সংবাদ সম্মেলনে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ও কঠোর হুঁশিয়ারী


চকরিয়া প্রতিনিধি:

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্জ জাফর আলমকে জড়িয়ে পূর্ব ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তথ্য সন্ত্রাস ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এবার মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরই অংশ হিসেবে বুধবার রাতে চকরিয়া পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে চকরিয়া উপজেলা, পৌরসভা, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে।

এতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা সাম্প্রতিক সময়ের এসব পরিকল্পিত অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বসন্তের কোকিল, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের পরিবার সদস্যসহ সকল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা লিপ্ত থাকবেন তাদেরকে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে বলেও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দরা সর্তক করেছেন।

তারা বলেছেন, মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো চকরিয়ায় যে পেট্রোলবোমা, নাশকতাসহ আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদেরকেই বেছে বেছে ঘায়েল করতে মাঠে তৎপর রয়েছেন দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মা গুঁটি কয়েক ষড়যন্ত্রকারী। সেই ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছেন অতিসম্প্রতি ভূয়া ভার্সিটির কথিত চেয়ারম্যান পরিচয় দানকারী প্রতারক ও আদম বেপারীতে সম্পৃক্ত এক ব্যক্তিও।

নেতৃবৃন্দরা আরো অভিযোগ তোলেন, ওই প্রতারক ও আদম বেপারী পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় প্রতিদিন কক্সবাজার-১ তথা চকরিয়া ও পেকুয়া আসনের গণমানুষের নেতা চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্জে জাফর আলমের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে তথ্য সন্ত্রাস করা হচ্ছে। যা চকরিয়া ও পেকুয়ার আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য কোনদিনই সুখকর খবর নয়।

বক্তারা বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের একটাই উদ্দেশ্য, প্রতিনিয়ত পরিকল্পিত এ তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে চকরিয়া ও পেকুয়া আওয়ামী লীগের মাঠের নেতা জাফর আলমসহ ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাদের দুর্বল করতে পারলেই তারা যেন খুশি। এতে মূলত কারা লাভবান হচ্ছে তাও আমলে নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা।

কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্জ জাফর আলম এমএ, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর চৌধুরী, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রনেতা এসএম জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহসিন বাবুল, চকরিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাউন্সিলর মো. বশিরুল আইয়ুব।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মো. মিরানুল ইসলাম মিরান, কোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মো. মক্কী ইকবাল হোসেন, চকরিয়া পৌরসভার সকল কাউন্সিলর, উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একাত্মতা ঘোষণা করেন।

অবশ্য সংবাদ সম্মেলন চলাকালে একাত্মতা ঘোষণা করেন মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহনেওয়াজ চৌধুরী বিটু ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা, পেকুয়া, মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল অভিযোগ করেন, কোনদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেনি, তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর ছয়দফার বই বিক্রি করার সময় নুরুল ইসলাম নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধর করে ৬ দফার বই ছিনিয়ে নিয়ে পেটানোর দায়ে অভিযুক্ত এবং কুখ্যাত রাজাকার বর্তমান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা বদর মিয়ার নাতী ও রাজাকার নবী হোছনের ছেলে খালেদ মাহমুদ মিথুন এখন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক। এ ধরণের স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সদস্য যখন রাতারাতি জেলা আওয়ামী লীগের নেতা বনে যায় তখন স্বভাবতই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনকারী ত্যাগী ও পরিক্ষত নেতারা কোনঠাসা হওয়ার উপক্রম হয়।

তাছাড়াও ওই পরিবারের সদস্যসহ আওয়ামীলীগের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মারা এখন বেছে বেছে আওয়ামীলীগের নেতাদের চরিত্র হননের জন্য পরিকল্পিতভাবে কথিত পত্রিকায় তথ্য সন্ত্রাস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করে যাচ্ছে। এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বখে যাওয়া ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু উঠতি বয়সের যুবকেরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ধরণের অপপ্রচারকারীকে আমরা সতর্ক করছি। ভবিষ্যতে আবারো অপপ্রচারে নামলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কক্সবাজার-১ আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়া। এখানে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই আমরা একযোগে মাঠে কাজ করে যাব।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করেই যাবে, এটি আমার আগে থেকেই জানা রয়েছে। কারণ গতবারের সংসদ নির্বাচনে দলের সভানেত্রী এ আসনে আমাকেই মনোনয়ন দিয়েছিলেন। কিন্তু এ আসনে আওয়ামী লীগ তথা নৌকার সুনিশ্চিত বিজয় হবে জেনে আওয়ামী লীগের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা তা হতে দেয়নি। এতে আওয়ামী লীগের এ আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায়।

ভবিষ্যতে এ আসনে আমাকে মনোনয়ন দিতে পারেন শেখ হাসিনা, এ আশঙ্কায় বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মারা এখন থেকেই নানা ধরণের ষড়যন্ত্র নিয়ে মাঠে নেমেছেন। আর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ভুয়া ভার্সিটির কথিত চেয়ারম্যান ও প্রতারণা মামলায় জেলে যাওয়া রাতারাতি জেলা আওয়ামী লীগের নেতা বনে যাওয়া এক প্রতারকের কথিত পত্রিকা।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *