সুইডেন পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: ইউপি চেয়ারম্যান, ছাত্র, জনতা ও পুলিশসহ আহত ২৫


bspi-03-12-2016-copy

কাপ্তাই প্রতিনিধি:

কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে  ছাত্র, জনতা ও পুলিশ মিলে ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া পায়।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে  পুলিশ, বিজিবি ও সেনা মোতায়ন করা হয়েছে।

সুত্রে জানা যায় শনিবার দুপুর ১২টা ৪৫মিনিটে লগগেট পেট্রোল পাম্প এলাকায় ইনস্টিটিউটের কিছু শিক্ষার্থী ও নতুনবাজার এলাকার কিছু জনতার মধ্যে কোন একটি বিষয় নিয়ে  প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা ইনস্টিউটে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্ররা ইনস্টিটিট হতে বাহির হয়ে জনতার সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় পৌনে এক ঘন্টার মত দু’পক্ষের মধ্যে ইট, পাথর, লাটিসোটা ও লোহার রড নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় সকল ধরনের দোকানপাট, যানবাহান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  দু’পক্ষের সংঘর্ষ সামাল দিতে প্রথমে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।  পড়ে বিজিবি ও সেনাবাহিনী ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এদিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১৮ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর জানান ছাত্র প্রতিনিধিরা। আহতরা হলো রবিউল, রুপক, জামশেদ, উমং, রাজিব, রফিক, শাহারিয়ার, ফিরোজ, সাজ্জাদ, শিফার, মোজাম্মেল,  আবদুল গনি, শরিফ হোসেন, বাধন, রানা, কৌশিক,  জাহেদ। আহতদের কেউ কেউ স্থানীয় হাসপাতালে আবার কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে সিএনজি সমিতির সভাপতি সোবাহান  বলেন, ছাত্রদের ঘটনা ঘটেছে অন্যদের সাথে কিন্তু  অন্যায়ভাবে আমাদের তিনটি সিএনজির গ্লাস ভাংচুর  করে এবং আমাদের ৪জন চালক আরাফাত, রুবেল, ইকবাল ও ওসমানকে মারধর করে আহত করেছে বলে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে  শাহ আলম নামের একজনের মাথায় পাথর নিক্ষেপ করে গুরুত্বর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এদিকে দু’পক্ষের উত্তেজনায় পলিটেকনিকের কম্পিউটার বিভাগের দরজা-জানালায় পাথর নিক্ষেপ করে ভাংচুরের খবর জানান কম্পিউটার বিভাগের  এক শিক্ষক।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রে আনার জন্য ১৯-বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আশরাকুর রাহাত ছিদ্দিক, পলিটেকনিক অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা এমপির প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিল, নতুনবাজার কমিটির সভাপতি কাজী সামসুল ইসলাম আজমির, সম্পাদক হাজী কবির আহমেদ, ছাত্রপ্রতিনিধি সাজ্জাদ, জোনায়েদ ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের নিয়ে অধ্যক্ষর কক্ষে জরুরী সভা ডাকা হয়।  সভায়  মাদক নিয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে দু’পক্ষের সংর্ঘষ হওয়ার খবর ওঠে আসে। এলাকার মাদক ব্যাপকভাবে বিস্তার হওয়ার দরুন এ মাদক নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে বলে ছাত্র প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন।

ছাত্ররা বলেন, এলাকার কিছু উশৃঙ্খল যুবক মাদক নিয়ে এলাকায় ব্যবসা করছে আমরা ছাত্রদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাঁধা দিতে যাওয়ায় উক্ত ঘটনার ঘটে। আমরা এসব অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে বিচার চাই।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, আমরা এর ব্যবস্থা নিব তবে কোন ধরনের উশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যাবেনা। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চাই। ছাত্রদের উদ্দেশ্য অধিনায়ক বলেন, তোমাদের কেউ কিছু বললে বা মাদক বহন করতে বাধ্য করলে সরাসরি আমাকে খবর দেয় আমি ব্যবস্থা নিব। এমনটা আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন তিনি।

এদিকে কাপ্তাই থানার ওসি রঞ্জন কুমার সামান্ত’র নিকট জানতে চাইলে তিনি  বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে বাজারে আশা যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতার সাথে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং যেকোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকায় সেনা, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

image_pdfimage_print

2 thoughts on “সুইডেন পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: ইউপি চেয়ারম্যান, ছাত্র, জনতা ও পুলিশসহ আহত ২৫

  1. বাংলাদেশের পুলিশ সব চাইতে বেশি খারাপ।ওরা অন্নায়ের বিচার করতে জানে না

  2. ……… তোদের কারনে আজ মানুষ সাংবাদিকতা পেশা কে চাতুকারির পেশা বলে…।। যা না তা লিখে দিলি এখানে পুলিশ আহত হল কুতায়?? আর লতিফফ্যা (চুরম্যান) আহত হল কৈ????

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *