সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে রুমা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভূত ময়লার স্তূপ অপসারণের কাজ চলছে


????????????????????????????????????

রুমা প্রতিনিধি:

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভূত হওয়া স্তূপ অপসারণ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। বাজার ক্যাম্পে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সোমবার অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভূত স্তূপ অপসারণ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সূত্র জানায়, গত শনিবার দুপুরে এক অগ্নিকান্ডে রুমা বাজারে ৩৯ দোকানসহ ক‘টি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন পণ্য দ্রব্য ও মালামালগুলো বাজারের নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছাইসহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভূত স্তূপে স্বাভাবিক হাঁটা চলাও বাঁধাগ্রস্ত হয়। তাছাড়া নানা দ্রব্য পুড়ে ছাইগুলো বাতাসে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে আপাত:দৃষ্টিতেও পুড়ে যাওয়া বর্জ্যে ময়লা-আবর্জনায় সুশ্রী দেখাচ্ছিল না। এ অবস্থায় গত রোববার সদর ইউপি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় রুমা জোন কমান্ডার লে: কর্নেল গোলাম আরিকুর আলম সেনাবহিনীর কর্তৃক রুমা বাজারে অগ্নিকান্ডে ভস্মিভূত স্তূপ অপসারণের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়ে এ কাজে জনস্বার্থে সবাইকে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এরপর রুমা জোনের একদল সেনা সদস্য সোমবার সকাল থেকে রুমা বাজারে ভস্মিভূত স্তূপগুলো অপসারণ অভিযানে নামেন। এতে বাজারে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙ্গালী ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পাড়ার লোকজনও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কাজে স্বত:স্ফূর্ত অংশ নেন।

এ প্রতিবেদক সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, একদিকে রুমা বাজার সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সেনা সদস্য পুড়া ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে ট্রাকে ভরাচ্ছে। অপরদিকে সদর ইউপি‘র সাবেক চেয়ারম্যান রাজ্জাকের নেতৃত্বে একদল লোক ফো হ্লা চিংঙের দোকানের আশপাশে পোড়াস্তুপ অন্যত্র সরানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি সদর  ইউপি চেয়ারম্যান শৈমং এর তত্ত্বাবধানে ‘মং গেস্ট হাউস’ এর সামনেও বাজার শেডের আবর্জনা স্তুপ অপসারণ করতে দেখা গেছে।

ক্যাম্প কমান্ডার নুরুল ইসলাম পার্বত্যনিউজকে জানান অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া সব আবর্জনা স্তুপগুলো অপসারণ যতক্ষণ শেষ হবেনা, ততক্ষণ এ অপসারণ অভিযান চলবে।

সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এ প্রতিবেদক গিয়ে দেখতে পান, অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ৩৯টি দোকান এলাকায় কোনো আগুনে পোড়া ময়লার স্তুপ লক্ষ্য করা যায়নি। ততক্ষণে সব পোড়া বর্জ্য অপসারণ হয়ে গেছে। হিলটন আবাসিক থেকে সামনে এগিয়ে যেতেই কথা হয় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ফো হ্লা চিং মারমা(৬২), গোপাল দাশ(৪৮) ও  আহমদ ছফা(৪৫) সঙ্গে। ছফা ও দাশ এ দু‘জনেরই দর্জি ও কাপড় ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। ফো হ্লা চিং  মারমার মুদি দোকান। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার সহধর্মীনী দোকানে ছিলেন। দোকান থেকে তেমন কিছু বের করিয়ে নিতে পারেন নি। হঠাৎ অকটেন ও পেট্রোল-এ লাগা আগুনে দোকানের সামনে মুখ থেকে বের হওয়া সুযোগ পাচ্ছিলনা তার স্ত্রী। বিপরীত দরজায় বের হতে গিয়ে পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হন স্ত্রী। এখন পড়ার শার্ট, একমাত্র গায়ে থাকা লুঙ্গি-ই ছিল। এমনকি রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহৃত একটি চামচও উদ্ধার করা যায়নি বলে জানান তিনি।

গোপল দাশ বলেন, আগুনে পুড়ে যাবার সময় দোকান বন্ধ থাকায় সব ছাই হয়ে গেছে। এখন আছে মাত্র পুড়ে যাওয়া ঢেউটিন। বেপারীদের বিক্রি করে যা পাবো, সেটিই হবে-একমাত্র সম্বল বলে জানালেন আহমদ ছফা। তারা বলেন একজনের অসাবধানতা ও চরম অবহেলার কারণে বাজারে এতজন ব্যবসায়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে যেহোক, শাস্তি পাওয়া উচিত বলে মনে করেন গোপাল দাশ।

 উল্লেখ্য যে, গত ২০ আগস্ট শনিবার দুপুরে মোহাম্মদ জামাল(৩১) নামে এক ব্যবসায়ী দোকানে গ্যাসের চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে রুমা বাজারের ৩৯টি দোকানসহ বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। একই সাথে আরো ক‘টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দু‘টি আবাসিক হোটেলেরও দেড় কোটি টাকা ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *