লামা উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান ‘আলী মিয়া’র ৬ষ্ট মৃত্যু বার্ষিকী পালিত


01 copy

লামা প্রতিনিধি:

লামা উপজেলার প্রথম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আধুনিক লামার রুপকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মিয়ার ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী আজ। ২০১০ সালের ২২ আগষ্ট বার্ধক্য জনিত কারনে তিনি মৃত্যু বরন করেন। ১৯৩০ সালে নোয়াখালী জেলার রামগঞ্জ উপজেলাধীন দেবনগর গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন এক খন্দকার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। তার পিতার নাম মোহাম্মদ আনছার আলী খন্দকার। মাতার নাম ফুল বানু।

 নিরক্ষর আলী মিয়া ১৯৬১সালে ভারতের শাসক গোষ্ঠি কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে পাকিস্তানী উদ্ভাস্তু শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালের শেষের দিকে রামগড় মহকুমা প্রশাসক আলী মিয়ার নেতৃত্বে ২০০ উদ্ভুস্তু পরিবারকে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে প্রেরণ করেন। ওই সময় আলী মিয়া পাহাড়ী বাঙ্গালীদের সমর্থন নিয়ে লামা ইউনিয়ন পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সদস্য নির্বাচিত হন।

 বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী মিয়া বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক স্থানীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৭৩-৭৪সালে বাংলাদেশের প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে তিনি লামা ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি লামা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৬ সালে তিনি লামা ফাসিয়াখালী সড়ক, ১৯৭৯সালে লামা থানাকে মহকুমায় রুপান্তর ও আশির দশকে লামাকে বিদ্যুতায়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন।

১৯৮৫ সালে তিনি প্রথম লামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেই সময় তিনি লামা আলীকদম চকরিয়া সড়ক, লামা মাতামুহুরী কলেজ, লাইন ঝিরি মাদ্রসা সহ বিভিন্ন শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান সহ ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ করে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ ব্যাপক উন্নয়ন করে লামাকে আলোকিত করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৩ স্ত্রী, ১০ ছেলে, ১১ মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। আজ সোমবার দুপুর ২টায় তার ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নিজ বাসভবনে কোরআন খানী মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আত্মীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী সহ সকলে উপস্থিত ছিলেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *