খাগড়াছড়িতে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকের কুশপুত্তালিকা দাহ

Khagrachhari pic (2) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক এবং তরুণ সাংবাদিক অপু দত্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও  কুশপুত্তালিকা দাহ করেছে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের সমর্থকরা। শুক্রবার হাইকোর্টের সামনে থেকে ন্যায় বিচারের প্রতীক গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য অপসারণ এবং হেফাজত ইসলাম কর্তৃক সারাদেশে থাকা বিভিন্ন মূর্তি ও ভাস্কর্য অপসারণের দাবির প্রেক্ষিতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক এবং বাংলানিউজ টোয়ান্টিফোর ডটকম’র খাগড়াছড়ি স্টাফ রিপোর্টার অপু দত্ত।

স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার বেলা ১১টায় খাগড়াছড়ি শহরের নারকেল বাগানস্থ জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের কার্যালয়ের সামনে থেকে অপু দত্তের কুশপুত্তালিকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়ক হয়ে বাজার প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্ত্বরে এসে সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে অপু দত্তের কুশপুত্তালিকা দাহ করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা কামাল পাটোয়ারী, নুরুন্নবী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, অপু দত্ত ফেসবুক স্ট্যাটাসে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তুলে দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছে। যা রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল। আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান বক্তারা।

এর আগে, মিছিল থেকে “অপু দত্তের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও-গুড়িয়ে দাও, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উস্কানী -হুমকিমূলক স্লোগান দেয়া হয়।

অপু দত্ত মুঠোফোনে জানান, আমি স্বাধীনতা পক্ষের মানুষ হয়ে কোন ভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমান ও জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য অপসারণের কথা বলতে পারি না। হেফাজত ইসলাম সহ বেশ কয়েকটি ধর্ম ভিত্তিক সংগঠন গত শুক্রবার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য অপসারণে আনন্দ মিছিল পরবর্তী সারাদেশে থাকা মূর্তি-ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানান। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি তাহলে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্যগুলো কবে অপসারণ করা হচ্ছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল এর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে।

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল সমাবেশ করার অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ(এসআই) হায়াত উল্লাহ’র কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, মিছিল সমাবেশ করতে অনুমতি নেয়া হয়নি।

পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিক ও গণজাগরণ মঞ্চের এক সংগঠকের ভাবমূর্তি হননের উদ্দেশ্যে এমন কার্যক্রম করতে দেয়ায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, বিগত পৌর নির্বাচনের সময় মেয়র রফিকুল আলমের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক অপু দত্তকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠে মেয়রের বিরুদ্ধে। সে অভিযোগের বিষয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন অপু দত্ত।




খাগড়াছড়ির আলুটিলা এখন আতংকের জনপদ

Khagrachari Pic 02
নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ির আলুটিলায় এখন সকলের জন্য আতংকের জনপদে পরিণত হয়েছে। দিনে-রাতে এখানে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। বাদ যাচ্ছে না পুলিশ ও সাংবাদিক বাহনকারী গাড়ীও। বিশেষ করে মধ্যরাতের পর আলুটিয়া শুরু হয় সন্ত্রাসীদের তান্ডব। গাড়ী দেখলে একদল পাহাড়ি সন্ত্রাসী ঝাপিয়ে পড়ে। গাড়ী ভাংচুর করে তার পর সব কিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

আলুটিলা এলাকাটি সাধারণ মানুষের নিরাপদ রাখার জন্য ইতিপূর্বে কয়েক দফা নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চললেও গত প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকায় বেড়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতা। ইদানিং দিনে দুপুরেও ছিনতাই ও ডাকাকির অভিযোগ রয়েছে।বিন্তু বাড়তি হয়রানী আশঙ্কায় ভুক্তভোগিরা কেউ আইনের আশ্রয় নিচ্ছে না।
Khagrachari Pic 04.jpg.psd
গত বৃহস্পতিবার রাতে আলুটিলায় খোদ পুলিশ ও সাংবাদিক বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সন্ত্রাসীদের কবলে পড়ে। খাগড়াছড়ি সদর থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জেলার রামগড়ে আসামী ধরতে গিয়ে ফিরছিলেন। রাত অনুমানিক ৩টার দিকে মাইক্রোবাসটি আলুটিলার উঠার সময় পুলিশ বক্সের একটু পরে পৌছলে ১০/১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল হাতে লাঠি, ইট, কিরিচসহ ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রথমে মাইক্রোবাসের লুকিং গ্লাসে আঘাত করে চালককে টেনে-হেচরে নামানোর চেষ্টা করে।

এ সময় মাইক্রোবাসের বসা এক পুলিশ সদস্য শট গান দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করলে লগ হয়ে যায়। এ সময় মাইক্রোবাসের সামনের সিটে বসা এসআই মাসুদ ঐ লগ হওয়া শর্ট গানটি নিয়ে ধাওয়া করলে সন্ত্রাসীরা জঙ্গলে পালিয়ে যায়। এ সময় এ প্রতিবেদক নিজেও ঐ মাইক্রোবাসে ছিলেন।

তার পর ক্ষণে একই স্থানে একটি পত্রিকা বহনকারী মাইক্রোবাসসহ আরো ৪টি গাড়ীতে সন্ত্রাসীরা হানা দিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। কালের কন্ঠ পত্রিকা বহনকারী মাইক্রোবাসের চালক মো. ইব্রাহিম জানান, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে তিনি আরো একটি মাইক্রোবাস ও মালবাহী ট্রাক থামিয়ে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থসহ প্রায় দেড় টাকা মালামাল লুট করে নেয় সন্ত্রাসীরা।
Khagrachari Pic 03
এদিকে পুলিশ ও সাংবাদিক বহনকারী মাইক্রোবাস সন্ত্রাসীদের কবলে পড়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে। কতিপয় বিমল বাবু সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে পোষ্ট দিলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এক পর্যায়ে মি. বিমল তার পোষ্ট প্রত্যাহার করে নেয়।

মাটিরাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদত হোসেন টিটু জানান, আলুটিলা এলাকাটি সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ করতে হলে সমন্বিত উগ্যোগের প্রয়োজন। তিনি বলেন, পুলিশের একার পক্ষে এটা রোধ করা সম্ভব নয়।

ভক্তভোগিরা আলুটিলাকে নিরাপদ করতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান চালানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের ধরতে সাদা পোষাকের পুলিশের টহল জোরদার করার দাবী জানিয়েছেন।




টেকনাফ সমুদ্র উপকূল থেকে ৯ টন শামুক-ঝিনুক জব্দ

teknaf pic 26-05-17
টেকনাফ প্রতিনিধি :

টেকনাফ উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে পাচারের জন্য মজুদ করা প্রায় ৯ টন (৩ ট্রাক) শামুক ও ঝিনুক জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২৬ মে) সকাল ৫টার দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুমিনুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিবিএ ইসিএ প্রকল্পের কর্মকর্তা সত্যজিৎ রায়, বড়ডেইল ভিসিজি সভাপতি হোসেন মাস্টার ও ভিসিজি কর্মীরা।

এ ঘটনায় বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড়ডেল এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ ইলিায়াছের চেলে মো. রফিক, মো. রুবেল এবং একই এলাকার মো. জুবায়েরকে আসামী করে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম জানান, এভাবে শামুক ঝিনুক সংগ্রহ করলে ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয় এবং ইসিএ এলাকায় সামুদ্রিক শামুক ঝিনুক সংগ্রহ এবং বিক্রয় সম্পূর্ন নিষিদ্ধ হলেও একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।




পথ ভুলে ইয়াবাসহ বাইশারী পুলিশের কাছে পাচারকারী

Yaba pic-26-05-17
নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি :
পথ ভুলে ইয়াবা নিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে ধরা পড়লো পাচারকারী। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কফিল উদ্দিন (২৯) নামে এই পাচারকারীকে আটক করা হয়। সে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মৃত মোস্তাক আহমদের ছেলে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচএম তৌহিদ কবির জানান, আটকৃত ইয়াবা পাচারকারী বালুখালী এলাকা থেকে ইয়াবা নিয়ে পথ ভুলে বাইশারীতে ঢুকে পড়ে। এসময় তার গতিবিধি সন্দেহ হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই কৃঞ্চ কুমার দাশের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স ৪৫০পিচ ইয়াবাসহ ওই পাচারকারীকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-৯)।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারকারীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন উপ সড়ক ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি-রামু-চাকঢালা সড়ক, কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়া-ঈদগড় সড়ক, আশারতলী-মৌলভীরকাটা সড়ক হয়ে ইয়াবা পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা পাচার করে আসছে। এসব সড়কে উল্লেখযোগ্য কোন চেকপোষ্ট না থাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এসব সড়ককে নিরাপদ মনে করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




মহেশখালী শীর্ষ সন্ত্রাসী এনামুল হক নিহত

বন্দুকযুদ্ধ
কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী এনামুল হক। তিনি এনাম বাহীনির প্রধান।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মহেশখালী’র হোয়ানকের পাহাড়ী এলাকায় এ বন্দুক যুদ্ধ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে নিহত এনামুল হকের লাশ উদ্ধার করে।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার জানান, দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে এনামুল হকের মৃত্যু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ ও চোখ উপড়ে ফেলাসহ ৮টি মামলা রয়েছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।




কাপ্তাই লেকে যৌথবাহিনীর অভিযান নৌকা জাল অাটক

কাপ্তাই প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধায় কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিএফডিসি ও বিজিবি হরিণছড়া এলাকা হতে একটি নৌকা,দুটি জাল ও ২ কেজি ছোট সিং মাছ অাটক করে।

কাপ্তাই বিএফডিসি অফিসার শামসুজ্জামান বলেন, মাছগুলো ছোট বিধায় লেকে ছেড়ে দেয়া হয়। উল্লেখ্য ১ মে হতে তিন মাস পযন্ত লেকে সকল ধরনের মাছ ধরা ও পরিবহন রাঙ্গা মাটি জেলা প্রশাসকের পক্ষ হতে বন্ধ জারি করা হয়েছে।




রোয়াংছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অফিসে তালা

gm mohiuddin chowdhury copy

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

রোয়াংছড়ি উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী বিল ভাউচার ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা ক্ষুদ্ধ হয়ে ‍ইঞ্জিনিয়ারের অফিস তালা বন্ধ করে দেয়। প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার ভুয়া ভাউচার করে পালানোর চেষ্টা করায় অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুধবার বিকাল প্রায় সাড়ে তিন টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে জানা যায়, ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের কাজের বিল করার ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষ চাওয়া হয়। ঘুষ না দিলে বিল ভাউচার করা হয় না। গোপনে টেন্ডার করাসহ নানা অনিয়ম চলছে বলেও জানা গেছে।

গত বছরের এডিপির বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে উপজেলা কমপ্লেক্সে ৪টি টিন শেড এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ডরমেটরি ভবন মেরামত কাজের জন্য ৩৪ লাখ টাকা অনুমোদন পাওয়া যায়। তার মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান না করে কোন রকমে নামে মাত্র কোটেশন দিয়ে কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়।

অফিস সূত্রে জানা যায়, গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে এলজিইডি চট্টগ্রাম অঞ্চল ও চট্টগ্রাম তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয় অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুতালেব, বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন চাকমা, বান্দরবানে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. হোসেন ও জিল্লুর রহমানকে নিয়ে গঠিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর প্রমাণ পায়।

ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলীও গত ২৭ এপ্রিল ২০১৭ রোয়াংছড়িতে এসে তদন্ত করেছিলেন। তদন্তে হাতেনাতে ধরা পড়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ বিষয়টি।

তাছাড়া, রোয়াংছড়ি উপজেলার সোয়ানলু পাড়া ও আলেক্ষ্যং লাংগে পাড়াসহ ১২টি সরকারি প্রাইমারী স্কুলের চলমান নির্মাণ কাজে সম্পূর্ণ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হওয়া আশঙ্কা করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি সেই অবস্থায় তা প্রত্যক্ষ করলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় অফিস থেকে মহিদ্দিন চৌধুরীকে শোকজও করা হয়।

তবে নাম না বলার শর্তে ক’জন স্থানীয় জনতা ও রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য ক্যনুমং মারমা অভিযোগ করে বলেন, তিনি রোয়াংছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তদরে যোগদানের পর থেকে মাসে ৪-৫ দিনের অধিক অফিস করেন না। অফিসে এলেও তিনি মাত্র ঘন্টা খানেক অফিস করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিশেষভাবে রোয়াংছড়ির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর এসব সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও তিনি বেপরোয়াভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার জনগণ।

এলজিইডি অফিস কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরীর চলতি দায়িত্ব থাকায় ভয়ে সকল সহকারী কর্মকর্তারা মুখ খুলতে নারাজ।

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনে প্রতি মাসে মিটিং এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের সময় অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুপস্থিত থাকেন। ফলে সচেতন জনগণের প্রতিনিধিরা জাতীয় দিবসে পালন না করে অবমাননা মনে করেন। উন্নয়নের স্বার্থে বেশি প্রয়োজনে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, আমার কথা বলার সময় নেই, আমি গণভবনে, সংসদ ভবনে, মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ব্যস্ত আছি বলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন। নিজ দায়িত্ব অবহেলা, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, উন্নয়নমূলক কাজে অসযোগিতা সরকারি অর্থ বন্টনে লুকোচুরিসহ নানা অভিযোগে রোয়াংছড়ি থেকে অপসারণে দাবি এবং লুটপাটকৃত অর্থ উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন এলাকাবাসী।

উপসহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দীন চৌধুরী আমার সাথে একই পদের একজন কর্মকর্তা কিন্তু তাকে উপজেলার চলতি দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি ক্ষমতার অপব্যহার করেছেন। মহিদ্দিন চৌধুরীর ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমাকে কাজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অফিসে এসে বসে থাকার ছাড়া কোন কাজ নেই। ঠিকাদাররা আমাকে দেখলে সরে যায়। আফিসে না আসলে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করেন মহিদ্দিন চৌধুরী। মহিদ্দিনকে উপজেলাতে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে প্রত্যকটি প্রকল্পের কাজে দুর্নীতি ও ব্যাপক অনিয়ম করে চলেছেন। সোয়ানলু পাড়ার একটি প্রকল্পের কাজ, চতুর্দিকে ড্রেন করার বাজেট ছিল কিন্তু তা নিয়ম নীতি না মেনে সামান্য কাজ করে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে ।

এদিকে গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী ঢাকায় রাজধানীতে বসুন্ধরা ভিআইপি এলাকার এ্পোলো হাসপাতালের পাশে বহু দামের বিলাস বহুল ৬তলায় ফ্ল্যাট বাড়ি কিনছে বলে জানা গেছে।

সমাজ সেবক দিপক ভট্টাচার্য আক্ষেপ করে বলেন, এক সময় গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরীকে উন্নয়নের কাজের খবর জানতে চাওয়ায় তার সাথে অসাদাচরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগও করেন।

উপসহকারি প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী সাথে এব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন কথা বলেননি ।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা ও  নির্বাহী অফিসার মো. দাউদ হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছু জানেন না বলে জানান।




ইয়াবা ও মাদকের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে

25.05.2017_Matiranga Zone Confarence NEWS Pic

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

মরন নেশা ইয়াবা ও মাদকের সাথে জড়িতদের পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দিন পিএসসি বলেছেন, সমাজ থেকে ইয়াবার মুলোৎপাটন করা হবে। এজন্য যা কিছু সম্ভব সবকিছুই করা হবে।

তিনি সামনের রমজানের পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রমজান এলেই দ্রব্যমুল্য লাফিয়ে বাড়তে থাকে। দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বাজার মনিটরিং বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাটিরাঙ্গা জোন সদরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুই ঘন্টা ব্যাপী এ মতবিনিময় সভায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান, মাটিরঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক, মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি ইঞ্জি. মো. লোকমান হোসেন, পৌর কাউন্সিলর মো. আবদুল খালেক ও সাবেক মেম্বার মো. অলি উল্যাহ বক্তব্য রাখেন।

সাম্প্রতিক ইয়াবাসহ আটককৃতদের চুনোপুটি দাবি করে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দিন পিএসসি বলেছেন, ইয়াবার সাথে জড়িত রাঘব বোয়ালদের ধরতে অভিযান চলছে। যা আরও জোরদার করা হবে।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মো. তানজিম হোসাইন, গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জোবায়েরুল হক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. বাহাদুর খান, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন লিটন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. হারুন মিয়া ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কার্বারী, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




মাটিরাঙ্গায় ইয়াবাসহ ছাত্রলীগের তিন কর্মী আটক

24.05.2017_Matiranga Yaba NEWS Pic
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। বুধবার রাত ৮টার মাটিরাঙ্গা সদরের বাবুপাড়া থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো, মাটিরাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মো: তছলিম উদ্দিন রুবেল, যুগ্মসম্পাদক মো. সুমন (ডিজে সুমন), ও সদর ইউনিয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মনু রায় ত্রিপুরা।

জানা গেছে, মাটিরাঙ্গা পৌর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মো: আলা উদ্দিনের বাবু পাড়ার বাড়িতে ইয়াবা ট্যাবলেট বেচাকেনা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন তানজিম হোসাইন‘র নেতৃত্বে নিরাপত্তাবাহিনী অভিযান চালায়। এসময় মো: আলাউদ্দিন পালিয়ে গেলেও তার বাসা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট কিনে ফেরার পথে মাটিরাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো তছলিম উদ্দিন রুবেলসহ তিনজনকে আটক করে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় তাদেরকে তল্লাশি করে ৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫টি মুঠোফোন ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়ের নামফলক দ্রুত অপসারণ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবি পিবিসিপির

SAMSUNG CAMERA PICTURES

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের নামে বিভিন্ন স্থাপনার নামফলক দ্রুত অপসারণ, রাজাকারের বংশধর বর্তমান রাঙামাটি চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়ের অপসারণ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ(পিবিসিপি) খাগড়াছড়ি শাখার একাংশ।

বুধবার বেলা সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্ত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন পিবিসিপি খাগড়াছড়ি শাখার সভাপতি লোকমান হোসেন। আধ ঘন্টাব্যাপী চলা মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, পিবিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি আব্দুল মজিদ, জেলা শাখার সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম আসাদ, মাটিরাঙা উপজেলা শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

Khagrachari Pic 02 copy

বক্তারা, দ্রুত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের রায় অনুসরণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে পার্বত্য চট্টগ্রামের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের নামে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি রাজাকারের বংশধর বর্তমান চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়ের অপসারণ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও দাবিও জানান।

প্রসঙ্গত, খাগড়াছড়ির বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন ও রাঙামাটির বাসিন্দা বদিউজ্জামানের করা রিটের প্রেক্ষিতে গত ২২ মে হাইকোর্ট ৯০দিনের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে থাকা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী রাজা ত্রিদিব রায়ের নাম অপসারণের আদেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।