image_pdfimage_print

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়েছে বখাটে

FB_IMG_1488205639255
মহেশখালী প্রতিনিধি : প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মহেশখালীর কালারমারছড়ার এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে কিরিচ দিয়ে সারা শরীরে কুপিয়ে জখম করেছে বখাটে।

মহেশখালীর কালারমারছড়া  আর্দশ দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ও ফকিরজুম পাড়ার মো. হোছাইন এর মেয়ে নাহিদা আক্তার (১৬) প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হোয়ানক পূর্ব হরিয়ারছড়া এলাকার মৌ. লোকমান হাকিমের পুত্র বখাটে জাহেদুল ইসলাম শনিবার বিকালে মেয়ের বাড়িতে অর্তকিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে কিরিচ দিয়ে ১০ থেকে ১২টি কোপ দিয়ে শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছে।  আহত নাহিদাকে প্রথমে মহেশখালী পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসাপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এঘটনায় মেয়ের চাচা হেলাল উদ্দিন  দাবী হয়ে জাহেদুল ইসলামকে প্রধান করে ৭ জনের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

দোষী জাহেদুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে মহেশখালীবাসী। মেয়েটির মুখে, মাথায়, বুকে, পেটে ও হাতে কিরিচের আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে। মেয়েটি বর্তমানে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চকরিয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম, ৬ জন গ্রেফতার

chakaria pic (biddalay) 26-2-2017
চকরিয়া প্রতিনিধি :
চকরিয়ায় স্কুলে যাওয়ার পথে বখাটে সন্ত্রাসীরা স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী পাপিয়া সুলতানা প্রিয়াকে প্রায় সময় উত্যাক্ত করে আসছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে বোনকে উত্যাক্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটেদের হামলায় গুরুতর আহত হয় ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্র রকিবুল ইসলাম হৃদয় (১২) ও তার বোন একই বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী পাপিয়া সুলতানা প্রিয়া (১৩)। তারা দুই জনই ফাসিয়াখালী রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চকরিয়া পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের নিজপানখালী গ্রামের মো. শাহ আলমের সন্তান। এ ঘটনায় ওইদিনই আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে ফৌজদারী অভিযোগ দায়ের করেন দুই শিক্ষার্থীর মা আমেনা বেগম। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওই বখাটেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নিজপানখালী গ্রামের মো. হানিফের পুত্র মো. ইব্রাহিম ও মো. ইসলাম, মোহাম্মদ আলীর পুত্র বোরহান, মো. এরফান ও মো. আরমান উদ্দিন, মৃত আবদু ছালামের পুত্র মোহাম্মদ আলী ও আবুল হোসেন, মো. হানিফের স্ত্রী জন্নাত আরা বেগমকে।

মামলার বাদী আমেনা বেগম জানায়, তার মেয়ে পাপিয়া সুলতানা প্রিয়াকে স্কুলে যাওয়া আসার সময় দীর্ঘদিন ধরে উত্যাক্ত করে আসছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী বখাটেদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত তা আমলে নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে মামলা হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করার নির্দেশ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বখাটে যুবকরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে তার স্কুল পড়ুয়া সন্তানদের অপহরণসহ বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। এরজের ধরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল ৯টায় তার সন্তানরা স্কুলে যাওয়ার পথে হত্যার চেষ্টায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।

আদালতে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানার আলোকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ২৭ ফেব্রুয়ারী সকালে অভিযান চালিয়ে মামলায় অভিযুক্ত মো. ইব্রাহিম, মো. ইসলাম, মো. এরফান, মো. আরমান উদ্দিন, আবুল হোসেন ও জন্নাত আরা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রামুতে মাদক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রীসহ আহত ৪

ramu pic 27.2.17
রামু প্রতিনিধি :
রামুতে মাদক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলায় একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছে। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাতটায় রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোনারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী অছিয়র রহমানের স্ত্রী মোহছেনা বেগম (৪০), মেয়ে রামু কলেজের ছাত্রী হাবিবা আকতার (১৮), আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আকতার (১৫) ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আসমিত আরা (১২)।

আহত মোহছেনা বেগমের পিতা ফজল কবির জানান, ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মনজুর আলম দীর্ঘদিন তার জামাতার অনুপস্থিতির সুযোগে বসত ভিটে দখল করে পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি নতুন টিনের বেড়া দিয়ে জামাতা অছিয়র রহমানের বসত ভিটে দখলের প্রক্রিয়া শুরু করে মনজুর আলম।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামাল জানিয়েছেন, সীমানা বিরোধের বিষয়টি মোহছেনা বেগম রাজারকুল ইউপি চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমানকে সম্প্রতি অবহিত করেন। এরই প্রেক্ষিতে ইউনিয়নের মেম্বার ও চৌকিদার গত রবিবার গিয়ে উভয়কে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানান এবং কয়েকদিনের মধ্যে চেয়ারম্যান বিরোধ নিরসন করবেন, এমন আশ্বাস দিয়ে আসেন।

আহত মোহছেনা বেগমের ভাই শহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেয়ায় মনজুর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে সোমবার সকালে মোহছেনা বেগমের বসত ভিটে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে মনজুর আলমের নেতৃত্বে পার্শ্ববর্তী এলাকার ভাড়াটে সন্ত্রাসী শাকিল বড়ুয়া, ছোটন বড়ুয়া, চুইঙ্গা বড়ুয়ারসহ একদল সন্ত্রাসী বাড়িটিতে হামলা ও ভাংচুর শুরু করে।

হামলাকারীরা মোহছেনা বেগমকে মাথায় দা দিয়ে কোপ দিলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে মাকে বাঁচাতে আসা তাঁর তিন মেয়ে হাবিবা, সাদিয়া ও আসমিত আরাকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। এঘটনার পর হামলাকারীরা সটকে পড়ে।

প্রতিবেশী লোকজন আহত মোহছেনা ও তার তিন মেয়েকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনারপর থেকে পলাতক থাকায় মনজুর আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে হামলার পর সকাল দশটায় রামু থানার এসআই আবুল খায়ের ও এসআই মুকিবুল ঘটনাস্থলে যান। এসআই আবুল খায়ের জানান, মাদক ব্যবসায়ি মনজুরের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাঙামাটি স্বেচ্ছাবেসক লীগের সাওয়াল সভাপতি, শাহজাহান সাধারণ সম্পাদক

Rangamati pic-27-02-17
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি :
সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ রাঙামাটি জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এতে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে মো. সাওয়াল উদ্দিন সভাপতি ও মো. শাহজাহান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে রাঙামাটি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য দীপংকর তালুকদার।

সম্মেলনে উদ্বোধক ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা আবু কাওছার। প্রধান বক্তা ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ এমপি। রাঙামাটি স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতাব্বর, জেলা পরিষদ সদস্য বৃষ কেতু চাকমা, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক হাজি কামাল উদ্দিন। সভা পরিচালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন আহবায়ক স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা।

আলোচনা সভা শেষে সম্মেলণের দ্বিতীয় পর্বে রাঙামাটি সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত হয় কাউন্সিল। এতে ১০ উপজেলা, দুই পৌর কমিটি ও জেলা আহবায়ক কমিটির ৮৫জন কাউন্সিলর প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন। সম্মেলনে সভাপতি পদে জামিল হোসেন, অলিভ চাকমা ইতিময় ও মো. সাওয়াল উদ্দীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে ৪৪ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন মো. সাওয়াল উদ্দিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অলিভ চাকমা ইতিময় ৩২ ভোট পান। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শাহজাহান ও মৌমিত বড়ুয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মো. শাহজাহান ৫১ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মৌমিত বড়ুয়া পেয়েছেন ৩৫ ভোট।

উল্লেখ্য প্রায় ১৯ বছর পর রাঙামাটি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।

পাহাড়ে ঢুকছে অস্ত্রের চালান

অস্ত্র

শাহজাহান আকন্দ শুভ ও ইউসুফ সোহেল:

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও কক্সবাজারের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দিয়ে অস্ত্র পাচার হয়ে আসার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে। ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি ছোট অস্ত্রের চালানও আসছে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে।

সম্প্রতি অবৈধ অস্ত্রের বেশকিছু চালান এসেছে ৩ পার্বত্য জেলার সশস্ত্র গ্রুপগুলোর কাছে। এই অস্ত্র হাতবদল হয়ে সমতলের জেলাগুলোয় যাচ্ছে। আবার ৩ পার্বত্য জেলায় তৎপর বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোর হাতেও পৌঁছাচ্ছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ গড়ে তারা নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করছে। চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা ধরনের অপরাধে ব্যবহারের মাধ্যমে পাহাড় অশান্ত করতে এ ধরনের অপতৎপরতা চলছে।

কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় অশান্তির দাবানল ছড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্র। তারা মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোকে নানাভাবে সংগঠিত হতে সহায়তাও করছে। আবার ৩ পার্বত্য জেলার সশস্ত্র গ্রুপগুলোকেও ইন্ধন দিচ্ছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও মিয়ানমারের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী/সন্ত্রাসী সংগঠনের সহায়তায় বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে প্রায়শই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাচার করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে তৎপর বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসব অস্ত্র আমদানি করে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু) অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছে। যা পার্বত্যাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য খুবই উদ্বেগজনক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এএলপির সহায়তায় জেএসএস-সন্তু গ্রুপের কাছে রাইফেলের একটি চালান ঢুকেছে। গত ৯ ডিসেম্বর মিয়ানমারের কারেন প্রদেশে এএলপির অর্থ সম্পাদক ১৬টি একে-৪৭ রাইফেলসহ ধরা পড়ে। যে অস্ত্রগুলোর গন্তব্য ছিল ৩ পার্বত্য জেলায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার জেএসএস সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান চ সা থোয়াই মার্মা ওরফে পক্সের ছোট ভাই মাং ব্রা এবং রুমা উপজেলার জেএসএস সভাপতি লু প্রুর মাধ্যমে অস্ত্রের একটি চালান আসার কথা রয়েছে ভারতের মিজোরাম থেকে। এ জন্য ৮ জনকে ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে চ সা থোয়াই মার্মা বলেন, একটি চক্র আগেও একবার আমাদের বিপদে ফেলেছিল। হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য চক্রটি ফের এ ধরনের অভিযোগ তুলছে; যা মিথ্যা, বানোয়াট ও দুরভিসন্ধিমূলক।

অভিন্ন মন্তব্য করে লু প্রু বলেন, ‘আমি টুকটাক ব্যবসা করে খাই। রুমা থেকে কোনো দুর্গম এলাকায়ও আমার যাতায়াত নেই। আমি একটি রাজনৈতিক দল করি। আমাদের কর্মকা- কোণঠাসা করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সন্তু) তথ্য ও সহ-প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, পার্বত্য ৩ জেলায় অবৈধ অস্ত্রের চালান আসছে তা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। তবে এর সঙ্গে জনসংহতি সমিতির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এ ধরনের যে খবর আসছে তা অনেকটাই অতিরঞ্জিত।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রের চালান এলে পার্বত্যাঞ্চলে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া অস্ত্রের চালান জেএসএসের আড়ালে অন্য কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী বা সংগঠন ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরাও আমদানি করে থাকতে পারে।

এসব অস্ত্র পার্বত্যাঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নাশকতার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের অস্ত্রের চালান যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সব গোয়েন্দা সংস্থাসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিবিড় এবং নিরবচ্ছিন্ন নজরদারিসহ সতর্কাবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে যৌথবাহিনীর সদস্যরা খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমাকে ১টি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি ও আমেরিকার তৈরি ১টি ফাইভ স্টার পিস্তলসহ আটক করে। সুপার জ্যোতি চাকমা স্থানীয় সংগঠন ইউপিডিএফের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ইতোমধ্যে তিনি জামিনে এসেছেন। অনুরূপভাবে ইউপিডিএফ এবং জেএসএস নেতাকর্মীদের কাছে অস্ত্রের মজুদ বাড়ছে বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মজিদ জানান, তার জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা দুর্গম হওয়ায় ওই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এখনো অরক্ষিত। বিভিন্ন নামে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে সেখানে। এর মধ্যে আরাকান আর্মি (এএ), আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সবচেয়ে বেশি অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এই ৩ সংগঠনের লোকবল এবং অস্ত্রশস্ত্রও বেশি।

এ ছাড়া ছোট-বড় আরও অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি গ্রুপ পাহাড়ে সক্রিয় রয়েছে। তাদের নানাভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল। এসব সংগঠন ছাড়া দেশীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপও পাহাড়ে অশান্তির আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৩৬৯ কিলোমিটার অরক্ষিত পাহাড়ি এলাকা ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সূত্র: আমাদের সময়

মহেশখালীতে পুলিশ-ডাকাত বন্দুকযুদ্ধঃ বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি উদ্ধার আটক ১

বন্ধুকযুদ্ধ

কক্সবাজার/মহেশখালী প্রতিনিধি:

কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি দাড়া খাল এলাকায় ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পুলিশ-ডাকাত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ৪ জন এসআই আহত হয়েছে। আহত অবস্থায় গ্রেফতার হয়েছে উপকূলীয় এক শীর্ষ ডাকাত। উদ্ধার হয়েছে বিপুল অস্ত্র ও গুলি।

ঘটনাস্থল থেকে মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান মহেশখালী সদর ও মাতারবাড়ি সংযোগ সড়কের দাড়া খাল এলাকায় দীর্ঘ দিন থেকে একটি শক্তিশালী ডাকাত সিন্ডিকেট তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। সন্ধ্যা নামলেই সুযোগ বুঝে এরা সড়কে নেমে পড়ে।

২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর এলাকার এই ডাকাত চক্রটি সড়কে ডাকাতির জন্য নেমেছে এরকম খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ ডাকাতদের চ্যালেঞ্জ করলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি চালাতে থাকে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে।

এক পর্যায়ে পুলিশ-ডাকাত বন্দুকযুদ্ধ লেগে যায়। একপর্যায়ে ডাকাতরা পিছু হটলে পুলিশ বেলাল উদ্দিন ওরফে ঝুনু ডাকাতকে গ্রেফতার করে। ঝুনু কালারমার ছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা এলাকার জনৈক আব্দুল গণির পুত্র। সে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ডাকাত বলে পুলিশ জানায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৯ টি অস্ত্র, ৩০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে। ওসি জানান বন্দুকযদ্ধের ঘটনায় পুলিশের তরফে ৩০ রাউন্ড ও সন্ত্রাসীরা ৩০-৩৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে।

এঘটনায় মাতারবাড়ির ডাকাত শামসু, নুর ইসলামসহ অনেকে পালিয়ে গেছে বলে জানাগেছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই মিনহাজ, এসআই জাহাঙ্গীর, এএসআই সঞ্জয় ও এসআই শাহআলম।

রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পুলিশের অপর একটি ইউনিট পলাতক ডাকাদের পাকড়াও করতে আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। মহেশখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

 

উখিয়ার মিজান কম্পিউটার সাইন্সে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ

 Pic Ukhiya 27-02-2017 copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার মেধাবী ছাত্র মিজানুল হক চৌধুরী হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ে প্রথম শ্রেণীতে পাশ করে গৌরব অর্জন করেছেন। সদ্য প্রকাশিত ফলাফলে উখিয়ার এ সন্তান মেধার স্বাক্ষর রাখেন।

ইতিপূর্বে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান শাখায় জিপিএ-৫ ও ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ লাভ করেন।

মিজান বর্তমানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত। উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়া গ্রামের আলহাজ্ব আবুল মনসুর চৌধুরী ও মাতা রেহেনা আক্তারের প্রথম সন্তান মিজান। কম্পিউটার বিষয়ে উচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন তিনি।

এ প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে দেশ ও জাতীর জন্য অবদান রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা রয়েছে তার।

রাঙামাটি শহরে সোনালী রেস্তোরা এন্ড বিরাণী হাউস’র উদ্বোধন

Rangamati Pic copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:

সুস্বাদু নির্ভেজাল খাবারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাঙামাটি শহরের নিউ কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় যাত্রা শুরু করেছে সোনালী রেস্তোরা এন্ড বিরাণী হাউস। সোমবার সকাল ১০টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান ফিতা কেটে রেস্তোরাটির উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

রেস্তোরায় সাধারণ খাবারের পাশাপাশি শাহী বিরাণী, শাহী হালীম, ফিরণী ভর্তাসহ দুপুর ও রাতের খাবারের স্পেশাল আইটেম পাওয়া যাবে।

রেস্তোরার স্বত্তাধিকারী নাজিম ফোরকান জানান, সাশ্রয়ী মূল্যে সুস্বাদু নির্ভেজাল খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি উন্নত মানের গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে সোনালী রেস্তোরা এন্ড বিরানী হাউসের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

কাপ্তাইয়ের বালুকিয়া ট্রাক চাপায় ইট শ্রমিক নিহত

কাপ্তাই প্রতিনিধিঃ

কাপ্তাইয়ের কারিগরপাড়া বালুকিয়া এলাকায় সোমবার বিকালে ট্রাক চাপায় ইটভাটার শ্রমিক আনোয়ার হোসেন (২৪)নামে একজন শ্রমিক মারা যায়।

এলাকা সূত্রে  জানা যায়, ওই শ্রমিক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছিল এ সময় পিছন দিক থেকে আসা  ইটভর্তি একটি ট্রাক চাপা দেয়। গুরুতর অবস্থায় দ্রত চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ওই শ্রমিক খাগড়াছড়ি জেলার  দীঘিনালার কুভাখালী বসবাস করে বলেও জানা যায়।

  রেঞ্জ অফিসের সামনে দিয়ে কাঠ পাচার, নিরব দর্শক বন বিভাগ

l 1 copy

লামা প্রতিনিধি :

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় লামা বন বিভাগের ডলুছড়ি রেঞ্জ অফিসের সামনে দিয়ে, গজালিয়া ইউপি ও আজিজনগরের বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে রাস্তা ব্রিজ কালভার্ট ধ্বংস করে বড় টি এক্স ট্রাক, ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে পরিবহন করে ফাইতং এ অবস্থিত অবৈধ ইট ভাটা ও তামাক চুল্লির জ্বালানী হিসাবে সরবরাহ করছে প্রভাবশালী লাকড়ি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।

এদিকে দফায় দফায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বনজ সম্পদ কাঠ জব্দ করা হলেও প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে অদৃশ্য শক্তির জোরে লাকড়ি পাচার অব্যাহত রাখছে সিন্ডিকেট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গজালিয়া ইউপির গাইন্দা পাড়া, মোহাম্মদ পাড়া, চেয়ারম্যান পাড়া ও ডিসি রোড এলাকার বাসিন্দারা জানায় অতিরিক্ত লাকড়ি ও পাথর বোঝাই বড় ট্রাক চলাচলের কারণে গজালিয়া বাজার হতে ডিসি রোড আসার রাস্তাটি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এলাকার জনসাধারণকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়, যা বর্ষাকালে মারাত্মক আকার ধারণ করে, ডিসি রোড় এলাকার বাসিন্দারা জানান প্রতি বছর ভারি যানবাহন পাথর ও লাকড়ী পরিবহনের কারণে লামা কেয়াজু পাড়া সড়কটির অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবাহী যানবাহনে চলাচল করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ইট ভাটায় ইট পোড়ানো ও তামাক চুল্লিতে তামাক কিউরিং শুরু হওয়ার সাথে সাথে জ্বালানী হিসাবে কাঠ ব্যবহারের জন্য গজালিয়া ইউপি ও আজিজনগর ইউপি হতে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি  ট্রাক্টরে করে লামার ফাইতং এর ১৫টি ইট ভাটা ও তামাক চাষীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ইট ভাটার চুল্লিগুলোতে সাধারণত গামারি, গর্জন, আকাশমনি একাশিয়া, রেইনট্রি ও বিভিন্ন ধরনের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এসব কাঠের অধিকাংশ ১০০ থেকে ১২০ টাকা মণ দরে কিনছেন ইট ভাটার মালিক ও তামাক চাষীরা

জানা গেছে, লামা উপজেলার কাঠ এখন লামা উপজেলায় সীমাবদ্ধ নেই; কক্সবাজারের, চকরিয়া এবং চট্রগ্রামের লোহাগাড়ার বিভিন্ন ইট ভাটায় পাঠানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগ সংরক্ষিত বনাঞ্চল অশ্রেণীভুক্ত বন ও সামাজিক বনের গাছ।

এ ব্যাপারে লামা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু তাহের মিয়া বলেন, কাঠ (লাকড়ি) পাচার বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী কয়েক বছরে লামার হাজার হাজার একর বনাঞ্চল বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়বে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চুল্লি মিস্ত্রি জানান ১২ লাইন প্রতি লাইনে ৫ হাজার করে মোট ৬০ হাজার ইট পোড়াতে দৈনিক ৬০০ হতে ৮০০ মণ লাকড়ির প্রয়োজন হয়। এ হিসাবে প্রতি মৌসুমে ১৮২ দিনে প্রতিটি ইট ভাটায় কমপক্ষে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৪ শত মণ লাকড়ির প্রয়োজন হয়।

এ ব্যাপারে লামা বন বিভাগীয় কর্মকর্তা কামাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের টহল টিম রয়েছে। তারা কাজ করছে। তারপরও অবৈধভাবে কাঠ পাচারের তথ্য পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব ।

তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, ইট ভাটায় কাঠের ব্যবহার দ্রুত রোধ করা না হলে সবুজে ঘেরা বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার প্রাকৃতিক সৈান্দর্য হারিয়ে যাবে।