পেকুয়ায় মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় করার দায়ে অর্থ দন্ড

পেকুয়া প্রতিবিধি:
পেকুয়া উপজেলার সদরের চৌমুহুনী এলাকায় মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার ও ভেজাল পণ্য বিক্রয় করার দায়ে দু দোকানে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়াও চৌমুহনী স্টশনে রাস্তার উপর গাড়ী পার্কিং করে যানযট সৃষ্টি করার দায়ে তিনটি সি এন জি অটোট্রেক্সীকে ৯ শত টাকা করে জরিমানা করা হয়।

২৬ জুলাই দুপুর দেড়টায় উপজেলার কলেজ গেইট চৌমুহনী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালমা ফেরদৌস। এ সময় অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া থানার এস আই বিপুল, এস আই ফরহাদ, উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর প্রধান সহকারী সামশুল হুদা ছিদ্দিকী।

অভিযানে মধুবন পেকুয়া শাখা কে মেয়াদ উত্তীর্ণ পন্য বিক্রয় করার দায়ে ৫ হাজার টাকা, নিম্নমানের সয়াবিন তৈল বিক্রয় করার দায়ে ভাই ভাই স্টোর নামে এক মুদির দোকানকে ১০ হাজার টাকা। এসময় দোকানের ৩০ লিটার নিম্নমানের সয়াবিন তৈল এবং মধুবনের মেয়াদ উত্তীর্ণ দই, কেকসহ নানা ধরণের খাদ্যপন্য ধবংস করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালমা ফেরদৌস এ প্রতিবেদককে জানান ভেজালরোধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে একই সাথে যানযট নিরসনের উদ্যোগ ও নেওয়া হয়েছে।




খাগড়াছড়িতে ইয়াবা সহ একজন আটক 

 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি সদরের গোলাবাড়ির টিটিসি মোর এলাকা থেকে ২৪ পিস ইয়াবা সহ ইয়াবা ব্যবসায়ী একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধা সাড়ে ৬টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সহ একজনকে আটক করে।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী হলেন গোলাবাড়ি এলাকার থৈয়ংগ্য মারমার ছেলে থইলা মারমা প্রকাশ ( জসিম)। জানা গেছে থইলা মারমা স্থানীয় মারমা ঐক্যপরিষদ ক্লাবে জুয়া বোর্ড পরিচালনা করেন।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, সংবাদ পেয়ে এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সহ থইলাকে টিটিসির মোর থেকে আটক করে। সে দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসার সাথে জরিত বলেও জানিয়েছেন তিনি।




চকরিয়ায় ভোররাতে মার্কেটে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গা আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের কয়েকটি দোকান দখলে নিতে সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে মার্কেট মালিক ও তার ভাইদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। তবে সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে প্রাণে বেঁচে যান তারা।

এ ঘটনায় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের মালিক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি চক্র তাদের মার্কেটের কয়েকটি দোকান দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে অন্য মার্কেটের ভেতর দিয়ে এসে আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের একটি গলির দেওয়াল বড় বড় হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। এ খবর পেয়ে ছুটে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিক থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

আনোয়ার হোছাইন দাবি করেন, পৌরসভার সমশের পাড়ার আবদুল গফুরের নেতৃত্বে, শাহ আলম, আরিফুল ইসলাম মনিয়াসহ অন্তত ৩০জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই তাণ্ডব ও ফাঁকা গুলি করে।

আবদুল গফুর দাবি করেছেন, তার মার্কেটের গলির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় দেওয়ালটি ভাঙা হয়েছে। এ সময় তারা কোন গুলি করেন নি।

পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল করিমও গুলির করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানার ওসিকে বলেছি।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হবে।




টেকনাফে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)। তবে এসময় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।

২৫ জুলাই রাতে সাবরাং ইউপির কাটাবনিয়া কবরস্থান এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের সময় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

এব্যাপারে টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তির মাধ্যমে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিছু দুস্কৃতিকারী, সন্ত্রাসী ঐ এলাকায় দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় করবে।

এমন সংবাদে নাজিরপাড়া বিওপির হাবিলদার মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঐ স্থানে অবস্থান  নেয়। এসময় দুই ব্যক্তিকে একটি ব্যাগ হাতে আসতে দেখে সন্দেহ হওয়ায় চ্যালেঞ্জ করে। এমতাবস্থায় অস্ত্র পাচারকারীদ্বয় তাদের হাতে থাকা ব্যাগটি ফেলে পালিয়ে যায়।

এসময় দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও কার্তুজ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




চকরিয়ায় ইভটিজিংয়ে বাঁধা দেওয়ায় বখাটে সন্ত্রাসীর হামলা: ছাত্রীসহ আহত-৪

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ে বাধা দেওয়ার কারণে বখাটে সন্ত্রাসীদের হামলায় একই পরিবারের ৪জন সদস্য আহত হয়েছে। সোমবার উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের মধ্যমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মধ্যমপাড়া গ্রামের নুর খাঁনের অপ্রাপ্ত মেয়ে স্থানীয় সাহারবিল বিএমএস হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করেন। ওই ছাত্রী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া আসার পথে একই এলাকার শামসুল আলমের বখাটে ছেলে মো. তারেক ৬মাস ধরে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও ইভটিজিং করে আসছে।

সোমবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় বখাটে ছেলে তারেক অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও চরিতার্থ করার চেষ্টা করলে ওই ছাত্রীর চিৎকারে পথচারী লোকজন ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ছাত্রী দৌঁড়ে নিজেকে আত্মরক্ষা করেন।

পরিবারের লোকজন ঘটনাটি জানার পর প্রতিবাদ করলে ও স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে উল্টো নানাভাবে হুমকি দেন অভিযুক্ত বখাটে ও তার সহযোগীরা। এরই জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত বখাটে ও সহযোগীরা মিলে ছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। এসময় তারা কুপিয়ে ও মারধর করে ছাত্রীসহ ৪জনকে গুরুতর জখম করেন।

আক্রান্ত পরিবার সদস্য ও ছাত্রীর পিতা নুরখাঁন জানান, তার স্ত্রী রহিমা বেগমকে(৪০) উদ্ধার করতে তার চাচা নাজেম উদ্দিন (৬০) এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে হামলাকারীরা।এসময় বাঁধা দিতে গেলে ছাত্রীর চাচী বুলবুল জন্নাত(৩৫)কে বেদম প্রহার করা হয়। এনিয়ে ইভটিজারের শিকার ছাত্রী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় বখাটের হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




চকরিয়ায় বনবিভাগের অভিযান, বিপুল পরিমাণ গাছ জব্ধ

চকরিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের অধীনস্থ দক্ষিণ বনবিভাগের রিংভং বনবিট এলাকার আওতাধীন উচিতারবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কটি কর্তনকৃত গর্জন গাছ জব্ধ করা হয়েছে।

২২ জুলাই সকালে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বনসংরক্ষক মো.ইউসুফ, সহকারী বনসংরক্ষক মো.বেলায়েত হোসেন বনকর্মীদের সাথে নিয়ে এ অভিযান চালায়।

অপরদিকে চকরিয়া নলবিলা বনবিট কর্মকর্তা মো. আকরাম আলী ফরেষ্টার জানান, তার বিটের আওতাধীন শিয়াল্যামোড়া এলাকায় বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে মূল্যমানের মাদার ট্রি কর্তনকৃত ৭৬ ঘনফুট গাছ জব্ধ করা হয়েছে। জব্ধকৃত ৭৬ঘনফুট গাছ গুলি বিটে নিয়ে যান বনকর্মীরা।

উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.আবদুল মতিন অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,অবৈধ কাঠচোর জড়িতদের বিরুদ্ধে বনবিভাগের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।##




চকরিয়ায় পাহাড় কেটে চলছে অবৈধ বসতি নির্মাণ


চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়ায় বরইতলী বন বিটের অধীনে ছেমছড়ি পাড়া এলাকায় পাহাড় কেটে চলছে অবৈধ বসতি নির্মাণ। প্রকাশ্যে চলছে বন বিভাগের পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি নির্মাণের মহোৎসব। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জের আওতায় বরইতলী বানিয়ারছড়া বন বিটের মালিকানাধীন ছেমছড়ি পাড়ায় একাধিক পাহাড় জবর দখলে নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীচক্র সহযোগীতায় দীর্ঘদিন ধরে দাপট দেখিয়ে পাহাড় কেটে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার কাজ। বন বিভাগের কতিপয় লোকজন গোপনে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এ ব্যাপারে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থার কারণে পাহাড় দখল ও কাটার সাথে জড়িতরা উৎসাহিত হচ্ছে। বন বিভাগের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও এ ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চুপ রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার সচেতনমহল।

অনুসন্ধানে জানাগেছে,দুয়েক মাস আগে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বে উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদে শুরু হয়েছে নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি ও সমতল জায়গা বানিয়ে সেখানে অবৈধ বসতি নির্মাণের হিড়িক।সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী লোকজন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা কর্মীদের ম্যানেজ করে এ সব বসতি নির্মাণে ও পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে সুত্রে জানায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী বনবিটের অধীন ছেমছড়ি পাড়ায় চলছে পাহাড় কেটে সমতল জায়গা তৈরি করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক।বরইতলী ইউনিয়নের ছেমছড়ি পাড়ায় স্থানীয় রেপাতী দত্তের পুত্র টুনটুন,বীরেন্দ্র দে’র পুত্র বসন দে ও চান মোহনের পুত্র চন্দন বন বিভাগের পাহাড় কর্তন করে তৈরি করছে বসতি নির্মাণ।তবে স্থানীয় সচেতনমহল অভিযোগ করেন, স্থানীয় বনকর্মীরা গোপনে আর্থিক সুবিধা নিয়ে দখলবাজচক্রের লোকজনকে বনবিভাগের পাহাড় দখল ও কেটে মাটি লুটের জন্য সুযোগ দিচ্ছে।এ কারণে পাহাড়ের ভেতরে বেশিরভাগ এলাকা বর্তমান সমতল এলাকায় পরিণত হয়েছে। সেখানে গড়ে উঠছে নতুন নতুন অবৈধ জনবসতি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বরইতলী বনবিটের অধীন ছেমছড়ি পাড়া এলাকায় পাহাড়কেটে স্থাপনা নির্মাণ করার ঘটনাটি কেবল আপনার কাছেই জানলাম। সকালে ওইখানে বনবিটের বনকর্মীদের লোকজন পাঠিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।তিনি বলেন,পাহাড় কাটার ঘটনাটি অনুসন্ধানকরে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




রামগড়ে বনানী টেলিকমে চুরির মূল হোতা হাতকাটা হানিফ ৪ মাসেও ধরা পড়েনি

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় বাজারের উপকন্ঠে বনানী টেলিকম নামে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার প্রধান হোতা আন্তঃজেলা চোর সিন্ডিকেটের প্রধান হাতকাটা হানিফকে ৪ মাসেও ধরতে পারেনি পুলিশ। প্রতিষ্ঠানটির সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া তিন চোরের মধ্যে একজন গ্রেফতার হলেও প্রধান হোতাসহ অপরজন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এদিকে, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া চোরের ছবি এবং আটক হওয়া চোরের দেয়া জবানবন্দিতে সিন্ডিকেটের প্রধান হোতার নাম ঠিকানা পাওয়ার পরও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে না পারায় ব্যবসায়ীদে মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জানা যায়, রামগড় বাজারের অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বনানী টেলিকমে গত ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে প্রতিষ্ঠানের সাটারের শক্ত তালা ভেঙ্গে দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা ও দামী মোবাইল ফোন সেট, মোবাইল রিচার্জ কার্ডসহ ১০ লক্ষাধিক টাকার  বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।

এঘটনায় ২০ এপ্রিল রামগড় থানায় একটি মামলা রুজু হয়। পুলিশ ২৭ এপ্রিল এরশাদুল হাসান (২৫)  ও লিয়াকত হোসেন (২৪) নামে দুজনকে গ্রেফতার করে। এদের কাছ থেকে পুলিশ বনানী টেলিকমের চুরি যাওয়া মোবাইন ফোন সেটের মধ্যে দুটি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করে।

গ্রেফতারকৃতরা আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে নিজেদের আন্তঃজেলা চোর সিন্ডিকেট দলের সদস্য বলে স্বীকার করে জানায়, তাদের সিন্ডিকেটের মূল হোতার নাম হানিফ ওরফে হাতকাটা হানিফ। তার বাড়ি কুমিল্লায়। তার ডান হাত কাটা।

প্রতিষ্ঠানটির সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে সিন্ডিকেটের প্রধান হাতকাটা হানিফসহ অপরজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতারকৃতরা। ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার পরও পুলিশ ৪ মাসেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সুজা উদ দৌলা জানান, হানিফকে ধরতে জোর চেস্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গত ১৫ জুলাই  আলোচিত চুরির মামলায় চট্টগ্রাম কারাগার হতে সিডব্লিও মূলে আনিস (২০) ও আকাশ ওরফে মাইকেল (২২) নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এদেরমধ্যে আনিস চুরির ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।




মানিকছড়িতে ইভটিজিং মামলার আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ


মানিকছড়ি প্রতিনিধি:
মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ইভটিজিং করার অপরাধে মামলা দায়ের করেছে ওই ছাত্রীর অভিভাবক। ফলে পুলিশ বখাটে যুবককে গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মরাডলু গ্রামের মো. খোরশেদ আলম এর কন্যা মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

প্রতি দিনের ন্যায় গত ২০ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় স্কুলে আসার পথে পুরাতন উপজেলা এলাকায় বখাটে যুবক মো. নুরুল আবছার প্রকাশ রিপন(৩০, পিতা মো. রফিক মিয়া সওদাগর, সাং- বড়ডলু ডেপুয়া মুসলিমপাড়া,মানিকছড়ি ওই শিক্ষার্থীর গতিরোধ করে তাকে উত্ত্যক্ত(ইভটিজিং)করে।

এ ঘটনায় ছাত্রীর সহপাঠিরা প্রতিবাদ করেও ব্যর্থ হয়। ফলে ছাত্রীদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ওই বখাটে যুবককে গণধোলাই দেয়। এতে সে আহত হয়।

পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত বখাটে যুবককে উদ্ধার হাসপাতালে নেয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। রাতে ইভটিজিং এর শিকার ছাত্রীর পিতা মো. খোরশেদ আলম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী ২০০৩ এর ১০ ধারায় মামলা রজু করেন। মামলা নং- ৪ তারিখ: ২১.০৭.১৭ খ্রি.।

থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এস.আই গৌতম চন্দ্র দে জানান, ঘটনার পর পর পুলিশ বখাটে যুবককে আটক করেছে। কিন্তু জনৈক মেম্বারদ্বয় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসায় ব্যর্থ হওয়ায় ভিকটিম রাতে থানায় আসলে পুলিশ মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং আজ (২১ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী ২০০৩ এর ১০ ধারায় মামলা রজু করে অভিযুক্তকে জেল-হাজতে প্রেরণ করেন।




বিষ দিয়ে কাউখালীর সামিয়া ডেইরি ফার্মের ৮ গরু মেরে ফেলেছে দুষ্কৃতকারীরা আরো অসুস্থ ১৪

কাউখালী প্রতিনিধি:

রাঙামাটির কাউখালীতে সামিয়া ডেইরি ফার্মে খাবারের সাথে দূষ্কৃতিকারীদের দেয়া বিষে ৮ গরুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আরো ১৪টি গরু। ১৯ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যা সাতটা থেকে আটটা এ অল্প সময়ের মধ্যেই পর পর আটটি গরু মারা যায় বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. নজরুল ইসলাম তাজল। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম বিষ প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এব্যাপারে কাউখালী থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছে প্রতিষ্ঠানের মালিক।

উপজেলার নাইল্যাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা সামিয়া ডেইরি ফার্মের মালিক মো. নজরুল ইসলাম তাজল (২৫) জানান, ইচ্ছা ছিল বিদেশ যাওয়ার। কিন্তু প্রবাসী ভাইয়ের অনুরোধে আর বিদেশ যাওয়া হয়নি। মোটা তাজা করণ ও দুগ্ধজাত গরুর ফার্মের জন্য ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক কাউখালী শাখা হতে ১৬ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এ তরুন ফার্মার। পরিবারের সহযোগিতা ও ব্যাংক ঋণ সব মিলয়ে তার এ ফার্মে পূঁজি বিনিয়োগ করেন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশি বিদেশি মিলে তার ফার্মে ২২টি গরু ছিল। ফার্মের বাইরে বিভিন্ন স্থানে বর্গা দিয়েছেন প্রায় ১০/১২টি গরু। রাতদিন খাটা খাটনির মাধ্যমে নিজের চোখের সামনেই বেড়ে উঠতে থাকে এসব গরু। আসছে ঈদুল আযহায় গরু বিক্রি করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু ১৯ জুলাই নজরুলের সবকিছু তছনছ করে দিল দুষ্কৃতিকারীরা। আসরের নামাজের পর ফার্মের গরুর জন্য খাবার প্রস্তুত করে গরুর সামনে দিয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যায় নজরুল। এরই মধ্যে কোন এক ফাঁকে অজ্ঞাত দূষ্কৃতিকারী ফার্মে থাকা গরুগুলো খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। বিষাক্ত খাবার খেয়ে গরুগুলো ছটফট করতে থাকে। নামাজ শেষে নজরুল ফার্মে এসে দেখেন ২২টি গরুর মধ্যে ৮টি গরুই মাটিতে লুটে পড়ে ছটফট করছে। অবশিষ্ট গরুগুলোও বিষক্রিয়া আক্রান্ত হয়ে ছটফট করছে।

একটু আগেই যে গরুগুলো সুস্থ্য ও স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করছিল তার চোখের সামনেই কাটা কবুতরের মত ছটফট করতে দেখে নিজেই হুশ হারিয়ে ফেলেন নজরুল। শেষমেষ কাউখালী প্রাণীসম্পদ অফিসে খবর দেন তিনি। প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম প্রায় দু’ঘন্টা পরে ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু তিনি যাওয়ার আগেই আটটি গরুই মারা যায়। যার বাজার মুল্য ৮ থেকে ১০ লক্ষ হবে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক। এর আগে স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক ধনপতি সরকারকে দিয়ে গরুগুলো বাঁচাতে প্রাণপন চেষ্টা করেন নজরুল। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

ধনপতি সরকার জানান, দীর্ঘ প্রায় বিশ বছর ধরে অবলা প্রাণী নিয়ে কাজ করছি। অনেক গরু ছাগল আমার সামনে মারা গেছে কিন্তু কোন দিন এত খারাপ লাগেনি। কিন্তু এক সাথে এতগুলো আমার সামনে মারা যেতে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।

পরিশ্রমী, নম্র, ভদ্র নজরুলে গরু মারা যাওয়ার খবর শুনে হাজার খানেক মানুষ ছুটে আসে তার ফার্মে। এসময় নজরুলে পাশাপাশি শত শত মানুষকে বিলাপ ধরে কাঁদতে শুরু করে। এলাকাবাসীর দাবি যেসব নরপশু দল এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের উপযুক্ত বিচার করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল জানান, আমার সাথে কারো ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু আমার নিরীহ প্রাণীগুলো কি দোষ করেছে। আমি কারো কাছে বিচার প্রার্থী হবোনা, এর বিচার আমি আল্লাহর দরবারে দিলাম।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম জানান, আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ৮টি গরু মারা যায়। অবশিষ্ট ১৪টি গরুও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব গুরুগুলোকে ইনজেকশনের মাধ্যমে বিষমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে বিষ গরুর রক্তের সাথে মিশে যাওয়ায় বেঁচে থাকা গরুগুলোর অবস্থাও আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছেনা।

কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কাউখালী থানায় মামলা রুজু করেছে বাদী নজরুল ইসলাম। তদন্তস্বাপেক্ষে আসামিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।