সাজেকের বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়


SAM_0766 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রঙ্গামাটির সাজেকের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এবার বিশাল বিপর্যয় ঘটেছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবছরই প্রথম এমন ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটলো। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনায় হতাশায় ভুগছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের এসএসসি পরিক্ষায় মোট  ১৭৩জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে যার মধ্যে  ১০৫জন ছাত্র ৬৮জন ছাত্রী। পাশ করেছে মাত্র ৫৫জন, যার মধ্যে ছাত্র ২৮জন, ছাত্রী ২৭জন, গড়ে পাশের হার ৩১.৭৯%। তবে গত বছর এ বিদ্যালয়ের গড় পাশের হার ছিল ৮০%এর অধিক। এবছর এবিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফলাফল পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জাহানারা আক্তার ৪.৬৮। ১৭৩জনের মধ্যে ফেল করে ১১৮জন যার মধ্যে ৯০জনেরও বেশি ইংরেজিতে ফেল করেছে বলে জানা যায়।

এদিকে এ ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য এসএসসিতে নুতন উত্তর পত্র মূল্যায়ন পদ্ধতিকেই দায়ী করেছেন বাঘাইহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাক্যবোধি চাকমা।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের ও গণিত শিক্ষক নেই অন্য শিক্ষকদের দিয়ে এসব পড়ানো হয় শিক্ষক সল্পতার কারণেই রীতিমত সকল বিষয়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়না যার ফলে এ বছর এসএসসি’র ফলাফল এমন হয়েছে। তবে আগামীতে এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে আবারও কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের ধারায় ফিরে আসবে বলেও মনে করছেন তিনি।

তবে শুধুমাত্র এসএসসিতে নুতন উত্তর পত্র মূল্যয়ন পদ্ধতিকে নয়, পাঠদানে শিক্ষকদের গাফেলতিকেও অনেক বেশি দায়ী করছেন সচেতন অভিভাবক মহল। তাদের মতে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবের ফসল এ ফলাফল বিপর্যয়। তারা মনে করেন পদ্ধতির দোহাই দিয়ে সাময়িক সন্তুষ্টি লাভ করা যাবে তবে যাদের জীবনের সুন্দর পথ রুদ্ধ হয়ে গেল তা ফিরিয়ে দেয়া যাবেনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানালেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালেই তো তারা ভালো ফলাফল করবে। সারাবছর প্রাইভেট পড়াইয়ে লাভ কি হল! এখন বুঝতেছি প্রাইভেট হলো এক ধরনের ফরমালিটি যা স্যারদের খুশী করা। না হয় সাত সকালে শুরু করে গণিত ও ইংরেজি প্রাইভেট পড়ে, কিন্তু কিভাবে গণিতে ও ইংরেজিতে ফেল করে। তাছাড়া এসব ব্যবসায়ী প্রাইভেটধারী শিক্ষকদের কাছে কেজি: মাপা দরে প্রাইভেট পড়ে ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন বোতলবন্দি ছাড়া আর কিছু নয় বলেও অনেকে মতামত প্রকাশ করেন।

অভিজ্ঞ মহলের ধারণা ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হয় প্রাইভেট বাণিজ্য। সকাল দশটায় কোন রকম পেন্ট-শার্ট লাগিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রাইভেট পড়ুয়া ও পড়িয়েরা থাকে ক্লান্ত। তাছাড়া ঘুমেও অনেক সময় তাদের দুর্বল করে ফেলে বিধায় বিদ্যালয়ে আর তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়না। তাছাড়া প্রাইভেট পড়ুয়ারা বরাবরই প্রাইভেট শিক্ষকদের দয়ায় স্কুল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে থাকে। এসব দিকে নজর দিয়ে যদি ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে পড়ালেখায় মনোযোগী করা যায় তবেই ভবিষ্যতে ছাত্র-ছাত্রীদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে বলে তাদের ধারণা।

বিদ্যালয়টির এমন ফলাফলে সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের উদাসীনতা পাঠদানে অমনোযোগিতা ও শিক্ষকদের শিক্ষকতার পেশার সাথে ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরায় পাঠদানে শিক্ষককরা তেমন মনোনিবেশ করেনা যার ফলে এমন হয়েছে। প্রায় সময় ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে বাজারে রাস্তায় কথা হয় আমার তখন ছাত্র/ছাত্রীদের কাছে জানতে চায়লে বিদ্যালয়ে না গিয়ে এখানে কি করছো। তখন ছাত্র/ছাত্রীরা বলে ‘বিদ্যালয়ে ঠিকমত ক্লাস হয়না হলেও সারাদিনে ২-৩টি ক্লাস হয় সেজন্য যেতে মন চায়না’ আর এথেকেই স্পষ্ট বুঝা যায় সঠিক পাঠদানের অভাবেই এমন ফলাফল হয়েছে। তিনি আরও জানান বিদ্যালয়ের নামে মাত্র একটি পরিচালনা কমিটি রয়েছে বিদ্যালয়ের ব্যাপারে কমিটির কোন তদারকি নেই, কমিটির সঠিক তদারকির অভাবেও শিক্ষক/শিক্ষিকা নিজেদের ইচ্ছেমত যার যেভাবে মন চায় দায়িত্বপালন করেন।

এ ব্যাপারে বাঘাইছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, নতুন নিয়মে উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে সারাদেশে এবার ফল বিপর্যয় হয়েছে তারই অংশ হিসেবে এমনটাই হতে পারে। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অভিভাবকদের সচেতনতা থাকলে এমন ফলাফল বিপর্যয় হতোনা। তাই আগামীতে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও পাঠদানের উপর জোর দিতে হবে সেই সাথে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে ছেলে মেয়েরা ঠিকমত পড়ালেখা করছে কিনা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে খবরা খবর রাখতে হবে অভিভাবকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *