কক্সবাজারে ৮০ লাখ ৫১ হাজার ৭৮০ টাকা রাজস্ব আদায়

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারে চার দিনব্যাপী আয়কর মেলা রবিবার (১৮ নভেম্বর) সম্পন্ন হয়েছে। মেলায় সর্বমোট ২১৫৩ রিটার্ন দাখিল হয়। চার দিনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮০ লাখ ৫১ হাজার ৭৮০ টাকা। টিন সনদ দিয়েছে ৫৩ টি।

গত ১৫ নভেম্বর কক্সবাজারস্থ বিয়াম ফাউন্ডেশনের ইনানী মাল্টিপারপাস হলে চার দিনব্যাপী আয়কর মেলা শুরু হয়ে ১৮ নভেম্বর সমাপ্ত হয়।

সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কর অঞ্চল-৪ চট্টগ্রামের কর কমিশনার মো. লুৎফুল আজীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান, বিয়াম ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার পাশা, কক্সবাজার কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট ছৈয়দুল হক।

সভাপতিত্ব করেন কর অঞ্চল ৪, চট্টগ্রাম এর পরিদর্শক যুগ্ম-কর কমিশনার মো. মাসুদ রানা। চার দিনের মেলায় আয়কর দাতাদের প্রচুর সাড়া মিলেছে। ভিড়ের কারণে শেষ দিনে অনেকে আয়কর রিটার্ন জমা করতে পারেননি। তাদের জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বিলম্ব জরিমানা বিহীন খুরুশকুল রাস্তার মাথা সংলগ্ন এস.কে টাওয়ারস্থ অফিসে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

মেলায় কর পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া, মো. জুনাইদ, আ.ন.ম হামিদ, মুহাম্মদ আমান উল্লাহসহ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

বাইশারীতে বিজিবির অভিযানে কাঠ ভর্তি ডাম্পার আটক

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে বিজিবির অভিযানে কাঠ ভর্তি ডাম্পার আটক করা হয়েছে। সোমবার(১৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বাইশারী-নারিচবুনিয়া সড়কের পিএইচপি রাবার বাগানের অফিসের সামনে থেকে এসব কাঠ ও ডাম্পারটি আটক করা হয়।

আটককৃত কাঠের মধ্যে রয়েছে অধিকাংশই আকাশমনি। আনুমানিক ধারনা করা হচ্ছে আটককৃত কাঠ ৭০ ফুটের মত হবে। যার বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা। আটককৃত ডাম্পারটির নাম্বার- চট্টমেট্টো-য়-৭৫৫।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবির নায়েব সুবেদার সামিউল হক জানান, বিজিবির নিয়মিত টহল দল বাইশারী বাজারে যাওয়ার পথে বাইশারী-নারিচবুনিয়া সড়কের পিএইচপি রাবার বাগানের অফিসের সামনে পৌঁছলে কাঠ ভর্তি ডাম্পার গাড়িটি দেখতে পেয়ে গাড়িটির গতিরোধ করলে কোন প্রকার বৈধ কাগজ পত্র দেখাতে না পারায় অধিনায়কের নির্দেশে কাঠ ভর্তি ডাম্পারটি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত কাঠ ভর্তি ডাম্পারটি আটকের পর নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবির ব্যাটালিয়ান হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

নায়েব সুবেদার সামিউল হক আরও জানান, কাঠ ভর্তি ডাম্পারটি জব্দ তালিকা তৈরির পর নাইক্ষ্যংছড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নুরে আলম হাফিজের নিকট হস্থান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন যাবৎ বাইশারী-ঈদগাঁও সড়ক ও বাইশারী-গর্জনীয়া সড়ক পথ দিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কাঠ পাচার করে আসছিল কাঠ চোরাকারবারীরা। প্রতিদিন এভাবে শত শত ঘনফুট কাঠ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পাচার হয়। স্থানীয়রা বিজিবির এই অভিযানকে সাধুবাদ জানান। আগামীতেও অবৈধ কাঠপাচারকারীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

অবৈধভাবে কাঠ পাচারকালে রাঙ্গামাটিতে ৭ পাহাড়ি আটক

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটিতে অবৈধভাবে কাঠ পাচারকালে ৭ পাহাড়িকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। আটকৃতরা হলেন, নিতন চাকমা (২২)  পূন্য রঞ্জন চাকমা (৪৫), আরবিল চাকমা (২৩), যতন তঞ্চগ্যা (২৮), মেরিগো তঞ্চগ্যা (৫৫), নলেজ তঞ্চগ্যা (৩৫), অন্তর তঞ্চগ্যা (২৬)।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) সকালে শহরের তবলছড়ি স্বর্ণটিলার এলাকা থেকে কাঠসহ তাদের আটক করা হয়েছে বলে বনবিভাগ সূত্র জানিয়েছে। আটককৃতরা সবাই রাঙ্গামাটি সদর বালুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

রাঙ্গামাটি বনবিভাগ সূত্রগুলো জানিয়েছে,  আটককৃত কাঠ ব্যবসায়ীরা গোপনে সেগুন, গামারি ও গর্জন গোল কাঠ ৩টি বোটে করে প্রায় ২৫০ ঘন ফুট কাঠ অবৈধভাবে পাচার করতে নিয়ে আসে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ি স্বর্ণটিলার এলাকায় অভিযানে নামে যৌথবাহিনীর একটি দল। এসময় কাঠসহ হাতে নাতে তাদেরকে আটক হয়। পরে রাঙ্গামাটি  সদর বন বিভাগকে খবর দেয়া হয়।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ কাঠসহ ৭ ব্যক্তিকে আটক করে যৌথবাহিনী আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হয়েছে।

অবশেষে বদির ঘরেই নৌকার টিকিট

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

অবশেষে মাইনাস হলেন দেশজুড়ে নানা বিতর্ক নিয়ে আলোচনায় থাকা সাংসদ আবদুর রহমান বদি। এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের টিকিট পাচ্ছেন বদির স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরী। আজ কালের মধ্যে দল থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

রবিবার(১৮ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দলটির নির্বাচনের মনোনয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। এনিয়ে সাংসদ বদি মুখ না খুললেও ইতোমধ্যে তিনিও বিষয়টি জেনে গেছেন।

জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদে ইয়াবা ইস্যুতে তুমুল বিতর্কে আছেন আবদুর রহমান বদি। এছাড়াও তার পেছনে লেগে আছে শিক্ষক পেটানো, প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত, সম্পদ গোপন করে কর ফাঁকিসহ আরও বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়। কর ফাঁকির অভিযোগে একবার কারাভোগও করতে হয়েছে বদিকে। বদির একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দলকে প্রতিনিয়ত বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ বদি বিরোধী। তারা প্রতিনিয়ত বদির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিষোদাগার করেন। কিন্তু এসব ছাপিয়ে বদির জনপ্রিয়তাও কম নেই উখিয়া-টেকনাফে। সাধারণ মানুষ তাকে (বদি) সুখ-দুঃখের বন্ধু হিসেবে চিনে। তাই দলের গুটি কয়েক নেতাকর্মী বিরোধীতা করলেও সাধারণ মানুষের দাবি ছিল বদিকে মনোনয়ন দেয়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগ আর সেই পথে হাঁটছে না। বিতর্ক এড়াতে বদির হাতে নৌকা দেওয়া হচ্ছে না এবার।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি হয়ে এ আসন থেকে ২০০৮ সালে ও ২০১৪ সালে পর পর দুইবার জাতীয় সংসদে যান আবদুর রহমান বদি। টানা ১০ বছর সাংসদ থাকার সুবাধে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন তিনি। কিন্তু ইয়াবা ও অন্যান্য ইস্যুতে তৈরি হওয়া বিতর্কগুলো শেষ পর্যন্ত তাঁর (বদি) জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে নৌকার মনোনয়ন।

দলটির কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাইছে তারা বিতর্কিত কোনো সাংসদকে দলের মনোনয়ন দেবে না। পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থীকে নৌকার মনোনয়ন দিয়ে অতীতের বিতর্কগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

এই আসন থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭ জন প্রার্থী নৌকার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে অন্তত ৪/৫ জন প্রার্থী দলগতভাবে শক্তিশালী। কিন্তু দলীয় অবস্থান শক্ত হলেও প্রায় সবারই জনপ্রিয়তায় ভাটা। কিন্তু সাংসদ বদির স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরী এক্ষেত্রে জনপ্রিয়তায় সবার এগিয়ে। এছাড়াও উখিয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে তিনি। উখিয়াজুড়ে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বিদ্যমান। সবদিক বিবেচনা করে শাহীন চৌধুরীকেই দলটি মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ তাকে মনোনয়ন দিলে একদিকে যেমন দল পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থী পাবে, অন্যদিকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন নিয়েও বিতর্কে পড়তে হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বদির জনপ্রিয়তাও তার স্ত্রীর ঝুলিতে যোগ হবে। তাই তাকে মনোনয়ন দিলে নৌকার বিজয় শতভাগ নিশ্চিত। তবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্তটি শেষ মুহুর্তে এসে পরিবর্তনও হতে পারে বলে জানিয়েছে মনোনয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রটি।

কে এই শাহীনা আক্তার চৌধুরী :

নৌকার মনোনয়ন পেতে যাওয়া শাহীনা আক্তার চৌধুরী কি শুধুই সাংসদ বদির স্ত্রী? না, তার আরও অনেক বড় পরিচয় আছে। শাহীনা চৌধুরী উখিয়ার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার বাবা নুরুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তার বড় ভাই হুমায়ুন কবির চৌধুরী জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতা। ছোটভাই জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং রাজাপাালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার চাচা হামিদুল হক চৌধুরী উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ। চাচী অর্থ্যাৎ হামিদুল হক চৌধুরীর স্ত্রী নিগার সুলতানা উখিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। শাহীনা আক্তার চৌধুরী ২০০৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ান। পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহীনা আক্তার চৌধুরী বলেন, ‘দল থেকে এখনো মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়নি। আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে নৌকার মনোনয়ন দেন, তাহলে নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য যা করার সব করবো।’

কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  সোমবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে লেমশীখালী আফাজ উদ্দিন সিকদার পাড়ায় পানি ডুবির এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার দুপুর একটার দিকে ওই গ্রামের ইসমাঈলের শিশু পুত্র সাকিব (২) বাড়ির পাশে খেলা করতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়।

সেখার থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটি মৃত বলে জানান।

‘সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের সকল সেবা আমাদের কাজে লাগাতে হবে‘

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেছেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ স্বাস্থ্য সেবায় যেভাবে এগিয়ে আসছে তা আমাদের সকলকে কাজে লাগাতে হবে।

পশ্চাৎপদ পার্বত্য এলাকার স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সরকারি/বেসরকারি সকলে সন্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামীতে মাতৃমৃত্যুর হার শূণ্যের কোটায় নিয়ে আসা যাবে। এজন্য বাড়িতে ডেলিভারি না করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেলিভারির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে শতভাগ ডেলিভারি নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সুস্থ থাকবে।

তিনি বলেছেন, পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমূহও বিরাট ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। সকলে সন্মিলিত ভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল প্রত্যন্ত এলাকায় পৌছে দিতে হবে। বেসরকারি এনজিও সংস্থা ইপসা’র উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়শী প্রশংসা করে বলেন, পানছড়িসহ পার্বত্য এলাকার প্রত্যন্ত এলাকায় ইপসা যেভাবে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে এতে সকলকে সহযোগীতা করতে হবে। তিনি পানছড়ি উপজেলাকে স্বাস্থ্য সেবায় বাংলাদেশের মডেল হিসেবে তৈরী করতে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন,  ইপসা-শো প্রকল্পের আওতায় মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সফল অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ পুরষ্কার বিতরণ ও সন্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো তুলে ধরেন।

পরিবার পরিকল্পনা, খাগড়াছড়ির উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়–য়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোহিদুল ইসলাম, পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সনজীব ত্রিপুরা, পানছড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সোহাগময় চাকমা, লতিবান ইউপি চেয়ারম্যান কিরন ত্রিপুরা, চেঙ্গি ইউপি চেয়ারম্যান কালাচাঁদ চাকমা, উল্টাছড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত চাকমা, পানছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি নতুন ধন চাকমা, ইপসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন, বিলাস সৌরভ বড়–য়া, টেকনিক্যাল অফিসার মো. হাবিবুর রহমান, ইপসা’র কর্মকর্তা মিহির কান্তি ত্রিপুরা, আব্দুল কাদের, বিউটি চাকমা প্রমূখ।

পরিবার পরিকল্পনা, খাগড়াছড়ির উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়–য়ার বলেছেন, ইপসা’র সাথে আমার যেন আত্মার সর্ম্পক। ইপসা পানছড়ি উপজেলাসহ প্রত্যন্ত এলাকায় যে সকল উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে তা এ এলাকার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি যে কোনো ক্ষেত্রে সবসময় ইপসা’র সাথে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে পানছড়ি উপজেলায় সফল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ব্যবস্থাপনা কমিটি, কমিউনিটি গ্রুপ, পিয়ার এডুকেটর, চেইঞ্চ মেকার সদস্য, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, নারী ও পুরুষ কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার, সিএসবিএকে পুরস্কার ও সন্মাননা প্রদান করা হয়।

এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে ১০জন দুস্থ্য প্রসুতি মাকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিরাপদ প্রসব সেবার খরচ বাবদ আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।

আলীকদমে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এডভোকেসি সভা

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও প্রচার সপ্তাহ/২০১৮ এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার(১৯ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সভাকক্ষে জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে এই এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

“প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বৃদ্ধি করি, প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নিশ্চিত করি’এই প্রতিপাদ্য বিষয় সামনে রেখে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, এম. দিদারুল আলম ও ডা. বেলাল উদ্দিন আহাম্মদ, মেডিকেল অফিসার, এমসিএইচ এন্ড এফপি এর উপস্থিতিতে এ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম।

এতে প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন এমসিএইচএন্ডএফপিও ডা. বেলাল উদ্দিন আহাম্মদ। এ্যাডভোকেসি সভায় আগামী ২৪-২৯ নভেম্বর পর্যন্ত পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের ওপর বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। প্রধান অতিথি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে নিজ খরচে ২টি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক বিলবোর্ড প্রদানের ঘোষণা দেন।

গুইমারায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

অনিয়ম

গুইমারা প্রতিনিধি:

অনিয়ম, দূর্নীতির আরেক নাম খাগড়াছড়ি’র গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়ায় উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে নান্দনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাহির থেকে অনেক সুন্দর হলেও ভিতরে দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে।

মূলত অভিযোগগুলো মাদ্রাসার সুপার জায়নুল আবেদিনের বিরুদ্ধে। মাদ্রাসার নিজস্ব দোকান প্লটসহ নানা ধরনের আয়ের উৎস থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কেলেংকারী নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলার একমাত্র দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুপার জায়নুল আবদীনের প্রতিহিংসা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ২০১৯ সালের শিক্ষার্থী দাখিল পরিক্ষার ফরম পুরণ করতে না পেরে শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পড়ার টেবিল ছেড়ে অনাগত ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়ার শংকায় দিশেহারা হয়ে মাকে সাথে নিয়ে ঘুরছে  বিভিন্ন মহলের দ্বারে দ্বারে।

এদিকে মাদ্রাসাটির ২০১৯ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী নুরুন নবীর  বিরুদ্ধে প্রেম করার অভিযোগ এনে বিগত ১৬মে ২০১৮ইং তারিখে কৌশলগত ভাবে বহিস্কার করান তিনি। নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে কিন্তু ক্লাস করতে পারবে না বলে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির  সভায় রেজুলেশন করানো হয়। এ সময়ে  ক্লাশ না করেই কিভাবে পরীক্ষায় কৃতকার্য হবে অভিভাবকদের এমন প্রশ্নে হুংকার দিয়ে সুপার বলেন, হোটেল কর্মচারীর ছেলে বেশী লেখাপড়া করতে হয় না । এরপর নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালে  অন্যের দোষ নুরুন নবীর গায়ে দিয়ে এক বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয় বলে পরিক্ষার্থীর মা অভিযোগ সূত্রে জানান। ক্লাস করার সুযোগ না দিয়ে ২০১৯ সালের দাখিল পরীক্ষার ফি ও বেতন নেওয়ার পরও ফরম ফিলাপ করতে দেওয়া হয়নি। ইতিপূর্বে আরও বেশ কিছু ছাত্রকে তিনি নানান অজুহাতে বহিস্কার করার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নুরুন নবীর মা জানান অন্যকথা ,তিনি আর সুপার ভাড়া বাসায় পাশাপাশি বসবাস করেন। মাদ্রাসার সুপারের স্ত্রীর রামগড়ে বেড়াতে গেলে রাত ৯টায় সুপার পানি নিয়ে তার ঘরে অনৈতিক উদ্দেশ্যে  ডেকেছেন। ইতিপূর্বে তার স্ত্রীর সাথেও মনোমালিন্য ছিলো তার। এসবের জের ধরে নানান অজুহাতে তারা গরিব বলে সুপার তাদের হয়রানি করছে। নির্বাচনী পরীক্ষার সময় ২৬০০টাকা দিয়ে অংশগ্রহণ করতে দিলেও ফরম ফিলআপের নামে আরও ৪২৪০ টাকা দাবি করছে। অসহায় মা দাবিকৃত টাকা দিতে না পেরে ঘুরছেন পরিচালনা কমিটির কর্তা ব্যক্তিদের দরজায়। এর পর কানপুল বিক্রি করে দাবিকৃত টাকাসহ গেলে সুপারের পারিবারিক ইস্যু টেনে স্বেচ্ছাচারি মনোভাব পোষন করে টালবাহানা করছেন বলে তিনি জানান।

বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম সহ অন্যান্য সদস্যরা ৫দফায় বৈঠক করলেও সুপারের কারণে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি বলে পরিচালনা কমিটির সদস্য সূত্রে জানাযায়।

পরিচালনা কমিটির সদস্য আনিসুল হক জানান, সুপার জায়নুল কমিটির কোনো কথা মানে না। শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। কমিটির সবাই একমত হলেও সুপারের কারণে ছেলেটি ফরম ফিলাপ করতে পারছে না। অপর সদস্য আবু তাহের লোকজনের উপস্থিতিতে জানান, অনেক অনুরোধের পরও  কাজ হয়নি তাই তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় পলাশ চৌধুরী জানান, সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মাদ্রাসার সুপার। তাঁর প্রতিবেশী গরিব শিক্ষার্থীর জন্য অনেক তদবির করেছেন, কিন্তু সুপার সরকারি নয় নিজের নিয়মে কাজ করায় দুঃখ প্রকাশ করেন। অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবকের অভিযোগ শুনে অনিয়ম পরিহারের অনুরোধ করেছেন কিন্তু সুপার কোনো কর্ণপাত করেনি। তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের তিনি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বাড়তি মার্ক দেওয়ার অভিযোগ করেন পলাশ চেীধুরী।

অপরদিকে ২০১৮সালে সুপারের ছেলে প্রেমের চিঠি ও নির্বাচনী পরীক্ষায় নকল সহ হল পর্যবেক্ষকের হাতে ধরা পড়ার পর নিজের ছেলে বলে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গরিব বলে অন্যদের শাস্তি অনেক ব্যতিক্রম।

এছাড়াও সুপারের নিজ এলাকা রামগড় গর্জনতলীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং তার নিকট আত্মীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময়ের জামাতের অন্যতম সংগঠক জায়নুলের অনিয়মের অভিযোগ নতুন বাজার মাদ্রসায় রয়েছে। সেখানে তিনি লাঞ্চিত হয়ে গুইমারা মাদ্রাসায় বর্তমানে স্থান নিয়েছে। তার চারিত্রিক বিষয়ে ও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

এছাড়াও বিগত জেডিসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলে প্রথম বারের মত ক্ষমা করা হয়। এর পর অনিয়মের মাত্রা বেড়েই চলছে।

২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ ব্যক্তিগত রোষানলের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র ৩গুণ অর্থ আদায় করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ফরম ফিলআপের সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন খাত দেখিয়ে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে সুপার।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গির আলম বলেন, ,তিনি অসুস্থ, বর্তমানে হাসপাতালে তবে পারিবারিক সমস্যা পরিহার করে  নুরুন্নবীকে ফরম পিলাপ করাতে তিনি সুপারকে  বলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত এসএসসি বিজ্ঞান ১৭৩৫ টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ ১৫৫৫টাকা।

একাধিক অভিভাবক সুত্রে জানা গেছে, বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী প্রতি ৪২৪০টাকা নিলেও দিচ্ছেন না রশিদ। কোনো অভিভাবক বা পরীক্ষার্থী এ ব্যাপারে মুখ খুললে তাকে পড়তে হয়েছে নুরুন্নবীর মত ঝামেলায়। এসব কারণে অভিভাবকরা হতাশাবোধ করছেন।

এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সরকারি নির্ধারিত ফি ৫০টাকার পরিবর্তে ৭৫জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০টাকা হারে আদায় করেছেন। প্রশ্ন করে পাওয়া যায়নি সঠিক কোনো উত্তর।

এ বিষয়ে গুইমারা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং সুপার সত্যতা স্বিকার করেছেন তবে নানান খাতও দেখেয়েছেন । কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা তিনি নেননি। অভিযোগ রয়েছে সুপারের সাথে শিক্ষা অফিসারের ব্যক্তিগত সখ্যতার।

অভিযুক্ত সুপার জায়নুল আবদীন বলেন, ৪২৪০টাকা নিয়েছেন, দুদক চাইলে উপযুক্ত হিসেব দিবেন। তবে এসকল বিষয়ে তাঁর বেতন বন্ধ বা চাকুরী যাবে না।

নদীগর্ভে বিলীন উপকূলীয় বাঘগুজারা-বদরখালী সড়ক, উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় কয়েকদফা ভয়াবহ বন্যায় ও বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ও অস্বাভাবিক ভাবে সামুদ্রিক জোয়ারের পানির তোড়ে উপজেলার উপকূলীয় কোনাখালী-বাঘগুজারা-বদরখালী সড়কটি অনেকাংশ নদীগর্ভে বিলীন।

এছাড়াও সড়ক ভেঙে হাজারো খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে বিগত দুই বছর ধরে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল ও যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী। বর্তমানে সড়কটির বেহাল দশা পরিলক্ষিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এলজিইডি কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোনো নজরদারী নেই। ভয়াবহ বন্যায় একের পর এক অভ্যান্তরীণ জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ডেমুশিয়া ও কোনাখালীর একাধিক পয়েন্টে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে বিশাল অংশ মাতামুহুরী নদীতে বিলিন হতে চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর নদীর ভাঙন রোধ থেকে সড়কটি রক্ষায় নেয়নি কোনো ধরনের উদ্যোগ। ফলে সড়কের ভাঙা স্থান দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে জনসাধারণ। ইতোপূর্বে এ সড়ক নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখনো টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের।

সরজমিন দেখা যায়, চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গা-জনতা মার্কেট হয়ে কোনাখালী ইউনিয়ন পর্যন্ত যান চলাচল উপযোগী থাকলেও কোনাখালীর বাঘগুজারাস্থ মাতামুহুরী নদীর উপর নির্মিত সেতু থেকে বাংলাবাজার হয়ে বদরখালী বাজার পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর তীর ঘেঁষেই সড়কটি চলে গেছে। যার ফলে প্রায় ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কের অন্তত ১কিলোমিটার পর্যন্ত অভ্যান্তরীণ এ সড়ক নদীতে বিলিন হয়ে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। তাছাড়া পুরো সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় খানা-খন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে যাত্রীদের। এতেই যান চালক-যাত্রীদের বেশি সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে ডেমুশিয়াস্থ ছয়কুড়িটিক্কার টেক ও কোনাখালী ইউনিয়নের ছড়াপাড়া, সিকদার পাড়াস্থ কাইদ্যারডিয়া ও বাংলাবাজার এলাকার পশ্চিমে সড়কের অর্ধেকাংশ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ায় মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পরিণত হয় সড়কটি। এসব স্থানে সড়ক একেবারে সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিও বেড়ে গেছে। বিভিন্ন ভাঙ্গন ও খানা খন্দকের ফলে বন্ধ হয়ে গেছে সম্পূর্ণ যান চলাচল। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলার উপকূলীয় কোনাখালী, ডেমুশিয়া ও বদরখালীসহ তিন ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক জনসাধারণ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, উপকূলীয় কোনাখালী-বাঘগুজারা-বদরখালী এ সড়কটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত মাতামুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে এ বাঁধটি সড়ক হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিগত ২০০৪ এবং ২০০৯ সালে দুই দফায় সড়কটিতে কার্পেটিং ও ঢালাই এর কাজ করে চলাচল উপযোগী করে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির মেরামত ও সংস্কার কাজে কেউ এগিয়ে না আসায় এ বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে ।এরই মধ্যে বিগত সময়ে একাধিকবার ভয়াবহ বন্যায় সড়কটি ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে আরও চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে সড়কটি।

কোনাখালী এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম ও শহিদুল ইসলাম জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কম করে হলেও প্রায় ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু সড়কটি দ্রুত মেরামতের ব্যাপারে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বিভাগ কোনো ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মাঝে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘ ৯বছর ধরে সড়কের বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ না করায় দিন দিন সড়কটি চলাচল অযোগ্য হয়ে বেহালদশায় পরিণত হয়ে পড়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দ্রুত সময়ে সংস্কার করতে সচেতনমহল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাতামুহুরী নদীর দুই তীরের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে দোকানপাট ও মাছের ঘের নির্মাণ করায় নদীতে পানির প্রবাহ বাঁধার মুখে পড়ে। এতে একদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি এবং অপরদিকে অস্বাভাবিক সামুদ্রিক জোয়ারের পানির তোড়ে সড়কটি বার বার ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চকরিয়া উপজেলা সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৪ প্রথম দফায় সড়কটিতে পিচ ঢালাই দেওয়ার পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এর পর ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় দেওয়া হয় পিচ ঢালাই। কিন্তু বিগত ৯ বছরের একাধিক ভয়াবহ বন্যা এবং অস্বাভাবিক সামুদ্রিক জোয়ারে সড়কটির অনেক স্থানে বিলিন হয়ে যায় নদীতে।

কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার জানান, কোনাখালীর বাঘগুজারা-বদরখালী সড়কটি মূলত আমার ইউনিয়নের রক্ষাকবচ। এটি বর্তমানে যানবাহন চলাচলের সড়ক হলেও একসময় ছিল নদীর বেড়ীবাঁধ। বিকল্প চলাচলের সুবিধার্থে এটিকে সড়কে রূপান্তর করেন এলজিইডি বিভগ। কিন্তু প্রতিবছর ভয়াবহ বন্যা এবং সামুদ্রিক অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে সড়কটি নদীতে বিলিন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এনিয়ে কোনো ধরনের মাথাব্যথা নেই। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো জনসাধারণ। নিত্যদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনাও। সড়কটি মেরামতের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বেশ কয়েকবার মৌখিক ও লিখিত ভাবে অবহিত করার পরও এখনো নেয়নি কোনো ধরনের উদ্যোগ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী কমল কান্তি শীল জানান, নদীতে তলিয়ে যাওয়া ও বন্যায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাওয়া সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাঘগুজারা সেতু থেকে বদরখালী পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত মেরামতের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বান্দরবানে ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানে ধুমপান ও তামাক জাত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট  অভিযান পরিচালিত হয়েছে ।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত সহাকারী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেদুয়ানুল হালিমের পরিচালনায় বান্দরবান বালাঘাটা বাজারে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয় ।

মোবাইল কোর্ট  পরিচালনায় এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সেনিটারি কর্মকর্তা সুশিলা কর্মকার। ময়লা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না করায় ২০০৫ এর ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১১ এর উপধারা ১ মোতাবেক বালাঘাটা শাহ মাজদিয়া সাতকানিয়া হোটেলকে নগদ ২ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয় এবং যদি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না করা করা না হয় পরিবর্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাকে সতর্ক করা হয় ।

এ সময় আশে পাশের অনান্য হোটেলগুলোকেও সতর্ক করা  হয় ।  দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষ  এসব খাবার হোটেলগুলো থেকে খাবার খেয়ে থাকি কিন্তু তা কি পরিবেশে রান্না করছে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি না , অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না করা এই সব খাবার খেয়ে সাধারণ জনগণকে নানা রোগের ভোগান্তিতে পরতে হয় । তাই ভালো পরিবেশে রান্না করা খাবার খেয়ে যাতে সবাই সুস্থ্য থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখে হোটেলের  মালিকদের ভালো পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খারার রান্না করার আহ্বান জানানো হয়।