খাগড়াছড়িতে তুচ্ছ ঘটনায় হামলায় একজন আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

তুচ্ছ ঘটনার জেরে খাগড়াছড়িতে দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর নামে এক পান দোকানদার আহত হয়েছে। সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে খাগড়াছড়ি শহরের মক্কা হোটেল ও রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। জেলার রামগড় পৌরসভার মেয়র কাজী রিপনের সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মক্কা হোটেলের মালিক মো. আলমগীর বলেন, দুপুরে এক ব্যক্তি দোকানে এসে ২৫/৩০ জনের মাথাপিছু একশ’ ১০ টাকা করে খাবার দেওয়ার কথা বলেন।

তিনি কথা মতো প্রত্যেককে খাবার দেওয়া শুরু করলে তারা মাথাপিছু হিসেবের চেয়ে বেশি টাকার খাবার দাবি করে। এতে তিনি অপারগতা জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা দোকান ভাঙচুর শুরু করে। এসময় জাহাঙ্গীর নামে এক পান দোকানদারকে  মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শাহনূর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হামলাকারীরা সবাই রামগড় পৌর মেয়র কাজী রিপনের সমর্থক। আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য খাগড়াছড়ি আসে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবু ছালেক ও রঞ্জন দেবনাথ নামে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।




সেনাবাহিনী গণধর্ষণ করেছে রোহিঙ্গাদের, মিললো প্রমাণ

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

শামিলা নামের এক নারী বলছিলেন তার সন্তানদের সামনেই তাকে গণধর্ষণ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা। শুধু সেনারাই নয়, এই তালিকায় আছে স্থানীয় মগরাও।

শামিলা তার ছদ্মনাম। তার মতো কাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর প্রত্যেক ছাউনি ছাউনিতে। কক্সবাজারে জাতিসংঘের মেডিকেল টিম রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ, গণধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে। একবার নয়, একাধিকবারও অনেকে এই পাশবিকতার শিকার।

কেবল গণহত্যাই নয়, সন্তানের সামনে মাকে; মায়ের সামনে মেয়েকে ধর্ষণের মতো করুণ ও ঘৃণ্য কাজ করেছে মিয়ানমার সেনাদল।

মেডিকেল ক্যাম্পে এমনও অনেক নারী এসেছেন যারা এই পাশবিকতার শিকার হয়ে অসুস্থ, তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব তথ্য উঠে এসেছে।তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে রীতিমতো ভিন্ন সুর দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জ হাতয়ের ভাষায়। দিয়েছেন এ বিষয়ক গৎবাঁধা উত্তর। তিনি বলেন, নারীরা যারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তারা আমাদের কাছে আসতে পারেন। আমরা তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেবো। পাশাপাশি অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

জাতিসংঘের হয়ে কাজ করা চিকিৎসক তাসনুভা নওরীন বলেন, নারীদের জবরদস্ত করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এমন অনেক নারীর শরীরেই আঘাতের বহু চিহ্ন পাওয়া গেছে।

তবে অনেকেই ক্যাম্পে এসে লজ্জা-সংকোচবোধে তাদের ওপর চরম অমানবিক নির্যাতনের কথা লুকিয়ে রাখছেন বলে জানান তিনি। এতে ঠিক কত নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছেন তার সঠিক তথ্য নেই কারো কাছে। শিশুরা যেমন সহিংসতা দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ঠিক তেমনি নারীরা সহিংসতার পাশাপাশি ধর্ষণের মতো অভিজ্ঞতার শিকার হয়ে আরও বেশি ভেঙে পড়েছেন। তাদের জন্য উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন; মানসিক ও শারীরিক দুভাবেই।

সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি (যৌন হয়রানি ও সহিংসতা বিষয়ক) প্রমিলা প্যাটেন বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে নারীদের ওপর যা হয়েছে তা গুরুতর উদ্বেগের।

ত্রাণকর্মীরা বলছেন, শুধু হত্যা-গণহত্যাই নয়, ধর্ষণও রাখাইনের অনেক বড়

অপরাধ। এজন্যও বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। এখনও আসছেন।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) বলছে, সহিংসতার শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সহিংসতায় প্রাণ গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষের। বেসরকারিভাবে এই সংখ্যা দশ হাজার পার করেছে মধ্য সেপ্টেম্বরেই।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪.কম




চকরিয়ায় প্রতিবন্ধী ছাত্রী ধর্ষণ মামলার মূল আসামী গ্রেফতার

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডুলাহাজারা রিংভং ছগিরশাহ কাটা এলাকায় সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া প্রতিবন্ধী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত মূল হোতা ধর্ষক আসামী জিয়াউল করিম প্রকাশ জিয়াউল হক (৩২) নামের এক ব্যাক্তিকে চট্রগ্রামের চান্দগাঁও থানাস্থ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।ধৃত আসামী উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ রিংভং ছগিরশাহ কাটা সোয়াজনিয়া এলাকার নুরুল কাদেরর পুত্র।

থানা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং ছগিরশাহ কাটা এলাকায় সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।এ নিয়ে ধর্ষণের শিকার পরিবার চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল খালেক ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে চট্রগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানাস্থ বেপারী পাড়া এলাকায় শনিবার ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামী জিয়াবুল করিমকে গ্রেফতার করে।

অভিযানে নেতৃত্বে দেয়া চকরিয়া থানার এসআই আবদুল খালেক বলেন, প্রতিবন্ধী এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী জিয়াউল করিম প্রকাশ জিয়াউল হক চট্টগ্রামের চান্দগাও থানাস্থ বেপারী পাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে অবস্থান নেয়ার সংবাদ পেয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে আসামী জিয়াউল করিমকে শনিবার ভোর রাত ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৈধুরী বলেন,পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চট্রগ্রামের চান্দগাঁও এলাকা থেকে ধর্ষণ মামলার এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।ধৃত আসামীকে আদালতে  প্রেরণ করা হয়েছে।




টেকনাফে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ইয়াবাসহ মিয়ানমারের দুই নাগরিক আটক

 

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফের নাফনদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৫ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের দুই নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন(বিজিবি)।

২৪ সেপ্টেম্বর ভোররাতে হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া নেচারপার্ক বরাবর নাফ নদীর কিনারা থেকে ইয়াবাসহ তাদেরকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন, মিয়ানমারের মংডু জেলার মাঙ্গালা এলাকার মৃত সিরাজুল মোস্তফার ছেলে মো. কামাল আহম্মদ (৪৫) ও একই এলাকার বাসেদ আলীর ছেলে মো. ইলিয়াস (৩০)।

অপরদিকে একই দিন রাত ২টায় টেকনাফ সদরের গফুর প্রজেক্ট এলাকা মালিকবিহীন ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে । তবে এসময় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।

জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য ১কোটি ৮০ লাখ টাকা। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা চালান আসার গোপন সংবাদে দমদমিয়া এলাকায় অবস্থান নেয় বিজিবি। রাতের আধাঁরে মিয়ানমার থেকে আসা একটি হস্তচালিত নৌকা থেকে দু’টি বস্তা নামানোর সময় বিজিবি সদস্যরা দেখে তাদেরকে ধাওয়া করে।

এসময় ইয়াবা পাচারকারীরা বস্তা দু’টি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৫ পিস ইয়াবাসহ দুই পাচারকারীকে আটক করা হলেও আরো ৪ জন পাচারকারী পালিয়ে যায়।

আটক ইয়াবার মূল্য ১৪ কোটি ৮৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

তিনি আরো বলেন, পাচারকারীদেরকে ইয়াবাসহ থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন খাঁন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে ও অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে টেকনাফ মডেল থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।




চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে এক চাকমা নারীকে ধর্ষণ!

 

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের (সিএইচটিডিবি) চাকমা উপজাতি এক নারী কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করছে ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী। প্রথম পর্যায়ে লোকলজ্জা আর ভয়ে নিত্যদিন ধর্ষিত হয়েও ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে পারছিলেন ছোট চাকরিটি চলে যাওয়ার ভয়ে।

বেকার স্বামী, ছেলেমেয়ের আহার ও পড়ালেখার খরচের দিকে তাকিয়ে নীরবেই কেঁদে যাচ্ছিলেন এই অসহায় নারী। কিন্তু নিত্যদিনকার ধর্ষণে অতিষ্ঠ হয়ে নিরবতা ভেঙে এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-চেয়ারম্যানের নিকট প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ধর্ষিতা। তবে ধর্ষিতার এই অভিযোগ পেয়েও কোন পদক্ষেপ নেননি প্রতিষ্ঠান ভাইস চেয়ারম্যান। আর এ সুযোগে ধর্ষক, বিচার চাওয়া ধর্ষিতার চরিত্রে কলঙ্কের দাগ লেপন করে  ধোয়া তুলসীপাতা হয়ে যান।

ধর্ষিতা সিএইচটিডিবির ভাইস চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ছোট্ট একটি পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিদিন অফিসে পৌঁছার আগেই দায়িত্ব পালনে ছুটে যেতে হয় তাকে। তিনতলা ভবনে অফিসের প্রতিটি কক্ষ ও ফ্লোর ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করেন এ সময়ে। আর এই সুযোগে কাজের বাহানায় অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকিট্রিক) মিহির কুমার চাকমা। এ সময় হাতে পাঁচশত টাকা গুঁজে দিয়ে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, কাউকে বললে চাকরিচ্যুত করা হবে বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বলে। এর পর থেকে প্রতি দু‘এক দিন পর পরই ধর্ষণ করা হয় তাকে।

দীর্ঘ দু‘বছর ধরেই চলতে থাকে ধর্ষণ। ধর্ষিতা পরে এক পর্যায়ে সাহায্য চান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অফিস তত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা অপর উপজাতি নারী উস্যাং মা চৌধুরীর নিকট। এ সময় উস্যাং মা চৌধুরী অভয় দিয়ে বলেন, লিখিত অভিযোগ দাও চেয়ারম্যানকে। তবেই বিহিত ব্যবস্থা একটা হবে। অভিযোগ দেয়ার প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বোর্ড।  প্রতিকার নেয়া হয়নি।

সিএইচডিবি সূত্রে জানাগেছে, ধর্ষিত চাকমা উপজাতি এই নারী সিএইচটিডিবির চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর পরই বোর্ড চেয়ারম্যানের নিকট ফোন যায় মিয়ানমারের দায়িত্বে থাকা সাবেক এক রাষ্ট্রদূতের। আর ওই ফোনটি পাওয়ার পর থেমে যায় ধর্ষিত এই নারীর প্রার্থীত বিচার। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএইচটিডিবির উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক) মিহির কুমার চাকমা বলেন, এই বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না। যা জানার বোর্ড থেকে জানতে পারেন।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএইচটিডিবির চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: দৈনিক পূর্বতারা




পেকুয়ায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম


পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় আবুল কাশেম প্রকাশ কাছিম নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়মের বামলা পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আবুল কাশেম একই এলাকার মৃত বজল আহমদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকালে কর্মস্থলে যাবার পথে একই এলাকার মোহাম্মদ শফির ছেলে কামাল হোসেন, আনসার উল্লাহ সহ আরো দুই ব্যক্তি আবুল কাশেমের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের কিরিচের কোপে তিনি গুরুতর আহত হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে, আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।




কুতুবদিয়ায় জলদস্যু রমিজের বডিগার্ড আটক

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার জলদস্যু রমিজ বাহিনীর প্রধান রমিজের বডিগার্ড ডাকাত নুরুজ্জামানকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার(২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর ধূরুং কালারমার মসজিদ পাড়ায় বাড়ি থেকে আটক করা হয় তাকে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস বলেন, আটক ডাকাত নুরুজ্জামান (২৮) জলদস্যু প্রধান রমিজের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করত। তার বিরুদ্ধে দুইয়ের অধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। সে ওই পাড়ার মৃত আবুল কাশেমের পুত্র।

অপর দিকে বড়ঘোপ অমজাখালী গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ি বাবুল প্রকাশ চোটকা বাবুলকে শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে ৬৪ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক করা হয়। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে চালান দেয়া হয়েছে বলে ওসি জানান।




রাঙামাটি জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য, দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের অভিযোগ তোলেছেন ভুক্তভোগিরা। আর এসব অভিযোগের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে। এতে ৭৭ শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ চুড়ান্ত করা হয়েছে ৮০ শিক্ষকের। তবে “প্রমাণ পেলে” অভিযুক্তদের নিয়োগ বাতিল করা যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রওশন আলী।

অবশ্য এর আগে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য কোটা না মানায় নিয়োগের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। নিয়োগের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান, নিয়োগ বঞ্চিত কয়েক জন।

ফলাফলেও দেখা গেছে, নানা রকমের হেরফের ও গোঁজামিল। যেমন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২২ শূন্য পদে নেয়া হয়েছে ১৭ জন, জুরাছড়িতে ৬ জনের স্থলে ৫ জন, বিলাইছড়িতে ৫ জনের স্থলে ৪ জন, কাউখালীতে ২ জনের স্থলে ৯ জন। আবার লংগদু উপজেলায় ১২ জনের শূন্য পদের স্থলে নেয়া হয়েছে ১৫ জন, নানিয়ারচরে তিন জনের স্থলে ৫ জন, কাপ্তাই ও রাজস্থলীর প্রতি উপজেলার ২ জনের স্থলে ৩ জন করে।

আবার লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও চাকরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিলাইছড়ি উপজেলার (রোল-৫৯) লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেননি, অথচ তার নাম উত্তীর্ণের তালিকায় ওঠে। পরে অনেকের আপত্তির মুখে সংশোধীন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা বাতিল ঘোষণা দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। নানিয়ারচর উপজেলায় একই পদে চাকরি করতেন, তা থেকে ইস্তফা দিয়ে এবার সদর উপজেলায় আবেদন করেছেন (রোল-২৮), তার চাকরি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষর্শী একজনের দেয়া তথ্য মতে, স্থায়ী বাসিন্দাকে নিয়োগের শর্ত থাকলেও নিয়োগ পাওয়া শর্মিলা চক্রবর্তী স্থানীয় নন। তার বাড়ি চট্টগ্রামে। লিখিত পরীক্ষার পর এবং চূড়ান্ত ফলাফলের আগেই চাকরি নিশ্চিত হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেন শর্মিলা চক্রবর্তী। স্থানীয় আরও অনেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শূন্য পদ পূরণে চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি ৭৭ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা। এতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়েছে ৫০৩ জনকে। মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর বাঘাইছড়ি ও লংগদু, ২০ সেপ্টেম্বর বরকল, কাউখালী ও নানিয়ারচর এবং ২১ সেপ্টেম্বর সদর, কাপ্তাই, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলার প্রার্থীদের। মৌখিক পরীক্ষার শেষ দিনের রাতে চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ৭৭ শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দরখাস্ত আহবান করা হলেও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৮০ জনকে।

এদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য কোটা সংরক্ষণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন না করার অভিযোগে এবং নিয়োগের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে জেলা যুগ্ম জজ আজিজুল হকের আদালতে মামলা করেছেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু।

মামলার বিবাদী করা হয়েছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে। মামলার দিন নোটিসপ্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শানোর আদেশ দেন আদালত। শিক্ষক নিয়োগের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে অচিরেই আদালতে আরেকটি মামলা করবেন বলে জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু। নিয়োগের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান, নিয়োগ বঞ্চিত কয়েক জন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদর উপজেলা কমান্ডার মিজানুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোটা সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করার পাশাপাশি এবার শিক্ষক নিয়োগে ভুয়া কাগজপত্রে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য দেখিয়ে অনেককে চাকরি দিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে।

নিয়োগ বঞ্চিত হওয়া সাধারণ প্রার্থীসহ তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ, যোগ্যতা ও মেধা থাকা সত্ত্বেও বারবার চাকরি থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাদের। চাকরির আবেদন করে নিয়োগ পরীক্ষার নামে হয়রানি করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যাদের চাকরি হচ্ছে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এবং দলীয় ও আত্মীয়তার বলে। এখানে যোগ্যতা ও মেধার কোনো মূল্যায়ন নেই। এসব স্বজনপ্রীতিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়, যা নিয়ে জড়িত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুক্রবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার ব্যবহার করা মুঠো ফোনের ও নম্বরে বারবার কল দিয়েও তখন নম্বর দু’টি বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রওশন আলী বলেন, আমার জানা মতে এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত প্রার্থীদের নিয়োগ বাতিল করা যাবে।

৭৭ শূন্য পদে ৮০ জনের নিয়োগ এবং কোনো কোনো উপজেলায় কম বেশী সংখ্যক নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির এখতিয়ার রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোটা সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন না করার অভিযোগ করা মামলায় আদালতের দেয়া আদেশে এরই মধ্যে জবাব দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।




টেকনাফ সড়কে পথে পথে চলছে চাঁদাবাজী, ব্যবসায়ীরা অসহায়

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

গবাদি পশু ও বাঁশবাহী যানবাহন হতে চলছে পথে পথে চাঁদাবাজী। পুলিশ বিজিবি থেকে শুরু করে উঠতি পাতিনেতারা সড়কে যানবাহন থামিয়ে আদায় করছে টাকা। বলতে গেলে টেকনাফ সড়ক জুড়ে গণ চাঁদাবাজী নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সরজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় রোহিঙ্গারা তাদের পালিত গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে আসে।

কোরবানীর ঈদের আগ থেকে ঘুমধুম ইউনিয়নের আমতলী, পাত্রাজিরি, তুমব্রু জামতলি, উখিয়ার রহমতের বিল, আঞ্জুমান পাড়া, ভালুকিয়ার আমতলী, বালুখালী, টেকনাফের হোয়াইংক্য, লম্বাবিল, নয়া বাজার, শাহপরীরদ্বীপ, শাপলাপুর, সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার গবাদি পশু বাংলাদেশে নিয়ে আসে রোহিঙ্গারা।

অভিযোগে প্রকাশ, প্রথম দিকে স্থানীয় কিছু পাতি নেতা সংঘবদ্ধ হয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিকট হতে গবাদী পশু ছিনিয়ে নেয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের উশৃঙ্খল কতিপয় নেতাকর্মীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ছিনতায় কাজে নেমে পড়ে। শুধু তাই নয় গরু ক্রয়ের কথা বলে টাকা না দিয়ে উল্টো মারধর করে নিরহ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদেরকে তাড়িয়ে দেয়। যা খুবই অমানবিক। এ ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে  প্রশাসন নড়ে চড়ে বসে।

এক পর্যায়ে পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাড়াষি অভিযানে নেমে পড়লে কতিপয় ছিনতায়কারী সংঘবদ্ধ চক্ররা গা ঢাকা দেয়।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় আনা গবাদী পশু বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে প্রতিদিন। দাম একটু সস্তা হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জায়গা হতে গবাদী পশু ক্রয় করে যানবাহন বোঝাই করে দেশের হাট বাজার গুলোতে নিয়ে যায়।

কোটবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল থেকে ১২টি গরু ক্রয়ে করে ট্রাক যোগে আনার পথে ৫টি পয়েন্টে টাকা দিতে হয়েছে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ট্রাক প্রতি  ২৫ হাজার টাকা দাবি করে বসে। অনেক দেলদরবার করে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে একটু এগিয়ে আসলে বিজিবির সদস্যদের কবলে পড়ে তারা। অনুরূপ ভাবে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পর বালুখালী কাস্টম স্টেশনে পৌঁছলে তাদের গবাদী পশু বোঝাই ট্রাক থামায়। সেখানেও দু’গ্রুপকে পৃথক পৃথক ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে উখিয়া পৌঁছলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আবারো গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করে। এভাবে কোটবাজার পৌঁছলে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে গরু গুলো ভালুকিয়ায় পৌঁছে।

গরু ব্যবসায়ী ছৈয়দ সাংবাদিকদের বলেন, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ, কুতুপালং, হোয়াইক্যং থেকে গরু ক্রয় করে ট্রাক যোগে আনার পথে পথে চাঁদা দিতে হয়। না দিতে চাইলে ট্রাক সহ গরু গুলো আটক রেখে মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী জোরপূর্বক টাকা দিতে হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শরণার্থী ক্যাম্পে শেড নির্মাণের জন্য প্রতিদিন জীপ ও ট্রাকভর্তি করে হাজার হাজার পিচ বাঁশ নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব গাড়ি থামিয়ে ব্যবসায়ীদের কাজ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বলতে গেলে বর্তমানে টেকনাফ সড়ক জুড়ে চলছে পথে পথে চাঁদাবাজী। সচেতন নাগরিক সমাজ সড়কে চাঁদাবাজী বন্ধে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।




কোটি কোটি টাকার অপচয়: রাঙ্গামাটিতে নির্মিত বেইলি ব্রিজে ভারী যান নিয়ে উঠতে ভয় পাচ্ছেন চালকগণ

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগ ভেঙ্গেপড়া সড়ক মেরামত কাজে সরকারি কোটি টাকার অপচয় করার অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজন নেই অথচ প্রায় আড়াই কোটি টাকায় নির্মিত বেইলী ব্রীজের উপর ভারী যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন চালকগণ। সড়কের ভাঙ্গনরোধ কল্পে বল্লির খুঁটি (গাছ) নয় প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। ব্রীজ বাদ দিয়ে পাশের সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় এবং যানবাহন চালকগণ জানিয়েছে।

গত ১৩ জুন টানা বৃষ্টির পর ও ব্যাপকহারে পাহাড় ধসের সাথে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক এবং শহর এলাকার বেশ কিছু সড়কের পাশ ভেঙ্গে পড়ে। সেদিন শহরের মানিকছড়ি ও ঘাগড়ার মধ্যবর্তী স্থান শালবাগানের প্রায় ৭০ ফুট সড়ক ভেঙ্গে খাদে পড়ে যায়। পরে চট্টগ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগ তিন দিনের মাথায় ছোট ও মাঝারি যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক তৈরী করলে মানুষের কষ্ট কিছুটা দূর হয়। এসময় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং সড়ক বিভাগ একমাসের মধ্যে ভারী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করার ঘোষণাও দেন। পরে দীর্ঘ ৬৯ দিনের মাথায় সড়ক বিভাগ শালবাগানস্থ ভেঙ্গেপড়া সড়কের স্থানে বেইলী ব্রীজ নির্মাণ করে ভারী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়।

সাপছড়িস্থ বেইলী ব্রীজের পাশে ছোট ও মাঝারি যানবাহন চলাচলের জন্য সেনা বাহিনী তাৎক্ষণিক যে ব্যবস্থা করেছিল সেটিই এখন যানবাহন চালকদের ভরসা বলে জানা গেছে। বেশ কজন চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাহড় ধসে জমাট বাঁধা মাটির উপর সড়ক বিভাগের তৈরী করা বেইলী ব্রীজের তিনটি খুঁটির মধ্যে দুটিই যেন হেলে রয়েছে। ভারী যান নিয়ে ব্রীজ পার হতে ভয়ও লাগে, তাই পাশের সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছি। জনৈক ট্রাক চালক জামাল জানিয়েছেন, ব্রীজটি স্থায়ী হবে কিনা সংশয় রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরাতো গাড়ি চালাই যে কোন ব্রীজে উঠলেই বোঝা যায় এটি কতঠুকু মজবুত। ব্রীজের স্লীপারগুলোসহ অধিকাংশ পুরাতন মালামাল দিয়ে কাজ করা হয়েছে। কোটি টাকার ব্রীজ তেরী করার পরও পাশের সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে, তাহলে এতটাকা ব্যয় করে ব্রীজের দরকার কেন।

সরেজমিন দেখা যায়, শালবাগানস্থ ভেঙ্গেপড়া সগড়কের পাশে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগ যৌথ উদ্যোগে পাহাড় ঘেঁষে ছোট ও মাঝারী যানবাহন চলাচলের জন্য মাটি ভরাট করে সড়ক তৈরী করে দিলে যাতায়াত সুবিধা হয়। পরে এ সড়কের পাশেই বেইলী ব্রীজের সিদ্ধান্ত নেয় সড়ক বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে যেখানে মাটি ভরাট করে সড়ক তৈরী করা হয়েছে সেখানে কিছু বাড়তি মাটি ভরাট করলে বেইলী ব্রীজের প্রয়োজন পড়ে না। তাছাড়া সেখানে কোন ছোট-বড় পানি নিস্কাশনের নালা কিংবা ছড়া নেই যে ব্রীজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। অথচ ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকায় বেইলী ব্রীজ নির্মাণ করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, যানবাহন চালক এবং অভিজ্ঞ মহল বলেছেন, যেখানে কিছু মাটি ভরাট করে ছোট ও মাঝারী যানবাহন চলাচল করছে সেখানে আরো কিছু মাটি ভরাট করলে বড় যানবাহনও চলতো এত টাকা ব্যয় করতে হতো না। বর্তমানে ছোট ও মাঝারী যানবাহন চলাচলের স্থান দিয়েই এখন বড় যানবাহনও চলাচল করছে। এছাড়া ব্রীজ নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত অধিকাংশ পার্টস পুরাতন এবং ষ্টীল স্লীপারের গুটিগুলো ক্ষয়ে যাওয়া যা বৃষ্টির দিনে যানবাহন চালকগণ গাড়ির ব্রেক চাপ দিলে দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

এছাড়াও সড়ক বিভাগ শহরের বেশ কিছু স্থানে ভেঙ্গে যাওয়া এবং ধসে পড়া সড়ক মেরামত কাজে স্থায়ী কোন সমাধানের চিন্তা না করেই এক যোগে গাছের বল্লি মেরে সড়কের পাশ ভাঙ্গন রোধকল্পে যেভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে তাতে কোন সমাধান হবে না বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং সরকারি বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত কিছু প্রকৌশল বিভাগ এর প্রকৌশলীগণও জানিয়েছেন। দেখা যায়, পুরো জেলা শহরের এমন কোন সড়ক নেই যেখানে কমবেশি ভাঙ্গেনি এবং ধসেপড়েনি। এসব ভেঙ্গে যাওয়া সড়কের ভাঙ্গনরোধ কল্পে একযেগে গাছের বল্লি মারার কাজই চলছে। কিন্তু এসব গাছের বল্লি দিয়ে সড়ক ভাঙ্গনরোধ করাতো যাবেই না বরং বারং বারই সরকারি টাকা অপচয় করা হবে। ভেঙ্গে যাওয়া স্থানগুলোয় দেখা যায়, কোন কোন স্থানে ইটের ধারক দেওয়াল দিয়ে এবং মাটি ভরাট বস্তা ফেলে দিলে সড়কের ভাঙ্গন রোধে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করা যায়। আবার অনেক স্থানে গাছের বল্লির পরিবতর্তে লম্বা আরসিসি পিলার ব্যবহার করলে সেটি দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং অর্থের অপচয় কমে যাবে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সড়কের ভাঙ্গন রোধ করতে হলে স্থায়ী সমাধান দরকার। প্রতিবছরই টানা বৃষ্টিতে কোন না কোন স্থানে সড়ক ভেঙ্গে যায় এবং সে সময়ও গাছের বল্লি দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা হয়েছে কিন্তু কয়েক মাস পর সেসব ধারকের কোন অস্তিত্বই থাকে না। কিন্তু এবারের ঘটনা ছিল ভয়াবহ। পাহাড়ী এলাকায় সড়কের ভাঙ্গন রোধে সড়ক বিভাগ গাছের বল্লি মেরে ধারক দেয়াল সৃষ্টি করলেও কয়েক মাস পড়ে সেসব গাছের গোড়া পোকায় খেয়ে ফেললে তখন ধারকের চিহ্নই আর থাকবে না। এভাবে সড়ক ভাঙ্গরোধে প্রতিবছরই অর্থের অপচয় করা হবে তাই প্রয়োজন দীর্ঘ স্থায়ী সমাধান।

এদিকে এ বিষয়ে এলজিইডির এক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক বিপদ এড়াতে ভেঙ্গেপড়া সড়কের পাশে গাছের বল্লি দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা যায় তবে সেটি কোন স্থাযী সমাধান নয়। যেহেতু পাহাড়ী এলাকার সড়ক তাই বার বার যাতে ভেঙ্গে না যায় তার জন্য স্থাযী সমাধান দরকার। তাই সেখানে বল্লি না মেরে গাছের সাইজেই স্থায়ী ছোট আরসিসি পিলার দিয়ে কাজ করলে ভাঙ্গনরোধ কিছুটা স্থায়ী হবে এবং অর্থের অপচয় রোধ করা যাবে।

এবিষয়ে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাত হোসেন জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির পর ১৩ জুন পাকৃতিক দুর্যোগে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ও সড়ক ধসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে মানুষের সীমাহীন কষ্ট হয়। সাপছড়ির শালবাগানস্থ পাহাড় ধসের সাথে সাথে প্রায় ৭০ ফুট সড়ক ধসে একেবারে নিচে পড়ে যায়। এতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগ যৌথ উদ্যোগে তিন দিনের মধ্যে হালকা যানবাহনের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়। এতে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব হলেও বড় যানবাহন শহরে প্রবেশ করতে পারতো না। টানা দুমাসের কাজ চালিয়ে নির্মিত বেইলী ব্রীজ দিয়ে এখন ভারী যানবাহন চলাচল শুরু করেছে। ফলে শহরের সাথে ভারী যানবাহনের যোগাযোগ এখন উন্মুক্ত হলো।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানিয়েছেন, ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বেইলী ব্রীজটি করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়া সড়কের পার্শ্বে গাছের বল্লি দিয়ে মাটি ধারক এর কাজ চলছে। ধীরে ধীরে সড়কের সকল সমস্যা নিরসন হবে। ঘটনার পর ১ মাসের মধ্যে ভারী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও স্থাপত্য কাজের বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেখানে অনিচ্ছাকৃত দুই মাস সময় লেগেছ। কাজ দ্রুত করা হলেও ব্রীজের স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে। ভারি যান চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। এ ধরনের বেইলি ব্রীজ নির্মাণে পিলারে সাধারণত ১শ থেকে ১শ ২০ ফুট অন্তর স্পেস দেওয়া হয়। কিন্তু অধিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পিলারের স্পেস দেওয়া হয়েছে ৪০ ফুট অন্তর। বেইলি ব্রীজের দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার এবং প্রস্থ ৩ দশমিক ৬৬ মিটার। ভারি যানবাহন চলাচলে ব্রীজের কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবু অধিক নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই যান চলাচল করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।