শত বাঁধার মুখেও স্বামী রফিকুল ইসলামের সাথেই সংসারের সিদ্ধান্তে অটল খাগড়াছড়ির ঞাইজাইরী মারমা


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:
বাঙালী ছেলেকে ভালবেসে বিয়ে করায় পরিবার ও সমাজের তরফ থেকে শত বাঁধা ও পুলিশী হয়রাণীর মুখেও প্রেমিক রফিকুল ইসলামের সাথেই সংসার করার সিদ্ধান্তে অটল খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার  ২নং হাফছড়ির  বদংপাড়া  এলাকার মংশেপ্রু মারমার মেয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ঞাইজাইরী মারমা’র (১৯)।
ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইলের ডহরগাও এলাকায়। সেখানকার এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শ্রমিক দম্পতি রফিকুল ইসলাম রনি ও ঞাইজাইরী ওরফে রহিমা আক্তার ভালবেসে একে অপরকে বিয়ে করে নানা বিপত্তির মুখে পড়েও সংসার চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। আর এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার ফকির ফ্যাশনের ফিনিসিং বিভাগে কর্মরত শ্রমিক আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের বাজবী গ্রামের রফিকুল ইসলাম রনি জানান, তার সহকর্মী খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার  ২নং হাফছড়ির  বদংপাড়া  এলাকার মংশেপ্রু মারমার মেয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ঞাইজাইরী মারমা’র (১৯) সাথে দীর্ঘদিন যাবত্ তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই থেকে দুজনের সম্মতিতে উভয় পরিবারকে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে  বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে দুজন দুই ধর্মের অনুসারী হওয়ায় এ বিষয়টি কারও পরিবারই মেনে নেয়নি। তাই ঞাইজাইরী স্বেচ্ছায় তার বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে বিগত ৮ মার্চ  নারায়ণগঞ্জের আদালতের (হলফনামা নং ৬০) মাধ্যমে ইসলামী বিধানমতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এ সময়  নোটারীর মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে ঞাইজাইরীর  নাম রহিমা আক্তার করা হয়। একই দিনে উক্ত আদালতেই আইনজীবী ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে শরীয়া মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।
এদিকে এ খবর পেয়ে মেয়ের ফুফাত ভাই কংচাই মারমা ও পরিবারের লোকজন রূপগঞ্জস্থ তাদের ভাড়া বাসায় প্রথমে সন্ত্রাসীর মাধ্যমে  হুমকি ধামকি দিয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলে। পরে  রাস্তাঘাটে একাধিকবার উভয়কে  আটক করে হয়রানীও করে। বারবার বাসা পরিবর্তন করেও নিরাপদে থাকতে পারেননি তারা। তবুও তারা হার মানেননি, শতবাধা সত্ত্বেও সংসার চালিয়ে যান তারা।
তখন ঞাইজাইরীর পরিবার আশ্রয় নেয় আইনের। থানায় রনি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ঞাইজাইরীকে অপহরণের অভিযোগ করা হয়। এরপর পুলিশের হাতে আটক হন শ্রমিক দম্পতি। এরপরই জানা যায় আসল ঘটনা। রূপগঞ্জ থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এসব চমকপ্রদ তথ্য।
জিজ্ঞাসাবাদে ঞাইজাইরী ওরফে রহিমা আক্তার বলেন, আমাদের প্রেমের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আমি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। এখন সুখের সংসার করছি। আমার পরিবারের লোকজন আমাকে ও আমার স্বামীকে এতদিন নানাভাবে  হয়রানী করেছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, অপহরণের অভিযোগে ওই শ্রমিক দম্পতিকে আটক করা হলেও বিষয়টি প্রেমঘটিত এবং আইনগতভাবে কোন অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মেয়েটিকে তার স্বামীর কাছেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। থানা থেকে ছাড়া পেয়ে রনি ও রহিমা আবারও ফিরে গেছেন তাদের সেই ছোট্ট ভাড়া বাসায়। ফের শুরু করে দিয়েছেন সংসার।
– সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *