প্রথমবারেই শতভাগ সফল গুলশাখালী বর্ডার গার্ড কলেজ


পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:
এইচএসসির মতো বড় পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থীর পাস করা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আর সেটি যদি হয় সেই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথমবার অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাহলে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য সেটা কতটা আনন্দ আর গর্ব বয়ে আনতে পারে তা বলে বোঝানোর মতো না। তেমনই আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে লংগদু উপজেলার গুলশাখালী বর্র্ডার গার্ড মডেল কলেজ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় গুলশাখালী কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৭ জন এবং মানবিক বিভাগের ২১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়, এটিই ছিল প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচ। ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩৮ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। সর্বোচ্চ সিজিপিএ ৩.৮৩ এবং ৩.০০ এর উপরে সিজিপিএ অর্জন করেছে ২১ জন শিক্ষার্থী। সারাদেশে যখন পাসের হার কমেছে এবং ৫২টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করেনি সেই সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন প্রতিষ্ঠিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ সফলতা প্রায় অকল্পনীয়, সে কারণেই আনন্দটাও বেশি। আর সেই খুশিতে ভাসছে এলাকাবাসীও।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজালিন আরেফিন জানান, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এই সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। তাই সকলের প্রতিই অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশেষ করে কলেজ পরিচালনা কমিটির সার্বক্ষণিক তদারকি না থাকলে এ অর্জন সম্ভব হতো না। শুরু থেকেই শিক্ষক সংকট ছিল। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে শিক্ষকদের চাহিদা পূরণ করাও কঠিন। তাই অনেকেই কিছুদিন থেকে অন্যত্র চলে যান। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস নেয়া অনেক সময়ই কঠিন ব্যাপার ছিল। তাছাড়া আইসিটি বিষয়ে প্রথম দেড় বছরের বেশি সময় কোনো শিক্ষকই ছিলেন না, শেষের দিকে আমরা একজন শিক্ষক নিয়োগ করতে পেরেছিলাম। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে একটা ভয় ছিল, শিক্ষার্থীরা তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে আবার খারাপ করে কিনা। কিন্তু না তারা কয়েক মাসের চেষ্টাতেই কৃতকার্য হতে পেরেছে। এখনো কলেজে আইসিটি বিষয়ে ব্যবহারিক ক্লাস করানোর মতো ল্যাব নেই, কোনো কম্পিউটারও নেই। তারপরও সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমাদের এই সফলতা এসেছে।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং গুলশাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের দিন। রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা গুলশাখালী। জেলা সদর তো দূরের কথা উপজেলা সদরের সাথেও আমাদের সড়ক যোগাযোগ নেই, নেই বিদ্যুৎ। এমন একটি এলাকায় কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব এটা ভাবাই কঠিন। তারপরও এলাকাবাসী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থনে আমরা এই কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে পেরেছিলাম। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা ছাড়া আমাদের পক্ষে এ প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করানো সম্ভব ছিল না। ২০১১ সালের ২৯ জুলাই তিনিই প্রথম এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন প্রজেক্টের আওতায় তিনি কলেজের ভবন, মাঠ, আসবাপত্রের ব্যবস্থা করেছেন। রাজনগর বিজিবি জোনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় ও তত্ত¡াবধানের ফলে আমাদের এই প্রচেষ্টা আজ সফল হয়েছে। তাই আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সেই সাথে ছাত্র, শিক্ষকদের প্রতিও তাদের সফলতার জন্য অভিনন্দন জানাই।

গুলশাখালী বর্ডার গার্ড মডেল কলেজের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং রাজনগর বিজিবি জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল এম এম গোলাম মোহায়মেন জানান, কলেজের প্রথম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীর কৃতকার্য হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল, আমরা প্রচুর সময় এবং শ্রম দিয়েছি। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরাও যথেষ্ঠ পরিশ্রম করেছে বলেই আজ এই সফলতা এসেছে। তবে এক কথায় বলতে গেলে, শিক্ষার্থীদের এই অভূতপূর্ব সফলতায় আমি খুবই অবাক হয়েছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সদ্য প্রতিষ্ঠিত কলেজ, সেখানে শিক্ষক সংকট, শিক্ষক হিসেবে যারা আছেন তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতাও নেই, ক্লাস রুমের সংকট, শিক্ষা উপকরণের সংকটÑ এত সংকটের মধ্যেও প্রথম ব্যাচেই শতভাগ সফলতা পাওয়া আমাদের ভাবনাতেও ছিল না। তবে ভালো কিছু করার প্রত্যয় ছিল, চেষ্টা ছিল আমাদের মধ্যে। সকলের প্রচেষ্টার সন্বয়ের কারণেই সেই অসম্ভবকে সম্ভব করা গেছে। বিশেষ করে গুলশাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, বর্তমান চেয়ারম্যান আবু নাছিরসহ এলাকাবাসীর সার্বিক সহায়তায় শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই এটা সম্ভব হয়েছে। প্রত্যাশা করি, প্রথমবারের এই সফলতা কলেজের ভিত্তিকে দৃঢ় করবে। আমাদেরকে আরও এগিয়ে যেতে সাহস যোগাবে।

কুতুবদিয়ায় পাশের হার সন্তোষজনক

 

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়ায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সদ্য ঘোষিত ফলাফল সন্তোষজনক। তবে বরাবরের মতো উপজেলায় সেরা ফলাফল করেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে কুতুবদিয়া টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ। ৬৫জন পরীক্ষার্থীর মাঝে পাশ করেছে ৬১জন। পাশের হার ৯৩.৮৪। উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে এ কলেজে।

এর পরে রয়েছে মাদ্রাসা বোর্ডের অধিনে আলিমে দুটি মাদ্রাসা থেকে ৯৯জন পরীক্ষার্থীর মাঝে পাশ করেছে ৮৯জন। পাশের হার ৮৯.৮৯। জিপিএ-৫ নেই। বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৬৫জনে পাশ করেছে ৫৮জন। ধূরুং ছমদিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৩৪জনে পাশ করেছে ৩১জন।

অপর দিকে উপজেলার একমাত্র সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুতুবদিয়া সরকারি কলেজে ৫৮৩জন পরীক্ষার্থীর মাঝে পাশ করেছে ৩৯৮জন। পাশের হার ৫৮.২৭। জিপিএ-৫ নেই। ৩ বিভাগেই ফলাফল সন্তোষজনক বলে মনে করছেন উভয কেন্দ্র সচিবগণ।

গাছের মতো উপকারী বন্ধু আর নেই: নাইক্ষ্যংছড়ি জোন কমান্ডার

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

শুধু গাছ লাগালে চলবে না, গাছের সঠিক পরিচর্যা করতে হবে। ইচ্ছামতো বন নিধন করা যাবে না। গাছ না থাকলে অক্সিজেন তৈরি হবে না। আর অক্সিজেন না থাকলে মানুষ বাঁচবে না। তাই গাছের মতো উপকারী বন্ধু আর নেই।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির উদ্যোগে বৃক্ষরোপন অভিযান ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে ১১বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মো. আনোয়ারুল আযীম এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বের পরিবেশ আজ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এর প্রধান কারণ অবাধে বৃক্ষনিধন। তাই সবাইকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশকে সবুজ দেশে পরিণত করতে হবে।

এ সময় ১১ বিজিবির মেডিকেল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জুনায়েদ হোসেন, সুবেদার মেজর আবদুর রহিম, নায়েব সুবেদার ছামিউল ইসলাম, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কাজল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সদস্য মোহাম্মদ ইউনুছ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচীর উদ্বোধন শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ১১ বিজিবি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান।

এদিকে ১১ বিজিবি সূত্র জানায়, বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১৪টি বিওপিতে (বর্ডার অবজারবেশন পোষ্ট) হাজারো গাছ লাগানো হবে। এছাড়াও ব্যাটালিয়ন ও সীমান্তে অবস্থিত বিওপিগুলোর পুকুর ও জলাশয়ে আট হাজারের অধিক মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে।

কাউখালীতে ৬ ছাত্রীর ভূতে ধরা নিয়ে তুলকালাম

কাউখালী প্রতিনিধি:

৬ ছাত্রীর একজন একটু হেঁসে উঠলেই বাকিরা খিলখিলিয়ে হেঁসে উঠছে। একজনের কান্নায় অন্যরা বিলাপ করছে। এমনকি একজন মাটিতে শুয়ে হাত-পা ছুড়লে বাকিরাও অবিকল তাই করছে। এ যেন একটি বৈদ্যুতিক বোতামে অনেকগুলো বাতি জ্বলার মতো!

কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে তা বলতে পারছেন না কেউই।

গত তিনদিন ধরে চলা এ ঘটনাটি রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরের মারমা পল্লী বড়ডলু মৈত্রী শিশু সদনের। চিকিৎসক নয়, চলছে স্থানীয় কবিরাজের মাধ্যমে তন্ত্র-মন্ত্রের কারসাজি। কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘তাদের ভূতে ধরেছে’!

ইউএনও জহিরুল হায়াত বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। চিকিৎসকের কাছে না আসায় বিষয়টি সন্দেহের উদ্রেক করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুইমিপ্রু রোয়াজা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। রবিবার ঘটনাস্থলে তদন্ত দল যাবে বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ওই ৬ মেয়ে যৌণ নিপীড়ণের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে থাকতে পারে। মূলত বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাবার ভয়ে চিকিসাকেন্দ্রে নেয়া হচ্ছেনা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান চৌধুরী বুধবার (১৮ জুলাই) ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছেন। তিনি বলেন, কিছু একটা লুকাতেই হয়তো চিকিৎসকের কাছে আনা হচ্ছেনা।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকালে ওই শিশু সদনে গিয়ে দেখা গেছে, মাটিতে গড়াগড়ি করছে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর ৬ শিক্ষার্থী। কবিরাজ ঝাঁড়ফুক করছেন। মাঝে মাঝেই মন্ত্র আওড়িয়ে লাঠি দিয়ে গুঁতোও মারছেন। নিঃশব্দে কিছুটা দূর থেকে কৌতুহলীরা তা দেখছেন।

মানসিক ভারসাম্যহীন ওই শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এদের দুই হাত ও বাহুতে বেত্রাঘাতের জখম দেখা যাচ্ছে। তবে ঘটনার পূর্বাপর নিয়ে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না।

উত্তর-দক্ষিণে ‘এল’ আকৃতির তিন কক্ষের বেড়া ও টিনের চালায় চলছে মৈত্রী শিশু সদন। দক্ষিণে ছাত্ররা ও মাঝেরটিতে প্রধান শিক্ষক থাকেন। আর মাঝের কক্ষের ঠিক পশ্চিম অংশে লম্বা কক্ষে থাকে ১৯ ছাত্রী। সরু গলি দিয়েই তাদের যাতায়াত। তবে পর্যাপ্ত আলো বাতাস না থাকায় কক্ষটি বেশ গুমোট হয়ে আছে। কোন জানালাও নাই।

মিশিচিং মারমা নামে এক ছাত্রীর বাবা মংকালা মারমা (৪৫) বলেন, ‘মেয়েরা খিচুনি দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। প্রলাপ বকছে। ভান্তেকে (প্রধান শিক্ষক) দেখলেই আঁৎকে উঠছে। চিৎকার করছে। কেঁদে উঠছে’।

শিশু সদনের প্রতিষ্ঠাতা স্থানীয় ইউপি মেম্বার পাইচামং মারমা বলেন, ‘মেয়েদের ভূতে ধরেছে। মৌলভি ও বৈদ্য (কবিরাজ) দিয়ে ঝাঁড়ফুক দিয়ে ভূত তাড়ানোর চিকিৎসা করছি। একটু ভালো হলেই মেয়েদের হাসপাতালে নিয়ে যাবো’।

নিজের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠিত শিশু সদনের প্রধান শিক্ষক অংচিনু মারমা। তিনি বলেন, ‘তিনদিন ধরে অবস্থার পরিবর্তন দেখছিনা। আমাকে দেখলেই মেয়েরা ভয় পাচ্ছে। মনে হচ্ছে, মেয়েদের ভূতে ধরেছে। এখন বৈদ্যের চিকিৎসা চলছে। ভীত অনেক শিক্ষার্থীকে এরইমধ্যেই পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে’।

৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী উমেচিং মারমা বলেন, ‘কালো রঙের ভূতে ধরেছে। তিনদিন ধরে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে আছে। খাওয়া দাওয়াও ঠিক মতো হচ্ছেনা। সবার মধ্যেই ভয় দেখা দিয়েছে’।

স্থানীয় চিংথোয়াই কার্বারী বলেন, ‘এ ঘটনায় জনমনে ভয় তৈরী হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীরাও ভয়ে আছে’।

দুপুরে এই প্রতিবেদক বিষয়টি জানালে ইউএনও জহিরুল হায়াত অসুস্থ্যদের দ্রুত কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাতে শিশু সদনটির পরিচালক পাইচামং মারমাকে টেলিফোনে নির্দেশ দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুইমিপ্রু রোয়াজা বলেন, বুধবার (১৮ জুলাই) বিকেলে অসুস্থ্য দুই মেয়েকে ভুতে ধরার কথা বলে আমার কাছে নিয়ে এসেছিল দুই যুবক। কিন্তু ভর্তির কথা বলায় তারা দ্রুত সটকে পড়ে।

খাগড়াছড়িতে হ্রাস পেয়েছে এইচএসসি পাশের হার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে এবারও হ্রাস পেয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাশের হার।

মোট ৭ হাজার ৪’শ ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২ হাজার ৬’শ ৮৬ জন। পাশের হার ৩৬.৫১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৮ জন। পাশের হার গত বছরের চেয়ে ৮.১২ শতাংশ কম। গত বছর পাশের হার ছিল ৪৪.৬৩ শতাংশ।

খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় মোট পরীক্ষার্থী ৭ হাজার ৪’শ ৪৩ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯’শ ৭০ জন ছেলে এবং ৩ হাজার ৪’শ ৭৩ জন মেয়ে। অনুপস্থিত ছিল ৮৭ জন। জেলায় জিপিএ-৫ এসেছে মাত্র ৮টি। এরমধ্যে ৬টি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবং ২টি মানবিক বিভাগ থেকে।

তিনটি বিভাগের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ৯’শ ৯৪ জন। এরমধ্যে ৬’শ ১০ জন ছেলে এবং ৩’শ ৮৪ জন মেয়ে। পাশ করেছে ৪৫৮ জন। এরমধ্যে ২’শ ৫৪ জন ছেলে এবং ২’শ ৪ জন মেয়ে। অনুপস্থিত ছিল ৬ জন। এই বিভাগে পাশের হার ৪৬.৩৬ শতাংশ। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ ৬টি।

মানবিক বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ৪ হাজার ৪’শ ৬৩ জন। এরমধ্যে ২ হাজার ১’শ ৯৮ জন ছেলে এবং ২ হাজার ২’শ ৬৫ জন মেয়ে। পাশ করেছে ১ হাজার ৩’শ ২৬ জন। এরমধ্যে ৫’শ ৮ জন ছেলে এবং ৮’শ ৮ জন মেয়ে। অনুপস্থিত ৬০ জন। পাশের হার ৩০.১২ শতাংশ। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ এসেছে ২টি।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৯’শ ৮৬ জন। এরমধ্যে ১ হাজার ১’শ ৬২ জন ছেলে এবং ৮’শ ২৪ জন মেয়ে। পাশ করেছে ৯’শ ২ জন। এরমধ্যে ৪’শ ৬৭ জন ছেলে এবং ৪’শ ৩৫ জন মেয়ে। পাশের হার ৪৫.৯০ শতাংশ।

‘মা-মাছ রক্ষায় জেলেদের এগিয়ে আসতে হবে’

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

‘মা-মাছ ডিম ছাড়ার পর পোনা মাছ বড় হলে তা সম্পদে পরিণত হবে। তাই হ্রদের মা-মাছ রক্ষায় জেলেদের এগিয়ে আসতে হবে’।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকালে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ মাছে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জেলা মৎস্য দপ্তর, বিএফডিসি ও বিএফআরআই এর আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও উদ্বোধনী আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এর আগে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ধোধন করেন।

এ সময় জেলা মৎস্য বিষয়ক আহ্বায়ক ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাধস মনি চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রনজিত কুমার পালিত, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মনোরঞ্জন ধর, বিএফআরআই’র ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. কাজী বেলাল হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াছিন প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মিঠা পানির মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করে অনেক জেলে স্বাবলম্বী হয়েছে।

এ সময় এশিয়ার বৃহত্তম কাপ্তাই হ্রদে ৩ মাস মৎস্য শিকার নিষিদ্ধ থাকাকালীন মাছ শিকার না করার আহ্বান জানান বক্তারা। পরে রাজবাড়ী জলযান ঘাটে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন অতিথিরা।

আলোচনা সভার আগে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ’ উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ হতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি গিয়ে মিলিত হয়।

কাপ্তাই ফলদ বৃক্ষমেলা জনশূন্য, বিক্রেতাদের মাথায় হাত

কাপ্তাই প্রতিনিধি:

কাপ্তাইয়ে তিন দিনব্যাপী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘ফলদ বৃক্ষরোপন পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী মেলা’ উপজেলার বড়ইছড়ি এলাকায় প্রতিবারের ন্যায় অনুষ্ঠিত হয়।

১৭ জুলাই উদ্বোধনের মাধ্যমে মেলার প্রদর্শনী কার্যক্রম শুরু হয়। প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবারও (১৯ জুলাই) ঢিলেঢালাভাবে সম্পন্ন হয়।

মেলাটি সরজমিনে ঘুরে আগত দর্শনার্থী ও নার্সারী প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের কৃষি মেলাটি ছিল দর্শনার্থী শূন্য, লোকজন নেই বলেই চলে। বেচাকেনাও শূন্যের কোঠায়। স্টলগুলো খালি পড়ে আছে। কোন ধরনের বেচা-বিক্রি নেই বলেই চলে।

দর্শনার্থী ফাররু, জামাল, কলেজ শিক্ষার্থী নুর ও গৃহিনী ঝর্ণা বেগম জানান, আমরা এ ধরনের সাদামাটা মেলা আর কখনও দেখি নাই, মেলাতে কিছুই নেই। কোন ধরনের আয়োজন নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের এ ধরনের আয়োজন নিয়ে হতাশ প্রকাশ করে হাটহাজারী ফতেয়াবাদ নার্সারী মালিক আব্দুল কাদের বলেন, যে টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে আসছি প্রদর্শনীতে সে টাকা তো উঠেই নাই, বাকি মালামাল আবার নিয়ে যেতে বাড়ি থেকে টাকা এনে যেতে হবে।

মুন্না-মুন্নি হর্টিকালচার নার্সারীর মালিক মো. ইউনুস, ইদ্রিছ জানান, লোকজন না থাকায় বিক্রয় নেই,
আমাদের মাথায় হাত। ভাতের পয়সা পর্যন্ত উঠে নাই। হতাশ প্রকাশ করে তারা জানান, পূর্বে আমরা এ ধরনের সাদামাটা জনশূন্য মেলা আর দেখি নাই।

এই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমিন বলেন, মেলাটি উপলক্ষ্যে আরও ব্যাপক প্রচার–প্রচারণার প্রয়োজন ছিল।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসার সামসুল আলম চৌধুরী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা তথ্য অফিস থেকে যতটুকু পেরেছি মাইকিং করেছি। ১২’শ টাকা তৈল খরচও দিয়েছি। তিনি জানান, ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩টি আসছে বাকিগুলো শূন্য পড়ে আছে। তবে কেন আসে নাই, তার কোন সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি।

পাহাড়ে চাঁদাবাজি-অপহরণ-গুম-খুনের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে দু’বাঙালি সংগঠনের সাংবাদিক সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

অপহৃত খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার তিন বাঙালি ব্যবসায়ীসহ গত কয়েক বছরে নিখোঁজ ২৮ বাঙালিকে উদ্ধার, পাহাড়ি সংগঠনগুলোর অব্যাহত চাঁদাবাজী, খুন ও গুম বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালি ছাত্র পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দাবি আদায়ে আগামী ২৪ জুলাই খাগড়াছড়িতে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচী ঘোষণার হুমকি দেওয়া হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, পার্বত্য অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান ও বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মাঈন উদ্দীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক এসএম মাসুম রানা, যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন, জেলা সাংগঠনিক পারভেজ আলম, খাগড়াছড়ি স:ক: আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম খলিল, সদস্য সচিব মো. রণি, টেকনিক্যাল কলেজ সভাপতি মো. সোহেল আরিয়ান, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তিন বাঙালি কাঠ ব্যবসায়ী হযরত আলী, মহরম আলী ও সালাউদ্দীন জেলার মহালছড়িতে কাঠ কিনতে গিয়ে অপহৃত হয়। অপহরণকারীরা মুক্তিপণের জন্য তাদের পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আদায় করে নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ৪ শত কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে অভিযোগ করে বলা হয়, উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো তাদের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড কায়েমের জন্য ও জাতিগত বিদ্বেষের বহি:প্রকাশ হিসেবে পাহাড়ে অব্যাহতভাবে বাঙালিদের ওপর জাতিগত হত্যা ও গুম এবং অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে।

নির্বিচারে গুলি করে পাখির মত মানুষ মারছে, তাদের গুলিতে গত ৪ মে প্রাণ দিয়েছে বাঙালি গাড়ী চালক মো. সজিব হাওলাদারসহ ৫ জন। তার একদিন পূর্বে হত্যা করা হয়েছে দুইজনকে। সজিব হত্যাকান্ডের কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি প্রশাসন। তাদের হাতে জিম্মি পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ।

গত ৩ মাসে গুলি করে হত্যা করেছে ১৭ জনের বেশি মানুষকে। এর পরিপেক্ষিতে প্রশাসনের কোন আশাব্যঞ্জক অভিযান ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।

সশস্ত্র উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এবং উপজাতি নেতৃবৃন্দের স্বাধীন জুম্মল্যান্ডের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালিদের তাড়ানোর জন্য বাঙালিদের অর্থনীতি ধ্বংসের খেলায় মেতেছে। তারই অংশ হিসেবে মে-২০১৮ইং হতে অস্ত্রের মুখে জেলার বৃহৎ পানছড়ি বাজারকে পরিচালনা করতে দিচ্ছে না উপজাতি সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস। গত দুইমাস যাবত পানছড়ি বাজারের দুইশত জনের বেশি স্থায়ী ব্যবসায়ী বাজার মিলাতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রশাসনের কোন প্রকার সহযোগীতা না পেয়েও বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে পণ্য আদান প্রদানের চেষ্টা করলে গত ২৮ জুন ব্যবসায়ীদের পণ্যবাহী গাড়ি ভাঙচুর করে, কুপিয়ে জখম ও আহত করে শুক্কুর আলী, সুজন ও ইমনসহ ৫/৬ জনকে।

পানছড়ি বাজার চালু করার জন্য চাঁদা হিসেবে ৫ কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে। যেমনটি করা হয়েছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারীতে লক্ষীছড়ি বাজার বর্জণ করে। পরে প্রায় ২ কোটি টাকা চাঁদার বিনিময়ে চালু করা হয় লক্ষীছড়ি বাজার। অদ্যবধি বাঘাইহাট বাজার চালু করতে পারেনি। এভাবে লাগাতার হত্যা-গুম-অপহরণ ও ধর্ষণ অব্যাহত থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা রোহিঙ্গাদের মত পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।

দুই বাঙালি সংগঠনের দাবিগুলো হচ্ছে, জেলার পানছড়ি বাজার চালুর জন্য সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীসহ সবার নিরাপত্তা বিধান করে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পানছড়ি বাজার চালু করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করা, মাইক্রোবাস চালক মো. সজিব হত্যাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির আওতায় আনা ও সজিবের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া, উচ্ছেদ হওয়া খাগড়াছড়ির বাবুছড়ায় সোনা মিয়া টিলার ৮১২টি বাঙালি পরিবার ও রামগড়ের সোনাই আগায় ১২০টি বাঙালি পরিবারকে তাদের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নিরাপত্তা বিধানে স্থায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা, তিন পার্বত্য জেলায় শিক্ষা, চাকুরী ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোটা বৈষম্য দূর করে জনসংখ্যানুপাতে সমান সুবিধা দেওয়া, বাঙালি ব্যবসায়ীদের অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক ৯.৫% শতাংশ একতরফা বৈষম্যমূলক কর বাতিল অথবা সকল সম্প্রদায়ের জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমান কর চালু করা, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সবুজবাগে অবস্থিত একমাত্র বাঙালি ছাত্রাবাসটি সংস্কার করে পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়া ও পর্যায়ক্রমে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ ও জেলার ১০টি কলেজে ১০টি বাঙালি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা।

‘ভোট চুরির উদ্দেশ্যে আ’লীগ কক্সবাজারকে অশান্ত করে তুলছে’

নিজস্ব প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, ‘ভোট চুরির উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ কক্সবাজারকে অশান্ত করে তুলছে’।

বিএনপি-জামায়াতের ৫৪ জন নেতা কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং হঠাৎ একটি ভোট কেন্দ্র পরিবর্তনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকালে কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা সম্পাদক এড শামীম আরা স্বপ্না, রাশেদ মুহাম্মদ আলী, এড আবুছিদ্দিক ওসমানী ও মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।

এ সময় লুৎফুর রহমান কাজল আরও বলেন, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কক্সবাজারের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে সরকারি দল অশান্ত করার চেষ্টা করছে।

ভোট চুরির উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ এসব করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা এসবের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই চালিয়ে যাব।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সাজাপ্রাপ্ত অাসামি গ্রেফতার

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকা এক সাজাপ্রাপ্ত অাসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া থানার অপারেশন ইনচার্জ এরশাদ উল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ডপ্রাপ্ত অাসামি নুরুল অামিনকে (৪৮) রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার করা হয়।

অাসামি নুরুল অামিনকে গ্রেফতারের পর পরই কক্সবাজার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এসঅাই এরশাদ উল্লাহ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নুরুল অামিনের মত অনেক দাগী অাসামি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অাত্মগোপন করে অাছে। তাদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।