লামা উপজেলা প্রশাসনের গণপাঠাগার বিলুপ্তির পথে


লামা প্রতিনিধি:

লামা উপজেলা সদরে অবস্থিত উপজেলা প্রশাসনের একমাত্র গণপাঠাগারটি অযতœ, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। প্রশাসনের নথিতে সরকারিভাবে লামায় গণপাঠাগার থাকলেও বাস্তবে এর কোন কার্যক্রম নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের ১৫০ ফুটের মধ্যে অবস্থিত গণপাঠাগারের টিন সেড ভবনটি পরিণত হয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তুপে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রজন্মকে শিক্ষিত করে তোলার অন্যতম সরকারি ব্যবস্থাপনা লামা গণপাঠাগারটি সচল রাখার জন্য প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় প্রধান দায়ী।

রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৯৯০ সনে সরকারি অর্থায়নে উপজেলা পরিষদের জায়গায় লামায় গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ১১ সদস্য বিশিষ্ট পাঠাগার পরিচালনা কমিটি রয়েছে। পাঠাগারের নামে লামা কৃষি ব্যাংকে রয়েছে একটি হিসাব নম্বর। সরকারিভাবে বিভিন্ন সময়ে পাঠাগারের উন্নয়নে অনুদানও এসেছিল। পাঠাগার পরিচালনায় রয়েছে টিন সেড একটি ভবন। স্থানীয় এবং সরকারি অনুদান দিয়ে পাঠাগারের জন্য ৫ শতাধিক বই ও আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়। পত্রিকার দোকান থেকে পাঠাগারের নামে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ক্রয় করা হয়।

সরেজমিন পরিদর্শনে পাওয়া যায় নি কোন পাঠক রেজিস্টার ও বই। ভবনের চারিদিকে ময়লা আবর্জনা ভরে রয়েছে। পুরো ভবনে পোকা মাকড়ে বাসা করেছে। পাঠাগারের একটি কক্ষ গত ৩০ জুন পর্যন্ত উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস মাসিক ১২ শত টাকা ভাড়ায় ব্যবহার করেছে। ভাড়ার টাকা পাঠাগারের নামের কৃষি ব্যাংকের হিসাবে নিয়মিত জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিসংখ্যান অফিস। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী মো. নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন, পাঠাগার সংক্রান্ত বিষয়টি লাইব্রেরিয়ান বলতে পারবেন। পাঠাগারের লাইব্রেরিয়ান মো. হোসাইন জানিয়েছেন, পাঠাগারের বইপত্র কি আছে কি নাই তা তার জানা নেই। গত ৩/৪ বছর ধরে তিনি এর কোন খবর রাখেন না।

শিক্ষার্থী মো. নাহিদ জানান, যুব সমাজকে বিপদগামীতার হাত থেকে রক্ষার জন্য পাঠাগার অন্যতম ভূমিকা পালন করে। শিক্ষিত জাতি গঠনে পাঠাগারের বিকল্প নেই। লামা উপজেলায় উন্নয়নের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও লামা গণপাঠাগার উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন কোন ধরণের কার্যক্রম গ্রহণ করে নি। পাঠাগারটি ব্যবহারের নেই কোন পরিবেশ। এই ধরণের একটি প্রতিষ্ঠান আছে তাও প্রশাসনের জানা নেই। বিষয়টি লামার জন্য খুবই দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক।

লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএম. ইমতিয়াজ জানান, পাঠাগার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। লামা গণপাঠাগারটি পরিচালনার জন্য একটি সুন্দর উদ্যোগ প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, আমি অত্র উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। পাঠাগার সংক্রান্ত বিষয়টি এখনো আমার সামনে উপস্থাপিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *