সন্তু লারমার হুমকিতে আগুন কি জ্বলে উঠলো রাঙামাটিতে


সন্তোষ বড়ুয়া, রাঙামাটি থেকে:

দুই দশক পেরুলেও এখনও পার্বত্য শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ফের পার্বত্যাঞ্চল অশান্ত হবে, পার্বত্য চট্টগ্রামে আগুন জ্বলবে বলে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ার করেছেন জেএসএস নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

গত ২ ডিসেম্বর (শনিবার) সকালে রাজধানীর ‘দ্য ডেইলি স্টার ভবনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই কথা বলেন সন্তু লারমা। তিনি আরো বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ে আগুন জ্বলবে। সন্তু লারমার ঐ হুশিয়ারীর প্রতিফলন শুরু হয়ে গেছে পাহাড়ে। সন্তু লারমার জ্বালাও পোড়াও নীতির সেই আগুনে পুড়তে শুরু করেছে পাহাড়ের মানুষগুলো। সন্তু লারমার জেএসএস সন্ত্রাসীরা গুলি করে বা কুপিয়ে হত্যা করছে পাহাড়ের সাধারণ মানুষদের।

গতকাল (৫ ডিসেম্বর) রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় সন্তু লারমার জেএসএস সন্ত্রাসীদের গুলিতে অনাদি রঞ্জন চাকমা (৪৮) নামের এক ইউপিডিএফ নেতা নিহত হয়েছে। তিনি নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য। একই তারিখে সন্ধ্যায় রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জেএসএস সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন উপজেলা আ’লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমা (৪২)।

অপরদিকে, রাংগামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা সদরের তিলিক্যাছড়ি এলাকায় উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি রাসেল মারমাকে কুপিয়ে মারাত্নকভাবে জখম করেছে একদল জেএসএস দুর্বৃত্ত। আহত ওই আ’লীগ নেতা বর্তমানে উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সন্তু লারমা রাঙামাটির অধিবাসী। গত ২ ডিসেম্বর তাঁর হুশিয়ারীর পরপরই রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে হত্যাযজ্ঞ। দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানো তাই অতি সহজ। যে শান্তির বার্তা নিয়ে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো সন্তু লারমা নিজেই তা গলা টিপে হত্যা করছে। সরকার যখনই শান্তিচুক্তির বাস্তবায়নসহ পাহাড়ের উন্নয়নে কাজ করতে উদ্যেগ গ্রহণ করে ঠিক তখনই নানান অযুহাতে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করছে সন্তু লারমাসহ পাহাড়ি নেতারা।

গত ৪ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান সন্তু লারমার সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঠিক এর পরের দিনই জেএসএস’র এই হত্যাযজ্ঞ। পাহাড়ি নেতারা আসলে নিজেদের লাভের জন্যই শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চায় না। তাহলে যে তাদের বিভিন্ন এনজিও এবং সংস্থা হতে বিশাল অংকের ত্রাণ ও অনুদান প্রাপ্তি এবং পাহাড়ে তাদের চাঁদাবাজির বিশাল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাবে।

image_pdfimage_print
নিউজটি মুক্তমত বিভাগে প্রকাশ করা হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *