শক্তিমান চাকমার খুনীদের খুঁজে বের করতে কড়া নির্দেশ দিলেন ওবায়দুল কাদের


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে হত্যার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘কালপ্রিটদের খুঁজে বের করতেই হবে।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শক্তিমান চাকমার নিহত হওয়ার খবর জানান। শক্তিমান একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহ-সভাপতি।

প্রেস ব্রিফিং স্থল থেকেই রাঙামাটির এসপিকে ফোন দেন মন্ত্রী। ফোন দিয়ে তিনি বলেন, ‘শাক্তিমানকে কি মেরে ফেলেছে? হি ইজ নো মোর? যারা খুন করেছে তাদের কি এখন তোমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছ না? কেউ কি অ্যারেস্ট হয়েছে?’ ওপাশ থেকে এসপি কী বলেন তা শোনা যায়নি।

এরপরই ওবায়দুল কাদের এসপিকে বলেন, ‘না, না, বি সিরিয়াস অ্যাবাউট ইট। কালপ্রিটদের খুঁজে বের করতেই হবে।’

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘লোকটা (শক্তিমান চাকমা) উপজেলা চেয়ারম্যান, আমার নিজের জেলায়ও না। কিন্তু ওর মৃত্যুতে আমার ভেতরে খুব তোলপাড় হচ্ছে। স্বাভাবিক মৃত্যু হলে কথা ছিল। ওখানে তো ইন্টারনাল প্রবলেম চলছে।’

বৃহস্পতিবার (৩মে) সকাল ১১টার দিকে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুপের কেন্দ্রীয় কমিটির (জেএসএস সংস্কার) সহ-সভাপতি এডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। এসময় চেয়ারম্যানের সাথে থাকা জেএসএস সংস্কারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম চাকমাও গুলিবিদ্ধ হয়। তবে তিনি বিপদমুক্ত আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান শক্তিমান প্রতিদিনের ন্যায় সকালে উপজেলা পরিষদে তার অফিসে আসার জন্য রওনা করে। অফিস গেইটে ঢোকার সাথে সাথে দুর্বত্তরা তাকে লক্ষ করে গুলি ছুড়লে তিনি গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার শরীরে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া ২০ টি বুলেট বিদ্ধ হয় বলে জানা গেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুপের (জেএসএস সংস্কার) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র গ্রুপের নেতা অর্পন চাকমার নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে।

তবে ইউপিডিএফের মুখপাত্র নিরন চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এটা মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ঘটনার সঙ্গে ইউপিডিএফের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *