লামা আলীকদমে অবৈধভাবে পাথর আহরণ : ভয়াভহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা


p.pic

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পাথর দস্যুতার শিকারে পরিণত হয়েছে লামা বন বিভাগের মাতামুহুরী রেঞ্জও লামা উপজেলার ইয়াংচা সরই গজালীয়া নন্দীরবিল ছোট বমু কাঠালচড়া শিলেরতুয়া ও ভিবিন্ন এলাকা হতে সকল বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী ঠিকাদার-ব্যবসায়ী চক্র সরকারী সংরক্ষিত বনভূমি থেকে পাথর আহরণ করছে। এতে বন বিভাগ লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বন বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা কুম্ভকর্ণের ভূমিকায়।

জানা গেছে, এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রিজার্ভ ফরেস্ট হচ্ছে লামা বন বিভাগের মাতামুহুরী রেঞ্জ। এই রিজার্ভে রয়েছে শত শত ঝিরি ও খাল। এসব ঝিরি ও খালে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হাজার হাজার ঘনফুট প্রাকৃতিক পাথরের ওপর ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী মহলের শকুন দৃষ্টি পড়েছে এবার।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাতামুহুরী রিজার্ভের ধুমচি খাল ও লামা পৌর এলাকার হরিণ ঝিরি থেকে কাঠালচড়া পর্যন্ত বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরী করে মাটি খুঁড়ে পাথর আহরণ করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এই স্বার্থান্বেষী মহলটি তথ্য গোপন করে সরকারী রিজার্ভ ফরেষ্টের পাহাড়ি খাল ও ঝিরি থেকে ‘খাস কালেকশানের নামে’ জেলা প্রশাসন থেকে পাথর আহরণের অনুমতি নিয়েছে বলে দাবী করছে। তবে বর্তমানে মাতামুহুরী রিজার্ভের ধুমচি খাল থেকে অবৈধভাবে পাথর আহরণ করছে ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে বন আইনকেও আমলে নিচ্ছেনা এ চক্রটি।

জানা গেছে, আলীকদম উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের নামে কার্যত: পাথর আহরনের নামে দস্যুতা চলছে। ক্ষমতাসীন ও পুঁজিবাদী ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীচক্রের কাছে কার্যত: স্থানীয় বন বিভাগ নীরব দর্শকের ভূমিকায়। স্থানীয় সচেতন জনগণের অভিযোগ, বন বিভাগ প্রথমে বাধা নিষেধ করলেও বর্তমানে অজ্ঞাত কারণে নীরব। নির্বিচারের পাথর আহরণের কারণে পাহাড়ি ঝিরি ও খালগুলিতে পানির উৎস হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে পাহাড়ি এলাকার জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ঝিরি ও খালের পানি ব্যবহার করতে পারছে না। পাশাপাশি ঝিরি ও খালের পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে লামা-আলীকদম উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। নদী ভরাট হয়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *