নাইক্ষ্যংছড়িতে পলিথিন ব্যাগ মজুদ ও পাহাড় কর্তন পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে সাড়ে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড

বাইশারী প্রতিনিধি:

নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ মজুদ রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারে চার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ পলিথিন ব্যাগ জব্দ করা হয়। অপর অভিযানে পাহাড় কাটার দায়ে চার ব্যক্তির নাম সংগ্রহসহ একটি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাবকে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল।

এসময় নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল হক সওদাগরকে ১ লাখ, খায়রুল কবির মনু ১ লাখ, শাহজাহান ১ লাখ, বৃঞ্চ কুমার দাশ ৫০ হাজার এবং হাফেজ আহমদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২শ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদালত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, মজুদ এবং পাহাড় কাটায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ব্যবসায়ী পাড়া এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনায়ও  ভ্রাম্যমান অভিযান চালান নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও। ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শণে এসে মঙ্গলবার আরো বড় তিনটি পাহাড় কাটার অভিযোগ পান পরিবেশ অধিদপ্তর। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালন সাইফুল আশ্রাব।




নাইক্ষ্যংছড়িতে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ 

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার রাত ৩টায় উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের বাকঁখালী ছাগলখাইয়া এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহৃতরা হলো- ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. হোসন (৪০) ও ফজল করিমের ছেলে নুরুল আজিম (২৯)।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, প্রতিদিনের ন্যায় রাতে ঘুমিয়ে পড়ে হোসন ও নুরুল আজিম। রাত ৩টার দিকে ৮-১০জনের অস্ত্রধারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ওই দুই কৃষককে নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, অপহরণকারীরা এর আগে একই এলাকার নুরুল আমিনের বাড়ি থেকে ৫হাজার টাকা, নুরুল হাকিম থেকে কিছু স্বর্ণ এবং আবদুল মজিদের দোকান থেকে কয়েকটি পানির বোতল ও টাকাসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এএসএম তৌহিদ কবির জানান, অপহরণের খবর শুনে তিনি নিজেই সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অপহৃতদের উদ্ধারে সম্ভাব্য স্থানে পুলিশ দল অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি ছাগলখাইয়া, বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরাও অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযানে নামেন।  এই রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত অপহৃতদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং কোন ধরনের খোঁজখবর বা মুক্তিপণের খবরও পাওয়া যায়নি।




জেএসএস সন্ত্রাসীদের চাঁদা না দেওয়ায় কাপ্তাইয়ে ৪ জেলেকে পিটিয়ে যখম

কাপ্তাই প্রতিনিধি:

বাৎসরিক চাঁদা ও অতিরিক্ত আড়াই হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় কাপ্তাই জেলে পাড়ার চার জেলেকে বেদম প্রহার করেছে জেএসএস সন্ত্রাসীরা।

প্রহৃত জেলারা হচ্ছেন জোনাকু চাকমা ও আর একজন সঙ্গীসহ জেলে প্রদীপ দাশ(২৫), চিত্তরঞ্জন দাশ(৪১), টিটু দাশ(২০) ও জতিন্দ্র দাশ(৩৫)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার (২০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে দশটায় কাপ্তাই হ্রদে জেলেরা মাছ ধরার জন্য জীপতলী ৯নং ওয়ার্ডের  পাশ্ববর্তী ভাইজ্যাতলী নামক স্থানে গেলে ব্রিজের পাশে শুভলাল চাকমার দোকানের সামনে থেকে জেলেদেরকে আটক করে সন্ত্রাসীরা।

আটকের পর তারা বাৎসরিক চাঁদা ও অতিরিক্ত আড়াই হাজার টাকার দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় চার জেলেকে ধরে বেদম প্রহার করে।

জেলেরা  ঘটনাটি প্রথমে কাপ্তাই ৪নং ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ এর নিকট মৌখিক ভাবে অভিযোগ করে।

পরে কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান আবার ঘটনাটি জীবতলী চেয়ারম্যানকে অবগত করেন বলে জানা যায়। বর্তমানে ওই চারজন জেলে চিকিৎসাধীন আছে।




পাসপোর্ট পেতে পুলিশ প্রতিবেদনে হয়রানি

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

পাসপোর্ট তৈরিতে পুলিশ ভেরিফাই (পুলিশ প্রতিবেদন) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে উঠে আসে আবেদনকারীর তথ্য। এতেই প্রকাশ পায় আবেদনকারী আদৌ পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য কিনা। আর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের দায়িত্বে থাকা অনেক পুলিশের হাতে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে আবদেনকারীরা। নানা অযুহাতে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে বাড়ছে ভোগান্তি। অনেকে আবার টাকা দিয়েও ঠিক সময়ে পাসপোর্ট পাচ্ছেনা।

এমনই এক ভুক্তভোগী যুবক হলেন, সদর উপজেলা পিএমখালী’র ঘাটকুলিয়া পাড়ার মৃত আব্দুর সালামের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (২২)।

তিনি জানান, তার বাবা-মা দুইজনই মারা গেছে। এক আত্বীয়ের সহযোগিতায় তার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে। তাই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে। গত ২৫ অক্টোবর ওই পাসপোর্টের (৫৪৬২) এর ডেলিভারি (প্রদান) দেওয়ার সময় ছিল। আর এই পাসপোর্টের পুলিশ প্রতিবেদনের দায়িত্ব পড়ে ডিএসবি এএসআই মো. হোসেনের হাতে। প্রতিবেদন নিয়ম অনুযায়ী গত ১৮ নভেম্বর রেজাউল হাসান নামে এক এএসআই মোহাম্মদ ইসলামইলের বাড়িতে যান। যাকে এএসআই মো. হোসেন পাঠিয়েছেন।

তিনি মোহাম্মদ ইসমাইলের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া শেষে ১৭ শত টাকা নেন। পরে গত ২৫ অক্টোবর ডেলিভারি তারিখ অনুযায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল ও তার ভাইয়ের ছেলে ফেরদৌস আলম পাসপোর্ট অফিসে যান। কিন্তু পুলিশের রিপোর্ট না যাওয়ার কারণে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে তারা এএসআই মো. হোসেনের সাথে দেখা করেন।

এসময় এএসআই মো. হোসেন মোহাম্মদ ইসমাইলকে জিজ্ঞেস করেন, এএসআই রেজাউল হাসানকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন ১৭ শত টাকা। আর জানতে চায় তার ভাগের টাকা কোথায়। মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন ‘ যিনি গিয়েছিল (এএসআই রেজাউল হাসান) তাকে তো টাকা দেওয়া হয়েছে। এ কথায় এএসআই হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, তার হিসাব তার সাথে আমারটা আমার। এসময় মোহাম্মদ হোসেনের পাশে থাকা একজন বলেন, এত কথা না বলে দেড় হাজার টাকা দাও। এএসআই মো. হোসেন বলেন, তোমার কাছে না থাকলে সাথে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়ে দাও। আর দেড় হাজার না থাকলে ১ হাজার টাকা হলেও দাও। পরে তার কাছে থাকা ৫০০ টাকা দেয়।

এরপর পাসপোর্টের খবরের জন্য ৪-৫ বার এএসআই মো. হোসেনের কাছে গিয়েছেন মোহাম্মদ ইসমাইল। আর তাকে বার বারই ফেরত পাঠিয়েছে নানা অযুহাতে।

সর্বশেষ সোমবার(২০ নভেম্বর) তিনি গেলে তাকে ধমক দিয়ে বলেন, এখানে বার বার আসো কেন। আর এই নাম্বারে ফোন কর কেন। জাননা এইটা সরকারি নাম্বার। আর এখানে আসবে না।

এরপরেও মোহাম্মদ ইসমাইল পাসপোর্টে’র ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তোমার বিরুদ্ধে মামলা আছে। মামলা তুলে নিয়ে আসো এরপর দেখা যাবে। পরে তিনি ওই এএসআই রেজাউল হাসানকে ফোন করেন। ফোনে রেজাউল হাসান বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন। এখন কথা বলতে পারবে না।

এ অবস্থায় আতঙ্কিত এবং হতাশায় ভুগছে বাবা-মা হারা মো. ইসমাইল। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকার পরেও কেন মামলা আছে বলা হচ্ছে। এছাড়া সবকিছু ঠিক থাকার পরেও কেন পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছেনা। যদিও তার পরে অনেকে আবেদন করে পাসপোর্ট পেয়ে গেছে।

ডিএসবি’র এএসআই রেজাউল হাসান বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ডিএসবি’র এএসআই মো. হোসেনের অনুরোধে পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য পিএম খালীর মোহাম্মদ ইসমাইলের কাছে তিনি গিয়েছিলেন। আর তথ্য নিয়ে এএসআই মো. হোসেনকে জমা দেন। ইসমাইলের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি পাশ কাটিয়ে যান। পরে জানান, ওই ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে ডিএসবি’র এএসআই মো. হোসেন জানান, পুলিশ ভেরিফাই বা পুলিশ প্রতিবেদনের কার্যক্রম পক্রিয়ায় মামলা থেকে শুরু করে নানা বিষয় খতিয়ে দেখতে হয়। তাই তার বিরুদ্ধে কোন মামলা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব কাজের জন্য একটু সময় লাগে। টাকা নেওয়া ও টাকা চাওয়ার ব্যাপারে কোন কথা বলেননি।

এ ব্যাপারে সাইফুর রহমান নামে এক সচেতন যুবক জানান, শুধু মোহাম্মদ ইসমাইল নয়। এই ধরনের আরো অনেকে রয়েছে যারা হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। কিন্তু তারা ভয়ে কিছু বলতে পারছেনা যদি পাসপোর্ট না পায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাতে করে আবেদনকারীরা যথাযথ সেবা পায়।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন জানান, এটি আইনগত অপরাধ। তাই কারো বিরুদ্ধে এই ধরনের কোন অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। আর ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




চকরিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৬৮০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৌরশহরে কাঁচা বাজারস্থ হক মার্কেট এলাকায় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৮০ কেজি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ পলিথিন রাখার দায়ে ওই সব দোকানকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২০ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ সাথে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র কাঁচা বাজার হক মার্কেট এলাকায় বেশ কয়েকটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ পলিথিন মজুদ রয়েছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ ছিল।

ফলে সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাণিজ্যিক হক মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বশির স্টোর, ইব্রাহিম স্টোর ও আমিন স্টোর নামে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ পলিথিন রাখার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তল্লাশী চালিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৮০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়।

তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে বশির স্টোরের মালিককে ৪০ হাজার টাকা, ইব্রাহিম স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা ও আমিন স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা নির্দেশ দেয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জরিমানাকৃত ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




পাহাড়ি দুই সংগঠনের চার গ্রুপের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পাহাড়ে নজিরবিহীন চাঁদাবাজির অপতৎপরতায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে চাঁদাবাজ গ্রুপের সদস্যদের নবতর সংযোজন ঘটেছে, যা শান্তিপ্রিয় অগণন পাহাড়ী-বাঙালী তথা পাহাড়বাসীর মাঝে ভয়ানক আতঙ্ক এবং উদ্বেগ উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। বছরের পর বছর এসব চাঁদাবাজ ক্যাডারদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে পাহাড়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশা ও ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা। এখন সময় এসেছে বেআইনী তৎপরতায় লিপ্ত শান্তি বিনষ্টকারী ওইসব চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কঠোরহস্তে দমন করার। নচেত আগামীতে পাহাড় হয়ে উঠতে পারে চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য, এ অভিমত শান্তিপ্রিয় পাহাড়ী-বাঙালী জনগোষ্ঠীর।

পাহাড়ে রাজনীতির ব্যানারে সক্রিয় রয়েছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। আগেই দ্বিখ-িত হয় জেএসএস। জেএসএস থেকে বেরিয়ে আসা একটি গ্রুপ করেছে জেএসএস-সংস্কার নামের আরেকটি সংগঠন। অপরদিকে, ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন ও তৎকালীন শান্তি বাহিনীর সশস্ত্র আত্মসমর্পণের দিন প্রকাশ্যে কালো পতাকা প্রদর্শন করে বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয় জেএসএসের একটি অংশ।

প্রসিত খীসার নেতৃত্বে পরে বিরোধী ওই অংশ ইউপিডিএফ বা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নামে আত্মপ্রকাশ করে। পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, নিজেদের জম্ম জাতি নামে অভিহিত করে জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠা, আদিবাসী হিসাবে স্বীকৃতি আদায়ের দাবির ক্ষেত্রে এদের উপস্থাপিত বক্তব্য এক হলেও অভ্যন্তর পর্যায়ে রয়েছে চাঁদাবাজি, অপহরণ করে অর্থ আদায়, পাহাড়ী-বাঙালীদের মধ্যে শান্তি বিনষ্টসহ নানা ধরনের অপকর্মের তা-বলীলা। বছরের পর বছর জেএসএস ও ইউপিডিএফের অন্তর্বিরোধ ও চাঁদাবাজির রাজ্যে আধিপত্য বিস্তারের জের হিসেবে অকালে ঝরে গেছে বহু প্রাণ। অস্ত্রের ঝনঝনানি হয়ে আছে নিত্যনৈমিত্তিক। পাহাড় জুড়ে অঞ্চলভিত্তিক জেএসএস ও ইউপিডিএফ ক্যাডারদের আধিপত্যের বিস্তৃতি নিয়েও নিজেদের মধ্যে লড়াই নিরন্তর।

পুঁজিবিহীন এবং নানামুখী বলপ্রয়োগে অবৈধ চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রাপ্তির এ অপপ্রক্রিয়ায় এখন সেই ইউপিডিএফও দ্বিখ-িত হয়েছে। সংগঠনের ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের একটি অংশ গেল সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে ইউপিডিএফ-সংস্কার নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। যার নেতৃত্বে রয়েছে তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা। যিনি মূল ইউপিডিএফের রাঙ্গামাটির নাজিরছড়া অঞ্চলের সমন্বয়কের পদে ছিল। এ তপন এখন তার সক্রিয় নেতা ও ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, লংগদু, নানিয়ারচর এবং বাঘাইছড়ি এলাকার চাঁদাবাজির নেতৃত্বে রয়েছে।

এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বিরোধী পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের বিভক্তিতে তাদের অন্তঃ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটল। যা কিনা পাহাড়বাসীর ঘাড়ে নতুন আতঙ্কের ঘটনা হিসাবে হাজির হয়েছে। পাহাড়ীদের স্বার্থের তকমা লাগিয়ে বছরের পর বছর কখনও প্রকাশ্যে কখনও নীরবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে চলছে বিপুল অঙ্কের অর্থের চাঁদাবাজি। প্রাণ ভয়ে এদের ধার্যকৃত চাঁদা পরিশোধে সংশ্লিষ্ট সকলেই রীতিমত বাধ্য। নচেত হত্যা ও অপহরণ এড়ানোর উপায় নেই।

ঢাকাকেন্দ্রিক একটি বাণিজ্যিক গ্রুপের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের এক ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, গেল বছর তাদের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ইউপিডিএফ। এ নিয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় টানা তিন মাস দুই উপজেলায় পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখে তাদের প্রতিষ্ঠান। শেষ পর্যন্ত চাঁদা না দেয়ায়, পণ্যবাহী গাড়িতে আগুন ও গুলি চালিয়েছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। এতে কোম্পানি নিযুক্ত একজন গাড়ি চালকের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ জনকণ্ঠকে জানান, ইউপিডিএফ’র এই বিভক্তির ফলে চাঁদাবাজিতে নতুন একটি নাম যোগ হলো। আগে তিন গ্রুপকে চাঁদা দিতে হতো, এখন গ্রুপ হলো চারটি। এছাড়া নিজেদের মধ্যকার সংঘাত পার্বত্য চট্টগ্রামকে প্রতিনিয়ত অস্থির করে রাখে। নতুন এই বিভক্তিতে সেই সংঘাত আরও বাড়বে বলে তার নিশ্চিত ধারণা।

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ প্রতিরোধ কমিটির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক পৌর মেয়র রফিকুল আলম জনকণ্ঠকে জানান, ‘বেকার, কর্মহীন মানুষদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তুলছে পাহাড়ী আঞ্চলিক দলগুলো। স্বাধিকার আন্দোলনের কথা বলে পার্বত্য চট্টগ্রামে ওরা চাঁদাবাজির মহোৎসবে মেতে রয়েছে। আর ইউপিডিএফ’র সংস্কার গ্রুপ তাতে নতুনমাত্রা যোগ করবে।’

অপরদিকে, চাঁদাবাজির কোন চিন্তা ভাবনা নেই বলে দাবি করেছেন ‘ইউপিডিএফ সংস্কার’ গ্রুপের মিডিয়া সমন্বয়কারী রিপন চাকমা। তিনি মুঠোফোনে জানান, সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রচুর অর্থের দরকার হয়। তবে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের মতো কাউকে নির্যাতন, অত্যাচার করে চাঁদা আদায় করবে না নতুন এই সংগঠন।’

এর আগে গেল বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে লিখিত বক্তব্যে ‘ইউপিডিএফ সংস্কার’ এর আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা অভিযোগ করেন, ইউপিডিএফর গঠনতন্ত্রে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক, বলপ্রয়োগের রাজনীতি, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণের রাজনীতি করছে প্রসিত খীসা। ইউপিডিএফ’র অনেক নেতা চাঁদার টাকায় এখন পকেট ভারি নেতা হিসেবে পরিচিত।

নব গঠিত এ দলটির পক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে ইউপিডিএফ’র আন্দোলন পরিচালনার কৌশল ও পদ্ধতি সঠিক না হওয়ার কারণে ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা সঞ্জয় চাকমা ও দীপ্তি শংকরসহ অনেকে দল ত্যাগ করেছেন। এছাড়া দল ত্যাগ করার অপরাধে অনেক নেতাকর্মীকে খুন করেছে প্রসিত খীসার সন্ত্রাসী বাহিনী।

এদিকে বরাবরই আঞ্চলিক সংগঠনের নেতারা চাঁদা আদায়ের কথা অস্বীকার করে আসছে এবং একপক্ষ অন্যপক্ষকে দোষারোপ করে সহজেই দায় এড়িয়ে নিচ্ছে। চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে ইউপিডিএফ নেতারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বরাবরই বলেন, শুধুমাত্র জুম্মজাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অংশগ্রহণমূলক সহযোগিতা নিয়ে থাকে তারা। জুম্ম জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের সংগ্রামের তহবিলে সেই টাকা যোগ করা হয়।

জেএসএসের হামলা ॥ রবিবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ডিগ্রী কলেজে প্রতিপক্ষের হামলায় জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ (প্রসিত খীসা) সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদকে দায়ী করা হয়েছে। কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

 

সূত্র: জনকন্ঠ




পেকুয়ায় পিএসসি পরিক্ষার্থীকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন, আটক-১

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের নুরীর পাড়া এলাকায় পিএসসি পরিক্ষার্থী শহিদুল ইসলামকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা তাকে। সে ওই এলাকার নুরুল আজিমের পুত্র  এস এ সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র। শনিবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রবিবার (১৯ নভেম্বর) নুরুল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিংড়ি ঘের থেকে মাছ চুরির অভিযোগে শিশু শহিদুল ইসলামকে ধরে নিয়ে যায় নুরুল আমিনসহ আরো কয়েকজন ব্যক্তি। চিংড়ি ঘেরের বাসায় নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। সর্বশেষ মাথা মুন্ডন করে বর্বর নির্যাতন চালায় তারা। একপর্যায়ে এ বিষয়টি পরিবার জানতে পারলে স্থানীয়দের নিয়ে তাকে উদ্ধার করে মূমর্ষ অবস্থায় পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করায়।

হামলায় গুরুতর আহত ও মাথা মুন্ডন করে নির্যাতন করায় শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পিএসসির প্রথম পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারেনি।

রবিবার (১৯ নভেম্বর) এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় শিশুর পিতা নুরুল আজিম বাদি হয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনায় জড়িত নুরুল আমিনকে আটক করে।




চকরিয়ায় মজিদ বলি হত্যা মামলার আসামি কাদের গ্রেপ্তার


চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়া পৌরসভার করাইয়াঘোনা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে আবদুল মজিদ (৭৫) প্রকাশ মজিদ বলি হত্যা মামলার অন্যতম আসামী নুরুল কাদের প্রকাশ নুরুকে (৪২) অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত নুরু একই এলাকার কবির কবির আহমদের ছেলে। শনিবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার এর উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহেদ উল্লাহ্র নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

এসআই শাহেদ উল্লাহ্ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলার দরবেশ কাটা বাজার এলাকা থেকে আবদুল মজিদ বলি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৮নং আসামী মো. নুরুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তির মাধ্যমে হত্যার ঘটনার রহস্য উৎঘাটন সম্ভব হবে।

স্থানীয় সুত্র জানিয়েছেন, নিহত মজিদ বলি দীর্ঘদিন ধরে থানা সেন্টার এলাকার প্রবাসী নুর হোসেনের জমি-জমাসহ পারিবারিক কাজকর্ম দেখভাল করতেন। ঘটনার কিছুদিন আগে চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী সেতু লাগোয়া এলাকায় স্থানীয় গোলাম মোস্তাফা প্রকাশ বদিউল আলম গংয়ের ক্রয় করা কিছু জমি নিয়ে প্রবাসী নুর হোসেন গংয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ক্রয়কৃত জমিতে বদিউল আলম গং বেড়া দিলে তাতে ক্ষুদ্ধ হন নুর হোসেন। বিষয়টি দেখতে প্রবাসী নুর হোসেন বিদেশ থেকে দায়িত্ব দেন মজিদ বলিকে। এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন রাতে নিহত আবদুল মজিদ বলি তাঁর ছেলে ফোরকানুল ইসলাম পুতু ও গ্রেফতার হওয়া নুরুল কাদের প্রকাশ নুরুকে নিয়ে বাড়ির অদুরে বাটাখালী সেতু এলাকার বিরোধীয় জায়গায় যান। তবে ঘটনাস্থল থেকে ছেলে ফোরকান ও সহযোগি নুরুল কাদের নুরু রাতে বাড়ি ফিরলেও সকালে বিরোধীয় ওই জায়গায় লাশ পাওয়া যায় মজিদ বলির।

রোববার বিকালে চকরিয়া কোর্ট সেন্টারে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নুরুচ্ছাফা বেগম দাবি করেন, ঘটনার দিন রাতে বাড়ি থেকে তাঁর স্বামীকে (মজিদ বলি) ঘুম থেকে ডেকে তুলেন ছেলে ফোরকান ও গ্রেফতার হওয়া নুরুল কাদের নুরু। রাতে তাঁরা বাড়ি ফিরলেও সকালে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা স্বামীর মৃতদেহ। তবে তাঁর স্বামীকে কারা মেরেছে তিনি জানেন না। মৃত্যুর আগে স্বামী মজিদ বলি থানা সেন্টার এলাকার প্রবাসী নুর হোসেনের কাজ করতো বলে দাবি করেন নুরুচ্ছাফা বেগম।

পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর ভোররাত ৩টার দিকে বাড়ির অদুরে আবদুল মজিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ্য করে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরো বলেন, মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই পুলিশের কাছে ন্যাস্ত হওয়ার পর সর্বশেষ শনিবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে এজাহারনামীয় আসামী নুরুল কাদের নুরুকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। গতকাল রোববার বিকালে তাকে আদালতে সৌর্পদ্দ করা হলে তিনি (আসামি নুরুল কাদের) ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পরে আদালতের বিচারক জবানবন্দি আমলে নিয়ে তাকে (গ্রেফতারকৃত নুরুল কাদের) জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




নাইক্ষ্যংছড়িতে অস্ত্র ও অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী পাড়ায় পাহাড় কাটার তদন্ত করতে গিয়ে রবিবার(১৯ নভেম্বর)মৃত আবদুল গফুরের ছেলে মো. ফারুকের বসতবাড়ি থেকে ১টি ভারতীয় বন্দুক ও নানা অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম সরওয়ার কামাল এ অভিযানের নেতৃত্বদেন।

ইউএনও এসএম সরওয়ার কামাল বলেন, ফারুক বাড়ির পাশের পাহাড় কেটে সাবাড় করছে এমন খবরের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে যায়। পরে থানা পুলিশের সদস্যরা তাদের বাড়ি তল্লাশি করে একটি বন্দুক, দুটি ওয়াকি টকি, নেশার আওতাভুক্ত শিশা, পেনড্রাইভ, চারটি জাল পাসপোর্ট, নানা জনের নামে ১২ পৃষ্ঠার ভিসা এবং পাহাড় কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করে। অভিযানকালে বাড়ির সদস্যরা পালিয়ে যায়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম তৌহিদ কবির বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।




রুমায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৯ পাথর শ্রমিককে সাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুমা খালে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কালে ৯ পাথর শ্রমিককে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার(১৯ নভেম্বর) অভিযানের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিজুর রহমান।

সাজা প্রাপ্তরা হলেন,  মাঝি লেদু মিয়াকে (৫২) বিনা শ্রমে তিন মাস এবং অপর আট শ্রমিক মো. হারুনুর রশিদ (২৪),আবদুল আজিজ (২৫),অজিত (২৭),শাহীন (২২),মোজাহের (২৪), মজিবুর রহমান (৩৩), মহিউদ্দিন (১৮) ও আবদুল মান্নানকে (২৫) পনের দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটক সকলের বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায়।

জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, পরিবেশ রক্ষার্থে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে। তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগে জানান, গরীব অসহায় শ্রমিকরা সাজা পেলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে সরকারদলীয় প্রভাবশালী মুল হোতারা। মুল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।