বাঘাইছড়িতে উপজাতি সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহতের ঘটনায় পিবিসিপি’র নিন্দা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার কংলাক মাচালং ও বাঘাইহাট ভোট কেন্দ্র থেকে উপজেলায় ফেরার সময় উপজাতি সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ ভোটের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর ব্রাশ ফায়ারে নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিঃ শাহাদাৎ ফরাজী সাকিব।

তিনি বলেন, দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বান্দরবানের ছয় উপজেলায় আ’লীগ ও আলীকদমে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয়

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান:

বান্দরবানে শান্তিপূর্ণ ভাবে উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে জেলার সাত উপজেলার মধ্যে ৬টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আলীকদম উপজেলায় বিজয় হয়েছেন বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কালাম।

এবার নির্বাচনে ৭ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৭ জন পুরুষ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বান্দরবান সদর থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ কে এম জাহাঙ্গীর নৌকা প্রতীকে ১৫ হাজার ৩৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুছ পেয়েছেন ৯ হাজার ২৯৬ ভোট।

রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থী নৌকা প্রতীকে চহাই মং মারমা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ৭ হাজার ৯২৬ ভোটে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জনসংহতি সমিতি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্যবামং পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৬৩ ভোট।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের সমর্থিত আথুই মং মারমা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ক্রইচিং প্রু মারমা।

রুমা উপজেলাতেও বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী উহ্লাচিং মারমা। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৬০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জনসংহতি সমিতি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অংথোয়াইচিং মারমা আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৭৫ ভোট।

এদিকে থানচিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী থোয়াইহ্লামং মারমা নৌকা প্রতীকে ৫ হাজার ৮৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্রী প্রার্থী ক্যহ্লাচিং মারমা হেলিকপ্টার প্রতীকে ৩ হাজার ২৩৪ ভোট।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে জনসংহতি সমর্থিত চসা থোয়াই মারমা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নুমে প্রু মারমা।

লামায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোস্তফা জামাল নৌকা প্রতীকে ৪৭ হাজার ২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মো. আলমগীর পদ্মফুল প্রতীকে ৩৪০ ভোট পেয়েছেন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্তিত জাহেদ উদ্দিন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মিলকী রানী দাশ নির্বাচিত হয়েছে। 

নাইক্ষ্যংছড়িতেও নৌকা প্রতীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিউল্লাহ ১২ হাজার ১৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তাহের কোম্পানী মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৬২১ ভোট।

আলীকদমে ৯হাজার ১৮১ ভোট পেয়ে বিজয় হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কালাম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের জামাল উদ্দিন নৌকা নিয়ে পেয়েছেন ৮হাজার ৩২৯ ভোট।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. রেজাউল করিম জানান, কয়েকটি কেন্দ্রে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান এইচ কে আনোয়ার আর নেই

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

টেকনাফের হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এইচ কে আনোয়ার (৭২) আর নেই। সোমবার সন্ধায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি অইন্নাইলাইহি রাজেউন)

জানা যায়, সোমবার বিকালে সাবরাং বাজারে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর সমর্থনে নৌকা প্রতিকের জনসভায় বক্তব্য প্রদান করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সভাস্থল ত্যাগ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের যাওয়ার পথে উখিয়ার কুতুপালং এনজিও পরিচালিত হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

পরে কক্সবাজার যাওয়ার পথে কোটবাজার এলাকায় পৌঁছলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন চেয়ারম্যান আনোয়ার।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে দুই মেয়ে, মা ও নাতি-নাতনী, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য ভক্ত শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি হ্নীলা ইউপির নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও হ্নীলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

নাইক্ষ্যংছড়িতে অধ্যাপক শফিউল্লাহ চেয়ারম্যান নির্বাচিত     

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বিপুলভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের অধ্যাপক শফিউল্লাহ।

ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মংলা ওয়াই মার্মা(টিউবওয়েল) ও প্রজাপতি মার্কায় শামিমা আক্তার গুন্নু। কঠোর নিরাপত্তার চাঁদরে ঢাকা কেন্দ্র গুলোতে সোমবার উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দেন সারাদিন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানাভোটের নির্বাচনে কোন রকম দুর্ঘটনা ছাড়াই এ নির্বাচন শেষ হয়।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর ছালেহ জানান, সম্পুর্ণ সুষ্ঠুভাবে উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

তিনি আরো জানান, উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা ৫টি। ভোটারের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৪৮৬টি। ভোটের কেন্দ্র ২৫টি, বুথ ১০২টি। যথা সময়ে ভোট শুরু হয়। আর শেষ হয় যথাযথভাবে।

তিনি বলেন, দুর্গম হলেও যথা সময়ে প্রিজাইডিং অফিসারগণ ভোট গুনে উপজেলা সদরে এসে পৌঁছেন রাত ৮টা নাগাদ।

উপজেলা নির্বার্হী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি, থানার অফিসার ইনর্চাজ আনোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দেন নির্বাচিতদের।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত নৌকা প্রতীকের অধ্যাপক শফিউল্লাহ নির্বাচিত হন। তিনি ভোট পেয়েছেন, বার হাজার একশত ত্রিশ ভোট, স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোটর সাইকেল প্রতীকের আবু তাহের পেয়েছেন আট হাজার ছয়শত একুশ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি অপর দিকে দু’প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান তিন হাজার পাঁচশত নয় ভোট। এছাড়া অপর দু’চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদ ও  চু চো মং মারমা উল্ল্যেখযোগ্য সংখ্যক কোন ভোট পায় নি।

এছাড়া  ভাইস-চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে নির্বাচিত হন মংলা ওয়াই র্মামা , ভাইস-চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে নির্বাচিত হন শামিমা আক্তার।

এদিকে এ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের অধ্যাপক শফিউল্লাহ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলা জুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে। মিষ্টি আর ফুলের মালায় একাকার হয়ে যায় পুরো নাইক্ষ্যংছড়ি।

নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ জানান, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় সর্বপ্রথমে তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পার্বত্য বীর উশেসিং বীর বাহাদুর এবং জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ক্যশহ্লা মার্মা সহ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পাশাপাশি ভোটারদের ধন্যবাদ জানান তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করার জন্য।

দীঘিনালায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে মোহাম্মদ কাশেম

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হতে চলেছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাশেম। এছাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল মিন্টু এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সীমা দেওয়ান।

গত সোমবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার ২৮টি ভোট কেন্দ্রে কোন প্রকার বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।

ইতিমধ্যে ২৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফল হাতে এসেছে। ২৭টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলের মধ্যে নৌকা প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাশেম ৩৭ হাজার ৮০ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউপিডিএফ (প্রসিত) সমর্থিত  উমেশ কান্তি চাকমা হেলিকপ্টার প্রতীকে ১০ হাজার ২ শত ৩ ভোট এবং জেএসএস-এমএন লারমা আনারস প্রতীকে ৬ হাজার ৬ শত ৫ ভোট পেয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল মিন্টু টিউবওয়েল প্রতীকে ৩৫ হাজার ১শত ১৯ ভোট পেয়েছেন। জেএসএস এমএন লারমা দল সমর্থিত প্রার্থী সমদা নন্দ চাকমা তালা প্রতীকে ৭ হাজার ৪শত ২৪ ভোট, সুসময় চাকমা চশমা প্রতীকে ১৩ হাজার ৪শত ৮৯ ভোট পেয়েছেন।

অন্যদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সীমা দেওয়ান কলসী প্রতীকে ২৯ হাজার ২ শত ৩৭ ভোট, লিপি দেওয়ান বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ১০ হাজার ২ শত ৭০ ভোট এবং গোপা দেবী চাকমা প্রজাপতি প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩শত ৬৪ ভোট।

এদিকে দুর্গম নাড়াইছড়ি ভোট কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমা জানান, কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

কাউখালীতে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থীদের জয়জয়াকার

কাউখালী প্রতিনিধি:

৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীরা  জয়লাভ করেছে। চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি পদেই জয়লাভ করেছে তারা।

কাউখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সামশুদোহা চৌধুরী (নৌকা)  ২৬ হাজার ৬শ’ ৮০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে কাউখালী উপজেলা পলিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্জুম মনি চাকমা (আনারস) পেয়েছেন ৭ হাজার ৫শ’ ৪ ভোট।

যদিও ভোট চলাকালীন বেলা সাড়ে ১১টায় ভোট কারচুপির অভিযোগে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৬ হাজার ৮শ’ ৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রাথী অংপ্রু মার্মা (টিওবওয়েল)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মংসুউ চৌধুরী (চশমা) তিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৯শ’ ২১ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২১ হাজার ৫শ’ ৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নিংবাইউ মারমা (কলস)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানি চাকমা কৃপা (প্রজাপতি) তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ১শ’ ২৩ ভোট।

মহালছড়িতে বিমল কান্তি চাকমা, জসিম উদ্দিন ও সুইনুচিং চৌধুরী বিজয়ী

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ভোট বর্জনসহ কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন (২য় পর্যায়) শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১৮ মার্চ)সকাল থেকে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টিত আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উপজেলার ১৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিলো মোটামুটি।

সকাল ১১টার দিকে মাইসছড়ি ইউনিয়নের যন্ত্রনাথ কার্বারী পাড়া কেন্দ্রে জেএসএস (এম এন লারমা) এর বিরুদ্ধে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেন অন্য প্রার্থীরা প্রার্থীরা।

পরে জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা) গ্রুপ সমর্থিত বিমল কান্তি চাকমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্র দখল করার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ক্যাজাই মারমা, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম হুমায়ূন কবির, জেএসএস ( এম এন লারমা) এর বিদ্রোহী প্রার্থী কাকলী খীসা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শেফালী আক্তার ও ভৌমিকা ত্রিপুরা গণমাধ্যমকে ভোট বর্জনের কথা জানিয়েছেন।

সারাদিন ভোট গ্রহণের পর সহকারী রিটানিং অফিসার এর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিমল কান্তি চাকমা (কাপ পিরিচ) ১৯ হাজার ৮ শ’ ৩৫ ভোট পেয়েছেন,  নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগ এর মনোনীত প্রার্থী ক্যাজাই মারমা (নৌকা) পেয়েছেন ৩ হাজার ১২ ভোট, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন (বই) পেয়েছেন ২১ হাজার ৯ শ’ ৪৩ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি হৃদয় চাকমা ‘টিউবওয়েল’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৬শ’ ৪৬ ভোট, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুইনুচিং চৌধুরী ‘প্রজাপতি’ প্রতীক নিয়ে ১৫ হাজার ৫শ’ ৩৭ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ভৌমিকা ত্রিপুরা ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৬শ’ ১৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, মহালছড়ি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ৮শ’ ৯৩ জন। চেয়ারম্যান পদে ৫ জনের মধ্যে জেএসএস (এমএন লারমা) এর সমর্থিত প্রার্থী বিমল কান্তি চাকমাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী সুকুমার চাকমা। ফলে ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হয়। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে মো. জসিম উদ্দিন কে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান ক্যাচিংমিং চৌধুরী। ফলে ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যেই লড়াই হয়।

লংগদুতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ঝান্টু এবং আনোয়ারা বেগম নির্বাচিত

লংগদু প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে মীর সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু এবং ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে আনোয়ারা বেগম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে মীর সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু পেয়েছেন ৬৩৬৭ ভোট এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আনোয়ারা বেগম ৮৬৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সর্বষেশ প্রাপ্ত  ফলাফল থেকে জানা গেছে ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে মীর সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু ৬৩৬৭ ভোট, মো. রকিব হোসেন ৪৬৬৪ ভোট, মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক মামুন ৩০২৫ ভোট, মো. ইমাম হোসেন ১৭৩০ ভোট, মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক ১৬৮৩ ভোট, সুচিত্র কুমার চাকমা পেয়েছেন ১৬২৮ ভোট এবং এস.এম হায়দার আলী ৮৩ পেয়েছেন ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আনোয়ারা বেগম পেয়েছেন ৮৬৩৫ ভোট, ফাতেমা জিন্নাহ- ৬২৫৫ ভোট,  মমতাজ- ৩২৬৫ ভোট এবং  নুরজাহান বেগম পেয়েছেন ৫৮৭ ভোট।

উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় লংগদুতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল বারেক সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হয়ে যাওয়া এবার  পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়েছে।

লামায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের প্রার্থী জয়ী

লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪৬ হাজার ৬শ’ ৬২ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোস্তফা জামাল (নৌকা)। তার প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আলমগীর (জোড়া ফুল) পেয়েছেন ৩শ’ ৪০ ভোট।

একই ভাবে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মো. জাহিদ উদ্দিন (চশমা ) ৩৯ হাজার ২শ’ ৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি অপর দু’প্রার্থী নুরুচ্ছফা (টিউবয়েল) পেয়েছেন ২শ’ ৪৮ ভোট এবং দিদারুল ইসলাম (তালা) পেয়েছেন ৮ হাজার ১৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।

কোন ধরণের অপ্রীতির ঘটনা ছাড়াই উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের ৪০টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ করা হয়।

৬৭ হাজার ২৮ জন ভোটারের মধ্যে  ভোট দিয়েছেন ৪৭ হাজার ৫শ’ ৩৬জন ভোটার।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নববিন্দু নারায়ণ চাকমা জানান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মিল্কি রানী দাশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

 

কাপ্তাইয়ে আ’লীগের ৩ প্রার্থী বিজয়ী

 

কাপ্তাই প্রতিনিধি:

কাপ্তাই উপজেলার ৫টি ইউপিতে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সোমবার (১৮ মার্চ) শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যতিত অন্য কোন দলের প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি জেলা আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মফিজুল হক নির্বাচিত হয়।

এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হওয়ায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন ৯ হাজার ৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল সুব্রত বিকাশ তংচঙ্গ্যা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি সে পেয়েছে ৪ হাজার ৭শ’ ৭৭ ভোট এছাড়া  মহিলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক উমেচিং মারমা ভাইস চেয়াম্যান  ৬ হাজার ৩শ’ ২৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে  নির্বাচিত  হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি উপজেলা যুবলীগের  মুক্তিযোদ্বা মহিলা  বিষয়ক সম্পাদক ফারহানা আহমেদ পপি পেয়েছে ৪ হাজার ৪শ’ ৫৬ ভোট।

এ ফলাফল বেসরকারিভাবে সহকারী রিটানিং অফিসার আশ্রাফ আহমেদ রাসেল ঘোষণা করেন।