বান্দরবানে গরিব-অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি লি. বান্দরবান জেলা শাখার উদ্যোগে এলাকার গরিব অসহায় দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে সমিতির কার্যালয়ের সামনে এর আয়োজন করা হয়।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি লি. বান্দরবান জেলা শাখার চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম। সমিতির ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কায়েছ, ভাইস-চেয়ারম্যান শরিয়ত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ চক্রবর্তী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহাম্মদ, কোষাধ্যক্ষ(অর্থসম্পাদক) আলহাজ্ব মো. নুরুচ্ছা সিকদার, যুগ্ম-কোষাধ্যক্ষ মো. মুহিব উল্লাহ ভূঁইয়া-সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

সমিতির চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সমিতির উদ্যোগে এলাকার গরিব অসহায় দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছ। আমাদের সমিতি আগামীতে আরও ভালো ভালো কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে, আমরা সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি, ভবিষ্যতে এর ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকবে।

খাগড়াছড়িতে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে প্রতিযোগিতা করে পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় পাহাড় খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে পাহাড়ের বুকে যন্ত্র চালাচ্ছে। ফলে সামনে বর্ষা মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ফের পাহাড় ধসে প্রাণহানীর পাশাপাশি মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

খাগড়াছড়ি শহরের সবুজবাগ, শাল বাগান ও এডিসি হিলে প্রতিনিয়ত চলছে পাহাড় খেকোদের তাণ্ডব। ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। কেউ কেউ বানাচ্ছে বসতবাড়ী। নিচে থেকে মাটি কাটার কারণে পাহাড়ের উপরে বসবাসকারী রয়েছে আতঙ্কে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন পাহাড় কাটা দিনের পর দিন চললেও নির্বিকার প্রশাসন। পাহাড়ের মাটি কাটার কারণে সামনে বর্ষা মৌসুমে আবারও পাহাড় ধসে প্রাণহানীর আশংকা করছে ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে পাহাড় কাটার দায়ে অভিযুক্তরা  বলছে ভিন্ন কথা।

খাগড়াছড়ি শহরের সবুজ বাগের পাহাড় কাটার সাথে জড়িত হোসেন আহমেদ, তিনি পাহাড় কাটছেন না। মাটি ড্রেসিং করছেন। খাগড়াছড়ি পৌর শহরের শাল বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, বিশাল পাহাড় কেটে বাড়ি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় শরীফ ভূইয়া। তবে অভিযুক্ত শরীফ ভূইয়া রাস্তার কাজের জন্য পাহাড়  কাটা হয়েছে বলে জানায়।

পাহাড় কাটার কারণে আতঙ্কিত প্রতিবেশীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এরা খুবই প্রভাবশালী। প্রশাসনকে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পাহাড় কাটার সময় এসে হাজির হয় এবং টাকা নিয়ে চলে যায়।

খাগড়াছড়ির পরিবেশ কর্মী আবু দাউদ বলেন, প্রায় প্রতি বছর খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসে প্রাণহানীর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাড়ি-ঘর ও সম্পদ। অথচ পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, কাউকে পাহাড় কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাহাড় কাটা থেকে বিরত রাখতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে প্রশাসন।

শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন এলাকাবাসী।

বান্দরবান আলিম মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য দোয়া ও আলিম পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা মাদ্রাসার হল রুমে এর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. আবু হাসান সিদ্দিক।

বান্দরবান ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আউয়াল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন। অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আরবি প্রভাষক মাওলানা মো. জমির, আরবি প্রভাষক মাওলানা বদিউল আলম, সহকারী শিক্ষক মাওলানা ওসমান গণি, মাওলানা নুর মুহাম্মদ ছিদ্দিকী, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আবুল বশর ছিদ্দিকী, সহকারী শিক্ষক ক্বারী এস.এম ইলিয়াছ, মাওলানা আলী আকবর, অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক মোহাম্মদ আলী, শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী শিক্ষিকা মমতাজ বেগম, আয়শা ছিদ্দিকা, ইয়াছমিন আক্তার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন  লেখা-পড়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক বিজ্ঞানের জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা থাকা খুবই প্রয়োজন, কোরআন থেকে জ্ঞান আহরণ করে মানুষ চাঁদ, নক্ষত্র, নতুন নতুন গ্রহ আবিস্কার করেছে, পৃথিবীর মানুষ আজ জ্ঞান বিজ্ঞান দিয়ে বহু আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিস্কার করেছে, আগামীতে আরও এগিয়ে যাবে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, আজকের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী আগামী দিনের দেশের কর্ণধার, একটি শিক্ষিত জাতি কখনো পিছিয়ে থাকে না, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। তাই আমাদের ছেলে মেয়েদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে, ইসলামের প্রকৃত জ্ঞানের বাণী সমাজে প্রচার করে সমাজ তথা দেশ থেকে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস দূর করতে হবে। পরে সকলের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

গুইমারা সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

গুইমারা প্রতিনিধি:

‘ক্রীড়াই শক্তি ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল’ শ্লোগানে বাঁশের মশালে প্রদীপ জ্বালিয়ে উপজেলার গুইমারা সরকারি কলেজের ৪র্থ আন্ত:হাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া।

বৃহস্পতিবার(২৪ জানুয়ারি) সকালে কলেজ মাঠে ছাত্রছাত্রীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন ও পরে অংশগ্রহণকারী  বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার সামগ্রী তুলে দিয়ে  প্রধান অতিথি পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, যুব সমাজকে মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে গুইমারা উপজেলাব্যাপী বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন রয়েছে। এর আগে কলেজের শিক্ষার্থীরা মহান জাতীয় পতাকা ও অতিথিগণকে সালাম জানান।

কলেজ অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্না ত্রিপুরা, হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী, গুইমারা সরকারি মডের কলেজের প্রধান শিক্ষক সুশিল রঞ্জন পালসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির সীমানাঝিরি পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের আলীক্ষ্যং সীমানাঝিরি পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন।

প্রতিষ্ঠার ৫ বছর পরও স্বীকৃতি না পাওয়ায় সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই স্থানীয়রা নতুন বছরে নতুন সরকারের কাছে স্কুলটি জাতীয়করণে জোর দাবি তুলেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। প্রথমবারের মত ২০১৮ সালে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ সাফল্যও পায় বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন জানান, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা প্রদান করার পর আলীক্ষ্যং এলাকার সীমানাঝিরি পাড়ায় ওই বিদ্যালয়টি টিন সেট দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার ফলে শত শত কচিকাঁচা ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আমিন জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমি এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আছি। প্রতিষ্ঠার পর দুই-তিন বছর এনজিও সংস্থা ইউএনডিপি এবং গ্রাউসের পক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন প্রদান করা হলেও ২০১৭ সাল থেকে বেতন ছাড়াই ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৪ জন শিক্ষক এবং প্রায় ১’শ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। স্কুলটি জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্কুল শিক্ষিকা শারমিন সুলতানা জানান, স্কুলটির সংস্কার অতীব জরুরী। ক্লাসরুম গুলোতে মানসম্মত ফার্নিসার এবং ব্লাকবোর্ড নেই। দরজা-জানালাসহ টিনের বেড়াগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য আবুল হোসেন জানান, বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইতিপূর্বে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বদলী হওয়ায়, আবেদনটি থমকে যায়। দুর্গম জনপদের বেসরকারি ওই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে সরকারি ভাবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলে মনে করেন তিনি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, তিনি নতুন যোগদান করলেও স্কুলটির বিষয়ে অবগত হয়েছেন। জাতীয়করনের বিষয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যে উপজেলায় যা আবেদন হওয়ার হয়ে গেছে। এখন সরকারিভাবে নতুন করে কোনো নির্দেশনা আসলে স্কুলটির ভবিষ্যত নিশ্চিত হবে।

বান্দরবানে  বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ১ শ্রমিক নিহত

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান শহরের কাছে লাল ব্রিজ এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মেরামত কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চালু হলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. অরাবি ইসলাম (২৩) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত শ্রমিক আরাবির বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার দহল বাড়ি গ্রামে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

এর আগে গত মাসেও শহরের নতুন ব্রিজ এলাকায় সঞ্চালন লাইনে কাজ করতে গিয়ে এক শ্রমিক  নিহত হয়।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম সিদ্দিকি জানান, এলটি লাইন বন্ধ করেই কাজ করছিল শ্রমিকরা। কিন্তু কেন হঠাৎ করে লাইনে বিদ্যুৎ চালু হল তা বোঝা যাচ্ছে না। হয়ত কোনোভাবে বন্ধ লাইনের সাথে বিদ্যুতের সংযোগ হয়ে গেছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বান্দরবান বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী চিংলা মং মারমা জানান, চট্টগ্রামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আওতায় জেলা শহর থেকে বন প্রপাত এলাকা পর্যন্ত সঞ্চালন লাইনে নতুন তার লাগাচ্ছিলেন ওই  শ্রমিকসহ অপর ৩ শ্রমিক। কিন্তু হঠাৎ সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ চালু হলে ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যায় মো. আরাবি।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন রাঙামাটির বিশ্বজিত চাকমা

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বৌদ্ধ ধর্ম থেকে চির শান্তির ধর্ম ইসলামে দীক্ষিত হলেন বিশ্বজিৎ চাকমা। তাঁর বর্তমান নাম আবু বকর। তিনি রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়াচর থানার ৪নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা।

গতকাল (২৩ জানুয়ারি) বুধবার, সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় বিশ্বজিৎ চাকমা আল জামিয়াতুল আরাবিয়া নছিরুল ইসলাম (নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার) অন্যতম মুহাদ্দিস মাওলানা হাফেজ জাফর আহমদের মাধ্যমে মাদ্রাসা মসজিদে বসে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেন।

এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শহীদুল্লাহ, মাওলানা মুফতী ইবরাহীমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা শহীদুল্লাহ ও নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার ছাত্ররা নব দীক্ষিত নওমুসলিমদের হাদিয়া (নগদ টাকা) প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বজিৎ চাকমার সাথে তাঁর অন্য দুইজন বন্ধু আবদুর রহমান ও মাসউদুর রহমান এসেছিলেন। তাদের বাড়ি পার্বত্যজেলা খাগড়াছড়িতে। গত কিছুদিন পূর্বে আবদুর রহমান ফেনীতে ও মাসউদুর রহমান ঢাকায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন, আবদুর রহমান বর্তমানে তাবলীগে সময় লাগিয়ে বর্তমানে ইসলাম ধর্ম প্রচারে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সে বন্ধু বিশ্বজিৎ চাকমা দাওয়াত দেয়। বিশ্বজিৎ চাকমা ইসলামের সুমহান আদর্শ ও বিধি-বিধানে বিমোহিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে জানান।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তাঁদের নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা মসজিদে বসিয়ে নামাজ, দোয়া, কালেমা ইত্যাদি শিখিয়ে দেয়া হয়। সাথে সাথে ইসলামের সুমহান আদর্শের উপর অটল অবিচল থাকার জন্য মাদ্রাসার হুজুররা নসিহত করেন। এবং নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে আসার দাওয়াত দেন।

(বিশ্বজিৎ চাকমা’র) বর্তমান নাম আবু বকর, আবদুর রহমান ও মাসউদুর রহমান ইসলামের উপর অটল অবিচল থাকার এবং ইসলামের প্রচার প্রসারে নিজেদের নিয়োজিত রাখার জন্য সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

সূত্র: কাজী শহিদুল্লাহ ওয়াহিদ, একুশে জার্নাল।

রুমায় দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে পপি বাগান ধ্বংস করেছে নিরাপত্তাবাহিনী

রুমা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তখ্য পেয়ে দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে পপি বাগান ধ্বংস করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

বুধবার সকালে রুমা জোনের নির্দেশনায় রুমা বাজার ক্যাম্প কমান্ডার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ হায়দার আলী ও সার্জেন্ট মোহাম্মদ রফিক এর নেতৃত্বে ১৪ জনের নিরাপত্তাবাহিনীর একটি দল পপি বাগানটি ধ্বংস করে দেয়া হয়। এসসময় আরো ১৪ জন আনসার বাহিনী ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

সূত্র জানায় গোপন সংবাদ পাওয়ার পর বুধবার ভোর রাতে বাজার ক্যাম্পের কমান্ডারের নেতৃত্বে দুর্গম পাহাড়ে অফিম বাগানের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুর্গম পাহাড়ে সাড়ে তিন ঘন্টা পায়ে হেঁটে গহীন অরণ্যে খুঁজে বেড়ানোর পর বিশাল আফিম বাগানের সন্ধান পায়। এ অভিযানে আফিম বাগান সন্ধানে স্থানীয় বগামুখ পাড়ার বাসিন্দা ক্যহ্লাপ্রু মারমা(৪০) ও মেগ্য মারমা(৫৫) নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

ওয়ারেন্ট অফিসার হায়দার আলী জানান গভীর জঙ্গলে অনেক খুজাঁখুজির পর দুপুর আড়াইটার দিকে বগামুখ পাড়ার এলাকায় ক্যুম্রং নামক ঝিরির অনেক ভিতরে আফিম বাগান দেখতে পান। পাহাড়ে এ পপি চাষের বাগানটি প্রায় দুইশ শতক হতে পারে। এ বিষয়টি জোন কমান্ডারকে জানিয়ে তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক পপি গাছগুলো কেটে আগুনে পুড়িয়ে ধংস করে ফেলা হয়েছে। তবে বাগানের মালিক নাম মংমে বলে জানান তিনি।

খাগড়াছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক সংকট নিরসন, বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু, মাস্টার্স ও বিএসসি কোর্স চালুর দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি ঝর্ণাধার কচিকাচার মেলার হল রুমে আয়োজিত ৩৫তম  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা সরকারের কাছে এসব দাবি জানান। এসময় তাঁরা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে পিএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সভাপতি কবির হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র ফ্রন্টের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আরিফ মঈনউদ্দিন, জেলা সাধারণ সম্পাদক অরিন্দ্র কৃষ্ণ, বাসদ (মাকস বাদি) জেলা সদস্য শাহাদাৎ হোসেন।

এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়্ছড়ি:

খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশাপূর্ণ চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হাসেম, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শ্রীলা তালুকদার প্রমুখ।

পরে বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।