দুপুরে তিন প্লাটুন যৌথবাহিনী মাম্ব্রার হত্তিপাড়ায় প্রবেশ করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় ওই এলাকায় মসজিদ-মাদরাসার দায়িত্বে নিয়োজিত আলেম, কুরআনে হাফেজ এবং মাদরাসার ছাত্রসহ ৩০ জনকে ডেকে নেয়া হয়। পরে তাদের আটক করে স্থানীয় সেনাক্যাম্পে নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে এদের মধ্যে ২৭ জনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে ছেড়ে দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনজন আলেমকে সেনা কর্তৃপক্ষ মুক্তি দেয়নি।

মুক্তি পাওয়া একজন আলেম নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের আটক করে সেনাক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার পর কোনো জেরা করেনি সৈন্যরা। সন্ধ্যার পর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে তিনজনকে আলাদা কয়েদখানায় নিয়ে যায়। বাকিদের কিছুক্ষণ পর পর নাম ধরে ডেকে মুক্তি দেয়। মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে আমাদের স্বজনদের থেকে অর্থ নিয়েছে।

যে তিনজনকে এখনো আটক করে রেখেছে তারা হলেন, মাহমুদুল হকের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ কাবিল (৩৫), মাওলানা ফয়াসাল (৪৫), হাদায় পাড়ার মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ কমরুদ্দিন (২৮)। ধারণা করা হচ্ছে মংডু, বুচিডং এবং রাচিডংয়ের মতো আকিয়াবের রোহিঙ্গা মুসলমানদেরও নিশ্চিহ্ন করতে এ অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতে ওই এলাকায় একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে রোহিঙ্গাদের হয়রানি শুরু করে সৈন্যরা। চলতি সপ্তাহে একজন মুসলমানকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে উগ্রপন্থী রাখাইনরা।

এ দিকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, সেনাবাহিনীর বর্বরতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গা যুবকরা এখনো ঝোপ-জঙ্গলে আশ্রয় নিচ্ছেন। ওখানে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। সেনাবাহিনী দেখামাত্র গুলি করে হত্যার চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে খাদ্য ও চিকিৎসা সঙ্কট তৈরির মাধ্যমে। দ্রুত চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা না গেলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অনাহার ও বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন বলে জানিয়েছেন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।

জাতিগত নিধন ও মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের মাধ্যমে রাখাইনে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। গত দুই মাসে সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে শত শত রোহিঙ্গা নাগরিককে হত্যার পাশাপাশি বিনা বিচারে দীর্ঘ মেয়াদে জেল দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাস্তচ্যুত হয়েছেন। ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন-পুরনো মিলে বাংলাদেশে বর্তমানে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গা সংখ্যা অন্তত ১১ লাখ।

এখনো যারা রাখাইনে আছেন তারা বাড়িতে থাকতে পারছেন না। কারণ সৈন্যরা রোহিঙ্গাদের পেলেই মারধর, হত্যা কিংবা গুম করছে। এ কারণে রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে উপকূলীয় প্যারাবন, নদীর ধারে কিংবা বন জঙ্গলে ফেরারি জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। লতা পাতা খেয়ে তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে। এদের সংখ্যা দুই থেকে আড়াই লাখ হতে পারে। তারাও সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায়।

এ দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত খোলা আছে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় উগ্রবাদী সংগঠনগুলো বাকিদেরও ভয়ভীতি দেখিয়ে দেশান্তরী করার তৎপরতা চালাচ্ছে। পুরো রাখাইন রাজ্যজুড়ে রোহিঙ্গাবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সেখানকার উগ্রবাদী মগরা। সেনাবাহিনী তাদের মদদ দিয়ে যাচ্ছে।




বন্যায় ডুবে যাচ্ছে মিয়ানমার!

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমারে বন্যায় ডুবে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। ইতিমধ্যে দেশটির সেদাওগি বাঁধ ভেঙে ভেসে গেছে প্রায় ৫০টি গ্রাম। ফসলের মাঠের বিপুল ক্ষতি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমসের খবরে জানানো হয় এসব তথ্য। জানা যায়, ২০১০ সালের পর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। এতে এক হাজার ৭০০ একরের ওপর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তীব্র সংকটে পড়েছে ওই এলাকার ৫৮০ জন কৃষক ও এক হাজার ৩০০ জন মানুষ।

এদিকে গত ১৪ অক্টোবর মিয়ানমারের মান্দালয় অঞ্চলের মাদায়া শহরে ওই বাঁধ ভেঙে যায়।গত কয়েক বছর ধরে মিয়ানমারের এই অঞ্চলে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে বন্যা আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দা উ থান হ্লাইং জানান, পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বন্যায় আটকে পড়া গ্রামগুলোর বাসিন্দারা কোথাও যেতে পারছে না। এমনকি পানের বরজগুলোতেও কেউ যেতে পারছে না। এ ছাড়া পানিতে ডুবেছে কলা, শিম ও অন্যান্য ক্ষেত।

কো জাউ জাউ নামের আরেক গ্রামবাসী বলেন, ‘গ্রামবাসী পানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তৃতীয়বারের মতো বন্যায় ফসলি জমিগুলো ডুবে গেছে। পানের প্রায় অর্ধেক বরজ ডুবে গেছে। রাস্তাগুলোও নতুনভাবে তৈরি করতে হবে।’

 

সূত্র: বিডিমর্নিং




রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেন মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছে ভারত-চীন

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

হিমালয়ের পাদদেশে সীমান্তে বিরোধ রয়েছে চীন ও ভারতের। সিকিম নিয়ে হয়তো সারা বছরই চলে উত্তেজনা। তারপরও একটা জায়গায় উভয় দেশই সহাবস্থান নিয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত-চীন সমর্থন দিচ্ছে মিয়ানমারকে। সহিংসতা কবলিত রাখাইনে দুই দেশেরই বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ রয়েছে। এশিয়ার দুই পরাশক্তি তাই পাশে দাঁড়িয়েছে মিয়ানমার সরকারের। পশ্চিমা ও ইসলামি দেশগুলো অং সান সু চি সরকারের কাছে জবাব চাইলেও সেই পথে আগায়নি ভারত ও চীন।

২৫ আগস্ট সহিংসতার পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেই হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাইছে মিয়ানমার। তিনি সন্ত্রাস মোকাবিলায় সীমান্তে কঠোর অবস্থানে যেতে চান। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর পাশে থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এখনও এর কোনও জবাব দেয়নি মিয়ানমার।

ভারতেরও আশঙ্কা সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি চলে আসতে পারে। একটি গোয়েন্দা সংস্থর দাবি, মিয়ানমারের আরসা, বাংলাদেশের জেএমবি ও ভারতীয় মুজাহিদিনের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। আর সবগুলোকেই সমর্থন দিচ্ছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বা। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে হামলার জন্য ভারত এই জঙ্গিদেরই দায়ী করে।

২৫ আগস্ট আরসার হামলার পর এক বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘আমরা এই সংকটের মুহূর্তে মিয়ানমারের পাশে আছি। আমরা এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এতে নিহত পুলিশ ও সেনাসদস্যদের ও তাদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করছি।’

২৫ আগস্ট থেকেই রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে সেনাবাহিনী। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সহিংসতার বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি ভারত। বরং তারা ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ হাজার শরণার্থী জাতিসংঘের নথিভুক্ত।

চীনও রাখাইন ইস্যুতে মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমারে চীনা রাষ্ট্রদূত হ্যাং ল্যাং বলেন, ‘আমরা আশাকরি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একটি সুষ্ঠু পরিবেশ রাখবে যেন মিয়ানমার তাদের সমস্যা ভালোভাবে সমাধান করতে পারে।’

রাখাইনে বেশ বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প রয়েছে ভারত ও চীনের। ভারতের অর্থায়নে মাল্টি-মডেল প্রকল্পের আওতায় নদী ও সমুদ্রের মাঝে সংযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হবে সিতে বন্দর। আর চীনের অর্থায়নের শুরু হয়েছে কিয়াক ফু বন্দর। এর মাধ্যমে তেল-গ্যাস পাইপলাইন ও রেলপথ যুক্ত হবে চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে।

আর এই প্রকল্পের কোনটাই রাখাইনের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তারা যেখানে বিনিয়োগ করেছে সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নেই। তবে প্রকল্প এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা করছে দিল্লি ও বেইজিং।

ভারতের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক উপ-প্রধান মেজর জেনারেল গগনজিৎ সিং বলেন, ‘আরসা সন্ত্রাসীরা যদি কালাদানের ভারতীয় কোনও জাহাজে হামলা করতো কিংবা ইউনান সংযোগকারী তেল-গ্যাস পাইপলাইনে হামলা করতো হবে এমন দৃশ্য সামনে আসতো না।’

ব্রিকস সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বসেন। আলোচনায় তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে একযোগে কাজ করা ও ভুটানি সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গুরুত্ব পায় মিয়ানমারের ইস্যুও।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে সমর্থনের বিষয়ে ভারতের সেন্টার ফর স্টাডিস ইন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান বিনোদা মিশরা বলেন, ‘সামরিক খাতে উন্নয়ন সহযোগিতা ও অস্ত্র বিক্রি করে মিয়ানমারে ৩০ বছর ধরে যে প্রভাব তৈরি হয়েছে চীন তা ধরে রাখতে চায়। আর ভারত সমর্থন করে তাদের প্রভাব তৈরি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে।’

মিশরা আরও বলেন, ‘ভারত ও চীন উভয়েই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার ও সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করে কারণ ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি ও চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের জন্য মিয়ানমার গুরুত্বপূর্ণ।’

একটি শান্তিচুক্তি থাকলেও এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতা চলছেই। গত মাসে নরেন্দ্র মোদির মিয়ানমার সফর নিয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিশ্রী বলেছিলেন, ‘‘মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘অন্যদের’ চেয়ে আলাদা।’ তার এই বক্তব্য চীনকে উদ্দেশ করেই বলা হয়েছে।

মিয়ানমারের সংবাদ সংস্থা মিজিমাকে মিশ্রী বলেন, ‘ভারত মিয়ানমারের জনগণের জন্য সম্পদ তৈরি করতে চায় এবং তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করতে চায়। কিন্তু অন্যান্যরা এখানে ব্যবসায়িক সম্পদ গড়তে চায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কালাদানের মতো প্রকল্পতে অর্থায়ন করি। আমরা কখনই চাই না এটা মিয়ানমারের অর্থনীততে বোঝা হোক।’

মিয়ানমারের জাতীয়তবাদীরা চীনা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করা শুরু করেছে। কিয়াক ফু গভীর সমুন্দ্র বন্দর প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ মালিকানা থাকছে চীনের কাছে। চীনের সিআিইটিআইসি গ্রুপ ৭৩০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে চীনের ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ মালিকানা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মিয়ানমারের প্রস্তাব ছিলো দুই দেশের সমান অংশীদারিত্ব থাকবে। কিন্তু চীনা প্রতিষ্ঠান তা মেনে নেয়নি।

কিয়াক ফু চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি চীনের তেল-গ্যাস পাইপলাইনের প্রবেশপথ। এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির বিকল্প পথ। এই বন্দর আসলে চীনের দুটি প্রকল্পের একটি। রাখাইনে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর এই দুই প্রকল্পেরই কাজ পেয়েছে সিআইটিআইসি। ভারতের দাবি, চীন মিয়ানমারে এইসব প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণের বোঝা বাড়াচ্ছে।

ভারতীয় অর্থনীতিবিদ প্রবীর দে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার মতো মিয়ানমারও পাহাড়সম ঋণের বোঝায় পড়বে। এটা চীনের কৌশল। তারা এই প্রকল্পের পুরোপুরি অংশীদারিত্ব নিয়ে নেবে কারণ মিয়ানমার তাদের অর্থ ফেরত দিতে পারবে না।’

মিয়ানমারে চীনা বিনিয়োগ জাপান থেকে আলাদা। মিয়ানমারের থিলাওয়া ও দায়েইতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ করছে জাপান। কিন্তু এর নিয়ন্ত্রণ মিয়ানমারের হাতেই এবং ৫১ শতাংশ মালিকানা তাদের।

কিয়াক ফু ও থিলাওয়ার এই বৈষম্য তাই খুবই স্পষ্ট বলে মনে করেন সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান সাইমন তায়। তিনি বলেন, ‘দুই শতাংশ মালিকানার কম বেশি আদতে গাণিতিকভাবে খুব বেশি না হলেও বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

মিয়ানমারের রাজনীতিবিদরা চীনের সমালোচনা করেন না কারণ জাতিসংঘে তাদের সবচেয়ে বড় সমর্থন দেয় চীন। বিশেষ করে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরও চীন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে অনেক এনএলডি নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতা জানান, চীনকে এত বিশাল সংখ্যক অংশীদারিত্ব ছেড়ে দেওয়া তাদের জন্য বিব্রতকর। তারাও শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে এনেছেন।

চীনও কিয়াক ফুতে তাদের গ্যাসলাইন সম্প্রসারণে জাতীয়তাবাদীদের তোপের মুখে পড়েছে। চলতি বছর কিয়াক ফুর ৬০০ বাসিন্দা নৌকায় করে পেট্রোচায়নার স্থানীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেছে। কোম্পানিটির উপস্থিতির কারণে নদীতে মাছ ধরতে পারছেন না তারা।

গ্লোবাল রিস্ক ইনসাইট জানায়, ‘চীনা প্রতিষ্ঠানকে বেশি ক্ষমতা দিয়ে দেওয়ায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে স্থানীয়দের উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।’ সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন