সিএনজি সমিতির সম্পাদকের প্রতিশ্রুতির সময়সীমা শেষ


পেকুয়া প্রতিনিধি:

জিএমসি ইনস্টিটিউশনের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জাদকে মারধর করার ঘটনার মিমাংসা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পেকুয়া উপজেলা সিএনজি সমিতির সম্পাদক বারেক। সেই ২৪ ঘন্টা শেষ হলেও তার কোন খবর নেই।

পেকুয়ায় সিএনজি ড্রাইভার কর্তৃক স্কুল ছাত্রকে মারধরের ঘটনা এখনো অমিমাংসিত রয়ে গেছে। আর এঘটনার জের ধরে আবারো শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সিএনজি চালক কর্তৃক স্কুল ছাত্রকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ১৮জুন রবিবার পেকুয়া উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় ডাকা অবরোধে সড়ক অবরোধকারী ছাত্রদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। এসময় সিএনজি চালকরাও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের সাথে স্কুল ছাত্রদের উপর হামলা চালাতে দেখা যায়।

পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া এবং ছাত্রদেরকে মাটিতে ফেলে মারধর করার ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককেও পিটিয়ে আহত করেছে পুলিশ। এসময় সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। অবশ্য পুলিশ দাবি করেছে, ছাত্রদের সড়ক অবরোধের সময় তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করার সময় কিছু উত্তেজিত ছাত্র এসআই কামরুলের উপর হামলা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ছাত্রদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে মাত্র।

উল্লেখ্য, ১৭জুন জিএমসি ইনস্টিটিউশনের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জাদ স্কুল শেষে চৌমুহনী থেকে টইটং যাওয়ার সময় ভাড়া কম দেয়া নিয়ে চালকের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই চালক স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করে। এসংবাদ তার স্কুলে পৌঁছালে পরদিন পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউশনের শতাধিক শিক্ষাথী “স্কুল ছাত্রের উপর সিএনজি চালকের হামলা কেন জবাব চাই” স্লোগান দিয়ে চৌমুহনীর মোড়ে এসে অবস্থান নেয়।

এসময় তারা চকরিয়া-মগনামা ও এবিসি মহাসড়কের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের অবরোধ তুলে নিতে বললে ছাত্ররা সিএনজি চালকের বিচার দাবী করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে পেকুয়া থানার ঘুষখোর পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুরুল কাদেরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ চৌমুহনীতে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

এসময় জিএমসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শী চৌমুহনীর বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পুলিশ ছাত্রদের বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে একদল উত্তেজিত ছাত্রএস আই কামরুলের উপর হামলা করার চেষ্টা করে। এতে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে ছাত্রদের উপর লঠিচার্জ করে।

এসময় লাঠিচার্জের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে পেকুয়া থানার ঘুষখোর ওসি (তদন্ত) মনঞ্জুর কাদের মজুমদারের নেতৃত্বে এস আই কামরুল, এস আই নাছির, এএসআই জাহেদও পুলিশ সদস্য হাসানসহ স্থানীয় সাংবাদিক জোবাইদের উপর হামলা চালিয়ে তার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা কেড়ে নেয়। এসময় পেকুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছফওয়ানুল করিম সাংবাদিককে মারধরের প্রতিবাদ করলে তাকেও গ্রেফতার করার চেষ্টা চালায়। এসময় অন্যান্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন, ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ইলিয়াছ, ৯ম শ্রেনীর ছাত্র অপি, সাজ্জাদ ও ছোটন, ৮ম শ্রেনীর ছাত্র শাহেদ, ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্র তারেক ও সাংবাদিক জুবাইদ।

এদিকে স্কুল ক্যাবিনেট চেয়ারম্যান রাশেদ জানান ওই দিন ঘটনার পরপরই পেকুয়া উপজেলা সিএনজি সমিতির সম্পাদক বারেক ঘটনাস্থলে এসে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার মিমাংসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। সেই ২৪ ঘন্টা শেষ হলেও তার কোন খবর নেই। যার ফলে শিক্ষার্থীরা ফুসে উঠেছে। এতে করে আবারো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সে আরো জানায় ছাত্রদের উপর অহেতুক হামলা করা মানবধিকার লঙ্গন করার সামিল। সুষ্ঠু বিচার না হলে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনসহ আরো কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে এবং বিনা উসকানিতে সাধারণ ছাত্র ও সাংবাদিকের উপর পেকুয়া থানার পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা সিএনজি সমিতির সম্পাদক বারেকের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার ব্যবহারকৃত মোবাইলে কল দিলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি জহির উদ্দিন পার্বত্যনিউজকে জানান, খুব দ্রূত স্কুল কমিটির সাথে সিএনজি কমিটিকে নিয়ে বসে মিমাংসা করা হবে।

 

 

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *