বিলাইছড়িতে ৪৮ ঘন্টার অবরোধ চলছে

নিজস্ব প্রতনিধি, রাঙামাটি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা হত্যার প্রতিবাদে ৪৮ ঘন্টা অবরোধ পালিত হচ্ছে।

বুধবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সাইদুল ইসলাম’র নেতৃত্বে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়।

অবরোধের কারণে বিলাইছড়ি থেকে রাঙামাটি শহরে কোন নৌযান চলাচল করছে না। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। এখনো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চাপা আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছে না সাধারণ মানুষ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবি করার চেষ্টা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ব্যাপারে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সাইদুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যা করেছে স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এটা নতুন ঘটনা নয়। আরও অনেক বার নামধারী উপজাতি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কারণে আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তাই এ হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।

অন্যদিকে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যার এক দিন পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত থানায় কোন মামলা করেনি তার স্বজনরা।

এ ব্যাপারে বিলাইছড়ি উপজেলা থানার (ওসি) মো. পারভেজ আলী জানান, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার শেষ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তাদের পরিবারে তার শেষ ক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে এখনো পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে মামলা কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হতাহতদের খোঁজ নিতে বাঘাইছড়িতে চট্টগ্রাম রেঞ্জ আনসার এর উপ-মহাপরিচালক

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

বাঘাইছড়ি উপজেলার নিহত ও আহতদের খোঁজ নিতে আনসার বাহিনীর চট্টগ্রাম রেঞ্জ এর উপ-মহাপরিচালক মো. সামসুল আলম বাঘাইছড়িতে উপস্থিত হয়েছেন।

বুধবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি বাঘাইছড়ি হাসপাতালে গিয়ে আহত আনসার ভিডিপিদের খোঁজ খবর নেন।

উপজেলার ১১ কিলো এলাকায় সংঘটিত হত্যার স্থান পরিদর্শন করেন। বাঘাইছড়ি উপজেলার জেলা পরিষদে রেস্ট হাউজে গিয়ে ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবার বর্গের সাথে কথা বলেন।

এসময় তিনি তাদের খোজ খবর নেন এবং নিহতদের ১৫ হাজার টাকা ও আহতদের ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। এছাড়াও তার পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।

এরপর বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাদিম সারোয়ারের সাথে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করেন।

বিদ্যুতের আলো নেই পানছড়ির কয়েকটি গ্রামে

পানছড়ি প্রতিনিধি:

পানছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুতের আলো জ্বললেও উপজেলা সদরের নিকটস্থ কয়েকটি গ্রামে আজও পৌঁছেনি বিদ্যুতের আলো।

দীর্ঘ বছর ধরে সংযোগের আশ্বাস থাকলেও তা বাস্তবায়ন হতে আর কত বছর সময় লাগবে বা বৈদ্যুতিক খুঁটি আদৌ গ্রামগুলোতে যাবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান এলাকাবাসী।

উপজেলার উল্টাছড়ি ইউপির ওমরপুর, মুসলিমনগর, রসুলপুর, আলী নগর, জিয়া নগরের কিছু অংশ ও উপজেলা সদরের পার্শ্ববর্তী মারমা অধ্যূষিত এলাকা যৌথখামার ও ফাতেমা নগর এলাকায় নেই বিদ্যুতের আলো। অথচ এসব এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

তাই এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মতে প্রত্যেকটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়ার ঘোষণাটি বাস্তবায়ন করে গ্রামগুলোতে সহসাই বিদ্যুতায়ন করা হোক।

ভুক্তভুগি এলাকাবাসীর দাবি এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেমনি বিদ্যুতের আলোয় লেখাপড়া করতে পারছে না তেমনি বিদ্যুতের নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসীরা।

এ ব্যাপারে পানছড়ি উপজেলায় কর্মরত বিদ্যুতের আবাসিক প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পানছড়ির উল্লেখিত এলাকাগুলোকে প্রকল্পভুক্ত করার ব্যাপারে তিনি আন্তরিক বলে জানান।

খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী মো. কামাল উদ্দিন জানান, এলাকাবাসী মিলে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের ব্যাপারে আবেদন করেন। বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে ওই প্রকল্পে আপনাদের আবেদন নোট আকারে পাঠানো হবে। তাছাড়া তিনি সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন।

গুলি করে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়: দীপংকর

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, গুলি করে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। বুধবার (২০মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে আ’লীগ নেতা হত্যা এবং বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপংকর আরও বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নই, আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার, তার রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার অধিকার আছে। আমরা সেই অধিকার সংরক্ষণ করার সবসময় সচেষ্ট থাকি। আমাদের লড়াইটা অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে। এমপি দীপংকর এসময় রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে সন্ত্রাসী কর্তৃক গুলি করে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

রাঙামাটি জেলা আ’লীগের আয়োজনে এর আগে রাঙামাটি পৌরসভার সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন- সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র মো. আকবর হোসেন চৌধুরী, রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. শহীদুজ্জামান মহসীন(রোমান), রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরী প্রমুখ।

বাঘাইছড়িতে পালিত হচ্ছে শোক দিবস

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাচনী ভোট গ্রহণ শেষে ফেরার পথে ১১ কিলোতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত ৭ জনের স্বরণে যথাযথ ভাবে পালিত হচ্ছে শোক দিবস।

বুধবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলা সদরের সকল ব্যবসায়ী ও জনসাধারণ সহ সকলে কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক দিবস পালন করছে।

নিহত শিক্ষক  আমির হোসেনের কিশালয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা শোক র‌্যালি বের করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

নিহত আমির হোসেনের বন্ধুমহল আশিকুর রহমান এর নেতৃত্বে কালো ব্যাজ পরানো হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ৯ কিলো ও ১১ কিলোতে দুইটি সেনা ক্যাম্প স্হাপন করা জরুলী।  সরকারি কাজে গিয়ে নির্মমভাবে প্রান দিতে হলো আমাদের সাত ভাইকে। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই এবং সন্ত্রসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। আজ বিকাল সাড়ে চারটায় উপজেলা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে শোক র‌্যালি ও মানবন্ধন করা হবে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম।

উল্ল্যাখ গত ১৮ তারিখ ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নিয়ে ফেরার পথে ১১ কিলো নামক স্হানে সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত হয়েছেন ৭ জন। গুরুতর আহত ১৮ জনকে চট্রগ্রাম সিএমএস হেলিকপ্টারে প্রেরন করা হয়েছে। ৭ জনের অবস্হা অবনতি হলে তাদেরকে ঢাকা সিএমএস পাটানো হয়েছে।  তাদের মধ্যে আনসার ভিডিপি মিজানুর রহমান (পিতা মৃত নুর আলী)কে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। দুই জন কে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছ। বাকী আরো ৮ জন বাঘাইছড়ি হাসপাতালে সিকিৎসাধী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৩য়বার শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিল অফিসার সম্মাননা পেলেন এসআই অপু বড়ুয়া

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চট্রগ্রাম রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিল (কার্যকর) পুলিশ অফিসারের সম্মাননা পেয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া।

বুধবার (২০ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জে ডিআইজি সম্মেলন কক্ষে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় থানা পর্যায়ে সর্বোচ্চ মাদক উদ্ধার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অবদান রাখায় পুলিশ কর্মকর্তাকে সম্মাননা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক (বিপিএম, পিপিএম) বুধবার দুপুরে চকরিয়া থানার এস আই অপু বড়ুয়ার হাতে শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিল (কার্যকর) পুলিশ অফিসার সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।

মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন এন্ড ক্রাইম), অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ ) ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন জেলার পুলিশ সুপার, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএমসহ পুলিশের প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃ্ন্দ।

উল্লেখ্য, উপপরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া চকরিয়া থানায় যোগদানের পর থেকে চট্টগ্রামে রেঞ্জে গত ফেব্রুয়ারি মাসেও শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিল (কার্যকর) পুলিশ অফিসার সম্মাননা অর্জন করে।

এছাড়াও তিনি কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ছয়বার শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিল (কার্যকর) অফিসার সম্মাননা পেয়েছেন।

তার এ সম্মাননা প্রাপ্তিতে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে চকরিয়া থানার এস আই অপু বড়ুয়া বলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিল (কার্যকর) অফিসার এ সম্মাননা অর্জনে তিনি কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মো. মতিউল ইসলাম, চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ওরা গুলি করতেই থাকবে, আমরা ফুল দিবো এটা হয় না: দীপংকর তালুকদার এমপি

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

ওরা গুলি করতেই থাকবে, আমরা ফুল দিবো এটা হয় না। আমরা শুধুমাত্র আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আমরা মনে করি, আইন প্রয়োগ করে এই সমস্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা করা যায়। এসময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে, অবৈধ অস্ত্রধারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি আসবে।

বুধবার (২০ মার্চ) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা এবং বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেন।

এসময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নিখিল কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুছা মাতব্বর, সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙ্গামাটি পৌর মেয়র মো. আকবর হোসেন চৌধুরী, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুজ্জামান মহসীন রোমান প্রমুখ।

এসময় এমপি দীপংকর তালুকদার বলেন, ১৮ ও ১৯ তারিখের ঘটনা নিয়ে টিভির টকশোতে কিছু বুদ্ধিজীবী বলছেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব? মিলিটারীর উপর গুলি ছুড়ে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব? বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের গুলি করে হত্যা করলে কি শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব?

এই সমস্ত কর্মকান্ডকে বলা হয় নৈরাজ্যবাদী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এই ধরণের সমস্ত কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করি।

তিনি বলেন, আমরা কোন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, কোন রাজনৈতিক ব্যাক্তির বক্তব্যের বিরুদ্ধে নয়, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মকান্ড, বক্তব্য দেয়ার অধিকার আছে। আমরা এই অধিকার সংরক্ষণ করতে সচেষ্টা থাকি। আমাদের লড়াইটা অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবং এখানকার পাহাড়ি-বাঙালি ন্যায় অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে। তারা চাই আওয়ামীলীগে এখানে শক্তিশালী হউক তাই একের পর এক খুন করে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করে বলেন, যারা সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই গুলি সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যার বুকে নয়, এই গুলি আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর বুকে লেগেছে।  যারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির আওয়তায় আনা হউক। তা না হলে হরতাল কেন হরতালে চেয়ে বিশাল কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভ সমাবেশে।

এর আগে রাঙ্গামাটি রাঙ্গামাটি পৌর চত্বর থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিচিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে গিয়ে মিলিত হয়। পরে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ফলে কয়েক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

বাঘাইছড়িতে ব্রাশ ফায়ারে আহত ও নিহতদের স্মরণে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর শোক

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

বাঘাইছড়িতে ব্রাশ ফায়ারে আহত ও নিহতদের স্মরণে শোক জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টি।

বুধবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোক বার্তায় জানানো হয়, সোমবার (১৮ মার্চ) উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটি জেলা বাঘাইছড়ি উপজেলা কেন্দ্রের কর্তব্যরত নির্বাচনী দল ফেরার পথে ৯ মাইল এলাকায় গাড়ী বহরে ব্রাশ ফায়ারে আহত ও নিহতদের স্মরণে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) অত্যান্ত মর্মাহত ও শোকাহত। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এই হত্যা যজ্ঞের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যথাশীঘ্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তি প্রদানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

পানছড়ি ও লক্ষ্মীছড়িতে অস্ত্রের মুখে দুই ইউপি সদস্যকে অপহরণ  

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও লক্ষ্মীছড়িতে অস্ত্রের মুখে দুই ইউপি সদস্যকে অপহরণ করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। তবে এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মুখ খুলছে না। পুলিশ বলছে কেউ অভিযোগ করেনি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কঠিন কুমার ত্রিপুরাকে (৩৮) অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে উপজাতীয় যায় সন্ত্রাসীরা।

অপহৃত কঠিন কুমার ত্রিপুরা পানছড়ির রামসিং দেওয়ান পাড়ার অনিল কুমার ত্রিপুরার পুত্র। তবে পরিবারের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।

এদিকে একই দিন বিকেলে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়নের পেকুয়া পাড়া নামক স্থান থেকে ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার হেমন্ত চাকমা (৪৫)কে অস্ত্রের মুখে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে নিয়ে উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সে ছ্যাঁকাইয়া চাকমার পুত্র বলে জানা যায়।

নবনির্বাচিত লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী অপহৃত হেমন্ত চাকমাকে আওয়ামী লীগের কর্মী দাবি করে বলেন, ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করায় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করেছে। বিষয়টি থানায় মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

তবে লক্ষ্মীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার কেউ অভিযোগ করেনি বলে দাবি করেন।

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কাজ প্রক্রিয়াধীন, কোন কাজ বসে নেই: সন্তু লারমা

নিউজ ডেস্ক:

রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকাল ১১টায় রাঙামাটি সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান (অব:) বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা, রাঙামাটি চাকমা সার্কেল চীপ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, খাগড়াছড়ির মং সার্কেল চিপ সাচিং প্রু চৌধুরী, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, ভূমি কমিশনের সচিব মো. আলী মনসুর ও  রেজিস্টার সাহাব  উদ্দিনসহ মোট ৭ জন উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ঘন্টাব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চলমান কার্যক্রম সক্রান্ত আলোচনা চলে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান (অব) বিচারপতি মো. আনোয়ার উল হক বলেছেন, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্ভাস্তদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা এইগুলো যাচাই-বাছাই করবো। ভূমি প্রদানের মাধ্যমে ভূমি কমিশনের কাজ শুরু করা হবে। বিধিমালা প্রণয়নের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। হাতে পেলেই কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া রাঙামাটি ও বান্দরবানে দ্রুতই ভূমি কমিশনের দুটি শাখা অফিস খোলা হবে। শাখা অফিসের জন্য কাজ প্রক্রিয়াধীন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) ভূমি কমিশনের প্রবিধান দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, আজকে আমরা যথাযথ ভাইবেই আলোচনা করেছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কাজ কোনটি বসে নেই। সব কাজ প্রক্রিয়াধীন। কমিশনের কাজ আরও তরান্বিত করা দরকার। প্রবিধান প্রণয়ন না হলে কাজ দ্রুত আগানো যাবে না। এ ছাড়া ভূমি কমিশনকে দ্রুত কার্যকর করতে লোকবলও নিয়োগ দিতে হবে। এটার দায়িত্ব সরকারের। এটা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজ এগিয়ে নিতে পারব না।

চাকমা সার্কেল চীপ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, ভূমি কমিশনের একটি খসড়া বিধিমালা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে এবং বিধিমালা প্রণয়নের জন্য আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানয়েছি। এটি বাস্তবায়ন হলে পার্বত্যবাসী কাজের অগ্রগতি দেখতে পাবে। আশা রাখছি, ভূমি কমিশনের একটি খসড়া বিধিমালা অতি দ্রুতই কার্যকর হবে।