কাপ্তাইয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ একজন আটক

কাপ্তাই প্রতিনিধি:

কাপ্তাই থানা পুলিশ কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চন্দ্রঘোনা, রাঙ্গুনিয়া এলাকা হতে মাদক নিয়ে আসার পথে কাপ্তাই থানার এএসআই কামরুল ইসলাম, স্বপন ফোর্সসহ কতুব উদ্দিন (মঙ্গল) সাংব্যাঙছড়ি, কাপ্তাই, নামের এক যুবকে ১৩পিস ইয়াবা এবং আট পোটলা গাঁজাসহ শনিবার রাতে বড়ইছড়ি এলাকায় আটক করা হয়।

থানা পুলিশ জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রোববার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।




মাটিরাঙ্গায় এলজি ও ভারতীয় রুপি উদ্ধার করেছে পলাশপুর বিজিবি

23.04.2017_Arms Recover NEWS Pic

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

খাগড়াছড়ির  মাটিরাঙ্গা উপজেলার দুর্গম বেদান্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় তৈরি একটি এলজি (বডিতে মেউড ইন চায়না লিখা) ও ভারতীয় রুপি উদ্ধার করেছে বিজিবি সদস্যরা। এসময় দুই বোতল ভারতীয় মদ ও চাঁদা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাত পৌঁনে ১২টার দিকে বিজিবি জওয়ানরা অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করে।

পলাশপুর জোন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ’র স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজির জন্য বেদান্তপাড়ায় সংঘবদ্ধ হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গার পলাশপুর জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. খালিদ আহমেদ’র নেতৃত্বে বিজিবির একটি সি-টাইফ টহলদল একটি পরিত্যাক্ত ঘর থেকে এলজিসহ এসব উদ্ধার করে।

জানা গেছে, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়। এসময় তাদেরকে অনুসরণ করা হলেও দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়ার কারণে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধারকৃত এলজি, ভারতীয় রুপি ও চাঁদা আদায়ের রশিদ মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছেন মাটিরাঙ্গার পলাশপুর জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. খালিদ আহমেদ।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইউপিডিএফ’র স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আনাগোনায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। অস্ত্র ও ভারতীয় রুপি উদ্ধারের পর গোকুলমনিপাড়া ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হলে এ দুর্গম জনপদে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা আরও বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় গোকুলমনিপাড়া ক্যাম্প প্রত্যাহার না করে জননিরাপত্তার স্বার্থে আরও একাধিক ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।




বালুখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে হত্যা মামলার আসামীকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

Pic Ukhiya- (21.04

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিতে ভুলু হত্যা মামলার প্রধান আসামী, ইয়াবার গডফাদার ও ডজন মামলার আসামী জামায়াত ক্যাডার আকবর আহমদকে শিক্ষানুরাগী পদে অন্তর্ভুক্ত করায় বিদ্যালয়ের সচেতন অভিভাবক, সুশিলসমাজ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টিসহ মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী নানা বিতর্কিত ও ইয়াবার সাথে জড়িত আকবর আহমদকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, উখিয়া উপজেলার বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষানুরাগী পদে এক জনসচেতন সম্মানিত ব্যক্তি, শিক্ষিত এবং শিক্ষার জন্য নিবেদিত এমন সর্বজন গ্রহণ যোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলী রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল ম্যানেজিং কমিটির এক সভায় নানা আলোচিত ও সমালোচিত এবং হত্যা মামলার আসামী আকবর আহমদকে শিক্ষানুরাগী পদে অন্তর্ভুক্তি করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি হেলাল উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ইয়াবার গডফাদার ও জামায়াত ক্যাডার আকবর আহমদকে কমিটিতে শিক্ষানুরাগী না রাখার জন্য তিনি জোরালো প্রতিবাদ করলেও অদৃশ্যের কারণে তাকে রাখা হয়। তার মতে এলাকার যোগ্যতা সম্পন্ন লোক থাকার পরও একজন অশিক্ষিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা ঠিক হয়নি।

এদিকে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় সীমান্তে ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রক আকবর আহমদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকপাচার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও কাঠ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে উখিয়া থানা এবং কক্সবাজার আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। উখিয়া থানার মামলা নং যথাক্রমে- ৮ তারিখ-১৪/০২/২০১৬ইং ধারা ৩০২/ ২০১/ ৩৪/ ৫০(১) দবি ৩৩ তারিখ-২৮/০৬/২০১৫ইং, জিআর ২২৫/১৫। ১৫ তারিখ-১৩/ ০৬/ ২০১৫ইং,  জিআর ২০৭/১৫ইং। ১৮ তারিখ-১৫/০৬/২০১৫ ইং, জিআর ২১০/১৫ ইং। ১৯ তারিখ ২৫/০৫/২০১১ জিআর ১১৫/১১ইং। পিওআর নং-১১ইং। ১৪ তারিখ-২৪/০১/২০১৬ ইং, জিআর-১৪/১৬ ইং। ধারা ৩৪১/৫০৬(২) ৩০৭/২৬১/৩২৪/৩২৩/১৪৯/১৪৮/১৪৭ দবি।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মনিরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও মাদক মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সে লক্ষে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষানুরাগী পদে একজন মাদকের গড়ফাদার এবং অসংখ্য মামলার আসামীকে অন্তর্ভূক্ত করা জাতীর জন্য লজ্জাজনক। স্থানীয় সাবেক মেম্বার আলী আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিতর্কিত জামায়াত ক্যাডার আকবর আহমদকে কমিটিতে রাখায় সাধারণ জনগণ ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুজ সেন জানান, আকবর আহমদকে শিক্ষানুরাগী হিসাবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা আমার কোন হাত ছিলনা। এটা কেবল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ক্রমে তা অনুমোদন হয়। সচেতন অভিভাবক মহল অবিলম্বে হত্যা মামলার আসামী ইয়াবার গডফাদারকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ।ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।




কুতুবদিয়ায় বিষপানে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যার চেষ্টা

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক কলেজ ছাত্র। শুক্রবার উপজেলার দক্ষিণ ধূরুং আলী ফকির ডেইল গ্রামে বিষপানের ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আলী ফকির ডেইল গ্রামের আশরফ আলীর কলেজ পড়–য়া পুত্র দিদার (১৯) পারিবারিক কলহের জেরে বিষপান করে। টের পেয়ে বাড়ির লোকজনেরা দিদারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ সময় জরুরী বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়।

 অতিরিক্ত বিষপান করায় তাকে রেফার করা হয় বলেও হাসপাতাল সূত্র জানায়। দিদার চট্টগ্রামে একটি কলেজে পড়া-শোনা করে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দীন জানান।




লামায় জেএসএস’র সশস্ত্র হামলায় আহত ৪

হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবানের লামার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম ডলুঝিরি এলাকায় চাঁদা না পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেএসএস এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ৪ জন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীকে মারধর করেছে।

সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় আহতরা হলেন, ইউনিয়নের অংহ্লা পাড়া এলাকার প্রদীপ বড়ুয়া (৩৬), দরদরী মাঝের বড়ুয়া পাড়ার মনোরঞ্জন বড়ুয়া (৩২), রুপসীপাড়া বাজারের মো. জসিম (৩১) ও মোহাম্মদপুর পাড়ার মো. মাহাবুব (৩৩)। গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার নেয়া হয়েছে।

আহত মো. মাহাবুব জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ২ টার দিকে চাঁদা না দেয়ায় জেএসএস অস্ত্রধারী ৬ জনের একটি গ্রুপ ডলুঝিরি এলাকায় তাদের আটক করে বেদড়ক ও কিলঘুসিসহ মারধর করে। সন্ত্রাসীদের ভারী অস্ত্রের আঘাতে প্রদীপ বড়ুয়া ও মো. জসিমকে হাত পা ভেঙে যায়।

সূত্র জানায়, ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে আগে থেকে অবস্থান নেয় এবং ৬ জন অস্ত্রধারী ব্যবসায়ীদের ক্রয় করা কলা, বাঁশ কেটে নষ্ট করে। এবং চাঁদা না দেয়ায় তাদের মারধর করে।

লামা-আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার বলেন, ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা জোন থেকে আরেকটি সেনা টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।




চকরিয়ায় হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

চকরিয়া প্রতিনিধি :
চকরিয়ায় পুলিশের অভিযানে রুহুল আমিন (৩৭) নামে হত্যা মামলার এক পালাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০ এপ্রিল ভোররাত ৪টার দিকে চকরিয়া পৌরসভা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেশন পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।ধৃত আসামী চকরিয়া থানার হত্যা মামলা নং-২২/২০১১ এর পালাতক আসামী। এবং স্টেশন পাড়া এলাকার মৃত রশিদ আহাম্মদের পুত্র।

পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার উপপরিদর্শক (এস আই) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ধৃত আসামী তার বাড়িতে অবস্থান নেয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। মামলা পরোয়ানাভুক্ত হওয়ার পর সে দীর্ঘদিন ধরে পালাতক ছিল।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, পারিবারিক জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০১১ সনে ছিদ্দিক আহমদের পুত্র আবুল হোসেনকে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় এজাহার নামীয় পরোয়ানাভুক্ত আসামী রুহুল আমিনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।




রাঙামাটিতে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

ইয়াবা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাঙামাটি শহর থেকে পুলিশ এক হাজার ৪০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের রিজার্ভ বাজার ও বনরূপা বাজারে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বেলাল ও সাদ্দাম হোসেন নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনরূপা এলাকায় পুলিশের টিএসআই মজিবুর রহমান সাদ্দাম নামের এক মোটর সাইকেল আরোহীকে থামিয়ে তার শরীরে তল্লাশি চালিয়ে কোমরে বাধা অবস্থায় আনুমানিক এক হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করেন।

অপরদিকে শহরের রিজার্ভ বাজারস্থ মসজিদ কলোনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ি বেলাল হোসেন (২৫) কে আটক করেছেন কতোয়ালী থানার এএসআই আসাদ ও তার সহকর্মী কনস্টেবল বাপ্পী। এসময় বেলালের পকেট থেকে ৪০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। আটককৃতদের নামে মাদক-দ্রব্য আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।




রামগড় বাজারে বনানী টেলিকমে তালা ভেঙ্গে নগদ অর্থসহ ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি

unnamed copy

রামগড় প্রতিনিধি:

রামগড় বাজারের উপকন্ঠে মোবাইল ফোন সামগ্রীর বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বনানী টেলিকমে ১৯ এপ্রিল রাতে দুঃসাহসিক চুরি সংগঠিত হয়েছে। চোরেরা নগদ টাকাসহ ১০ লক্ষাধিক টাকার মোবাইল সেট ও রিচার্জ কার্ডসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে চোরেরা বনানী টেলিকমের সাটারের শক্তিশালী তালা ভেঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ঢুকে। তারা ক্যাশ বক্সে রাখা নগদ টাকা এবং স্মার্ট ফোন সেট ও মোবাইল রিচার্জ কার্ডসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। চোরেরা চুরি করে যাওয়ার সময় সাটারে নতুন একটি তালা লাগিয়ে দেয়।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মঈন উদ্দিন সোহেল বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠান খুলতে এসে দেখেন সাটারে নতুন একটি তালা লাগানো। পরে তালাটি ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দেখেন ক্যাশ বক্সে রাখা নগদ ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯৭০ টাকা এবং শোকেস থেকে এক লক্ষ ৮৩ হাজার ২৮০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ব্রান্ডের দামী স্মার্ট মোবাইল ফোন সেট, দুই লক্ষ ৯০ হাজার ৯০০ টাকার মোবাইলের রিচার্জ কার্ড ও প্রায় ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের জিপি মডেম, পেনড্রাইব, হেডফোন, মেমরি কার্ড ইত্যাদি চুরি করে নিয়ে গেছে।

এসময় চোরদের ফেলে যাওয়া দুটি কাপড়ের শপিং ব্যাগ পাওয়া যায়। এদিকে বাজারের প্রাণ কেন্দ্রে পুলিশ বক্সের অদূরে প্রধান সড়কের পাশের এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ীসহ লোকজন খোঁজখবর নিতে ছুটে আসেন।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বাজারে পুলিশ ও নৈশ প্রহরীদের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে চুরির ঘটনার খবর পেয়ে রামগড় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আনোয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন। আলামত হিসেবে চোরের ফেলে যাওয়া ব্যাগ, তালা ইত্যাদি জব্দ করেছে পুলিশ।

এসআই আনোয়ার বলেন, পরিকল্পিতভাবে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এ চুরির ঘটনায় জড়িতদের ধরতে তৎপরতা শুরু করেছে। বনানী টেলিকমের পরিচালক মো. মঈন উদ্দিন সোহেল বলেন, চুরির ঘটনায় মামলা রুজুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।




লামায় সন্ত্রাসী হামলায় টাকা লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ক্যাম্প বাজার এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের হামলায় শিশু ও নারীসহ একই পরিবারের ৪জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, এক বছর বয়সী শিশু খালিদ সাইফুল্লাহ, সালমা আক্তার (২৫), মোখলেছুর রহমান (১৭) ও বাবুল মৃধা (৫৫)।

এসময় সন্ত্রাসীরা বসতবাড়ি ও দোকান থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যায়।  রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ক্যাম্প বাজার ছারোয়ার পাড়ার সালমা আক্তারের বাড়িতে ১৫/২০জনের সন্ত্রাসীরা ছিনতাই ও লুট করতে হামলা চালায়। সালমা আক্তার হামলাকারীদের চিনতে পেরে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। লুট ও ছিনতাই কাজে ব্যর্থ হয়ে একই সন্ত্রাসীরা মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় পুনরায় হামলা চালায়।

সালমা আক্তারের পিতা বাবুল মৃধা জানায়, আমি লাকড়ি ব্যবসা করি। মঙ্গলবার কয়েকটি ব্রিকফিল্ডে লাকড়ি বিক্রয় করে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাই। এ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় ক্যাম্প বাজার আসলে সন্ত্রাসীরা আমার উপর হামলা চালায় এবং আমাকে মারধর করে টাকা নিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা আমার মেয়ের বাড়িতে গিয়ে মেয়ে ও নাতিকে মারধর করে। ঘটনাটি আমার মেয়ের দেবর আল মামুন মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারন করতে গেলে তারা তাকে মারধর করে।

অভিযোগে হামলাকারীরা হল, ক্যাম্প বাজার ও চিউনী পাড়া এলাকার মো. সিরাজ (৫২) রমজান আলী (২৮), ছিদ্দিক মাষ্টার (৫৫) এর হুকুমে শহীদুল ইসলাম (২৮), জাহাঙ্গীর (২৭), জয়নাল আবেদীন (৪৫), জাকির হোসেন (৩৫), ওবাইদুল ইসলাম (৩২), জাহেদুল ইসলাম ((৩০), শফিকুল ইসলাম (২৫), হাসেম আলী (৪৫), রফিকুল ইসলাম (২৮), মো. জয়নাল আবেদীন (২৩), মো. ইউনুছ (২৬) ও আব্দুল ছোবাহান (৩৮) সহ আরও অজ্ঞাত ৪/৫জন এ হামলা চালায়।

আল মামুন বলেন, তারা আমাকে মেরে আমার দোকান থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা ও ১২টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ ৯ হাজার টাকা। এসময় তারা দোকানের ফার্নিচার ও কম্পিউটার ভাংচুর করে ৬৭ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। আমার ভাই মোখলেচুর রহমান বাঁধা দিলে তাকেও মারধর করে।

এ বিষয়ে আজিজনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ৯ এপ্রিল ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে ১৯ এপ্রিল বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু তার আগে মঙ্গলবার অভিযুক্তরা আবার নতুন ঘটনা ঘটায়।

আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাম্প কমান্ডার লিয়াকত হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের আইনী প্রতিকারের জন্য লামা থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।




উখিয়ায় দুর্নীতি মামলার আসামি সাবেক মেম্বার ভুট্টো কারাগারে

Pic Ukhiya 19-04-2017 copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে কর্মসৃজনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ওয়ারেন্ট আসামি বহুল আলোচিত সমালোচিত সাবেক মেম্বার ফজল কাদের ভুট্টো অবশেষে কারাগারে। চট্টগ্রামস্থ দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়েরকৃত মামলার অন্যতম আসামি পালংখালী ইউনিয়নের ফজল কাদের ভুট্টো বুধবার কক্সবাজার আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন বলেও আদালত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে বহুল আলোচিত ১৭টি মামলার আসামি সাবেক মেম্বার ফজল কাদের ভুট্টোকে কারাগারে প্রেরণ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বালুখালী এলাকার সাধারণ মানুষের স্বস্তির নিশ্বাস ফিরে পায়। গ্রামবাসীর অভিমত ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ফজল কাদের ভুট্টো ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

উখিয়া থানায় দুদকের দায়েরকৃত মামলা নং-১৩,১৪,১৫,১৬,১৭, ১৮ ও ১৯, তারিখ: ১৩ জুন ২০১৫, ২০১২-২০১৩ ও ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে দু’দফায় উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের তৎকালীন সময়ে উখিয়ায় দায়িত্বরত পিআইও শফিউল আলম শাকিবসহ অন্যান্যরা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়ে ৪ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ও নন কষ্ট হাতে ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে মর্মে তৎকালীন উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিকদার বাদী হয়ে চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনে পৃথক দুটি অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফি উল্লাহর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্তকারীদল তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৩ জুন চট্টগ্রামস্থ দুদকের উপ-পরিচালক মো. শফি উল্লাহ বাদী হয়ে তৎকালীন উখিয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল আলম শাকিব, অফিস সহকারী জামাল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন, ইউআরসি অফিসার অশোক কুমার আশ্চার্য্য, সাবেক ইউপি সদস্য ফজল কাদের ভুট্টো, আব্দু শুক্কুর, শেখ হাবিবুর রহমান, আবু তাহের, মোর্শেদ আলম ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল করিমসহ ১০জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় পৃথক ৭টি মামলা দায়ের করেন।

এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে দুদকের উপ-পরিচালক মো. শফি উল্লাহর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, ফজল কাদের ভূট্টোসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছিল কিন্তু আত্মগোপনে থাকায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।