শীতে জমে উঠেছে পানছড়ির পিঠার বাজার


10951099_822160437854475_2024258723_n
শাহজাহান কবির সাজু:

পৌষ আর মাঘ মাস মানেই হাঁড় কাঁপানো শীত। আর এই শীতের মাঝেই খেজুরের রসের পায়েসের পাশাপাশি পানছড়ির বিভিন্ন অলি-গলিতে জমে উঠে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা রকম পিঠা-পুলির দোকান। পড়ন্ত বিকালের শুরুতেই গাছে গাছে লাফিয়ে খেজুরের রস সংগ্রহের আশায় এ গাছ ও গাছ চষে বেড়ায় গাছীরা। আবার সাত সকালে রসের হাড়ি নামাতেই মো মো গন্ধে চারিদিক হয়ে ওঠে মুখরিত। এই রস মিশ্রিত বিভিন্ন পিঠাও শোভা পাচ্ছে রাস্তার দু’ধারের পিঠা-পুলির দোকানে।

থাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মিলন মেলা। বাঙালী, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও সাঁওতালসহ নানান সম্প্রদায়ের ভ্রাতৃত্ববন্ধন দীর্ঘ বছর যাবৎ এ উপজেলায় বিদ্যমান রয়েছে। যার ফলে এলাকার তৈরি পিঠাগুলোও নানান নামে পরিচিত। শীতে সাধারণত ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, পাটি সাপটা, চিতই জাতের পিঠাই বেশি তৈরি হয়। কিন্তু এ পিঠাগুলো পার্বত্য খাগড়াছড়ির পানছড়িতে অন্য স্বাদে অন্য নামে পরিচিত। বিশেষ করে মারমা পিঠার রয়েছে আলাদা পরিচিতি। বাজারে ভাপা পিঠা ও চিতই জাতের পিঠা দেখা গেলেও মারমা পিঠার দোকানে লেগে থাকে উপচে পড়া ভীড়। পিঠাকে মারমা ভাষায় বলে “মুং”। আর মারমা পিঠার সেরার মাঝে রয়েছে ছেসবং মুং, রিফ্রি মুং, ছিল মুং, কোদও মুং, কদ মুং, ম্রাচা মুং ইত্যাদি।

আমন ধানের গুড়ির পিঠা ছাড়াও বিভিন্ন চাউলের পিঠার চাহিদা অত্র এলাকার মানুষের মাঝে খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে বিন্নি চাউলের তৈরি মারমা পিঠার জুড়ি নেই। এই মারমা পিঠা তৈরির মূল কারিগর মারমা গৃহিনীরা। বিভিন্ন পাড়া, মহল্লার ও রাস্তার পাশে ছোট গর্ত করে দু’পাশে দুটি ইট দিয়ে বা টিনের বাক্সের তৈরি চুলোয় মুহূর্তের মাঝে তৈরি হচ্ছে মারমা পিঠা। গরম গরম পিঠা হালকা ফু দিয়ে খাওয়ার মজাটাই যেন আলাদা।

শীতের বিদায়লগ্ন পর্যন্ত সকাল-বিকাল দু’বেলাই জমে ওঠে পিঠা বেচার ধুম। এই পিঠার দোকানে ধনী-গরীবের নেই কোন ভেদাভেদ। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অর্ডার করা মাত্রই আপনার হাতে তুলে দিচ্ছে মারমা পিঠা। অনেক ভ্রমণ পিপাসুরাও রাস্তার পাশে দাড়িয়ে স্বাদ নিচ্ছে মারমা ও দেশীয় পিঠার। গরম পিঠায় ফু দিচ্ছে আর বলছে আহ্ কিযে মজা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *