সামাজিক বনায়নের গাছ গিলে খাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে


উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে গিলে খাচ্ছে সামাজিক বনায়নের কাঠ। বিভিন্ন এনজিও (নন গর্ভমেন্ট অর্গানেজেশন) ও আই এনজিও (ইন্টারন্যাশনাল নন গর্ভমেন্ট অর্গানেজেশন) এবং ব্যক্তির নামে চ্যারিটরি সংস্থার অর্থায়নে শেড তৈরি, মেডিকেল সেন্টার, নারী বান্ধব কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে প্রতিদিন হাজার হাজার কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহার কৃত কাঠের সবই অবৈধ। সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে এখানে প্রকাশ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আনা হচ্ছে। উখিয়া বনবিভাগের কর্মকর্তা জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবহৃত কাঠের কোন পারমিট বা বৈধতা নেই। সচেতন মহলের মতে ট্রাস্কফোর্স কমিটি অভিযান পরিচালনা করলে লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ কাঠ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফে ১২টি অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। ওই ক্যাম্প গুলোতে প্রায় ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে পুলিশ চেকপোস্টে হামলার অজুহাতে সে দেশের সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতন, ধর্ষণ ও বসতবাড়িতে অগ্নি-সংযোগ করলে রাখাইন রাজ্যে হতে প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

জেলা প্রসাশক সূত্রে জানা যায় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবায় সরকারের পাশাপাশি ৭৪টি আই এনজিও এবং এনজিও সংস্থা কাজ করছে। প্রসাশনের সাথে সমন্বয় রেখে এসব দেশি-বিদেশি সংস্থা গুলোকে কাজ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সেবায় দায়িত্ব নিয়োজিত সব দেশি-বিদেশি এনজিও নানা রকম প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার জন্য ১ হাজারের অধিক শিশু শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। এছাড়া ও স্বাস্থ্য সেবায় মেডিকেল সেন্টারসহ স্যানেটেশন, নলকূপ স্থাপন ও গোসল খানা নির্মাণ করা হয়। ওই প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণে হাজার হাজার কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিযোগে প্রকাশ এনজিও সংস্থা পালস বাংলাদেশ, কোডেক, ব্র্যাক, ইউনিসেফ, অক্সফাম, মুক্তি, কোস্টট্রাস্ট, কর্ণসান, এমএসএফ আলহাজ্ব ফয়েজউল্লাহ ফাউন্ডেশন সহ দেশি-বিদেশি একাধিক এনজিও সংস্থা উখিয়ার কুতুপালং, মধুর ছড়া, লম্বাশিয়া, বালুখালী, থাইংখালী, ময়নার ঘোনা, জামতলী, পালংখালী, টেকনাফের লেদা ও নয়া পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজারের মত শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করছে। এসব কেন্দ্রের হাজার হাজার ঘণফুট কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে পার্শ্ববর্তী স’মিল থেকে চিরাই করে বিপুল পরিমাণ কাঠ জীপ ও ট্রাক যোগে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। অবৈধ কাঠ দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও শত-শত গোসল খানা তৈরি করা হচ্ছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ হাজার হাজার ঘণফুট অবৈধ কাঠ দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করার কারণে আজ সামাজিক বনায়ন ধংসের দার প্রান্তে পৌঁছেছে। শুধু তাই নই এভাবে ক্যাম্পে অবৈধ কাঠ ব্যবহার হতে থাকলে উখিয়া-টেকনাফের পুরো বনাঞ্চলের অস্তিত্ব থাকবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্র্যাক, মুক্তি, কোডেক ও পালস বাংলাদেশ এনজিও সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রসহ নানা স্থাপনা তৈরির জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। ঠিকাদারগণ মূলত নির্মাণ কাজ গুলো করে থাকে। আমরা কোন অবৈধ কাঠ সংগ্রহ করি না। কাঠ গুলো ক্যাম্পে জীপ ও ট্রাক ভর্তি করে আনে ঠিকাদারগণ।

গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ঠিকাদার সিন্ডিকেট চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে আঁতাত করে প্রতিদিন বিপুর পরিমাণ কাঠ ক্যাম্পে মজুদ করছে। প্রকাশ্যে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সমিল হতে চিরাই করে কাঠ গুলো পাচার করা হলেও স্থানীয় বনবিভাগ রহস্য জনক ভূমিকা পালন করছে। কতিপয় এনজিও কর্মকর্তা ও ঠিকাদার গোপন যোগসাজসে ক্যাম্পে দায়িত্ব নিয়োজিত প্রসাশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বনবিভাগকে ম্যানেজ করে ফ্রিস্টাইলে হাজার হাজার ঘণ ফুট অবৈধ কাঠ ব্যবহার করছে।

বলতে গেলে রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবায় দায়িত্ব নিয়োজিত এনজিও সংস্থার অর্থায়নে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করতে গিয়ে আজ সামাজিক বনায়ন ধংস করা হচ্ছে। এমতবস্থায় পরিবেশ ও বনরক্ষায় কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ অবিলম্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার সামাজিক বনায়নের গাছ উদ্ধার করা দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *