৬০ ‘ইয়াবা গডফাদার’র তালিকা থেকে বাদ পড়লেন এমপি বদি


নিজস্ব প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

অবশেষে ‘ইয়াবা গডফাদার’র তালিকা থেকে ‘দায় মুক্তি’ দেয়া হল টেকনাফ-উখিয়ার বহুল আলোচিত-সমালোচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে। সরকারের সর্বশেষ তৈরী করা ইয়াবা গডফাদারের তালিকা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

গত এক দশক ধরে এমপি বদিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে সরকারী সকল সংস্থার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা। সরকারী সকল গোয়েন্দা সংস্থাও প্রতিবেদন দিয়েছে এমপি বদির বিরুদ্ধে। ইয়াবার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার শুরু থেকে সরকার দলীয় এ সংসদ সদস্য বারবার ‘ইয়াবার সাথে কোনভাবেই জড়িত নন’ বলে দাবি করেছেন। এটি তার ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র বলেও তিনি দাবি করেছেন।

গেল সংসদ অধিবেশনের বক্তব্যে এমপি বদি চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, কোনভাবে তিনি ইয়াবা ব্যবসা বা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন- প্রমাণ করতে পারলে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। ফলে এমপি বদির ইয়াবা ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা ছিল। তিনি সংসদেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

সংসদের ওই বক্তব্যে এমপি বদি সারা দেশের সাংবাদিকদের টেকনাফে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। এই সব আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ইয়াবার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে এমপি বদির।

চলতি বছরের মার্চ মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এই হালনাগাদ তালিকাটি তৈরী করা হয়। যেখানে ‘ইয়াবা গডফাদার’ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ৬০ জন। কক্সবাজারের ৮টি উপজেলার ১১৫১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে এ তালিকাটিতে।

তালিকার শীর্ষে যথারীতি রয়েছেন দেশের ইয়াবা সম্রাট সাইফুল করিমের নাম। রয়েছে সাইফুলের আরো ৪ ভাই ও ২ শ্যালকের নামও। তালিকায় দেখা গেছে, রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব থাকলেও ইয়াবা পাচারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সখ্য ঠিকই বিরাজমান।

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বশেষ এ প্রশাসনিক তালিকা থেকে এমপি বদির নাম বাদ পড়লেও বাদ যায়নি তার স্বজনরা। এমপি বদির ভাই, ভাগ্নে ও পরিবারের একাধিক সদস্যসহ বদির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত অনেকের নামই এসেছে শীর্ষ ৬০ গডফাদারের তালিকায়। সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের এ ৬০ ব্যক্তি ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে এ তালিকায়। তালিকায় উখিয়া-টেকনাফের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর দুই পুত্র মাহাবুব মোরশেদ ও রাশেদ মোহাম্মদ আলীর নাম রয়েছে।

টেকনাফ বিএনপির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা মো. আবদুল্লাহর দুই ভাই, বোনের জামাই ও ৪ বেয়াইয়ের নাম রয়েছে শীর্ষ ইয়াবা পাচারকারীর তালিকায়। আছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বর্তমান ও সাবেক অনেকে জনপ্রতিনিধি, তাদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নাম রয়েছে।

এই ৬০ গডফাদার হলেন, শীর্ষ ইয়াবা পাচারকারী শিলবুনিয়া পাড়ার হাজী সাইফুল করিম, এমপি বদির ভাই আব্দুস শুকুর, অলিয়াবাদ এলাকার আব্দুল আলিম, মারুফ বিন খলিল বাবু, এমপি বদির ভাগিনা সায়েদুর রহমান নিপু, নিপুর মা শামছুন্নার, এমপি বদির ভাই পৌর কাউন্সিলর মৌলভী মজিবুর রহমান, মোহাম্মদ শফিক, মোহাম্মদ ফয়সাল, সাবরাং এর আলীরডেলের আক্তার কামাল ও তার ভাই শাহেদ কামাল, এমপি বদির মামাত ভাই কামরুল হাসান রাসেল, সাইফুল ইসলাম, আচারবনিয়ার আবুল কালাম, পশ্চিম লেদার ইউপি সদস্য নুরুল হুদা, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ, তার ছেলে মোস্তাক মিয়া, দিদার মিয়া, টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান, ডেলপাড়ার মোহাম্মদ আমিন, তার ভাই নুরুল আমিন, নাজিরপাড়ার ইউপি সদস্য এনামুল হক, মৌলভী পাড়ার একরাম হোসেন, আব্দুর রহমান, নাজির পাড়ার সৈয়দ মেম্বার, নয়া পাড়ার শামসুল আলম মার্কিন, বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন, শামলাপুরের হাবিব উল্লাহ, কচুবনিয়ার মৌলভী বসির উদ্দিন ওরফে ডাইলা, খানকারপাড়ার মৌলভী বোরহান, পুরান ফোরলানপাড়ার শাহ আলম, জিয়াউর রহমান, তার ভাই আব্দুর রহমান, মধ্যম জালিয়াপাড়ার মোজাম্মেল হক, দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার জোবায়ের হোসেন, কাউন্সিলর কুলালপাড়ার নুরুল বশত ওরফে নুসরাত, পুরান ফোরলানপাড়ার আব্দুল হাকিম ওরফে ডাকাত আব্দুল হাকিম, হাতিয়ারগোনার মো. আব্দুল্লাহ, জালিয়ারপাড়ার জাফর আলম ওরফে টিটি জাফর, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহর দুই ভাই বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান ও যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান, টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আলম, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে মোহাম্মদ রাশেদ, মাহবুব মোর্শেদ, বাজারপাড়ার মোহাম্মদ শাহ মালু, নির্মল ধর, পশ্চিম লেদার নুরুল কবির, বড় হাবিবপাড়ার ইউসুফ জালাল বাহাদুর, নাইটেং পাড়ার ইউনুস, উলুমচামুরীর আব্দুল হামিদ, পশ্চিম শিকদার পাড়ার সৈয়দ আহমদ ছৈয়তু, রঙ্গিখালীর হেলাল আহমেদ, জাদিমুরার হাসান আব্দুল্লাহ, উত্তর জালিয়াপাড়ার মোস্তাক আহমেদ ওরফে মুছু, কুলালপাড়ার মৃত রশিদ চেয়ারম্যানের তিন পুত্র মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন টিটু, আলমগীর হোসেন, সাবরাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান, নয়াপাড়ার রোহিঙ্গা নেতা মো. আলম ওরফে মাত আলম, মঠপাড়ার আব্দুল জব্বার ও তার ভাই মো. আফসার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *