parbattanews bangladesh

শীলবান্দা ঝর্ণাকে পর্যটন করার উদ্যোগ নিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলার প্রশাসন

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবানে ছালাওয়া (শীলবান্দা) ঝর্ণাকে পর্যটন স্পট করার উদ্যোগ নিয়েছে রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রশাসন।

প্রত্যেক দিন ভ্রমণ পিপাসুদের বাড়তে দেখে রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রশাসনে পর্যটন স্পট করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে রয়েছে পাহাড়ের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির (আদিবাসী) মানুষের বসবাস। তাদের জীবনাচার যেমন পর্যটকদের আকর্ষণ করে, তেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও মোহিত করে তাদের। বিশেষ করে পর্যটকদের মনকাড়ে রোয়াংছড়ি উপজেলার আলেক্ষ্যং ইউনিয়নে ছালাওয়া (শীলবান্দা) পাড়ার অদূরে প্রাকৃতিক ঝিরি ঝর্ণার ও দেবকুম নামে অপার সৌন্দর্য।

বান্দরবান সদর থেকে ১৯ কি.মি. দূরে অবস্থিত রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরে যেতে পারবেন বাসে করে।রোয়াংছড়ি সদর থেকে প্রায় ১০ কি.মি. পদ ঘণ্টা খানেকের দূরত্বেই ছালাওয়া (শীলবান্দা) ঝর্ণার অবস্থান। প্রায় ৪০ ফুট উঁচু থেকে ঝরে পড়া জলের উচ্ছ্ববাস দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। ঝোঁপ জঙ্গলে বেষ্টিত এই ঝর্ণায় যেতে হয় দেড় কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে। এই ঝর্ণার ও দেব কুম নামে স্থানকে পর্যটন স্পট হয়ে গেলে অর্থনৈতিক ভাবে চাঙ্গা হবে বলে মনে করেন এলাকার সংশ্লিষ্টরা।

গ্রামীণ পথ চলার, পথ আসলেই মোহনীয়। শীতের সময় হেঁটে যাওয়া রাস্তা ও ভালো থাকে। সেখানে যাওয়ার পথে উঁচু নিচু পাহাড় বেয়ে উঠলে দেখা যায় রঙ বে-রঙের জলের রেখা। প্রায় ৪০ ফুট উপর থেকে আছড়ে পড়া ঝর্ণা পানির প্রচন্ড আঘাতে চার পাশে প্রচুর স্থানজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ঘন কুয়াশা ঢাকা রহস্যময় রূপ। এমন দৃশ্য কার না ভালো লাগে? চাইলে দেখতে যেতে পারেন আপনিও।

ছালাওয়া পাড়া উন্নয়ন কমিটি পাইচিংপ্রু মারমা ও আলেক্ষ্যং ইউপি ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার থুইক্যনু মারমা জানায় এ ঝর্ণাটি খুব ঐতিহ্যবাহিক স্থান হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমানের এই ঝর্ণাটি নামকরণ করা হয়েছে “শীলবান্দা”। শতবছর পূর্বে নাম ছিল “ছালাওয়া” এ ঝিরিতে বয়ে যাওয়ার জল রাশি সাথে মারমা ভাষায় ‘ছা’ (লবন),লা-অর্থ আসা,ওয়া- অর্থ মুুখ, ওই ঝিরি থেকে লবন বের হয়ে আসার কারণে ছালাওয়া (শীলবান্দা) নাম করণ করা হয়েছে। এ ছালাওয়া ঝর্ণা পরিচিত হওয়ার পর হতে দূর দুরান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুর ও পর্যটকদের দৈন্দিন ভীর থাকে।

পর্যটন স্পট এলাকার হিসেবে রূপান্তর গড়ে তোললে পর্যটকদের চলাচলের পাশাপাশি রাস্তাঘাট হলে ওইখানে বসবাসরত মানুষেরও ব্যবসায়ের সুবিধা পাবে এবং অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল হবে। তবে মারমা ভাষায় ছালাওয়া নাম করণ করা জন্যে বিশেষ অনুরোধ করেন ছালাওয়া পাড়া উন্নয়ন কমিটিদের।

রোয়াংছড়ি উপজেলঅ নির্বাহী অফিসার মো: দিদারু আলাম বলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা অভ্যন্তরে প্রায় উপজেলায় মধ্যে অবকাশকালীন সময়ের ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সময় কাটাতে পর্যটন স্পটে আসলে স্থানীয় মানুষের আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারে। কিন্তু এই রোয়াংছড়ি উপজেলাতে কোন পর্যটন স্পট নেই। তাই রোয়াংছড়ি উপজেলা আলেক্ষ্যং ইউনিয়নে নিকটতম মনোরম পরিবেশের একটি ঝর্ণা আছে।

এ ঝর্ণাকে উন্নয়নে একটি অংশ হিসেবে রোয়াংছড়ি উপজেলাতে প্রথম পর্যটন স্পট গড়ে তোলতে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃক পক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এ পর্যটন স্পট স্থাপন হয়ে গেলে এলাকার বাসবাসরত মানুষের আর্থসামাজিক উয়ন্ননের স্বচ্ছলতা ও বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি প্রশাসনের সাথে কাছে থাকায় নিরাপত্তা থাকবে।