সাজেকে নৌকা জিতলে ১০ লাখ টাকা ও সকল সম্পত্তি ক্ষতিপুরণ দিতে হবে পাহাড়ী স্বতন্ত্র প্রার্থিদের


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

স্বতন্ত্র প্রার্থি  হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থি জিতে গেলে রাঙামাটি জেলার সাজেকে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থিকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা ও স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তি পার্টিকে দিয়ে দিতে হবে এমন মুচলেকা দিতে হয়েছে সাজেকের দুই স্বতন্ত্র পাহাড়ী প্রার্থিদের। আগামী ৪ জুন ৬ষ্ঠ ধাপের নির্বাচন রাঙামাটি জেলার ইউপিগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য ৬ষ্ট ধাপের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩৬নং সাজেক ইউপি’তে আওয়ামীলীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পরাজিত না করতে পারলে স্বতন্ত্র উপজাতি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের থেকে ১০লক্ষ টাকা এবং স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তি দিয়ে দিতে হবে এমন শর্তে মুচলেকা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহনের অনুমতি দিয়েছে স্থানীয় একটি উপজাতীয় আঞ্চলিক দল। সাজেকের দুইজন পাহাড়ী সতন্ত্র প্রার্থি পার্বত্যনিউজকে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে সাজেক ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়া উপজাতি চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “গত ১৯ মে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। কিন্তু সাজেক এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে থাকা আঞ্চলিক দলটির সমর্থন নিতে আমাদের উপজাতি প্রার্থীরা যোগাযোগ করে, যোগাযোগ করার পর আঞ্চলিক দলটির পক্ষ থেকে একজনকে সমর্থন দেয়া হয়।

সমর্থিত ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে আমাদের ডেকে নিয়ে বৈঠক করে। বৈঠকে আমাদেরকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলে। কিন্তু সমর্থন না পাওয়ার পরেও আমরা নির্বাচনে থাকব বলে জানালে আঞ্চলিক দলটি জানায়, তোমরা যদি নির্বাচনে থাক এবং আওয়ামী প্রার্থিকে পরাজিত করতে না পারো কিম্বা তোমাদের নির্বাচনী মাঠে থাকার কারণে যদি অাওয়ামীলীগ সমর্থিত বাঙ্গালী চেয়ারম্যান প্রার্থী জিতে যায়  তাহলে তোমাদেরকে ১০ লক্ষ টাকা ফাইন এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি পার্টিকে দিয়ে দিতে হবে- এমন শর্ত দিয়ে আমাদেরকে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার দিতে বলে। আমরা নির্বাচন করার স্বার্থে বাধ্য হয়ে অঙ্গীকার নামায় সই দিই”।

তারা আরো জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানাতেও সাহস পাচ্ছেন না।

অপরদিকে আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘সাজেক এলাকায় আওয়ামীলীগ সমর্থক ও এজেন্টদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে স্থানীয় পাহাড়ী সন্ত্রাসী সংগঠনের ক্যাডার বাহিনী। তিনি আরও বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থিত বিধায়, উক্ত প্রার্থীরা আমার নির্বাচনী এলাকার বাইরে থেকে পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের ক্যাডার বাহিনীদেরকে এনে আমার সমর্থক ও এজেন্টদেরকে বিভিন্নভাবে অস্ত্রের ভয় দেখাচ্ছে ।

এ ব্যাপারে বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাচন কমিশনার অজয় চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাইলে তিনি পার্বত্যনিউজকে জানান, বন্ড সই দেয়ার কোনো কথা তার জানা নেই এবং কেউ তার কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও করেনি।

উল্লেখ্য, ৩৬নং সাজেক এবারের ইউনিয়ন  পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সরকার দলীয় প্রার্থীসহ মোট ৫জন, ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ৩৬জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১২জন।

চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, সরকার দলীয় আ.লীগ প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থি হলেন নেলসন চাকমা, নিখিলজীবন চাকমা, নতুন জয় চাকমা, মোহন ত্রিপুরা। এদের মধ্যে পাহাড়ী সংগঠন থেকে নেলসন চাকমাকে গোপনে সমর্থন দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *