লামায় সিডিএসপি বিডি আওতায় শিশুদের মাঝে পুষ্টি প্যাক বিতরণ

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলাস্থ আজিজনগর ইউপির চিউনীপাড়া এলাকায় সিডিএসপি বিডি-৫১২ প্রকল্পের আওতায় ২১২ জন নিবন্ধনকৃত শিশুদের মাঝে পুষ্টি প্যাক বিতরণ করা হয়েছে ।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চিউনী পাড়ায় সমাজের অবহেলিত দুস্থ পরিবারের শিশুদের মাঝে এই পুষ্টি সামগ্রী বিতরণ করা হয়। চোয়ারম্যান জন বাহাদুর এিপুরার সভাপতিত্বে পুষ্টি প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুর এ জান্নাত রুমি, বিশেষ অতিথি ছিলেন ৮নং অজিজ নগর ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন কোম্পানীসহ প্রকল্প পরিচালনা কমিটির সদস্যগন উপকারভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গণ ।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, এলাকার দুস্থ জনসাধারনের পাশে সিডি এসপি বিডি তাদের প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে । আর তার মাধ্যেমে উপকৃত হচ্ছে অনেক গরীব দুস্থ শিশু । ভবিষ্যতেও সিডি এসপি বিডির মত সকল প্রতিষ্ঠান সমাজের সকল অবহেলিত শিশুদের পাশে এই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিবে বলে অতিথিরা আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে এলাকার ২১২ জন শিশুর মাঝে খাদ্য পুষ্টি প্যাক বিতরণ করা হয় ।

রামগড়ে অটো রিক্সা ভাংচুর, ইউপিডিএফ কর্মী আটক

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা  চাঁদার দাবিতে  সিএনজি চালিত একটি যাত্রীবাহি অটোরিক্সা ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় বিজিবি ইউপিডিএফের এক কর্মীকে আটক করেছে।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের গরুকাটা নামক দুর্গম এলাকায় ভাংচুরের এ ঘটনা ঘটে।  জানা যায়,  সকালে খাগড়াবিল বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে গরুকাটায় পৌঁছলে ৩-৪ জন সশস্ত্র উপজাতি সন্ত্রাসী অটোরিক্সাটি আটক করে। তারা চালকের কাছে চাঁদার টোকেন দেখতে চায়।

তাৎক্ষনিকভাবে টোকেন দেখাতে না পারায় সন্ত্রাসীরা অটোরিক্সার চাবি কেড়ে নিযে চালক ফজলুর রহমান(২৩)কে ধারালো দা দিয়ে কোপাতে  চায়। এ সময় সে দৌঁড়ে পালিযে প্রাণ বাঁচায়।  সন্ত্রাসীরা অটোরিক্সাটি রাস্তার পাশের জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে ব্যাপকভাবে ভাংচুর করে। পরে অটোরিক্সা চালক সমবায় সমিতির নেতারা ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগ করে অটোরিক্সাটি উদ্ধার করেন।

খবর পেয়ে রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিযনের নাযেক সুবেদার রুহুল আমিনের নেতৃত্বে  বিজিবির একটি টহলদল  ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় । অভিযানকালে বিজিবি  গরুকাটা এলাকা থেকে অনিল বাবু চাকমা প্রকাশ রঙ্গিলা(২০) নামে ইউপিডিএফের  এক কর্মীকে আটক করে।  পরে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়। রামগড় থানার  ওসি তারেক মো: আব্দুল হান্নান জানান, এ ব্যাপারে থানায়  একটি মামলা রুজু হয়েছে।

জানা যায়,  রামগড় ও আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন সড়কে যাতায়াত  করা অটোরিক্সাগুলোর  প্রতিটি বাৎসরিক এক হাজার টাকা হারে চাঁদা  দিতে হয়।  চাঁদার টাকা পরিশোধ করে অটোরিক্সার মালিকরা ইউপিডিএফের কাছ থেকে টোকেন সংগ্রহ করেন।

লংগদুতে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

লংগদু প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসভায় উপস্থিত ছিলেন, আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যগণ ও  কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, হেডম্যান, বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গগণ।

আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রবীর কুমার রায়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তোফাজ্জল হোসেন।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নাছির উদ্দিন, লংগদু থানা অফিসার ইনচার্জ রঞ্জন কুমার সামন্ত, গুলশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু নাছির, লংগদু প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ এখলাস মিঞা খান, গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ  কমপ্লেক্সের সুপার মাওলানা হাফেজ ফোরকান আহম্মদ।

সভায়, লংগদু থানা অফিসার ইনচার্জ রঞ্জন কুমার সামন্ত বলেন, সারা দেশে মাদক দ্রব্য রোধে কঠোর অবস্থানের সাথে মিল রেখে লংগদু উপজেলায়ও মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে থানায় মাদক দ্রব্য বিষয়ে চারটি মামলা হয়েছে।

তিনি মাদকের পাশাপাশি বাল্য বিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

লংগদু প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ এখলাস মিঞা খান বলেন, দীর্ঘদিন লংগদুতে নির্বাহী অফিসার না থাকায় জনসাধারণ তথা বিভিন্ন কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল কাজে-কর্মে ব্যাঘাত হয়েছে। বর্তমানে নবাগত ইউএনও আসায় উপজেলা প্রশাসনে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।

গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সুপার মাওলানা হাফেজ ফোরকান আহম্মদ বলেন, লংগদুতে বৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহকগন ভৌতিক বিলে জর্জরিত। দীঘিনালা বিদ্যুৎ বিতরণ লোকজন লংগদুতে বৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মিটারের কোন রিডিং না দেখে বিল করে এতে মিটারের তিনগুন বেশি রিডিংয়ের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ইভটিজিং,যৌতুক, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার স্বার্থে জাতি, ধর্ম, বর্ণ দল মত নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ভ্রাতৃত্ব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি সকলের প্রতি সহযোগিতা কামনা করেন।

লামায় ভেজাল পণ্য রাখার দায়ে দোকানিকে মোবাইল কোর্টের জরিমানা

 

লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলাস্থ আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি মফিজ বাজার এলাকায় নিত্যপণ্য ও ভোগ্য পণ্যসমূহের বাজার দর স্থিতিশীল রাখাসহ জনসচেতনতা সৃষ্টিকরণের লক্ষে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুর এ জান্নাত রুমি এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানকৃত দোকানসমূহে ট্রেড লাইসেন্স না রাখা, ভেজাল/মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত পণ্য রাখা এবং অননুমোদিত জ্বালানী তেল বিক্রয়ের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন-২০০৯ এর আলোকে ১জন দোকানিকে ২,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এসময় উপস্থিত বাজারস্থ সকল দোকানিসহ বাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ক্রেতাসাধারণকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন-২০০৯ যথাযথ পালনের জন্য সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

মাতামুহুরী নদীর তান্ডবে বিলীন জনবসতি ও সড়ক : যাতায়তে দুর্ভোগ অর্ধলক্ষ জনগোষ্ঠী

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিগত ২০ বছর ধরে নদীর অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে মাতামুহুরী নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের শীল পাড়ার অন্তত ২০০ বসতবাড়ি। বসতবাড়ি হারানো এসব পরিবার মাথা গোঁজার জন্য ভূমি না থাকায় অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শীল পাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি মন্দিরও।

বর্তমানে শীল পাড়ার অবশিষ্ট যেসব বসতবাড়ি (প্রায় ৫০ পরিবার) বিদ্যমান রয়েছে তাও ভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতোমধ্যে এই পাড়ার ওপর দিয়ে বিদ্যমান সাহারবিল শীল পাড়া সড়কটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যে সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করেন আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী । সেই সাথে এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীও। কিন্ত এই সড়কটি নিয়ে কারোরই যেন মাথাবাথ্যাও নেই।

মাতামুহুরী নদীর করাল গ্রাসে পড়ে ভাঙন অব্যাহত থাকায় একেবারেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে শীল পাড়া সড়কটিতে। এতে যাতায়তে বাড়ছে চরম দুর্ভোগ। এই অবস্থায় সড়কটির উপকারভোগী এবং শীল পাড়ার ৫০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মাতামুহুরীর ভাঙনের মুখে আতঙ্কিত শীল পাড়ার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, গত ২০ বছর ধরে মাতামুহুরী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটে হারিয়েছেন প্রায় ২০০ পরিবার। বর্তমানে এসব পরিবারের কেউ কেউ অন্যত্র গিয়ে বাসাবাড়ি নিয়ে এবং কেউবা জায়গা ক্রয়ের মাধ্যমে বসতি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। আবার অনেকেই বাপ দাদার ভিটেবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে এখন পথের ভিখারীর মতো উদ্বাস্ত মতো জীবন যাপন করছেন।

বিমল হরি সুশীল নামের এক বয়োবৃদ্ধ বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীটি বর্তমানে যে স্থানে বহমান রয়েছে, মূলত সেখানেই ছিল আমাদের শীল পাড়ার বেশিরভাগ অংশ। গত ২০ বছরে এই নদীর দুই তীরে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে পুরো শীল পাড়াই যেন নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আমাদের পাড়ার অবশিষ্ট ৫০ বসতবাড়িও আর রক্ষা করা যাবে না। কেননা এই পাড়ার মাঝখান দিয়ে চলমান শীল পাড়া সড়কটিও ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এতে অন্যের বাড়িভিটের ওপর দিয়ে কোনমতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে নদীতীরের ভাঙন ঠেকাতে গাছ পুঁতে দিয়ে তার ওপর তক্তা বিছিয়ে চলাচল সচল রাখলেও চলতি বছরের প্রথম বন্যার ধাক্কায় সেই তক্তার রাস্তাও নদীতে তলিয়ে গেছে।

’বিমল হরির মতো ওই পাড়ার আরো বেশ কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের কপাল বড়ই খারাপ। কেননা গত ২০ বছর ধরে শীল পাড়া মাতামুহুরী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়লেও কোন জনপ্রতিনিধি সেই ভাঙন ঠেকাতে তেমন কোন উদ্যোগই নেননি।

সাহারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন মঞ্চ’র প্রধান সমন্বয়ক আবুল মাসরুর আহমদ বলেন, ‘ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি সাহারবিল ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দু সসম্প্রদায়ের একটি বড় পাড়া ছিল। যা শীল পাড়া নামেই পরিচিত। গত ২০ বছরে অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে এই পাড়ার প্রায় ২০০ পরিবার ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট থাকা পরিবারও ভাঙনের কবলে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই পাড়ার মাঝখান দিয়ে গেছে শীল পাড়া সড়কটিও। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তাছাড়াও চকরিয়া আনওয়ারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, বাটাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বি.এম.এস উচ্চ বিদ্যালয়, জি.এন.এ মিশনারী উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের অন্তত ৫ হাজার শিক্ষার্থী এ সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু বর্তমানে সড়কটিও নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার কারনে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল বলেন, ‘আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল মাতামুহুরী নদীর ভাঙন থেকে শীল পাড়া এবং সড়কটি রক্ষা করার। চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর পরই আমি এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ডিও লেটার নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন জানাই। সেই আবেদন বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়ে প্রতিবেদনের জন্য আসে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে। এসময়ের মধ্যে একবারের জন্যও নির্বাহী প্রকৌশলী বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তাই সাহারবিলের অন্যতম সমস্যা মাতামুহুরী নদীর এই ভাঙন এলাকা পরিদর্শনও করেননি। এরইমধ্যে বহুবার যোগাযোগ করেও কোন ফল আসেনি।’

চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল বলেন, ‘শুধুমাত্র মাটি ফেলে এই ভাঙন ঠেকানো যাবে না। তাই আবেদনে আমি উল্লেখ করেছিলাম এই ভাঙন ঠেকাতে হলে সিসি ব্লক দ্বারা মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ করতে হবে। তা না হলে কোন কাজেই আসবে না। তাই বিষয়টি নিয়ে আমি এখন থেকে আরও বেশি তৎপর হবো। কেননা সাহারবিলের চার নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু সম্প্রদায়ের শীল পাড়ার অবশিষ্ট পরিবারগুলোকে যে কোনভাবেই রক্ষা করতে হবে।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম বলেন, ‘সাহারবিলের চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল আমার কাছ থেকে ডিও লেটার নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। মাতামুহুরীর করাল গ্রাস থেকে শীল পাড়ার বসতবাড়ি ও সড়কটি রক্ষায় আমিও ব্যক্তিগতভাবে তদবির শুরু করেছি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের কাছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিব কবির বিন আনোয়ার এবং প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শামছুল করিম ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন পোল্ডার এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিদর্শনে আসলে তাদের কাছে নানা সমস্যা তুলে ধরেছি এবং অচিরেই এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।’

জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের চকরিয়া শাখা কর্মকর্তা (এসও) মো. তারেক বিন সগির বলেন, ‘উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের শীল পাড়া সড়কটি মাতামুহুরী নদীতে বিলিন হওয়ার বিষয়টি সত্য। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। হয়তো বর্ষা শেষ হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ভাঙন ঠেকাতে।

চকরিয়ায় মোটর সাইকেলের ধাক্কায় শিশু ছাত্রী নিহত

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজার-চট্রগ্রাম মহাসড়কে চকরিয়ায় মোটর সাইকেলের ধাক্কায় সুরাইয়া আফিফা কণা (৬) নামের এক শিশু ছাত্রী নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার মহাসড়কের নলবিলা চেকপোস্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছাত্রী উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাটস্থ জহির পাড়া এলাকার মোহাম্মদ নাছিমের কন্যা ও চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের নার্সারী বিভাগের শিক্ষার্থী।

সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকালে নিহত শিশু কণা স্থানীয় একটি দোকানে বাজার করতে যায়। বাজার করে বাড়িতে ফিরে এসে জানতে পারে দোকানদার তাকে অবশিষ্ট টাকা ফেরত দেন নি। পূনরায় সে অবশিষ্ট টাকা ফেরত আনতে দোকানে যাওয়ার পথে কক্সবাজার মহাসড়কের নলবিলা চেকপোস্ট এলাকায় আকস্মিক ভাবে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটর সাইকেলের সাথে ধাক্কা দিলে সে রাস্তা থেকে খাদে পড়ে যায়।

ওই সময় স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা আহত শিশু শিক্ষার্থী কণাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চকরিয়া জমজম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) প্রেরণ করেন।

প্রতিমধ্যে হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশু ছাত্রীর মৃত্যু হয়। শিশু ছাত্রী নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা কাইছার। তিনি ঘাতক মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা হল ৩৬ সর্পদংশন রোগীর

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার :
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সর্পদংশনের শিকার ৩৬ রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী পরিচালক ডা: সোলতান আহমেদ সিরাজী। সাপে কাটা রোগী নিয়ে কক্সবাজারে এখন কোন টেনশন নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা হাসপাতালে নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে এক অনুষ্ঠানে।
প্রথম বারের মত কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবসের সভায় এ তথ্য দেয়া হয়। এতে সুদীর্ঘ কাল ধরে সাপে কাটা রোগী নিয়ে গবেষণা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রফেসর ডা: এম এ ফয়েজ এর লিখা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা: সায়কা।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এমন উপর প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করেন আবাসিক চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহজাহান। আলোচনায় অংশ নেন, নাক কান গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: এম এ কামাল, লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: এবিএম আদনান এবং মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা: রেজাউল করিম মনসুর, ডা: শাকিল ওয়ায়েজ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ ইউনুস।
আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও ইনফেকশন বিশেষজ্ঞ ডা: মোহাম্মদ শাহ জাহান।

২৫০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতাল

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতাল ২শত ৫০ শয্যায় উন্নীত হতে যাচ্ছে। সরকারের দেশ ব্যাপী জনগনের জন্য উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসা সেবার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালকে এ উন্নয়নের অনুমোদন দিয়েছে। ফলে রাঙ্গামাটি জেলার কোন রোগীকে তেমন আর বাইরে যেতে হবেনা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্র জানায়, জনসাধারনের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাঙ্গামাইট সদর হাসপাতালের ভবন নির্মানের জন্য প্রথম ধাপে ২০কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে। ভবন নির্মানে নকশার কাজ দেরী হওয়ার কারনে মূলকাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। নকশার কাজ শেষ হলেই খুব শীগ্রই হাসপাতলটি ১০ তলা ভবনের কাজ শুরু করা হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, এ সরকারের আমলে রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল ১শ’ শয্যা থেকে এখন ২শত ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র আরও জানান, ১০তলা ভবন পর্যাক্রমে উঠবে আর সাথে সাথে বরাদ্দও বাড়বে।১০তলা ভবনে থাকবে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, উন্নতমানের ল্যাব, উন্নত এক্স-রে, আল্ট্রাসনো গ্রাফী ও ইসিজিসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি। রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালটি হবে পরিপূর্ণ একটি আধুনিক হাসপাতাল। ২শত ৫০ শষ্যা হাসপাতাল চালু করা হলে রাঙ্গামাটিতে স্বাস্থ্যসেবা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। রাঙ্গামাটির মানুষ আর কষ্ট করে উন্নত চিকিৎসা ও উন্নত পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম যেতে হবে না। এখানেই পাবে স্বাস্থ্য সেবার সকল প্রকার উন্নত চিকিৎসা।

এছাড়াও ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক পরিবর্তনও হয়েছে। হাসপাতালে এসেছে নতুন এ্যাম্ভুলেন্স, নতুন এক্সরে মেশিন, ল্যাবের জন্য বাইনো কালার মাইক্রোসকোপ (রক্ত) পরীক্ষার মেশিন, এ্যানেলাইজার (ল্যাবেরজন্য) মেশিন ও নতুন আল্ট্রাসনোগ্রাফী মেশিন। এখন আর আল্ট্রা, এক্স-রে ও ইসিজির করার জন্য রোগিদের শহরের বাইরে যেতে হয় না।

এদিকে রাঙ্গামাটি জেলা বাসীর বহুদিনের দাবি সদর হাসপাতলটির শর্য্যা বৃদ্ধি করা হলে এবং চিকিৎসা সেবায় ডাক্তারের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে মানুষের কষ্ট দুর হবে। পার্বত্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক কোন ডাক্তারের সেবা পেত না। তাদের একমাত্র ভরসা ছিল কবিরাজি চিকিৎসা। তাতে জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির বাঁচার সম্ভাবনা থাকলেও তাও পারতো না। পার্বত্য চুক্তির পর তিন পার্বত্য জেলার দ্রুত উন্নয়নের কথা ছিল কিন্তু সেটা দ্রুত হয়নি রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতির কারনে। চুক্তির পর তিন জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটিকে মাদার ডিস্ট্রিক্ট বলা হয়। কিন্তু সেই অনুযায়ী সরকার পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির সার্বিক উন্নয়নের কথা বলা হলেও স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে বহুদুর পিছিয়ে।

এছাড়াও স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পার হলেও তিন পার্বত্য জেলায় মানুষের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে উন্নত কোন হাসপাতালও করা হয়নি। তাই চিকিৎসা সেবার দিক থেকে পার্বত্য জেলাগুলোর মানুষ পিছিয়ে পড়ে ছিল। তবে শুধু রাঙ্গামাটি নয় বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা সদরেও উন্নত শয্যার হাসপাতাল দরকার।

সিভিল সার্জন ও রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা. শহীদ তালুকদার জানান, রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় মানের দিক থেকে অনেক পরিবর্তন ও উন্নত হয়েছে। তার সুফল জনগণ পাচ্ছে হাসপাতালে তেমন কোন সমস্যা নেই বললেও চলে। তবে ১০তলা ভবন হয়ে গেলে রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্য বিভাগের দৃশ্য পাল্টে যাবে। তখন আর কোন রোগীকে কষ্ট করে চট্টগ্রাম যেতে হবেনা। তবে হাসপাতালে জনবলের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। জনবল নিয়োগে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষের নিকট তাগাদা নোট দেয়া হয়েছে। অচিরেই হাসপাতালে জনবল সংকটও দুর হতে পারে।

সিভিল সার্জন আরও জানান, জেলার প্রত্যন্ত দুর্গম উপজেলা রাজস্থলী, কাপ্তাই, বিলাইছড়িসহ তিন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ শষ্যায় উন্নতি করা হচ্ছে যা আগে ছিল ১০ থেকে ৩১ শয্যা। ইতিমধ্যে এসব উপজেলায় ভবনের কাজও শুরু হয়েছে। এসব ভবন এর উন্নয়নে প্রকল্প আকারে কাজ চলছে সেগুলো হলো ১৮মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। নতুন ভবনের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো চালু হলে প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকার মানুষের হাতের নাগালে থাকবে আধুনিক চিকিৎসা সেবা ও উন্নত পরীক্ষা নিরিক্ষা সেবা। এসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সিজারসহ ছোট অপারেশনও করা যাবে। এছাড়াও মজুদ থাকবে ঔষধ।

দুই লাইনে হচ্ছে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়ক

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পরিধি বাড়ছে। সড়কটি দুই লেন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান থেকে কেরানীহাট সড়ক বড় করতে ১শ ৯৬ কোটি বাজেট পাশ করা হয়েছে একনেকে, খুব দ্রুত এই সড়কের প্রস্থ বড় করার কাজে হাত দেওয়া হবে। নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার কারণে পর্যটন নগরী হিসাবে খ্যাত বান্দরবান পার্বত্য জেলায় গত ১০ বছরে পর্যটকের আগমন বেড়েছে, ফলে সেই হিসাবে বেড়েছে যানবাহন। কিন্তু যানবাহনের তুলনায় রাস্তার প্রস্থ বড় না হওয়ার কারণে গাড়িগুলো অনেক সময় দূর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে।

বান্দরবান থেকে কেরানীহাট সড়কটি বর্তমানে প্রস্থ আছে ৫.৫ মিটার (১৮ ফুট), এটিকে ৭.৩ মিটার প্রস্থ (২৪ফুট) বাড়ানো হবে। বান্দরবান থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত ২৭টি ব্রিজ রয়েছে, এর মধ্যে অন্তত ৩টি ব্রিজ নতুন ভাবে করা হয়েছে, অন্য ২১টি ব্রিজ ভেঙ্গে নতুনভাবে করা হবে। সড়কের দুই ধারে ২শ ৭০টি বিদ্যুতের পিলার রয়েছে, সেগুলো সরানোর জন্য ইতোমধ্যে পিডিবিতে প্রস্থাব পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের সব জেলার প্রধান সড়ক ডাবল লেন ও ফোর লেন হলেও বান্দরবানের প্রধান সড়কটি সবচেয়ে ছোট। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সময় বান্দরবান সফরে আসলে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পরিধি বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি দাবি করেন জেলার সাংবাদিকরা।

এব্যাপারে বান্দরবান সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সজীব আহমেদ বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে খুব দ্রুত এই সড়ক উন্নয়নের কাজ আমরা শুরু করবো, ফলে বদলে যাবে জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পার্বত্যাঞ্চলের জনগোষ্ঠির উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:
রাঙামাটি: রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেছেন, পার্বত্যাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরণ ও হেলথ ক্যাম্পে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তবব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডিসি মামুন আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষকে অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত করতে সরকারের কাজ করছে।  যাতে অন্যান্য দেশের তুলনায় পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ পিছিয়ে না থাকে। বিধবা ভাতা, বয়ষ্কভাতা, শিক্ষা ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতার মাধ্যমে সরকার বিভিন্নভাবে এ অঞ্চলের মানুষকে সহায়তা করে যাচ্ছে। তাই সরকারের এই উদ্দেশ্য সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাঙামাটি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জেলা কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীন, পৌর কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা, স্কুল হেলথ ক্লিনিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নিলুফার ইয়াসমিন।
‘শেখ হাসিনার বারতা-নারী-পুরুষ সমতা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে কর্মজীবি ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল কর্মসূচীর আওতায় মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরণ ও হেলথ ক্যাম্পে জেলার ৯টি ওয়ার্ডে ৮০০জন নারীকে ৩হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়।