চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ঘোষণা

কাপ্তাই প্রতিনিধি:

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের বৃহস্পতিবার ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদে সর্বমোট রাজস্ব ও উন্নয়ন আয় ধরা হয়েছে ৯৭লাখ ৬৩ হাজার ৪১৬ টাকা। সর্বমোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৬ টাকা। স্থিতি রয়েছে ৩ হাজার ৫০ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী।

প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মফিজুল হক, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত বিকাশ তঞ্চ্যঙ্গা জটিল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, ওয়াগ্গা ইউপি চেয়ারম্যান চিরনজীত তঞ্চ্যঙ্গা, চন্দ্রঘোনা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিপ্লব মারমা, জেলা আ’লীগ শ্রম সম্পাদক মো. হানিফ , উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম ইসমাইল ফরিদ, উপজেলা কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক সুধীর তালুকদার , উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এম নুর উদ্দীন সুমন , চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি মো. ইলিয়াছ,উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মানিকসহ সকল ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাজেট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হোল্ডিং ট্রাক্স সহ রাজস্ব আয়ের পরিধি বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। যেহেতু অত্র ইউনিয়নে রাজস্ব আয় ও হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।




শিক্ষাকে অগ্রধিকার দিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের বাজেট ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক,বান্দরবান:

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জন্যে ৬৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। নিজস্ব অডিটোরিয়ামে সোমবার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা ১১ বারের মত এই বাজেট ঘোষণা করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে এবং ১২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা সংস্থাপন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। শিক্ষা উন্নয়ন খাতে সর্বচ্চো ২৬ শতাংশ এবং কুটির শিল্প খাতে সর্বনিম্ন ২% বরাদ্দ বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

বাজেটে শিক্ষা উন্নয়নে ১২ কোটি ৯৫ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৪০ টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগে বাজেটের ১৯% ৯ কেটি ৪৬ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যানে ১৪% হিসেবে ৬ কোটি ৯৭ লক্ষ, কৃষি ও সেচ খাতে ১৩ শতাংশ সম্ভাব্য ব্যয় দেখানো হয়েছে। কুটির শিল্প খাতে সর্বনিম্ন ২% হিসেবে ৯৯ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৮০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন এডিপি খাত থেকে বরাদ্দ বাবদ ২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন খাত থেকে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে বরাদ্দ হিসেবে ৪২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ খাত থেকে নিজস্ব আয় বাবদ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বাজেট অধিবেশনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা বলেন, জেলায় শিক্ষায় মান উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও কৃষি উন্নয়ন, দারিদ্র হ্রাস করার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নসহ পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিষয় ভিত্তিক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে জেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে।

বাজেট অনুষ্ঠানে পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলম, নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আবছার, জেলা পরিষদের সকল সদস্য, সাংবাদিক, ন্যস্ত বিভাগ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




মাটিরাঙ্গা পৌরসভার সাড়ে ৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৫ কোটি ৭৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৪‘শ ৫৪ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরের দিকে মাটিরাঙ্গা পৌরসভা অডিটোরিয়ামে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক এ বাজেট ঘোষণা করেন।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এটিএম কাওছার হোসেন। বাজেট অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও বাজেট কমিটির আহবায়ক মো. আলাউদ্দিন লিটন স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

স্বাধীনতার পর যতো উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়িত হয়েছে তার অধিকাংশই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এটিএম কাওছার হোসেন বলেন, উন্নয়ন কাজের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয় জনগণের ট্যাক্সের অর্থে। তাই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে (পৌরসভা ও ইউনিয়ন) শক্তিশালী করতে জনগণের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে পৌরসভার উন্নয়নে অংশীদার হতে তিনি পৌরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. এমরান হোসেন, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী, মাটিরাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন খোন্দকার ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার সচিব অনিল চন্দ্র ত্রিপুরা অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।

বাজেটে মোট আয় দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৪‘শ ৫৪ টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন আয় ধরা হয়েছে ৩ এবং রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৪‘শ ৫৪ টাকা। অন্যদিকে বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৪‘শ ৫৪ টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা। বাজেটে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৪ টাকা উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে।

পরে ঘোষিত বাজেট নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ গ্রহণ করা পৌর নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক।




আধুনিক রাঙামাটি বিনির্মাণে জেলা পরিষদের ৬৭ কোটি টাকার বাজেট

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

আধুনিক রাঙামাটি বিনির্মাণের প্রত্যয়ে শিক্ষা  ও তথ্য প্রযুক্তি এবং  যোগযোগ অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।

শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে  ৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা এবং যোগযোগ অবকাঠোমো খাতেও সম পরিমাণ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রেখে আগামী অর্থ বছরের জন্য এ বাজেট ঘোষণা করেছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা।

মঙ্গলবার বিকেলে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্যবৃন্দ, পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদ, জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা, নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আবদুস সামাদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনতোষ চাকমা, হিসাব ও নিরীক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।

বাজেটে অন্যান্য খাতের মধ্যে ধর্মে  ৮ কোটি  ৮৮ লক্ষ টাকা, সমাজ কল্যাণ, আর্থ-সামাজিক ও নারী উন্নয়ন খাতে ৫ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা, পুর্ত( গৃহ, অবকাঠামো নির্মাণ খাতে  ৬ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৬ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা, কৃষিখাতে ২ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা, পর্যটন খাতে ১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকাসহ জলবায়ু পরিবর্তন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, ভূমি ও হাট বাজার, শিশু উন্নয়ন ইত্যাদি বিভিন্ন খাতে কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয় ঘোষিত বাজেটে।

বাজেট ঘোষণা কালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগটি জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগ হলেও তার নিয়ন্ত্রণ মানা হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তিনি জানান, ২১৬ সালের আগস্ট মাসে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ হস্তান্তর বিভাগগুলো পরিচালনার জন্য ২০টি প্রবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এসব প্রবিধান অনুশাসনের জন্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার এখনো কোন নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেনি।

তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার সময় শিক্ষাকে সবসময় অগ্রধিকার দেয় জেলা পরিষদ। গত অর্থ বছরেও শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা উন্নয়নে জেলা পরিষদ নিরলসভাবে কাজ করছে। বর্তমান সরকার দেশের ও জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এ কাজে রাঙামাটিবাসীকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বৃষকেতু চাকমা।




বান্দরবানে মোরা ও বন্যায় ক্ষতি প্রায় পাঁচশত কোটি টাকা: ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি প্রান্তিক কৃষক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

এবারের ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধ্বসে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সড়ক ও কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ও তাদের তালিকা শেষ করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। সরকারি রাস্তাঘাট ও স্কুল ছাড়া মোরা’র আঘাতে ও বন্যায় স্থানীয় জনসাধারণের যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরপনের কোন কাজ করেনি স্থানীয় প্রশাসন।

গতমাসে বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় প্রশাসন তাদের প্রত্যেক পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। কিন্তু তাদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করেনি। স্থানীয় সুধিজনরা পাহাড় থেকে নির্বিচারে গাছ কাটা, পাহাড় কাটা ও পাহাড় খোদায় করে এবং নদী ঝিড়ি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

জেলার ৭টি উপজেলায় সড়ক জনপথ ও সেনা প্রকৌশলের সংস্কারের আওতাধীন প্রায় ১’শ কিলোমিটার সড়ক এবং এলজিইডির ২৫ কিলোমিটার সড়ক ও ১৫০ মিটার ছোটখাট কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোরার আঘাতে জেলার ২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মোরার আঘাতে কৃষি খাতে আম ২৫ হেক্টর, কলা পেঁপে ২৫ লক্ষ হেক্টর এবং বন্যায় বিভিন্ন সবজি ২০ হেক্টর এবং আমনের বীজ তলা ৫ লক্ষ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে মোরা ও ২ দফা বন্যায় জেলা প্রশাসন তিন কিস্তিতে ৩০৩ মেট্রিক টন চাল, নগদ সাড়ে দশ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে শরনার্থীদের জেলা প্রশাসন, নিরাপত্তাবাহিনী, জেলা পরিষদ ও পৌর সভার পক্ষ থেকে খিচুরি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া বর্ষায় অল্প বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১২৬১৬জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে বন্যা ও পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে ১৩৩৬ পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছে বান্দরবান পৌরসভা। প্রতি বছর সামান্য বৃষ্টি হলে নিন্মাঞ্চলে বসবাসকারীদের বসতভিটা ডুবে যায়। আবার ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে এসব পরিবারকে ঘনঘন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হয়। এদেরকে স্থায়ীভাবে পূনর্বাসনের জুরুরী হয়ে পড়েছে।

গত জুন মাসে পাহাড় ধ্বসের পরে ৯টি ওয়াডে এক জরিপে দেখা যায় ৫টি ওয়াডে বন্যায় ঝুঁকিতে রয়েছে ৯৫৬টি পরিবার এবং পাহড়ে ঝুঁকিতে বসবাস করছে ৩৮০টি পরিবার।

পৌর মেয়র ইসলাম বেবী বলেন, বন্যা ও পাহাড়ের ঝুঁকিতে বসবাস করা ১৩৩৬টি পরিবার গলায় কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে। এসব পরিবারগুলোকে উচ্ছেদও করা যাচ্ছেনা আবার ঝুঁকিতেও রাখা যাচ্ছেনা। অধিকাংশ পরিবার অপরিকল্পিত ভাবে জলাভূমির আশেপাশে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে বলে বন্যার শিকার হচ্ছে। আর পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ন জেনে তারা বসবাস শুরু করেছে। এসব পরিবারগুলোকে পূনর্বাসন করা জরুরী হয়ে পড়েছে যা পৌরসভার পক্ষে সম্ভব নয়।

সড়ক জনপথ বিভাগের হিসাব মতে এবার ভারী বর্ষণে বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সড়কের প্রায় ৩শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য সরকারের কাছে ৮ কোটি টাকা চেয়ে আবেদন করেছে সড়ক জনপথ বিভাগ।

এলজিইডি বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ কিমি সড়ক মেরামত ও ১৫০ মিটার ছোটখাট বক্স কালভার্ট দ্রুত গতিতে মেরামতের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।

এদিকে পাহাড় ধ্বসের ফলে প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর বান্দরবান-রুমা সড়ক যোগাযোগ চালু হলেও যেকোনো সময় তা ধ্বসে আবারো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ সড়ক থানচির ডিম পাহাড় সড়কটিও ভাঙ্গনের ফলে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল জুন মাসে ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধ্বসের ফলে বান্দরবানের সড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। রুমা সড়কের ওয়াই জংশন এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কের উপর পাহাড় ধ্বসে পড়ায় এ সড়কটিতে প্রায় এক মাস ধরে যান চলাচল বন্ধ ছিল। অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ সড়ক থানচি-আলীকদম ডিম পাহাড় সড়কটির বেশিরভাগ অংশই ধ্বসে পড়েছে।

এছাড়া চিম্বুক-থানচি সড়ক, বান্দরবান-কেরানীর হাট সড়ক, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়ক, লামা-আলীকদম সড়ক, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পেভমেন্ট ধ্বসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালভার্ট, বেইলি ব্রিজসহ সড়কের পাশের অংশ।

সড়ক জনপথ বিভাগ সম্প্রতি এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক জরিপ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সড়ক জনপথ বিভাগের আড়াইশ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ৭০ কিলোমিটার সড়কই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের সংস্কার কাজের আওতাধীন ওয়াইজংশনের রুমা সড়ক, চিম্বুক-থানচি সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বান্দরবান সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম খান জানান, বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সড়কে এবার ভারী বর্ষণে ৩০৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে এসব সড়ক দ্রুত মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ৮ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া মধ্য মেয়াদী সংস্কারে ১৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ও দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারের জন্য ২’শ ৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ ১৯ ইসিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইফতেখার শাহরিয়ার জানান, বান্দরবান চিম্বুক ও ওয়াইজংশনের রুমা সড়ক দু’টির বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গেল ১২ জুনের পর থেকে বন্ধ থাকা রুমা সড়কটি চালু করতে সক্ষম হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী।

এলজিইডর সিনিয়ার প্রকৌশলী মো. জিল্লুর রহমান জানান, নির্মাণাধীন সড়করে মধ্য ২৫ কিমি. সড়ক মেরামত ও ছোটখাট প্রায় ১৫০ মিটার ছোটখাট বক্স কালভার্ট দ্রুত গতিতে মেরামতের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার রিটন কুমার বড়ুয়া জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে জেলার ২৯টি কাঁচ-পাকা নির্মাণাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য ৪৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

সুলতান পুরের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, মোরার আঘাতে কড়লা ও শসা ক্ষেতের মাচাং ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বন্যায় সবডুবে সম্পূর্ণ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলাম। ফলন আসার সময়ে মোরা ও বন্যায় সব শেষ হয়ে গেল। সরকার থেকে কিছু সহযোগিতা পায়নি।

কৃষি সম্প্রসারাণ বিভাগের উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, মোরার আঘাতে কৃষকদের আম, কলা ও পেপে ঝড়ে পড়েছে। এছাড়া আমনের বীজ তলা ও সবজি মিলিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বন ও ভূমি সংরক্ষন অধিকার আদায়ের সভাপতি জুমলিয়ান আমলাই বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ হবেই, এতে কারো হাত নেই। তবে পার্বত্য এলাকায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্য স্থানীয় বসবাসকারী এবং প্রশাসনই দায়ী।

তিনি বলেন, শহর কেন্দ্রিক জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। তাই তারা বসবাসের জন্য এবং উন্নয়নের নামে যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য প্রকৃতির সৃষ্টি পাহাড়ের গায়ে হাত দিয়ে তার ভারসাম্য নষ্ট করছে। এছাড়া নির্বিচারে গাছ কাটা, ও পাথর উত্তোলনের জন্য ভূমি ধ্বসের প্রধান কারণ বলে মনে করেন জুমলিয়ান আমলাই।

জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক বলেছেন, গাছ কাঁটা, পাথর উত্তোলন ও অপরিককল্পিত পাহাড় কাঁটাকে পাহাড় ধ্বসের প্রধান কারণ। এছাড়া জেলার অধিকাংশ বালি পাহাড় হওয়ায় এবং পাহাড়ের গায়ে ছোটখাট গর্তে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় ধারণ ক্ষমতার বাইরে যাওয়ায় পাহাড় ধ্বসের অন্যতম কারণ।

ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের পূণর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, পূণর্বাসনের জন্য ভূমি খোঁজা হচ্ছে। শহরের আশেপাশে সুবিধামত ভূমি পেলে অধিগ্রহণ করে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

 

 




নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপিতে সাড়ে ৪৪ লাখ টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা, ভিজিডি ও ভিজিএফ চাল বিতরণ

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবানের ১নং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য সম্ভাব্য ৪৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৪ শত টাকার উম্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ইউপি সচিব মছিহুদদৌল্লাহ’র সঞ্চালনায় জনসম্মুখে উম্মুক্ত বাজেট উপস্থাপন করেন ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী।

এসময় তিনি বলেন, শুধুমাত্র পাঁচ বছর পর ভোট দিলেই হবে না। জনগণকে সার্বক্ষনিক পরিষদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করতে হবে। অপরদিকে পরিষদের প্রতিনিধিদেরও নিয়মিত জনগণের কাছে যেতে হবে এবং তাদের কাজের জবাবদিহিতা করতে হবে। তারই অংশ হিসেবে আজকের এ উন্মুক্ত বাজেট অনুষ্ঠানের আয়োজন।

এদিকে উন্মুক্ত বাজেট অনুষ্ঠানের পর সম্প্রতি মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং হতদরিদ্রদের মাঝে ভিজিডি ও ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ছয় মাসের ভিজিডি চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। মোট ৭৯০ জনের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হবে।

গত দুই সপ্তাহ যাবত সরকারের ত্রাণসহ নানা সামগ্রী বিতরণকে কেন্দ্র করে সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এসব সামগ্রী বিতরণকালে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর সু-স্বাস্থ্য কামনা করে ব্যাপক উন্নয়নের জন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

উভয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, ইউপি সদস্য আরেফ উল্লাহ ছুট্টু, মো. ফয়েজ উল্লাহ, আবুল হোসেন, বাদশা আলম, রবিশন বড়ুয়া, জুহুরা বেগম, ফাতেমা বেগম, গ্রাম পুলিশ প্রধান রঞ্জিত বড়ুয়াসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।




খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি পৌরসভার ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে এ বাজেট ঘোষণা করেন পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সার্বিক স্থিতি ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩৯ টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ৭ কোটি ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ৯১২ টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, উদ্ধৃত ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯১২ টাকা। উন্নয়ন খাতে সম্ভাব্য সরকারি অনুদান ২ কোটি ৫০ লাখ, বিশেষ প্রকল্প অনুদান ৪৪ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৯০ টাকা।

মূলধন আয় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৪ হাজার ৪৩১টাকা। মূলধন ব্যয় ৯৩ লাখ টাকা।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী দীলিপ বিশ্বাস ও সচিব পারভিন আক্তারসহ পৌরসভার কাউন্সিলর, সাংবাদিক ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাজেট বাস্তবায়নে মেয়র মো. রফিকুল আলম পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।




পাট শিল্পের সাথে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জড়িত

Pat Dibos copy

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

সারাদেশের ন্যায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতেও পাট দিবস পালিত হয়েছে। ‘সোনালী আশেঁর সোনার দেশ, পাট পণ্যের বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে প্রাধান্য দিয়ে সোমবার (৬মার্চ) সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা পরিষদ হল রুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএম সরওয়ার কামাল বলেন, পাটকে ভালবাসা মানে বাংলাদেশকে ভালবাসা। কারণ পাট শিল্পের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জড়িত। তাই দৈনন্দিন জীবনে ক্রয়-বিক্রয় ক্ষেত্রে পাটজাত প্যাকের উপর গুরুত্ব এবং পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজের সঞ্চালায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী, সদস্য সচিব মো ইমরান মেম্বার, ছালেহ আহমদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাত, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইসমাইল, নারী নেত্রী ওজিফা খাতুন রুবি প্রমুখ।

এছাড়াও অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহমদ, সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক একেএম রেজাউল হক, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি তারেক রহমান, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আবদুস সাত্তার, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর নয়ন, সদর ইউপির মহিলা মেম্বার জুহুরা বেগম প্রমুখ।




পরিক্ষা মূলক পোস্ট!

পরিক্ষা মূলক পোস্ট!




উপজাতি সন্ত্রাসীদের তান্ডবে হুমকির মুখে পাহাড়ের অর্থনীতি

নানিয়ারচর-আনারস-বাগান

মিয়া হোসেন, পার্বত্যাঞ্চল থেকে ফিরে :

উপজাতি সন্ত্রাসীদের তান্ডবে পাহাড়ের অর্থনীতি হুমকির মুখে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকরা ফসল চাষ করেন, আর ফসল ঘরে তোলার সময় সন্ত্রাসীরা এসব ফসল ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিশেষ করে বাঙালিদের গাছা পালা ও আনারস বাগান প্রতি বছরই কেটে নষ্ট করে দিচ্ছে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। দিন দিন উপজাতি সন্ত্রাসীদের এ তান্ডব বেড়েই চলছে। ক্ষতিগ্রস্তরা কোন প্রতিকারও পাচ্ছেন না।

এক হিসাবে দেখা গেছে, গত দুই বছরে উপজাতি সন্ত্রাসীরা বাঙালিদের ৫ লাখ ৩৯ হাজার গাছ কেটে ধ্বংস করে দিয়েছে। অবিলম্বে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া না হলে পাহাড়ের অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ডিসেম্বর শনিবার রাঙমাটির নানিয়ারচর বুড়িঘাট ইউনিয়নের ৪ নং টিলার স্থানীয় বাসিন্দা মঈনুল হোসেনের প্রায় চার কানি জমির আনারস বাগানের ৪৫ হাজার চারা সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও উপরে ফেলে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে। ঘটনাস্থলটি উপজাতীয় অধ্যুষিত এলাকায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটলেও পরের দিন রবিবার বিকেলে এ ঘটনা জানাজানি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক মো. মঈনুল হোসেন জানান, তিনি গত ৬/৭ বছর আগ থেকে তার নিজস্ব পনে ৫ একর জায়গায় আনারস বাগন করে আসছেন। এ বছরও তিনি ৪ কানি জায়গায় আনারস চারা লাগিয়েছেন। চারা লাগানোর একদিন পর তিনি খবর পান তার বাগানের চারা কেটে ও উপরে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তিনি এ বিষয়ে জানাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসাকে বারবার ফোন করেও পাননি বলে জানান। এ জায়গা নিয়ে কারো সাথে কোন বিরোধ নেই বলেও তিনি জানান।

তিনি ধারণা করছেন, এ ঘটনা উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা ঘটিয়েছে। তিনি আরোও জানান, তার ওই জায়গায় আনারস বাগান করতে গেলে বিগত পাঁচ বছর আগে পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়। এ ঘটনায় তার প্রায় চার লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত মো. মঈনুল হোসেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটের মিজানুর রহমানকে বিয়ে করেন মিনু ত্রিপুরা (এখন আয়েশা সিদ্দিকা বেগম)। ইসলাম ধর্মগ্রহণ এবং বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করার ফলে বিভিন্ন সময়ই তাকে হুমকী দিতে থাকে পাহাড়ি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর স্থানীয় নেতারা। কথা না শোনায় গত ৮ নভেম্বর মিনু ত্রিপুরাকে (আয়েশা সিদ্দিকা) অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা। ইসলাম ধর্ম ত্যাগ ও বাঙালি ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার শর্তে এবং যৌথবাহিনীর চিরুনী অভিযানে ২৪ ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু কথা না রাখায় ১১ নভেম্বর রাতের অন্ধকারে আয়েশার শ্বশুরের ৮২ হাজার আনারস গাছ কেটে রেখে যায় উপজাতি দুর্বৃত্তরা।

পার্বত্য সমঅধিকার আন্দোলনের নানিয়ারচর উপজেলার নেতা মো. কবির হোসেন জানান, নানিয়ারচর উপজেলার ৩নং বুড়িঘাট মধ্যমপুলি পাড়ায় উথুইং মং মারমা ও অংসুই প্রু মারমার নেতৃত্বে একদল উপজাতি মধ্যরাতে জামাল সিকদার ও মধুমিয়ার আনারস বাগানে হানা দেয়। এ সময় তারা দুই একর বাগানের সব ছোট-বড় আনারস কেটে ফেলে। ওই বাগানে ৮২ হাজার আনারস গাছ ছিল বলে তিনি জানান। এমনকি অব্যাহতভাবে তাদেরকে (আয়েশা ও মিজানুর রহমান) হত্যারও হুমকী দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা।

শুধু আয়েশা সিদ্দিকা-মিজানুর রহমান বা মঈনুল হোসেনই নয়, প্রতিনিয়তই পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কোন না কোন বাঙালি পরিবার। বাঙালি ছেলের সাথে কোন উপজাতি মেয়ের সম্পর্ক, বিয়ে হলে কিংবা ঘনিষ্ঠতা হলেই হুমকীর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় তাদের।

বাঙালিদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়া, ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পাহাড় ছাড়া করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সন্ত্রাসীরা এমনটি করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যেও বলা হয়েছে, বারবার বাঙালিদের ফসল-গাছ কেটে ফেলছে, ফসল চাষে বাধা দিলে কোন না কোন সময় বাঙালিরা পাহাড় ছাড়া হবে এমনটাই চিন্তা করে উপজাতি সন্ত্রাসীরা।

২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দুই বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পাচঁ লাখ ৩৯ হাজারেরও বেশি গাছ কেটে ফেলেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। যার সবগুলোই বাঙালিদের। এর কোনটির পেছনে রয়েছে বাঙালি-উপজাতি ছেলে-মেয়ের প্রেম বা বিয়ে, কোনটিতে চাঁদা না দেয়া।

গত ১৪ নভেম্বর খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ময়ূরখিলে ৮৪টি মশলা গাছ ও ৪টি আম গাছ কেটে ফেলে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। ১৪ নভেম্বর খাগড়াছড়ির রামগড়ে যৌথ খামারে আড়াই হাজার পেঁপে গাছ, ৬শ’ কলা, ৩০টি লিচু ও ২০টি লেবু গাছ কেটে ফেলে, ২৮ আগস্ট বান্দরবানের আলীকদমে গাজী রাবার বাগানের ৬৯৩টি রাবার গাছ কাটা হয়, ২৭ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ির সিন্দুকছড়িতে কর্ণেল বাগানে ২শ’টি ফলের গাছ, ২৫ জানুয়ারি বান্দরবানের আলীকদমে এক হাজার ৯৬৭টি রাবার গাছ ও ৭টি আম গাছ কাটা হয়।

আগের বছর ১৩ আগস্ট খাগড়াছড়ির লহ্মীছড়ির রেপাতলীতে ২০ হাজার রাবার গাছ ও ৫০টি কলা গাছ ও ১১ জানুয়ারি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার জামতলীতে ৩৫ হাজার আনারস গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর একই উপজেলার বগাছড়িতে ৩ লাখ ফলন্ত আনারসের গাছ ও ২১ হাজার সেগুন গাছ কেটে ফেলা হয়। নির্ধারিত চাঁদা না দেওয়ায় গতবছর বান্দরবানের লামা উপজেলায় একটি রাবার বাগানের গোডাউন পুড়িয়ে দেয় জেএসএস-সন্ত লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এরপরও চাঁদা না দিলে পুরো বাগান পুড়িয়ে দেয়ার হুমকী দেয়া হয়।

শুধু গাছ কেটে বা ব্যবসা বন্ধ করে ক্ষান্ত থাকছে না তারা। বাঙালি পাড়া বা সেনা-বিজিবি ক্যাম্প থেকে একটু দূরে বাঙালিদের জমি থাকলে সেখানে চাষাবাদও করতে দেয়া হয় না। চাষাবাদ করতে গেলে বাধা, ফসল পুড়িয়ে দেয়া এমনকি বাড়ি-ঘরও পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটছে।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার চেংড়াছড়ি গুচ্ছগ্রামে দেখা যায় এমন সন্ত্রাসের শিকার ৪শ’ পরিবার। যারা তাদের নামে সরকারের দেয়া ফসলি ও বসতি জমি হারিয়ে একটি গুচ্ছগ্রামে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। থাকার জায়গার অভাবে গরু, ছাগল এবং মানুষ বসবাস করছে একই ঘরে। স্থানীয়রা জানান, ১৯৮১ সালে ৫৬টি পরিবারকে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসবাসের জন্য খাস জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু পাহাড়ি উপজাতিদের অব্যাহত বিরোধিতা ও আক্রমণের কারণে ১৯৮৮ সালে তারা সেই জমি ছেড়ে দিয়ে একত্রিত হয়ে গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছেন তারা। সে সময় ৫৬টি পরিবারকে ২৫ শতাংশ বসতি জমি এবং পৌনে চার একর চাষযোগ্য জমি দিয়ে পুনর্বাসিত করা হয়। ৩০ বছর পর সেই ৫৬ পরিবার এখন ৪০০ পরিবারে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ২৫ শতাংশ জমির মধ্যে এক শতাংশও বাড়েনি। অন্যদিকে চাষযোগ্য যে পৌনে চার একর জমি তাদের দেয়া হয়েছিল তা পাহাড়ে হওয়ার কারণে উপজাতিদের বাধা ও অপহরণের ভয়ে সেগুলোতে চাষ তো দূরের কথা পা পর্যন্ত ফেলতে পারেন না বাঙালিরা। কেউ বাধা ডিঙিয়ে চাষ করার কথা চিন্তা করলেই রাতের অন্ধকারে তাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মুকুল হোসেন বলেন, ৩০ বছর আগে গুচ্ছগ্রামে বসবাস করার জন্য যে জমি দিয়েছিল এখন সেই জমিতে আমাদের পরিবারদের আর জায়গা হয় না। মানুষ বেড়েছে, পরিবার বেড়েছে, কিন্তু জমিতো বাড়েনি। অন্যদিকে চাষের জন্য পাহাড়ে যে জমি দিয়েছে সেই জমিতে তো আমরা যেতেই পারি না। পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে বলা হচ্ছে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করো।

বাঙালিদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতে বাধার পাশাপাশি পার্বত্য এলাকার উন্নয়নেও সব সময় বাধা দিয়ে আসছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়েই হাদাছড়ি ও দেওয়ান পাড়ায় দুটি ব্রীজের টেন্ডার, অর্থ বরাদ্দ ও কাজ দেয়া হলেও ব্রীজ দুটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। নির্মাণের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেয়া হবে না বলে জানায়। একটি, দুটি নয়, তিনটি সংগঠনই পৃথকভাবে চাঁদা দাবি করে। এমনকি ব্রীজের কাজ পরিদর্শন করার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক যেতে চাইলে তাকে যেতে দেয়া হয়নি। পথে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

রাঙামাটি জেলার এসপি সাঈদ তারিকুল হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, এভাবে বাগান ধ্বংস করে দৃষ্কৃতকারীরা এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায়। তবে আমরা সতর্ক আছি কোনভাবেই যেনো এধরনের ঘটনা না ঘটে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা হচ্ছে।

সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলো সবসময় পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে। বাগান কেটে, দোকান পুড়িয়ে; এছাড়াও নানাভাবে ইস্যু তৈরির মাধ্যমে পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে তারা।