image_pdfimage_print

উচ্চ কন্ঠস্বরের আফজল মেম্বারকে মনে করছে পানছড়ি

পানছড়ি প্রতিনিধি:

পানছড়ি উপজেলার দমদম গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে মো. আফজল মিয়া। সুঠাম দেহের অধিকারী আফজল মেম্বার কখনো কোমল সুরে কথা বলতে পারতেন না। ছোট ছোট শিশুরাও উচ্চ কন্ঠে ভয় পেয়ে উঠতো।

কথা বলার সময় টেবিল চাপড়ে কথা বলা ছিল তার অভ্যাস। কিন্তু মনটা ছিল পরিষ্কার।  অঢেল সম্পত্তির মালিক, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, কাঠ ব্যাবসায়ী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা আফজল মেম্বার নিজ এলাকায় সব সময় খালি পায়ে চলতেন।

চায়ের আসরে উচ্চস্বরে রসালো রসালো কথার আমেজে জমিয়ে রাখতেন রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত। কিন্তু আজ এসব শুধু স্মৃতি। চায়ের আসরগুলো যেন নিষ্প্রাণ।

গত ২০ নভেম্বর সোমবার রাত সাড়ে নয়টা’য় নিজ গ্রামের চায়ের আসরেই তিনি অসুস্থতা বোধ করলে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে পুরো পানছড়ি জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার বাদ আসর পানছড়ি কলোনীপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজায় নামে মানুষের ঢল। যা পানছড়ির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা বলে মুরুব্বীদের দাবি। ২৯৮ নং আসনের স্থানীয় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা আফজল মেম্বারের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ব্যক্তিগত সহকারী খগেন ত্রিপুরা তা নিশ্চিত করেন। খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র মো. রফিকুল আলম ও জাহেদুল আলমও প্রাণপ্রিয় মানুষটির নামাজে জানাজায় অংশ নিতে ছুটে আসে খাগড়াছড়ি থেকে।

৩নং সদর পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন জানায়, আমরা একজন অভিভাবককে হারিয়েছি। আফজল ছিলেন অত্র এলাকার নিবেদিত প্রাণ। ৩নং পানছড়ি ইউপির পক্ষ থেকেও তিনি সমবেদনা জানান।

পানছড়ি দমদম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চায়ের আসরে আফজল মিয়ার স্মৃতিচারণ। অশ্রুসজল চোখে সবার একটাই কথা আমাদের প্রাণপ্রিয় মানুষটিকে প্রতিটি মুহুর্ত মনে করছি।

নাইক্ষ্যংছড়িতে পলিথিন ব্যাগ মজুদ ও পাহাড় কর্তন পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে সাড়ে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড

বাইশারী প্রতিনিধি:

নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ মজুদ রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারে চার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ পলিথিন ব্যাগ জব্দ করা হয়। অপর অভিযানে পাহাড় কাটার দায়ে চার ব্যক্তির নাম সংগ্রহসহ একটি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাবকে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল।

এসময় নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল হক সওদাগরকে ১ লাখ, খায়রুল কবির মনু ১ লাখ, শাহজাহান ১ লাখ, বৃঞ্চ কুমার দাশ ৫০ হাজার এবং হাফেজ আহমদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২শ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদালত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, মজুদ এবং পাহাড় কাটায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ব্যবসায়ী পাড়া এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনায়ও  ভ্রাম্যমান অভিযান চালান নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও। ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শণে এসে মঙ্গলবার আরো বড় তিনটি পাহাড় কাটার অভিযোগ পান পরিবেশ অধিদপ্তর। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালন সাইফুল আশ্রাব।

নাইক্ষ্যংছড়িতে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ 

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার রাত ৩টায় উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের বাকঁখালী ছাগলখাইয়া এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহৃতরা হলো- ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. হোসন (৪০) ও ফজল করিমের ছেলে নুরুল আজিম (২৯)।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, প্রতিদিনের ন্যায় রাতে ঘুমিয়ে পড়ে হোসন ও নুরুল আজিম। রাত ৩টার দিকে ৮-১০জনের অস্ত্রধারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ওই দুই কৃষককে নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, অপহরণকারীরা এর আগে একই এলাকার নুরুল আমিনের বাড়ি থেকে ৫হাজার টাকা, নুরুল হাকিম থেকে কিছু স্বর্ণ এবং আবদুল মজিদের দোকান থেকে কয়েকটি পানির বোতল ও টাকাসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এএসএম তৌহিদ কবির জানান, অপহরণের খবর শুনে তিনি নিজেই সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অপহৃতদের উদ্ধারে সম্ভাব্য স্থানে পুলিশ দল অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি ছাগলখাইয়া, বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরাও অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযানে নামেন।  এই রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত অপহৃতদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং কোন ধরনের খোঁজখবর বা মুক্তিপণের খবরও পাওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সময় নির্দিষ্টকরণ চুক্তি চায় বাংলাদেশ

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সময় নির্দিষ্টকরণ চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ।  বুধবার (২২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে এবং পরদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক গত সোমবার তার দফতরে বলেন, ‘আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এরমধ্যে একাধিকবার দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাব-পাল্টা প্রস্তাব চালাচালি হয়েছে। দেখা যাক সামনে কী হয়।’

সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুই দেশের মধ্যে জোরেশোরেই দরকষাকষি চলছে। এখন পর্যন্ত ছয় বার প্রস্তাব-পাল্টা প্রস্তাব চালাচালি হয়েছে দুইপক্ষের মধ্যে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চাই একটি সময় নির্দিষ্টকরণ চুক্তি করতে। এটি নিয়ে দুইপক্ষ কথা বলছে। কয়েকটি বিষয়ে দুইপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ আছে। সেটিকে কমিয়ে আনার জন্য আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমারের ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা খারাপ, কারণ ১৯৯২ সালের সমঝোতায় কোনও সময় উল্লেখ না থাকায় তারা ২০০৫ সাল পর্যন্ত মাত্র দুই লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিয়েছিল। অন্যদিকে, ১৯৭৮ সালে প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়েছিল ছয় মাস মেয়াদি। ওই সময়ের মধ্যে দুই লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত গিয়েছিল।

গত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মিয়ানমার সফর করেন। সেখানে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠকে দুই পক্ষ ১০ দফা প্রস্তাবে সম্মত হয়। কিন্তু একদিন পরই মিয়ানমার তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এককভাবে নিজেদের মতো করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যাতে বৈঠকের কিছু সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়া হয়।

এ ঘটনার উল্লেখ করে ঢাকার এই কর্মকর্তা বলেন, এই কারণে আমরা যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছি, সেখানে প্রতিটি জিনিস সংযুক্ত করতে চাইছি, যাতে পরে মিয়ানমার অন্য কোনও কথা বলতে না পারে।

প্রস্তাব চালাচালির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথম প্রস্তাব দেওয়া হয় ২৩ সেপ্টেম্বর। মিয়ানমারের ইউনিয়ন মন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় ২ অক্টোবর আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়।

মিয়ানমার ২০ অক্টোবর এর জবাব দিলে বাংলাদেশ ২ নভেম্বর পাল্টা প্রস্তাব দেয়। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৬ নভেম্বর পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হলে বাংলাদেশ দুদিন পর তার জবাব দেয়।

মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ। এই চুক্তি স্বাক্ষরের দুই সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও এর কার্যপরিধি ঠিক করা হবে।

এটি গঠিত হওয়ার একমাসের মধ্যে মাঠপর্যায়ে ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টের জন্য একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হবে।

এই ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে বিস্তারিত লেখা থাকবে প্রতিদিন কতজন করে রোহিঙ্গা ফেরত যাবে, কোন সীমান্ত পথ দিয়ে যাবে, রাখাইনে তারা কোথায় অবস্থান করবে, যাওয়ার সময় তাদের যে ফরম পূরণ করতে সেটি কী ধরনের হবে ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়গুলো।

সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ২২ ও ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারে দ্বিপক্ষীয় সফর করবেন এবং আমরা আশা করছি সেখানে আমরা একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি করতে সক্ষম হবো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মিয়ানমার সফরের সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে।

বাংলাদেশের পক্ষে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে নেতৃত্ব দিতে পররাষ্ট্র সচিবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

মতবিরোধ বিষয়গুলো

মিয়ানমার চায় দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনও দেনদরবার করবে না।

এ বিষয়ে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অভিমত হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বহুপাক্ষিক যোগাযোগ এক বিষয় নয়।

মিয়ানমার চায়– ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর যেসব রোহিঙ্গা এসেছে শুধুমাত্র তাদের ফেরত নেবে তারা। এর বিপরীতে বাংলাদেশ চায় ১৯৯২ সাল থেকে যারা এসেছে তাদের সবাইকে ফেরত পাঠাতে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস দমনপীড়নের মুখে ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবর থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। তারও আগে থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল।

মিয়ানমার জাতিসংঘের কোনও সংস্থাকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে চায় না কিন্তু বাংলাদেশ চায় এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওই সংস্থাগুলো যুক্ত থাকুক।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ১৯৯২ সালের সমঝোতার অধীনে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে ১৯৯৩ সালে একটি চুক্তি হয়, যার মাধ্যমে ওই সংস্থা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অনুমোদন করতো। এখন তারা যদি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে না থাকে তবে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রস্তাবে ছিল বাংলাদেশের তথ্য এবং মিয়ানমারের তথ্যের মধ্যে অমিল হলে যৌথ যাচাই বাছাই হবে। কিন্তু মিয়ানমার এখনও এ প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

‘উন্মুক্ত কারাগারে‘ রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করা হয়

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা জাতি বিদ্বেষী আচরণের শিকার বলে এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। দুইবছর রাখাইনের চলমান পরিস্থিতি তদন্ত করে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

‘কেজড উইথআউট এ রুফ’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘উন্মুক্ত কারাগারে’ নির্যাতন করা হয় রোহিঙ্গাদের। সেখানে পর্যায়ক্রমিকভাবে যে মাত্রার বৈষম্য চালানো হয় তা মানবতার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী অপরাধ।
অ্যামনেস্টির গবেষণা বিষয়ক সিনিয়র পরিচালক আনা নেইস্টাট বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিরাশ করে তোলা এবং যতটা সম্ভব মানবাধিকার কেড়ে নেয়ার জন্য সব কিছু সাজানো হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়, ২০১২ সালের সহিংসতায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হন। বিশেষ করে এমন ঘটনা ঘটে রাজ্যের রাজধানী সিতওয়েতে। এখন ওই এলাকায় অবস্থান করছেন প্রায় ৪০০০ মানুষ। তারা যেখাবে বাস করছেন তা চারদিক থেকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বেষ্টিত। এর মাধ্যমে তাদেরকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে জীবনমৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে।

রিপোর্টে বলা হয়, জীবন সঙ্কটাপন্ন হলেও রাজধানী সিতওয়েতে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হয় না। ২০১২ সাল থেকে তাদের শিক্ষার অধিকারকেও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে মিয়ানমার সরকার।

এদিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া ইস্যুতে এ সপ্তাহেই বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি হবে বলে আশা করছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি।সোমবার এশিয়া ইউরোপের জোট আসেমের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। সুচি জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে এর আগে সম্পাদিত চুক্তিই অনুসরণ করা হবে।

অ্যামনেস্টিসহ অন্যন্য মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে মিয়ানমার নেত্রী বলেছেন, দায়বদ্ধ সরকার হিসেবে আমি বলতে পারি, এসব ঘটেনি।

 

সূত্র: Voice of America

আরও দুই পার্বত্য স্থলবন্দর হবে কবে?

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি স্থলবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এগুলো হলো—তেগামুখ, ঘুমধুম ও রামগড় স্থলবন্দর। এরমধ্যে রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ কিছুটা এগুলেও বাকি দু’টি নির্মাণে সংশয় দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ এ সংশয় কাটবে, তা এখনও পরিষ্কার হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিনটি স্থলবন্দর পুরোপুরি চালু করা গেলে প্রসাধন সামগ্রী, সিরামিক ও মেলামাইন পণ্য, ইট, বালু সিমেন্ট, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, শুটকি মাছ, তামাকজাত পণ্য, মানুষের মাথার চুল, প্লাস্টিকের পানির ট্যাংক, আলু, অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী, তৈরি পোশাক, ডিম, টিউবঅয়েল, প্লাস্টিক সামগ্রী, পুরনো কাপড়, চিপস্ ভারত ও মিয়ানমারে রফতানি করা যাবে। এদিকে ভারত ও মিয়ানমারের অংশ দিয়ে শাড়ি, ওষুধ, গরম মসলা, কাঠ, চুনাপাথর, বাঁশ, মাছ, আচার, তেঁতুল, হলুদ, স্যান্ডেল, মাটির সানকি, গাছের ছাল ও সুপারি রফতিানি করা সম্ভব হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার তেগামুখ ও ভারতের মিজোরাম প্রদেশে একটি, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ও মিয়ানমারের তামব্রুতে একটি এবং খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা ও ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমে একটি স্থল বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে সরকার ২০১৩ সালের ৩০ জুন তেগামুখ ও ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর রামগড় স্থলবন্দরকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও বান্দরবানের ঘুমধুম স্থলবন্দরকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্থল বন্দর হিসেবে ঘোষণা দেয়নি।

সূত্র জানায়, রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে রামগড়ের সঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলা সদর এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। তবে রামগড় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত বারোইয়ারহাট পর্যন্ত মধ্যবর্তী স্থানে কয়েকটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রয়েছে। এছাড়া রামগড় থেকে সাব্রুমের মধ্যবর্তী স্থানে সীমানা লাইনে খরস্রোত ফেনী নদী রয়েছে। এই নদীর ওপর রামগড় থেকে সাব্রুম যাওয়ার জন্য সংযোগকারী ব্রিজ ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই। এছাড়া বর্তমানে রামগড় থেকে সাব্রুম যাওয়ার জন্য কোনও বিকল্প স্থল যোগাযোগ নেই। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই স্থলবন্দরটি চালু করার কথা ছিল।

তবে অন্যদিকে তেগামুখ ও ঘুমধুম স্থল বন্দর নির্মাণে আইন জটিলতায় জমি নির্বাচন করা হলেও অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। রাঙামাটির বরকলের তেগামুখ স্থলবন্দরের জন্য সম্ভাব্য স্থানটি পাহাড়ি ও দুর্গম। ভারতীয় অংশের সঙ্গে তেগামুখ স্থল বন্দরের সঙ্গে সড়কপথে কোনও যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলা থেকে তেগামুখের দূরত্ব ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রাঙামাটি জেলাসদর হয়ে বরকল উপজেলার তেগামুখ পর্যন্ত যোগাযোগের জন্য ১২৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যবর্তীস্থানে একটি নদীর ওপর ব্রিজও নির্মাণ করতে হবে। এই বন্দরের নির্ধারিত স্থানের ৫০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে কোনও থানা বা পুলিশ ফাঁড়ি নেই।

এদিকে বান্দরবানের ঘুমধুম এলাকা থেকে মিয়ানমারের তুমব্রুর দূরত্ব সাড়ে তিন কিলোমিটার। আবার ঘুমধুম থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। বর্ডার লাইনে নাফ নদীর একটি শাখা রয়েছে। যার স্থানীয় নাম দেবীন্না খাল। খালটির প্রস্থ ১৫ থেকে ২০ ফুট হলেও গভীরতা ৮ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত। বর্তমানে ঘুমধুম থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি পাকা রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি দেবীন্না খালের স্থাপিত লাল ব্রিজের মাধ্যমে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে সংযোগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাস্তাটি চওড়া করার কাজ চলছে। এ জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৈ শা হ্লা মারমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাসহ নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সামান্য কিছু জটিলতা রয়েছে, তা অচিরেই কেটে যাবে। তবে এই বন্দরের জন্য কাস্টমসের অফিস কক্সবাজারের বালুখালীতে করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। যেখানে বর্তমানে সহকারী কমিশনার, কাস্টমস অফিস ছিল। এখানেই ছিল গবাদি পশুর করিডোর, যা বর্তমানে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।’ সরকারের এমন সিদ্ধান্তে আমাদের আপত্তি রয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এই স্থলবন্দরের জন্য কাস্টমস অফিস বান্দরবান জেলার ভেতরে হতে হবে।’ এটি এলাকাবাসীর দাবি বলেও জানান কৈ শা হ্লা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই তিনটি স্থল বন্দরের মধ্যে রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দিলেও বাকি দু’টি স্থলবন্দর নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেনি কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করছে বলে বংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘কিছু দিনের মধ্যেই এই বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংক ১১৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘স্থলবন্দর তিনটি নির্মিত হলে তিন পার্বত্য জেলার অর্থনীতি বদলে যাবে। মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এ লক্ষ্য নিয়েই সরকার তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি স্থলবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একটির কাজ চলছে। বাকি দু’টি স্থলবন্দর নির্মাণে যেখানে যেটুকু সমস্যা রয়েছে, তা নিরসন করে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে বলেও জানান নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।

 

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

মহালছড়ি জোন সদরে সশস্ত্র দিবস পালিত

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি সেনাজোন সদরে সশস্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) এ দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে মোনাজাত, পতাকা উত্তোলন, আলোচনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র ও দুপুরে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মহালছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, মহালছড়ি ৬ এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম,  উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না নাসরিন উর্মি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাকলী খীসা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চহলাপ্রু মারমা, মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান পাটোয়ারী, মহালছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিব, প্রাক্তন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুইথি কার্বারীসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও জোনের সেনা কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রীতিভোজ শুরুর আগে বক্তব্য রাখেন, মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমেদ।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। সেই দিন থেকেই দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এরপর থেকেই ২১ নভেম্বরকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালনের পেছনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জড়িয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীরা যে অবদান রেখেছিল,  তা সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের সঙ্গে একীভূত করতে এই দিবসের মূল তাৎপর্য।

বিশ্বে সংঘাতের জন্য ‘অবৈধ অভিবাসী’দের দায়ী করলেন সু চি

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি দাবি করেছেন, অবৈধ অভিবাসীরাই সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে এবং সেকারণে বিশ্ব অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। সোমবার দেশটির রাজধানী নেপিদোতে ইউরোপ ও এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের স্বাগত জানিয়ে দেওয়া এক ভাষণে এই দাবি করেন তিনি।

২৫ আগস্টের পর হতে সেনা অভিযানের মুখে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার প্রসঙ্গটি ভাষণে সরাসরি উল্লেখ করেননি সু চি। কিন্তু তার ভাষণে মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনোভাবই উঠে এসেছে। দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষেরা রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে।

সোম ও মঙ্গলবার মিয়ানমারে আসেম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্মেলনে আসা পরররাষ্ট্রমন্ত্রীদের স্বাগত জানিয়ে দেওয়া ভাষণে সু চি বলেন, বিশ্ব এখন অস্থিতিশীলতার যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে কারণ বিশ্বজুড়ে নতুন ধরনের হুমকি বাড়ছে। কারণ অবৈধ অভিবাসীরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রপন্থা ছড়াচ্ছে, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, এমনকি পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি তৈরি করছে। সংঘাতের কারণে সমাজ হতে শান্তি বিদায় নিয়েছে। রেখে যাচ্ছে অনুন্নয়ন ও দারিদ্র্যতা। মানুষকে এক দেশ থেকে অন্যদেশে চলে যেতে বাধ্য করছে।

রাখাইনে সেনা অভিযান ও নিপীড়নের মুখে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই সেনা অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কয়েকটি দেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। রাখাইনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে।

সোমবার নেপিদো পৌঁছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি সু চির সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং রাখাইনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে জোর দেবেন।

 

সূত্র: ইউএসএ টুডে।

মিয়ানমারে রাখাইনের সঙ্কট সমাধানে কী চায় চীন?

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন তাতে রয়েছে তিনটি ধাপ। মিয়ানমারে আসেম সম্মেলনের যোগদানের উদ্দেশ্যে মি. ওয়াং এখন রাজধানী নেপিড’তে রয়েছেন।
তিনি এই পরিকল্পনা নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সাথে কথাবার্তা বলেছেন। এই পরিকল্পনাটি তিনি তার ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ সরকারের কাছেও ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশ মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য কোন পরিকল্পনাই বর্তমান সঙ্কটের সমাধান করতে পারে। রাখাইনে দ্রুত অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব চীনা সরকারি বার্তা সংস্থা শিনহুয়ার খবর অনুযায়ী, মি. ওয়াং তার পরিকল্পনার প্রথম ধাপে রাখাইনে অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঐ এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে, যাতে সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের অন্যত্র চলে যেতে না হয়। তবে এই চীনা পরিকল্পনায় যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আছেন, তাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরাসরি কোন কথা বলা হয়নি। সকল পক্ষের মধ্যে সংলাপ।

শিনহুয়া বলছে, চীনা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে এই সঙ্কটের সবগুলো পক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আলোচনার প্রক্রিয়া চালু রাখার তাগিদ দেয়া হয়েছে, যাতে ‘সমতার ভিত্তিতে এবং সৌহার্দপূর্ণভাবে’ সঙ্কটের সমাধান করা যায়।

রাখাইনে উন্নয়ন প্রস্তাব চীনা পরিকল্পনার তৃতীয় ধাপে রাখাইনের উন্নয়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে রাখাইন রাজ্য প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। কিন্তু সেখানে উন্নয়নের ধারা থমকে গিয়েছে। রাখাইনের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা করার ব্যাপারেও চীনা পরিকল্পনায় তাগিদ দেয়া হয়েছে।
চীনা সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, এই পরিকল্পনার পেছনে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ উভয় সরকারের সমর্থন রয়েছে। তবে এই ব্যাপারে এককভাবে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানা যায়নি।

 

সূত্র: বিবিসি

খাগড়াছড়ি সদর জোনের উদ্যোগে গোল্ডেন ক্লাবকে ক্রীড়া সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি সদর সেনা জোনের উদ্যোগে গোল্ডেন ক্লাব নামে একটি সংগঠনকে ক্রীড়া সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার(২১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১০টায় জোন সদর দফতরে ক্লাবের সভাপতি রিমেন চাকমার কাছে হস্তান্তর করেন সদর সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শুভ ইসলাম। এসময় ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সদর সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শুভ ইসলাম জানান, জেলা সদরের ৪নং পেরাছড়া এলাকার গোল্ডেন ক্লাবের আবেদনের প্রেক্ষিতে ক্রীড়া অনুরাগীদের প্রণোদনের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি জোনের পক্ষ থেকে ক্রীড়া সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।