মহেশখালীতে ১০ মামলার আসামি অস্ত্রসহ গ্রেফতার

মহেশখালী প্রতিরিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক পাহাড়ি এলাকা থেকে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুল কবির পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে দু’টি বন্দুক ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি ইউনিট হোয়ানক পাহাড়ের পুইছড়ি মরাঝিরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত এ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে একটি থ্রি-কোয়াটার গান ও একটি দেশিয় তৈরি লম্বা বন্দুকসহ দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসী নুরুল কবির ওই এলাকার মৃত জোনাব আলীর সন্তান। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতির ১০টি মামলা রয়েছে । বিগত সময় একাধিক অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
তার গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্থি ফিরে এসেছে।

মুচলেকা নিয়ে ১১ বিদেশিকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ


ঘুমধুম প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার পথে আটক ১১ বিদেশি নাগরিককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায়’ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এদের আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‍্যাব)।
জানা যায়, রাত ৮টার দিকে মুচলেকা নিয়ে বিদেশিদের ছেড়ে দেয় উখিয়া থানা পুলিশ।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, ‘ট্যুরিস্ট ভিসা’ নিয়ে ওই বিদেশিরা বাংলাদেশে আসে। কাজের অনুমতিপত্র ছিল না। কেবল পাসপোর্টের ফটোকপি ছিল। ভবিষ্যতে মূল পাসপোর্ট কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাদের।
সকালে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক বিদেশিরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছিল।আটক বিদেশিদের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও ইতালির দু’জন করে এবং নেদারল্যান্ড, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, কেনিয়া, ব্রাজিল, বেলজিয়াম ও নরওয়ের একজন করে নাগরিক আছে।

উখিয়ার কাস্টমসে রোহিঙ্গার কাছ থেকে ৭টি স্বর্ণের বার ও নগদ ১০ লাখ টাকা লুটের রহস্য উদঘাটন

ঘুমধুম প্রতিনিধি:
মিয়ানমার জান্তা সরকার কর্তৃক রাখাইনে নানান নির্যাতন শুরু হলে উখিয়ার বালুখালীতে ভুয়া কাস্টম কর্মকর্তা পরিচয়ে ছিনিয়ে নেয়া প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের বার ও মুক্তিপণ বাবদ নগদ ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মূল রহস্য বেরিয়ে আসছে র্দীঘ ৫ মাস পর। এ নিয়ে বর্তমানে কাস্টমস এলাকা তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে কাস্টমসে কর্মরত কয়েকজন অবৈধ শ্রমিক, সরকারী অফিসের চেয়ারে বসে এ ধরনের অন্যায় কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার ধামাচাপা দিতে ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন সহ বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলকে ৬ লক্ষ টাকা বিতরণ করেছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে দুই ভুয়া কাস্টম কর্মকর্তা আবুল হোসেন প্রকাশ আবুল্যা ও তার সহকারী আবদুল হালিম ওরফে দুদুমিয়া প্রকাশ দুইদ্যা। তারা দু’জনই বালুখালী কাস্টমস চেকপোস্টে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে শ্রমিক ও পিয়ন হিসেবে কর্মরত।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে উখিয়া থানা এবং ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। উখিয়ারঘাট এলাকার মাহবুব আলীর পুত্র জসিম ও ভুয়া সিপাহি রোহিঙ্গা আনসারুল্লাহকে ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ধরে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাবাদের পর বেরিয়ে এসেছে মূল রহস্য। তারা সেখানের অকপটে স্বর্ণ লুট ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন ওইসব (স্বর্ণ) মৃত ছৈদ নুরের পুত্র আবুল হোসেন ও বাদশা মিয়ার পুত্র আবদুল হালিম প্রকাশ দুইদ্যার হাতে রয়েছে বলে জানায় পুলিশকে। একইভাবে উখিয়া থানা পুলিশও নুরুদ্দিন ও আবদুর রহমান সহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গত বছরের ২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে এ পর্যন্তও ছিনতাইকারী ভুয়া কাস্টমস দুইদ্যা ও আবুল্যাকে বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসনের লোকজন তদন্তে আসলে আমরা ওইসময় চোখে যা দেখেছি, তা স্পষ্টভাবে বলতে প্রস্তুত আছি।

সূত্র জানা যায়, উখিয়ার ঘাট বালুখালী এলাকায় বসবাসকারী মৌলভী রুহুল আমিনের ভাগিনা মিয়ানমারের রাইমন খালীর জুবাইর নামে এক যুবক মুঠোফোনে তার মামাত বোনের জামাই আনসারুল্লাহকে ৭টি স্বর্ণের বার (৭০ ভরি) পাচারের খবর দেয়। পুরনো রোহিঙ্গা আনসারুল্লাহ কাষ্টমসে অবৈধভাবে কর্মরত আবুল হোসেন ও দুদু মিয়া প্রকাশ দুইদ্যাকে জানালে তারা কাস্টমস কার্যালয়ের অদূরে আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার সামনে অপেক্ষা করতে থাকে। বিকেলে টমটম বাইকযোগে আসে মংডুর আবদু ছত্তার ও রাইমন খালীর আবদুল হামিদ নামে দুই যুবক। তাদের প্রথমে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় কাস্টমস কার্যালয়ে। সেখানে কাস্টমস কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে ভুয়া কাস্টমস কর্মকর্তা আবুল হোসেন দায়িত্বরত অফিসারের চেয়ারে বসে মিয়ানমারের ওই দু’যুবককে হাত বেঁধে ফেলার জন্য তার সহযোীঁ দুউদ্যা ও আনসারুল্লাহকে নির্দেশ দেয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে উদ্ধার করে ৭টি স্বর্ণের বার। কেউ বুঝে উঠার আগেই আটক দুই যুবককে দুইদ্যার ঘরে নিয়ে আটকে রাখা হয়। রাতে এদের স্বজনদের নিকট থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়।

উল্লেখ্য দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুবাদে উখিয়ারঘাট কাস্টমস কর্মকর্তা তার অফিসের গুদামের চাবি অবৈধ পিয়ন আবুল হোসেনের কাছে রেখে যান। আবুল হোসেন ওই অফিসে রাত্রি যাপন করে থাকে।

পেকুয়ায় কৃষককে কুপিয়ে আহত

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় কৃষক মনির উদ্দিন আহমদকে (৪৫) কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। সে মুন্সিমুরা এলাকার মৃত ছব্বির আহমদের পুত্র। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় শিলখালী ইউনিয়নে চেপ্টামুরা এলাকায় তার চাষকৃত জমিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত মনির উদ্দিন আহমদ জানান, শিলখালী বাজার পাড়া এলাকার মৃত এমদাদ মিয়ার পুত্র মোশারফ হোসেনের কাছ থেকে জমি লাগিয়ত নিয়ে চাষবাদ করি।  ঘটনার দিন বিকেলে চেপ্টামুরা এলাকায় ওই চাষকৃত জমিতে আগাছা পরিষ্কার করতে যায়। ওই সময় মৃত ফজল হাকিমের পুত্র আবু বক্কর, নুর ছৈয়দ, রুহুল আমিন, ওসমান ও সালাউদ্দিন এসে আমাকে গালি দিয়ে চলে যায়। পরে জমির মালিক মোশারফ হোসেন তাদেরকে সাথে নিয়ে এসে আবারো আমাকে হামলা চালায়। ওই সময় তাদের হাতে থাকা দারালো কিরিচ দিয়ে মাথায় কুপালে গুরুতর আহত হয়।  পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইন বলেন, মনির উদ্দিনকে আহত করার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে অবগত করা হয়েছে। এ বিষয়ে দু’পক্ষকে নিয়ে সালিশি বৈঠক করে সামাধা করা হবে।

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় শিশুসহ আহত ৫

রামু প্রতিনিধি:

রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের নয়াপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় শিশুসহ ৫জন আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে হতদরিদ্র ব্যক্তির বসত বাড়ি। কেটে দেয়া হয়েছে অসংখ্য ফলজ গাছ। শুক্রবার(২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটায় বর্বরোচিত এ ঘটনা ঘটে।

এতে আহতরা হলেন, মুবিনুল হকের স্ত্রী আমিনা খাতুন (৩৭), মেয়ে কলেজ ছাত্রী মরিয়ম ছিদ্দিকা (১৯) ও আয়েশা ছিদ্দিকা (১৭), রহমত উল্লাহর ছেলে অহিদুল ইসলাম (৪), স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩৩)।

আহতরা জানান, তাদের পাশের দুই বাড়ির বাসিন্দা আমির হোছন ও নুরুল হাকিম দীর্ঘদিন তাদের বসত ভিটে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। এনিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে বিষয়টি বিচারাধিন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বসত ভিটে জবর-দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এ হামলা চালিয়েছে।

হামলাকারীর নিরীহ নারী-পুরুষদের কুপিয়ে ও লাঠি সোটা দিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলার শিকার ৪ বছরের শিশু অহিদুল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। হামলাকারীরা হলো, আমির হোছন ও তার ছেলে ছালামত উল্লাহ, রিফাত উল্লাহ, নুরুল হাকিম ও তার ছেলে আলমগীর, রহমত উল্লাহ, আরাফাত উল্লাহ সহ অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জন। ইউপি সদস্য রহিম উল্লাহ মারধর, ভাংচুর ও ফলদ গাছ কেটে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তবে তিনি জানিয়েছেন, বিচারাধিন জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেনি। একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ ঘটনায় আহত শিশুসহ অন্যান্যদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন।

এদিকে হামলার শিকার কলেজ ছাত্রী মরিয়ম ছিদ্দীকা ও আয়েশা ছিদ্দিকার বাবা মুবিনুল হক জানান, এ ঘটনায় তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে হামলাকারীরা তাদের বিভিন্নভাবে হুমকী ধমকি দিচ্ছেন। এ কারণে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত রিফাত উল্লাহ জানান, এ ঘটনায় তার বোন তছলিমা আকতার (১৬) আহত হয়েছে। তবে কারা মারধর করেছে তা তিনি বলতে পারেননি। কথার এক পর্যায়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য রহিম উল্লাহ দীর্ঘদিন বিরোধ নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দিয়ে আহতদের কাছ থেকে জুড়িসিয়াল স্টাম্পে স্বাক্ষর ও টাকা জমা নিয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে আজ-কাল বলে বিচার নিষ্পত্তি না করায় বিষয়টি হানাহানিতে গড়ালো। স্থানীয়রা এ ঘটনার জন্য ইউপি সদস্য রহিম উল্লাহর অবহেলাকে দায়ি করেছেন।

মানিকছড়িতে নিরাপত্তাবাহিনীর ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

মানিকছড়ির প্রত্যন্ত জনপদের হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফ্রি চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পে দিনব্যাপী চিকিৎসা সেবা দিয়েছে সিন্দুকছড়ি নিরাপত্তাবাহিনীর চিকিৎসক দল।

শুক্রবার(২৩ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী মানিকছড়ি রাজবাড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গুইমারা রিজিয়নের সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফ্রি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে উপজেলার তৃণমূলের সাড়ে ৮শতাধিক রোগি চিকিৎসা সেবা নিয়েছে।

ঢাকা  থেকে আগত ১৬জন চিকিৎসক বিভিন্ন জটিল রোগিদের চিকিৎসাসহ পরামর্শ প্রদান করেন। দুপুরের দিকে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প পরিদর্শণে আসেন সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে.কর্নেল রুবায়েত মাহমুদ হাসিব পিএসপি,জি।

এছাড়া চিকিৎসা সেবা চলাকালিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নোমান মিয়া, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্যাপ্টেন মো. মাহমুদ ও ফয়সাল উপস্থিত ছিলেন।

চকরিয়ায় কাভার্ডভ্যান এর চাপায় দুই পথচারী নিহত, আহত-৫

 

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বানিয়ারছড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানের চাপায় দুই পথচারী নিহত হয়েছে। এসময় আরো পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে। শুক্রবার(২৩ফেব্রুয়ারি)সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বানিয়ারছড়া স্টেশন সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন, চট্রগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আবদু শুক্কুরের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা(৫০), অপর নিহত ব্যক্তি ও আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে   পরিচয় মেলেনি।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বানিয়াছড়া স্টেশন সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে বাসে উঠতে অপেক্ষায় ছিল ১২ থেকে ১৪জন নারী-পুরুষ যাত্রী।

এসময় চট্রগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী একটি কাভার্ডভ্যান বানিয়ারছড়া স্টেশনে পৌঁছলে কাভার্ডভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়ানো নারী-পুরুষকে চাপা দিলেই এতে ঘটনাস্থলে দুই জন নিহত হয়। এ সময় আরও ৫জন পথচারী গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনায় সংবাদ পেয়ে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে।

এ ব্যাপারে বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরে আলম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। এতে নিহত অপর ব্যক্তিসহ আহতদের রাত আটটা পর্যন্ত পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনা কবলিত কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

চকরিয়ায় ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার

 

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২হাজার পিস ইয়াবা ট্যালেটসহ মো. আরমান (২২)নামের এক পাচারকারী যুবককে গ্রেফতার করেছে। ধৃত পাচারকারী যুবক চট্রগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া বড়দোয়ারা এলাকার মুবিন আলমের পুত্র বলে জানায় যায়।এনিয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের এটিএস আই আবদুল হাকিম বাদী হয়ে ধৃত পাচারকারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেন।

শুক্রবার (২৩ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খুটাখালীস্থ মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান বন অফিসের সামনে চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে হাইওয়ে পুলিশ ধৃত ইয়াবা পাচারকারী যুবককে যাত্রীবাহী গাড়ি তল্লাশী করে গ্রেফতার করা হয়।

কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শুক্রবার সকালে কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার খুটাখালীস্থ মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের ফরেস্ট অফিসের সামনে প্রতিদিনের অংশ বিশেষ মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম দায়িত্ব পালন করেছিল।

এ সময় চকরিয়া অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী ম্যাজিক গাড়িতে করে ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদ পেলে সড়কে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের এস আই সেলিম মিয়া ও এটিএস আই আবদুল হাকিমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ম্যাজিক গাড়িতে তল্লাশী করে সন্দেহজনক ভাবে মো. আরমান নামের যুবককে গ্রেফতার করা হয়। এসময় পুলিশ ধৃত যুবকের দেহ তল্লাশী করে কসট্যাপ মুড়ানো ২হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, পাচারকারী যুবক ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে যাত্রী হিসেবে ম্যাজিক গাড়িতে করে চকরিয়া পৌরশহরের দিকে যাচ্ছিল। ধৃত যুবককে চকরিয়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে হাইওয়ে পুলিশের এটিএস আই আবদুল হাকিম বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বলে তিনি জানান।

অপর দিকে চকরিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ৩০পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. কাদের(২২) নামের এক ইয়াবা বিক্রেতাকে চিরিংগা সোসাইটি পাড়া স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় পৌর কাউন্সিল মুজিবুল হকের সহায়তায় থানার এস আই অপু বড়ুয়া ধৃত বিক্রেতাকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানা ও হাইওয়ে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মাটিরাঙ্গায় স্বামীর মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় স্ত্রী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় স্বামীর মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মোছা: ছকিনা বেগম (৩৮) নামে এ গৃহিনী নিহত হয়েছে। সে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের গাজিনগর এলাকার বাসিন্দা ও ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরের দিকে স্বামীর মোটর সাইকেলে চড়ে সন্তানসহ মাটিরাঙ্গা বাজারে আসছিলেন মোছা: ছকিনা বেগম। হাতিয়াপাড়া নামক এলাকায় আসামাত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের ঢালুতে পড়ে গেলে তিনি মাথায় ও বুকে আঘাত প্রাপ্ত হয়। তবে এসময় সাথে থাকা সন্তান বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হয় স্বামী মো. নুরুজ্জামান।

এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে আহতাবস্থায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মোছা. ছকিনা বেগম ও মো. নুরুজ্জামানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোছা. ছকিনা বেগম মারা যায়। মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ১নং পৌর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম বাবু তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুতুপালং থেকে পালানো ১৪ রোহিঙ্গা লামায় আটক

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৪ রোহিঙ্গাককে আটক করেছে বান্দরবানের নিরাপত্তাবাহিনী।

শুক্রবার(২৩ফেব্রুয়ারি) সকালে লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের পুলিশ ক্যাম্প পাড়া এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এরা সবাই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী।

ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালক মোহাম্মদ শাহীন ও জিল্লুর রহমান জানান, সকালে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের হেব্রণ মিশন এলাকা থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল যোগে বান্দরবানের রুপসীপাড়া ইউনিয়নে পুলিশ ক্যাম্প পাড়ায় যাচ্ছিল দালাল সাহাব উদ্দিনসহ ১৪ রোহিঙ্গা।

এ সময় তাদের কথাবার্তা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মত হওয়ায় স্থানীয় নিরাপত্তাবাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে নিরাপত্তাবাহিনী তাদেরকে আটক করে।

এদিকে আটকরা জানায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার রাবার বাগানে কাজ করার জন্য তাদেরকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা আটকের বিষয়টি শুনেছি। থানায় এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। হস্তান্তরের পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।