মাটিরাঙ্গায় ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী

26.03.2017_Madok Recover NEWS Pic

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশী চালিয়ে অবৈধ বেশকিছু ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। যাত্রীবাহী বাসে করে খাগড়াছড়িতে মাদক আসছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যার দিকে মাটিরাঙ্গা জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মো. তানজিম হোসাইন‘র নেতৃত্বে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি দল মাটিরাঙ্গা জোন সদরে সামনে মাটিরাঙ্গা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় গেইটে বিভিন্ন যান বাহনে তল্লাশী চালায়।

এসময় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশী চালিয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ১২ ক্যান বিয়ার, ৮ বোতল বিয়ার-৯০০০, অফিসার্স চয়েস ব্লু ৪ বোতল, অফিসার্স চয়েস ২ বোতল, সিগনাসার হুইস্কি ২ বোতল, ইম্পিরিয়াল ব্লু ৪ বোতল, অফিসার্স চয়েস ৫ বোতল, হোয়াইট ব্লু ৪ বোতল, ব্যাক ফাইভার ১ বোতল, হোয়াইট ম্যাজিক ১ বোতল, ব্লান্ডার ফ্রাইড ১ বোতল ও অফিসার্স চচয়েস ব্লু ২ বোতল উদ্ধার করে।

এসময় দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িতে থাকা যাত্রীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কেউই এসব অবৈধ ভারতীয় মদের মালিকানা দাবী করেনি। ফলে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে বারুনী মেলা উপলক্ষে ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে এসব নিয়ে আসা হচ্ছিল। নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশীর বিষয়টি টের পেয়ে পাচারকারী পালিয়েছে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছ‘টার দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারকৃত ভারতীয় মদ মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, একটি যাত্রীবাহি বাস থেকে এসব ভারতীয় মদ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।




 আলীকদম প্রেসক্লাব থেকে পতাকা নামিয়ে বখাটে যুবকের ফেসবুকে স্টাটাস

আলীকদম প্রতিনিধি:

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলীকদম প্রেসক্লাবে উত্তোলন করা জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেললেন স্থানীয় এক বখাটে যুবক। করিৎকর্মা এ বখাটে স্থানীয় প্রেসমিডিয়াকে বিতর্কিত করতে রবিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘প্রেসক্লাবে পতাকা উত্তোলন করা হয় নাই‘ মর্মে স্টাটাস দেয়।

প্রেসক্লাব সভাপতি জানান, ২৬ মার্চ ভোর ছয়টার দিকে প্রেসক্লাবে যথারীতি জাতীয় পতাকা তোলা হয়। কিন্তু দুপুরে স্থানীয় নুরুল আলম নামে এক যুবক তার ফেসবুক স্টাটাসে জানায় যে, ‘আলীকদম প্রেসক্লাবে জাতীয় পতাকা তোলা হয় নাই’।

প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, ফেসবুকে স্টাটাস দেয়া যুবক নুরুল আলম পানবাজার উপজাতীয় পল্লীতে অগ্নিসংযোগের অন্যতম হোতা। সম্প্রতি এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম তদন্ত শুরু করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেসক্লাবের পতাকা নামিয়ে ফেলে ফেসবুকে স্টাটাস দেয়। যাতে প্রেসক্লাবকে বিতর্কিত করা যায়। পতাকা নামিয়ে ফেলার বিষয়ে প্রেসক্লাব থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নুরুল আলমকে রবিবার সন্ধ্যায় কয়েকবার ফোন করা হলেও সে ফোন রিসিভ করেনি।




চকরিয়ার চরাপাড়া এলাকায় মরণনেশা ইয়াবা সেবন ও রমরমা বাণিজ্য!

CHAKARIA CONAKHALI 25-03-2017
চকরিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চড়াপড়া এলাকায় মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি ও সেবনে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। উঠতি বয়সের যুবক ও নানান মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় ওই এলাকার নারী-পুরুষের মাঝে বিরাজ করছে এক ধরণের আতঙ্ক।

মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট শহর ছেড়ে যখন গ্রামীণ এলাকার মধ্যে সাধারণ মানুষের হাতে চলে আসছে তা রোধ করতে কঠিন হয়ে যাবে বলে সচেতন মহল জানান। স্থানীয় প্রশাসন জেনে ও না দেখার মত নীরব ভুমিকা পালন করছে। এলাকার সচেতন ব্যাক্তিরা বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নীরব ভুমিকা দেখে বহিরাগত কিছু দুবৃর্ত্তরা চড়াপাড়া এলাকায় এসে প্রতিনিয়ত ইয়াবা ট্যাবলেট দিব্যি বিক্রির রমরমা হাট বসিয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয় ভাবে কোনাখালী ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের পেঠান আলীর পুত্র মোজাম্মেলসহ বেশ কয়েক জন ব্যাক্তি প্রায় এক বছর ধরে মরণনেশা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সুত্রে জানান।

সরেজমিন ঘুরে ও খোঁজনিয়ে জানাগেছে, কোনাখালীর চড়াপড়া এলাকার পাশ্বোক্ত মাতামুহুরী নদী লগোয়া মোজাম্মেল নামের একটি মৎস্য ঘের রয়েছে।এ ঘেরের খামার বাড়িতে প্রতিনিয়ত চলছে ইয়াবা বিক্রি ও সেবন। ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন ও বিক্রি করার সময় চড়াপড়া এলাকার মৃত আবদু ছালামের পুত্র শাহেদুল করিম ওই মৎস্য ঘেরে হাতে নাতে ইয়াবা বিক্রি ও সেবনবস্থায় পুর্ব বড় ভেওলার ঈদমনি এলাকার জামাল বলির পুত্র সুমন ও মন্নান নামে দুইজন ব্যাক্তির ছবিতোলা হয়। ছবি তোলার পরই চড়াপড়া এলাকা থেকে দু’জনে পালিয়ে যায়। এনিয়ে ঘেরের মালিক মোজাম্মেলেরর কাছে স্থানীয় শাহেদসহ বেশ কয়েকজন ব্যাক্তি ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের কথা জিজ্ঞাস করলে উল্টো তাদের উপর চড়াও হয়ে যায়। পরে মোজাম্মেলের যোগসাজসে ঈদমনি এলাকার জামাল বলির পুত্র সুমন ও মন্নানের নেতৃত্বে দেশীয় তৈরি অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে ৩০/৪০জন লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়। বর্তমানে ইয়াবা বিক্রি ও সেবনে বাধা দেয়ায় স্থানীয় চড়াপড়া এলাকার শাহেদকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

প্রতিদিন চড়াপড়া এলাকায় নানা ধরণের অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। এই এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থী ও উঠতি যুবকের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট, গাজাঁসহ বিভিন্ন অবৈধ নেশা জাতীয় দ্রব্যাদী। বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড দেখে ওই এলাকার নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ফুসে উঠেছে।সহসায় এ জগন্যতম অপরাধ রোধ করার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী সাংবাদিকদের নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করান।

এ ব্যাপারে স্থানীয় কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চড়াপড়া এলাকায় ইয়াবা বিক্রি ও সেবন করার বিষয়টি নিয়ে আমি গুরুত্বসহকারে দেখব। বিষয়টি ব্যাপারে উধ্বর্তন কতৃর্পক্ষকে জানানো হবে।

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ(আইসি)পুলিশ পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এলাকাটি খুবই খারাপ। এখানে নানা ধরণের মাদকের ব্যবসা করে যাচ্ছে এ কথাটি শুনেছি। যখন খবর পেয়ে থাকি তখনই অভিযান চালানো হয়। জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় বড় ধরণের অপারেশনেও যাওয়া দুস্কর হয়ে পড়ে। আমার উধ্বর্তন কতৃর্পক্ষকে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। তারপরও এ বিষয়টি খতিয়ে দেখব।




রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রাণ নাশের চেষ্টার অভিযোগ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

২৪ মার্চ শুক্রবার অনুমানিক সন্ধ্যা ৭.৪৫টার সময় রামগড়ের উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফরহাদের বাসায় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে সরকারি দলের ক্যাডার-রা। রামগড় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীরের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র-স্বস্ত্রে বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ঘরের প্রধান ফটক ভাঙ্গার চেষ্টা করে। ফটক ভাঙ্গতে ব্যর্থ হয়ে অন্যান্য দরজা-জানালা, লাইট পোস্ট সহ দুইটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে ব্যপক ক্ষতি সাধন করে এবং এ হামলায় পাঁচজন আহত হয়। আমরা আশংকা করছি বাড়ীর প্রধান ফটক ভাঙ্গতে পারলে উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফরহাদের প্রাণনাশের চেষ্টা করতো।

অপরদিকে একই সময়ে মাটিরাংগা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল’কে তাইন্দং বাজারে একটি দোকানে চা-নাস্তা করা অবস্থায় সরকারি দলের ক্যাডার-রা অতর্কিতে হামলা করে। এতে ইসমাইলের ডানহাত ভেঙ্গে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মকভাবে জখম করে। বর্তমানে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় মাটিরাঙ্গা হাসপাতাল হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপরোক্ত ঘটনা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সমূহ পরিকল্পিত এবং এ জেলায় যাতে কোন বিএনপি নেতাকর্মী থাকতে না পারে সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনী সে ব্যাবস্থা করছে বলে আমরা আশংকা করছি।

ঘটনা সমূহের তদন্তপূর্বক জড়িত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া সহ সকল নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি হরতাল অবরোধ সহ কঠোর কর্মসূচী প্রদানে বাধ্য হবে।




পেকুয়ায় ৫ সন্তানের জননীকে নির্যাতনের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

1490334694011

পেকুয়া প্রতিনিধি :

পেকুয়ায় ৫ সন্তানের এক জননীকে শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে খোদ এক ইউপি চেয়ারম্যান। ঘটনাটি ঘটেছে, ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় ওই জননীর বসতবাড়িতে। জানা যায়, টইটং ইউনিয়নের বটতলি মাদ্রাসা পাড়া এলাকার মনোয়ারা বেগম (২৯) নামের ৫ সন্তানের জননীকে বেত্রাঘাত করে আহত করার অভিযোগ ওঠেছে চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

এ সময় তার মেয়ে জোবাইদা বেগম (৯) কে মারধর করেন তিনি। আহত ওই মহিলা একই এলাকার আবুল কালামের স্ত্রী। বর্তমানে সে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মারধরের শিকার আহত মহিলা মনোয়ারা বেগম স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানায়, তার স্বামী গত ১০ মাস আগ থেকে স্ত্রী সন্তান ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।

৫ মেয়ে তার সংসারে অনেক অভাব। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। খোলা টয়লেট রাখার অভিযোগে এরই মধ্যে ভাশুর আবুল কাশেম চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। ঘটনার দিন চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী চৌকিদার ও তার ভাশুরসহ আরো কয়েকজন বাড়িতে আসে।

এ সময় তিনি কোন কিছু জিজ্ঞেসা না করে লাঠি নিয়ে মহিলাকে মারধর শুরু করে। এক সময় বেত্রাঘাতে আহত হয়ে ওই মহিলা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার শিশু কন্যা জোবাইদা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেও তার বেত্রাঘাতে আহত হয়। সে থেকে ২৪ মার্চ দুপুর পর্যন্ত তাকে তার লোক মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে হাসপাতালে যেতে দেয়নি।

পরে স্থানীয় কয়েক সংবাদকর্মী এ বিষয়ে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।
1490334294616
এ বিষয়ে নির্যাতিত মহিলার ভাই আনিসুর রহমান জানান, তার বোনকে চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী অনেক মারধর করেছে। প্রশাসনের সহযোগিতা ও আইনগত ব্যবস্থা নিব আমরা।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. হাসান জানান, মহিলার মাথায় পিঠে আর নিম্নাংশে জখম রয়েছে। যার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাশুরের সাথে ওই মহিলার বিরোধ নিয়ে ২৩ মার্চ শালিসী বৈঠকে বসছিলাম। এ সময় ওই মহিলা অনেক খারাপ ব্যবহার করছিল। তাই দু’তিনটা লাঠির ভারি মেরেছি মাত্র। তাতে তো সে আহত হওয়ার কথা নয়।




চকরিয়ায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনতাই, পরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার-১

চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ফুটবল খেলায় সংঘর্ষ থামাতে গেলে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে উশৃঙ্খল খেলোয়াড় ও লোকজন। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় একটি অস্ত্রও। হামলায় পুলিশের এক কনষ্টেবল আহত এবং উভয়পক্ষের সংঘর্ষে আরো অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

শুক্রবার সকালে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দারকাটা মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কাছে বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ ঘটনা। অবশ্য ছিনিয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর অস্ত্রটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সেইসাথে অস্ত্র ছিনতাইয়ে জড়িত একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার সকালে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে সিএনজি অটোরিক্সা চালকেরা। তন্মধ্যে পৌরসভার আমানপাড়া এবং বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দারকাটা টিম খেলায় অংশ নেয়। নির্দিষ্ট সময়ের খেলা শেষ হলেও কোনপক্ষ গোলের দেখা না পাওয়ায় ট্রাইবেকারে গড়ায় প্রীতি ম্যাচ। এই পর্যায়ে পেনাল্টির সময় বহদ্দারকাটা টিমের এক খেলোয়াড় আমান পাড়াকে এক গোল দেয় বলে রেফারী নিশ্চিত করে।

এ সময় আমানপাড়া টিমের খেলোয়াড় ও তাদের পক্ষীয় লোকজন ওই গোল হয়নি বলে চ্যালেঞ্জ করেন। এনিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে যায় উভয়পক্ষ। এ সময় উপস্থিত লোকজন ও পুলিশ এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু কে শোনে কার কথা। তবে একজন উশৃঙ্খল যুবককে পুলিশের এক কনষ্টেবল ধাওয়া দিলে তাকে (কনষ্টেবল) পিটিয়ে অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেয়।

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সরকার জানান, হামলায় পুলিশের এক সদস্যও আহত হয়। তার নাম উক্যমং মার্মা (৪৫)। সে মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় ৪০ জনকে আসামী করা হয়েছে। তন্মধ্যে ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অন্যদের অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’




মাটিরাঙ্গায় পল্লী চিকিৎসকের ধর্ষণের শিকার কিশোরী

ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এক পল্লী চিকিৎসক কর্তৃক ১৫ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মাটিরাঙ্গার খেদাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা মো. হারুন খাঁ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাটিরাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ অভিযোগে ধর্ষক মো. রফিকুল ইসলাম (৩৯) কে আটক করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। ধর্ষক মো. রফিকুল ইসলাম মাটিরাঙ্গার খেদাছড়া ডিপি পাড়ার মো. আবুল কাশেমের ছেলে।

ধর্ষিতার বাবার অভিযোগ মুলে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার দিকে শারীরিক সমস্যা নিয়ে ধর্ষিতা তার ছোট ভাইকে নিয়ে খেদাছড়া বাজারের পল্লী চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলামের দোকানে আসলে সে তাকে স্যালাইন দিতে হবে বলে, তার ফার্মেসীর পেছনের কক্ষে নিয়ে যায়। এবং স্যালাইন দিয়ে শুইয়ে রাখে। এক পর্যায়ে স্যালাইন শেষ হতে বিলম্ব হবে জানিয়ে মেয়েটি তার দোকানেই রাত্রি যাপনের জন্য বলে। এক পর্যায়ে মধ্যরাতে তাকে ঘুমের ট্যাবলেট সেবন করায়। এসময় ধর্ষক তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিলে তার মেয়ে চিৎকার করলে তাকে হত্যার হুমকি প্রদান করে ধর্ষক। পরে রাতে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে, স্থানীয়ভাবে মিমাংসার উদ্যোগ নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ধর্ষিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে আটক করে।

এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুনীল চন্দ্র সুত্রধর জানান, ধর্ষিতার বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ধর্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ধর্ষিতার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।




লামায় বিচারের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউপি সদস্য ও দুজন আওয়ামী লীগের নেতার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন মো. ইউছুপ (৩৩) নামে ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেল চালক।

সূত্র জানায়, লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের চিংকুমপাড়া হতে বুধবার প্রেমিকের হাত ধরে এক কিশোরী পালিয়ে যাবার সময় রাতে অংহ্লাপাড়া থেকে নিরাপত্তাবাহিনী উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর মেয়েটিকে পিতা মাতার নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয় নিরাপত্তা বাহিনী।

বিচারের নামে গন্যমান্য ব্যক্তিগণ মারধর করে রাতে প্রেমিক যুবক মো. রুবেলকে জিম্মি করে ১৪ হাজার টাকার চুক্তি হয়। রাতে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে রুবেলকে ছেড়ে দিলেও ভাড়াই চালিত মো. ইউছুপের মোটরসাইকেল আটকে রাখে। বৃহষ্পতিবার বিকালে মো. ইউছুপ ৪ হাজার টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে নেয়। এসময় অভিযুক্ত কয়েকজন তাকে মারধর করে। পরে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

২৩ মার্চ রুপসীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াতুল ইসলাম, স্থানীয় মো. সেলিম পিসি ও ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. আবুল হোসেনকে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ করে নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে জানা যায়, তার মোটরসাইকেল আটকে রেখে ৪ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার বিকালে উল্লেখিত ৪জনের সামনে সেলিম পিসির হাতে নগদ ৪ হাজার টাকা প্রদান করলে তারা মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেয়।

মো. ইউছুপ বলেন, মারধর ও চাঁদার টাকা নেয়ার বিষয়ে বিচার চেয়ে আমি অভিযোগ করেছি। আমি ভয়ে গরু বন্ধক দিয়ে চাঁদার ৪ হাজার টাকা দিয়েছি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা বলেন, জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এখন বান্দরবানে। টাকা ফেরত দিতে আবুল মেম্বারকে বলেছি।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




মাটিরাঙ্গায় ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক

23.03.2017_Yaba Recover NEWS Pic

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ইয়াবাসহ দুই যুবককে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাদেরকে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মুসলিমপাড়া থেকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে চল্লিশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা।

আটককৃত দুই যুবক হলো, মিরসরাই উপজেলার ইছাখালির ফকির আহাম্মদের ছেলে মো. সামির (৩২) ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আশরাফ চৌধুরীর ছেলে দ্বীন ইসলাম (২৮)।

দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা সেবনসহ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানায় আটককৃত যুবক মো. সামির । সে মাটিরাঙ্গায় একটি মুরগীর খামারে চাকুরীর পাশাপাশি ইয়াবা সেবন ও ব্যবসা করে আসছে বলে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

ব্যবসার নিরপত্তাবাহিনী সুত্রে জানা গেছে, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল খালেকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মো. তানজিম হোসাইনের নেতৃত্বে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা ইয়াবাসহ এ দুই যুবককে আটক করে।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল খালেক বলেন, ইয়াবা ব্যাবসায়ীদের ৯নং ওয়ার্ড থেকে বিতাড়িত করা হবে। যেখানেই মাদক সেবী পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হবে। তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই ৯নং ওয়ার্ডে মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা হবে।

এদিকে আটক দুই যুবককে মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিরাপত্তাবাহিনী সুত্র নিশ্চিত করেছে।




চকরিয়ায় পৃথক অভিযানে ২০৭০পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০৭০পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী মেদাকচ্ছপিয়া ঢালায় যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসে এবং একইদিন সন্ধ্যায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ অভিযান চালায় পুলিশ।

খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া থেকে গ্রেফতারকৃত দুই মাদক ব্যবসায়ী হলো, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডির আবদুর রশিদের ছেলে মো. নাছির উদ্দিন (২২) ও একই এলাকার মোজাহের মিয়ার ছেলে মো. জসীম উদ্দিন। ফাঁসিয়াখালীর রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে গ্রেফতারকৃতের নাম সাইফুল ইসলাম (১৯)। সে চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার পাড়ার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুল আজম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কের খুটাখালী মেদাকচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালায় যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশী চালায় থানার অপারেশন অফিসার তানভীর আহমদ, উপপরিদর্শক (এসআই) কাওসার উদ্দিন ও সুকান্ত চৌধুরীসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স। এ সময় মাইক্রোবাসটির দুই যাত্রীর দেহ তল্লাশীর সময় তাদের হেফাজতে থাকা ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, একইদিন সন্ধ্যায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খুচরা ইয়াবা বিক্রেতার অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালায় উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত রায়সহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স। এ সময় তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। তিনি বলেন, ‘পৃথক অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।’