সরিয়ে দেয়া হলো সিএইচটিডিবি’র বহুল বিতর্কিত জিএম সুখময় চাকমাকে


chtdb

স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উঁচু ভূমি বন্দোবস্তকরণ রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বহুল বিতর্কিত সুখময় চাকমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পদে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পুষ্প স্মৃতি চাকমাকে ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের খাগড়াছড়ি জেলা কার্যালয়ে সোমবার সকালে রাবার কষ সংগ্রহকারীদের (টেপার) সঙ্গে বোর্ড চেয়ারম্যান ও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরাসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে রাবার শ্রমিক ও টেপাররা সুখময় চাকমার বিরুদ্ধে অভিযোগের লম্বা ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে বোর্ড চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরাই অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষসহ বিভিন্ন রাবার বাগান গ্রাম প্রকল্পের লিডাররা উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ জানান, সুখময় চাকমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বোর্ডের সিদ্ধান্তে খুশী হয়ে মঙ্গলবার থেকেই শ্রমিকরা কাজে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাবার বাগান শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সুখময় চাকমার অপসারণের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উঁচু ভূমি রাবার প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত তিন জেলার (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) রাবার বাগান ও কারখানা শ্রমিকরা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে তিন পার্বত্য জেলায় অবস্থিত রাবার কারখানার উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ। এছাড়াও একই দাবিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করে তারা।

অভিযোগ রয়েছে, তিন পার্বত্য জেলায় কোটি কোটি টাকার রাবার উৎপাদন হলেও কোনো টেন্ডার হয় না। গোপন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুকময় চাকমা নিজেও দীর্ঘদিন ধরে রাবার ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও প্রত্যাবাসিত বাঙালীদের বিপুল পরিমাণ জমি ক্ষতিপুরণ ছাড়াই রাবার বাগান সৃষ্টির নামে উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে দখল করেছে এবং এসব জমিতে পাহাড়ীদের পুনর্বাসন করেছে বলে বাঙালীরাও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *