৭১’এ বাংলাদেশিদের ত্রিপুরায় আশ্রয় ও সহায়তা দেয়া ছিল আমাদের নৈতিক দায়িত্ব : ত্রিপুরার সাংসদ জীতেন্দ্র


20170113_135444-2 copy
রামগড় প্রতিনিধি :
ভারতের লোকসভার পূর্ব ত্রিপুরার সাংসদ  জীতেন্দ্র  চৌধুরী  বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে  বাংলাদেশের মানুষকে ত্রিপুরায় আশ্রয় ও সহায়তা দেয়া হয়  নৈতিক দায়িত্বে। প্রতিবেশীর প্রতি এটা নৈতিক দায়িত্ব  ছিল ভারতের।  তিনি আরো বলেন, ত্রিপুরার বিলোনীয়ার যুত্যা খোলা নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি  ক্যাম্প ছিল। সেখানে ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পার্ক নামে একটি পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের তৈরি করা ক্যাম্পের মত একটি  ক্যাম্প নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন ভারতের প্রধান মন্ত্রী  ইন্দিরাগান্ধীর প্রতি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। আগামী  মার্চ বা এপ্রিল মাসে  পার্কটি উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাংলাদেশ ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের দুই যুগ পূর্তি  ও ১২তম কাউন্সিল  উপলক্ষে  আয়োজিত আলোচনা সভায়  গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে শ্রী জীতেন্দ্র চৌধুরী এ কথা বলেন।  তিনি আরো বলেন, দারিদ্রতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার শুধু ভারত বাংলাদেশের শত্রু নয়। এটা উপমহাদেশের বড় শত্রু।  এই শত্রুর বিরুদ্ধে দুদেশকে এক সাথে লড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফেনী নদীর ওপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ খুব শীঘ্রই আরম্ভ করবে ভারত সরকার। দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক আদান প্রদানেও এ মৈত্রী সেতু বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। বড় দেশ বা ছোট দেশ হিসাবে নয়, সমান মর্যাদায় এগিয়ে যেতে হবে দুদেশকে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবী দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। টিকে থাকতে হলে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে। এ জন্য দুদেশে নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ সমন্বয় থাকা দরকার।

ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির  সভাপতি  উবিক ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন খাগড়াছড়ি  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  কংজরী  চৌধুরী। প্রথম অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন মিয়া, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য ভুবন মোহন ত্রিপুরা, সাবেক তথ্য কর্মকর্তা সুরেশ মোহন ত্রিপুরা, ইউপি চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু। অন্যান্যের মধ্যে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, স্টুডেন্টস ফোরামের নেতা দেবাশীষ ত্রিপুরা, খগেশ্বর ত্রিপুরা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনের পর সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান র‌্যালির উদ্বোধন করেন। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে লেক পার্কে শেষ হয়। তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে যোগ দিতে আসা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন পেশাজীবী নারী পুরুষ  র‌্যালিতে অংশ গ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *