parbattanews bangladesh

কক্সবাজারে ভোট ডাকাতি: ৪ মেয়র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে মেয়র পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই ভোট বর্জন করেছেন। বর্জনকারী প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির রফিকুল ইসলাম, নাগরিক কমিটির প্রার্থী সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন শিকদার এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের জাহেদুর রহমান।

নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও প্রকাশ্যে ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং নেতাকর্মিদের নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করায় এ নির্বাচন বর্জন করেছেন তারা। সেইসঙ্গে নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন ৪ মেয়র প্রার্থী।

বুধবার (২৫ জুলাই) দুপুর ২টায় নাগরিক কমিটির প্রার্থী সরওয়ার কামাল ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকায় সীল মারার অভিযোগ পৌরসভা নির্বাচন বর্জন করেন।

এর আগে সকাল থেকে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে সরকার দলীয় নেতা-কর্মী কর্তৃক ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সীল মারা হচ্ছে বলে সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেক ভোটারকে মেয়রের ব্যালট বাদে দুইটি ব্যালট পেপার দেয়া হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের অবস্থা খুব ভয়াবহ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১নং ও ২নং ওয়ার্ডের সবকেন্দ্র, ৭নং ওয়ার্ডের এবিসি ঘোনা কেন্দ্র, ৫নং ওয়ার্ডের হাশেমিয়া মাদরাসা কেন্দ্র, ৮নং ওয়ার্ডের বইল্যাপাড়া কেন্দ্র, ১২নং ওয়ার্ডের কলাতলী কেন্দ্র, ৬নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালট ছিনতাই করে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়া হয়েছে। সব কেন্দ্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা এসব করছে। কেন্দ্রগুলোর আশপাশে প্রচুর পরিমাণ বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে।

৩নং ওয়ার্ডের নুরপাড়া কেন্দ্রে এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ, ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি ও জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থী আমিনুল ইসলাম মুকুল।

তিনি বলেন, জীবনে অনেক নির্বাচন দেখেছি, কিন্তু এভাবে কেন্দ্র দখলের মহোৎসব আর দেখিনি। নির্বাচনে নিয়োজিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। সরকারি দলের কাছে অনেকে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি এর প্রতিকার চাই।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে এনে ভোট বর্জন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন সিকদার ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর জাহেদুর রহমান একই অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন। তারা সকলেই পুন:রায় নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান।