চকরিয়ায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসি

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ কয়েক দফা বন্যা পরবর্তী ভেঙে পড়া কৃষিখাত ফের কয়েক মাসের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ায়। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সার্বিক তদারকির মাধ্যমে উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে শীতকালীন সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতকালীন সবজি চাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার হেক্টর জমিতে। বর্তমানে তা অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার হেক্টর বেশি। শীতকালীন সবজিতে আশানুরূপ ফসল দেখে সফলতার হাসি ফুটেছে কৃষক পরিবারের মাঝে। চকরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকেই চোখ যায় দেখা মিলবে সবুজের। এ সবুজেই আচ্ছাদিত হয়ে আছে মাতামুহুরী নদীর দুইতীর। বিভিন্ন জাতের সবজিতে ভরে উঠছে নদীর বিস্তীর্ণজোড়া তীরে।

কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকদের ধারণা, বন্যার পর পরই প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলায় কয়েক কোটি টাকার শীতকালীন ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ জনপদের প্রত্যেক এলাকা থেকে পুরোদমে বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন নানা জাতের ফসল।

সরেজমিন মাতামুহুরী নদীর তীর ও কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাতামুহুরী নদীর চকরিয়া অংশের দুই তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ও বারটি ইউনিয়নের ফসলের মাঠ এখন সবুজের সমারোহ। বিশেষ করে সবুজেই আচ্ছাদিত হয়ে আছে মাতামুহুরী নদীর দুই তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। বর্তমানে উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে কৃষকরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুন, টমেটো, আলু, শিম, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়শ, বরবটি, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়াসহ নানান জাতের শীতকালীন সবজি ক্ষেত থেকে উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। এতে লালশাক, পালংশাক, মুলা, লাউ, বেগুন ও ফুলকপির বীজতলাসহ বিভিন্ন ফলন নষ্ট হয়ে যায়। মৌসুমের প্রথমেই মুখ থুবড়ে পড়েন সবজি চাষিরা। তবে দুর্যোগ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ান তারা। মাতামুহুরী নদীর দুই তীর ও ইউনিয়ন জুড়ে শীতকালীন সবজি চাষে নামার জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

এতে প্রায় দেড় দুইমাস আগে থেকেই নানা সহায়তা দিয়ে আগে ভাগে মাঠে নামানো হয় মাতামুহুরী নদীর দুই তীরের পৌরসভার বিভিন্ন ব্লক ছাড়াও বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, সাহারবিল, কৈয়ারবিল, বরইতলী, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুরসহ অন্তত ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষককে। বর্তমানে শীতকালীন সবজি তুলতে প্রান্তিক কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চলতি বছরে ফলন ভাল হওয়ায় চাষিরা ন্যায্য মূল্যও ভাল পাচ্ছে। শীতকালীন সবজি ছাড়াও বছরের বারো মাস জুড়ে এসব কৃষক মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানির আশীর্বাদে এবং তীরের উর্বর মাটির ক্ষেতে রেকর্ড পরিমাণ নানা রকমারী ফসল উৎপাদন করে আসছেন। এবারও শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার উৎপাদন হওয়ার ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এতে কৃষক আর্থিকভাবে ব্যাপক সাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এর সুফল ভোগ করছে।

উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদী তীর এলাকার কৃষক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রতিবছর মাতামুহুরী নদীর তীরে টমেটো, মরিচ, বাধাঁকপিসহ প্রায় ২কানি জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন তিনি। এবারও একই পরিমাণ জমিতে শীতকালীন রকমারী সবজি চাষ করেছে। কৃষি বিভাগের দেওয়া পরামর্শে প্রায় দেড়মাস আগে মাঠে নেমে পড়েন তিনি। এতে ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে তিনি বেগুন, মরিচ, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবজি চাষের মধ্যে অন্য বছরের চাইতে প্রায় এক দেড়লক্ষ টাকা বেশি আয় হবে বলে এমনটাই জানালেন তিনি।

উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের সিংহভাগ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর শীতকালীন সবজির আবাদ করেই তারা সাবলম্বী হন। গত বছর ভয়াবহ বন্যা হওয়ার পরও বন্যা পরবর্তী কৃষকদের নতুন করে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয় তাদের। আগে থেকেই মাঠে নেমে পড়ায় শীতকালীন সবজিতে বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় এতে কৃষকেরা ব্যাপক খুশি। অন্যান্য বছরের চাইতে এবারও সবজি উৎপাদনে রেকর্ড গড়বেন কৈয়ারবিল ইউনিয়নের কৃষকেরা বলে তিনি জানায়।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট কয়েকদফা বন্যার কারণে উপজেলার কৃষিখাত একেবারে ভেঙে পড়ে। চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় অন্তত ২০ হাজার কৃষক। এ অবস্থার উত্তরণের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরকে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে কয়েকমাসের ব্যবধানে উপজেলার কৃষিখাতকে ফের চাঙ্গা করে তোলা হয়।

তিনি বলেন, কৃষকদেরকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে অক্টোবর মাসে শীতকালীন সবজি চাষে উৎসাহ দেয়া হয়। এরপর কৃষকরা চাষাবাদে নেমে এখন রীতিমতো সবজি চাষে বাম্পার ফলন।

তিনি বলেন, উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে। বর্তমানে তা অর্জন হয়েছে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ২ হাজার হেক্টর জমির অধিক ফলন হয়েছে।প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষে কয়েক কোটি টাকার ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি জানান।




চকরিয়ায় দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে উঠেছে উন্নয়ন মেলা

চকরিয়া প্রতিনিধি:

‘উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ শ্লোগানে দ্বিতীয়বারের মতো সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলছে উন্নয়ন মেলা-২০১৮। প্রথম দিনের চেয়ে দ্বিতীয় দিন জমে উঠেছে এই মেলা। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে উপজেলার পৌর কমিউনিটি সেন্টার মাঠ। ভিড় করেছে অসংখ্য তরুণ–তরুণী ও শিক্ষার্থীরা। মেলায় আগত দর্শনার্থী পদচারণায় মুখরিত পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় এমন উৎসবমুখর পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়েছে।

মেলায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পৌর কমিউনিটি সেন্টার মাঠে উন্নয়ন মেলায় সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে দর্শণার্থীদের সংখ্যা। মেলার প্রায় প্রতিটি স্টলেই দর্শণার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও বেসরকারি সংস্থা বিভাগ স্থির চিত্রের মাধ্যমে তাদের সামগ্রিক উন্নয়ন দেখাচ্ছে স্টলে আগত দর্শনার্থীদের। বিগত বছরের উন্নয়নের কাজগুলোর বিস্তারিত বিবরণীপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে দর্শনার্থী আগ্রহীদের হাতে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে মেলায় কৌতুহলী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এবারে মেলায় ৬৮টিরও বেশি স্টল করা হয়েছে। উপজেলার সরকারি দপ্তরের স্টলই এই মেলায় বেশি স্থান পেয়েছে। আধা-সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার স্টলও রয়েছে এ মেলায়। পুরো মেলাকে নান্দনিক সাজে সাজাতে উদ্যোক্তাদের আয়োজনের কমতি ছিল না। স্টলে আনা হয়েছে নানা ধরনের নান্দনিক সাজ। মেলায় যে সকল স্টল বসানো হয়েছে তা হলো, চকরিয়া পৌরসভা স্টল, উপজেলা ভূমি অফিস, চকরিয়া থানা, উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর, উপজেলা কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, এলজিইডি বিভাগ, পিআইও অফিস, উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাচন অফিস, সমবায় দপ্তর, যুব উন্নয়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহিলা ও শিশু বিষয়ক দপ্তর, আনসার ভিডিপি, খাদ্য বিভাগ, উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর, সমাজ সেবা অফিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড(কর অঞ্চল-৪), মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, চকরিয়া ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি(সিপিবি), বন বিভাগ।

এছাড়াও চকরিয়া চক্ষু হাসপাতাল, জেলার প্রথম ও সর্ব বৃহৎ ই-কমার্স সাইট coxshop24.com, নারী উন্নয়ন ফোরাম, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, মেরি স্টোপস ক্লিনিক, এসএআরপিভি (SARPV), কর্মনীড়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, সাউথ ইষ্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংকসহ ৬৮টি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে।

এসব স্টলে বর্তমান সরকার আমলের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও অর্জনের চিত্র এবং সেবাগুলো চিত্র  তুলে ধরা হচ্ছে। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। রাত্রেই উন্নয়ন মেলার সমাপ্তি ঘটবে।

উল্লেখ্য যে, তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলায় আলোচনা সভা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। মেলা চলাকালীন প্রতিদিন বিকালে আয়োজন করা হয়েছে নানা বিষয়ক বিতর্ক, কুইজ, আলোচনা সভা ছাড়াও স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উন্নয়ন মেলায় ক্রেতাদের নজর কাড়ার মতো এমন অনেক স্টলই আছে। হস্ত ও কুটিরশিল্পের বাহারি পণ্য ও ঘর সাজানোর পণ্য থেকে শুরু করে নানা ধরণের পণ্য সামগ্রী মিলছে মেলায়। পৌরসভা স্টলে আগত দর্শনার্থীদের বিনা মূল্যে দেয়া হচ্ছে চক্ষু চিকিৎসা সেবা। এ ছাড়া ই-কমার্স সাইট স্টলে থেকে নানা ধরণের দেশি-বিদেশি আচার, চকলেট, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যও ক্রয় করছে আগত দর্শনার্থী। উপজেলা ভূমি অফিস স্টলে ই-নামজারি সিস্টেমের চালু করায় এ স্টল থেকে আগত সেবা গ্রহণকারী অনলাইনের মাধ্যমে তাদের সেবা পেয়ে যাচ্ছে এমনটাই দেখা গেছে।

মেলায় আসা তৌহিদ নামের এক দর্শনার্থীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত বছরের চেয়ে এ বছর আগত দর্শনার্থীর ভিড়ে বেশ জমে উঠেছে মেলা। মেলা কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুবই ভালো লাগছে। তবে মেলায় স্টল বাড়লেও নতুন ভাবে ভিন্নতা কিছু দেখি নাই। স্টলগুলো বিচিত্র ধরণের নান্দনিক সাজে বেশ গোছানো দেখে কিছুটা হলেও ভাল লাগলো। তবে ছেলে-মেয়েরা মেলায় প্রাণী সম্পদ দপ্তরের স্টলে বিভিন্ন পাখি, বাদুড়ের নানা ভঙ্গিমা দেখে খুবই আনন্দ উপভোগ করেছেন বলে তিনি জানান।




সরকারের উন্নয়নমুখী পদক্ষেপে বদলে গেছে খাগড়াছড়ির দৃশ্যপট

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নে কর্মকাণ্ডের জানান দিতেই দেশব্যাপী উন্নয়ন মেলার আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব মুসলিম চৌধুরী বলেছেন, মেগা প্রকল্পগুলো সরকারের সাহসী পদক্ষেপ। অর্থ কোথা থেকে আসবে তার চেয়ে প্রকল্প গ্রহণ আর বাস্তবায়নেই উদ্যোগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারের উন্নয়নমুখী পদক্ষেপের ফলেই পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির দৃশ্যপট বদলে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কনসেপ্টের কারণে পাহাড়-সমতলের মধ্যে কাজের দুরত্ব কমেছে। এটাও সরকারের বড় ধরনের সাফল্য।

তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার অংশ হিসেবে শুক্রবার(১২জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে মাটিরাঙ্গায় তথ্য প্রযুক্তি, সেবাখাত ও অবকাঠামোগত খাতে বাংলাদেশের অর্জন শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান’র সভাপতিত্বে সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোহাম্মদ আলী। খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মো. চাহেল তস্তরী ও ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস এএসএম লোকমান সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুবাস চাকমা ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা প্রমুখ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদানের বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানেও সরকারের বাজেটে পাহাড়-সমতলের মধ্যে সমতা আনা হয়েছে। পাহাড় সমতলকে সরকার ভিন্নভাবে দেখছেনা। সরকারের গৃহিত উন্নয়নের ধারা বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের পাশাপাশি সুফলরোগীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার প্রবেশদ্বারে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান’র দিকনির্দেশনায় ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত ‘মাটিরাঙ্গা তোরন’ এর উদ্বোধন করেন।




মহেশখালীর মিষ্টি পানের বাম্পার ফলন

মহেশখালী প্রতিনিধি:

চলতি মৌসুমে কক্সবাজারে ৩০০ কোটি টাকার মিষ্টি পান উৎপাদন হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানচাষী ও ব্যবসায়ীরা। যেমন ফলন তেমন দর হওয়ায় চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ পরে পানের মূল্য আরো বাড়বে এমন আশা পান চাষীদের। মৌসমের শুরুতেই প্রতি বিড়া পান পাইকারী বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা দরে।

মিষ্টি পানের বাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। গত মৌসুমের চেয়ে ফলন বাড়ার পাশাপাশি দাম বেড়েছে। এখন প্রতিটি পানের বরজই পানে ভরপুর। আগামী কয়েক সপ্তাহ পরে আরো ভাল পান বাজারে আসবে।

জেলার সবচেয়ে বেশি মিষ্টি পান উৎপাদন হয় মহেশখালী উপজেলায়। এ ছাড়া উপকূলীয় কুতুবদিয়া উপজেলা ছাড়া জেলার অন্য ৭ উপজেলায় উৎপাদন হয় মিষ্টি পান। জেলা কৃষি অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে জেলায় অন্তত ৩ হাজার হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। তৎমধ্যে মহেশখালীতে ১৬০০ হেক্টর ও চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, সদর, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় ১৪০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়। পাহাড়ি জমিতে যে পান চাষ হয় তা হিসাবে কৃষি বিভাগে নেই। তবে একটি সূত্রে জানা যায় পাহাড়ে অন্তত ২ হাজার হেক্টরেরও অধিক জমিতে পান চাষ হয়।

মহেশখালী উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাইছারুল ইসলাম জানিয়েছেন মহেশখালীতে ১৬০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি পানের চাষ হচ্ছে। তবে এর অর্ধেক মৌসুমী পানের চাষ। পানের বাম্পার ফলন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ পান চাষীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে। কোন মড়ক দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করা হয়। এ ছাড়া মড়কের ব্যাপারে চাষীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। চাষীরাও নিয়মিত কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

মিষ্টি পানের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ মিয়া জানিয়েছেন, যেভাবে পানের ফলন হয়েছে এবং দামও স্থিতিশীল থাকলে কক্সবাজারেই অন্তত ৩০০ কোটি টাকার পান উৎপাদন হবে। যার অধিকাংশ পানই সরবরাহ হয় কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লায়। এ সব এলাকায় মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মিষ্টি পানের চাহিদা রয়েছে সৌদি আরব ছাড়াও মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। তাই রপ্তানী বাড়লে পানের চাষ বাড়বে এতে উৎপাদনও আরো বাড়বে। অর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা।

রামুর ঈদগড়ের পান চাষী রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন, শুধু পান চাষ করতেই গত ১০ বছর আগে মহেশখালী থেকে স্বপরিবারে ঈদগড় এসেছেন। পান চাষই আমার পেশা। আমার কাছ থেকে অনেকেই পান চাষ কিভাবে করবে তা শিখে এখন পান চাষ করেই সংসার চালাচ্ছেন। আমার মত বিভিন্ন উপজেলা থেকে অনেকেই পান চাষ করতে ঈদগড়ে এসেছেন। আমার পরিবারের সকলেই পান বরজের কাজ জানে বিধায় চাষ করতে সমস্যা হয় না। কঠোর পরিশ্রমই পান চাষে সফলতা আনবে। অন্য যেকোন বছরের চলতি মৌসুমে পানের ফলন বেশি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বাজার দর অব্যাহত থাকলে পান চাষীরা লাভবান হবে।

ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ফজল করিম জানিয়েছেন, এভাবে পানের চাষ যেমন বেড়েছে একই সাথে ফলনও বেড়েছে। এখন স্থানীয় লোকজন পান চাষ করতে শিখেছে। এটি লাভজনক চাষ হওয়ায় এ পেশায় জড়িয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ.ক.ম শাহরিয়ার জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ থেকে পান চাষীদের শুধুমাত্র কারিগরি সহযোগিতাই দিয়ে থাকে। এতে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।




খাগড়াছড়িতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক স্কুল ব্যাংকিং সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচী স্কুল ব্যাংকিং সম্মেলন হয়েছে।

এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শীলা তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা) কাজী সাহেল তস্তরী।

সম্মেলনে জেলা সদরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।




মহেশখালী দ্বীপে অতিদরিদ্র ও ভিক্ষুকদের জন্য বাড়ি নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে

মহেশখালী প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত “সবার জন্য বাসস্থান” নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে “যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় মহেশখালীতে অতিদরিদ্র ও ভিক্ষুকদের জন্য ২’শ ৫৭টি বাড়ি নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। এই পর্যায়ে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যে মহেশখালীতে এই কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে দ্বীপের বাস্তুহীন দরিদ্ররা এমন তৈরি বাড়ি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে এখনো এই দ্বীপে বাড়ি পাওয়ার মতো অনেক মানুষ রয়েছে। এই প্রকল্পে আগামীতে আরও ৫শ’টি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ‘যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ উপ-খাতের আওতায় মহেশখালী দ্বীপে বর্তমানে ২’শ ৫৭টি টিনসেড বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। মূলত গৃহহীন অতিদরিদ্র ও ভিক্ষুকরাই পাচ্ছেন এসব সরকারি বাড়ি। নিজের একখণ্ড জমির উপর সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে এসব বাড়ি। ঢাকা থেকে প্রকল্প সূত্রে জানা যায় -১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ায় বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। দেশের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ এলাকা পরিদর্শনে যান।

তিনি মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন এবং সকল গৃহহীন পরিবারসমূহকে পুনর্বাসনের তাৎক্ষনিক নির্দেশ দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে “আশ্রয়ণ” নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনটি ফেজে আশ্রয়ণ প্রকল্প (৯১৯৭ – ২০০২), আশ্রয়ণ প্রকল্প (ফেইজ-২) (২০০২ – ২০১০), আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প (২০১০ – ২০১৭) মোট ১,৫৯,৮৯০টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। তন্মধ্যে আশ্রয়ণ- ২ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৩,৯৭৭টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। বর্ণিত প্রকল্পের সাফল্য ও ধারাবাহিকতায় ২০১০-২০১৯ (সংশোধিত) মেয়াদে ২.৫০ লক্ষ গৃহহীন, ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ নামে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মহেশখালীতে এই বাড়ি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল আলম সাকিব জানান, এই প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী পৌরসভা ও অপর ৭টি ইউনিয়নে মোট ২৫৭টি বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে পৌরসভায় ৪৯টি, কুতুবজোম ইউনিয়নে ৫৭টি, ছোট মহেশখালীতে ২০টি, কালারমার ছড়ায় ৩২টি, হোয়ানকে ১৩টি, শাপলাপুরে ২৬টি, মাতারবাড়িতে ৩৬টি ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নে ২৪টি বাড়ি রয়েছে। গেল ৫ নভেম্বর এই সব বাড়ি নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়। চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে এসব বাড়ি নির্মাণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে গেল ৪ডিসেম্বর দুপুরে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম, সহকারী কমিশনার(ভূমি) বিভীষণ কান্তি দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সফিউল আলম সাকিবের নেতৃত্বে একটি দল এসব নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম সুষ্ঠ মানসম্মত ভাবে বাড়িগুলো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান। উপজেলার কুতুবজোমে এমন একটি বাড়ি পাচ্ছেন স্থানীয় ফেরিঅলা মো. ইসমাইল। সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বাড়িটিতে পাওয়া যায় তার স্ত্রী নুর আয়শা বেগমকে। আলাপকালে নুর আয়শা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন বাড়ি পেয়ে বেশ মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, তার স্বামী একজন ফেরিওলা। এলাকায় আইসক্রিম বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান। এতোদিন তাদের কোনো স্থায়ী বাড়ি ছিল না। দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তারা খুব কষ্টে জীবনযাপন করে আসছিল। এখন বাড়ি পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের কাছে এসে খোঁজ খবর নিচ্ছে। এতে তারা খুশি। তিনি দুঃসময়ে তাদেরকে বাড়ি পাওয়ার জন্য নির্বাচন করায় তিনি এলাকার সন্তান আশেক উল্লাহ রফিক এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই ভাবে এমন প্রাপ্তিতে বেশ কৃতজ্ঞতা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন গৃহ পাওয়া লোকজন। এবার সবচেয়ে বেশি বাড়ি পাচ্ছেন কুতুজোমের দরিদ্র লোকজন।

এপ্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন খোকন জানান, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দরিদ্র মানুষের জন্য একটি সংবেদনশীল সত্ত্বার নাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বাস্তুহারা দরিদ্র মানুষের শেষ ঠিকানা। এলাকার জনপ্রিয় আশেক উল্লাহ রফিক এমপি’র হাত ধরে মহেশখালীতে নজিরবিহীন উন্নয়ন কাজ চলছে। এটি তারই অংশ। তিনি বলেন, কুতুবজোম একটি দরিদ্র পিড়ীত এলাকা। আগামী এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার আরও কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এপ্রসঙ্গে কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি জানান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এলাকার জনসাধারণের সার্বিক নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে বাড়ি নির্মাণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর একটি দান। আগামীতে দ্বীপাঞ্চলে এরকম আরও বহু উন্নয়ন কাজ হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে মহেশখালীর বাস্তুহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় ২’শ ৫৭টি বাড়ি অপ্রতুল বলে মনে করেন অনেকেই। তারা আগামীতে এই দ্বীপাঞ্চলে এরকম আরও বাড়ি বরাদ্দের আবেদন জানান। অপরদিকে দ্রুত সময়ে মহেশখালীতে এরকম আরও ৫০০টি বাড়ি নির্মাণ করা হবে দায়িত্বশীল একটি সরকারি সূত্রে জানা গেছে।




থানচিতে আউটসোর্সিংয়ের উপর সামাজিক প্রচারভিযান ও কর্মশালা 

থানচি প্রতিনিধি:

বেকারত্ব দুরীকরণে সরকারের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে বাংলাদেশ সরকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের  উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুধবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায়  উপজেলার জনসেবা কেন্দ্রে (গোল ঘর) সামাজিক প্রচার অভিযান ও আলোচনা সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম  (সেইপ) প্রকল্পের কো-অডিনেটর জিয়া উদ্দীনের সঞ্চালনায় উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান চসাথোয়াই মারমা (পকশৈ) এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার নির্বাহী অফিসার রুমা (অতিরিক্ত দায়িত্বে থানচি) শামশুল আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, থানচির সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ, সদর ইউপি  সংরক্ষিত সদস্য নুচিংপ্রু মারমা, এনজিও প্রতিনিধি জাহানারা বেগম প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, প্রকল্পটি দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের ২০১৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে দেশে পাঁচ লক্ষ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এ প্রশিক্ষণ  ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। সরকারের নানামূখী কার্যক্রম ডকোমেন্টরি ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখানো হয়।

সভায় উপস্থিত বক্তারা আরো বলেন, বেকার কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নিজ কর্মের পাশপাশি আউটসোর্সিং মতামত তুলে ধরেন।




কৃষি ব্যাংক বাইশারী শাখা পরিদর্শণে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক

বাইশারী প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বাইশারী শাখা পরিদর্শন করেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক বান্দরবান অঞ্চল উৎপুল কুমার চক্রবর্তী।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকাল এগারটার সময় বাইশারী শাখা পরিদর্শনকালীন তিনি বলেন, ব্যাংক আমানতকারীদের সাথে ভাল ব্যবহার, যথা সময়ে ঋণ প্রদান ও আদায়, ঋণ খেলাপিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণ আদায়ের চেষ্টা, অন্যথায় খেলাপীদের বিরুদ্ধে আইনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি বলেন।

পরিদর্শনকালীন তিনি বর্তমান ব্যাংকের শাখাটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য শাখা ব্যবস্থাপককে নির্দেশনাও প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার কামাল, সেকেন্ড অফিসার রুৎফুল কুমার বড়ুয়া, কোষাধ্যক্ষ জয়ধন আচার্য্য, পরিদর্শক সাঈদ মিয়া প্রমুখ।




মহেশখালী, কুতুবদিয়ার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে আরো ৫২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজ করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। চলমান প্রকল্প ছাড়াও প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপকূলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল(বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩টায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি’র সাথে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক’র এক বৈঠকে এ কথা বলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি। এ ছাড়াও আগামী ৭ ডিসেম্বর ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে মহেশখালী-কুতুবদিয়া সফর করবেন মন্ত্রী।

ঢাকায় পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি’র সাথে বৈঠক করেছেন মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু এমপি, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম চৌধুরী ও কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম। গতকাল(বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩টায় পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে আশেক উল্লাহ রফিক এমপি জানান, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার পুরো বেড়িবাঁধ যাতে স্থায়ীভাবে নির্মিত হয় এ বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে এই উপকূলীয় এলাকার ৫ লাখ মানুষের দুর্দশার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয় যা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে পানি সম্পদমন্ত্রী সম্মতি দেওয়ায় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যেভাবেই হউক উপকূলীয় এলাকায় আর জোয়ার-ভাটা দেখতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ এলাকার উন্নয়নে দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। আমরা চাই মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মিত হউক। পানি সম্পদমন্ত্রী আগামী ৭ ডিসেম্বর মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় চলমান বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

কক্সবাজার পানি প্রধান নির্বাহী সবিবুর রহমান জানিয়েছেন মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় ইতোমধ্যে ১৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ২৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। যা বাস্তবায়ন করছে নৌ-বাহিনী। এ ছাড়া আরো ৪০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় ৬৯,৭০ ও ৭১নং পোল্ডার এর আওতায় বেড়িবাঁধের আরো কাজ করার জন্য ৫২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এতে ৪৫০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে ধলঘাটা ও মাতারবাড়ির বেড়িবাঁধের জন্য এবং ৭০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে কুতুবদিয়ার বেড়িবাধের জন্য। এটি বাস্তবায়িত হলে পুরো মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মানুষের আর দূর্ভোগ পোহাতে হবে না।

মাতারবাড়ির চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছেন, চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আর সমস্যা থাকবে না। আশেক উল্লাহ রফিক এমপি’র অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এ সব প্রকল্প। চলমান প্রকল্প ছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য দ্রুত অর্থ ছাড় দিলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।

কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইলের চেয়ারম্যান নুরুচ্ছফা বিকম জানিয়েছেন, বিগত সময়ে যারা এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন তারা বেড়িবাঁধের জন্য কোন কাজ না করায় আমাদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার কয়েক লাখ মানুষকে এরা চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন। বর্তমান সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক’র নেতৃত্বে বেড়িবাঁধের জন্য যা কাজ হয়েছে তা গত ৩০ বছরেও হয়নি। আমরা চাই কাজের দ্রুত বাস্তবায়ন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় গত বর্ষা মৌসুমে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ৭টি ইউনিয়ন জোয়ার-ভাটায় পরিণত হয়। জরুরী বরাদ্দ হিসাবে যা করা হয় এতে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় মানুষের দূর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। যার ফলে নৌ-বাহিনীর তত্বাবধানেই নির্মিত হচ্ছে সাড়ে ২৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।




চকরিয়ার সেরা করদাতার সম্মাননা পেলেন ছালেহ আহমদ সওদাগর

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়ে সম্মাননা পেলেন চকরিয়া উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পৌর শহরের হাশেম মার্কেটস্থ আল মদিনা হার্ডওয়ার এর মালিক আলহাজ্ব ছালেহ আহমদ সওদাগর।

বুধবার (৮ নভেম্বর ) দুপুরে চট্টগ্রামে আয়কর বিভাগের সেরা করদাতাদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব ছালেহ আহমদ সওদাগরের হাতে এ পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

এই করদাতা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্রগ্রামের প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান, চট্রগ্রামের পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্রগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা অতিথি ও সফল আয়করদাতাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লখ্যে, ব্যবসায়ী আলহাজ্ব ছালেহ আহমদ সওদাগর ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য চকরিয়া উপজেলার পূর্ব্ বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মাতামুহুরী উপজেলার জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিউটির সদস্য সচিব তরুন নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খলিল উল্লাহ চৌধুরীর বাবা হন।