লামায় ১০ প্রা. বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল না করেই চূড়ান্ত বিল


লামা প্রতিনিধি:

লামা উপজেলায় ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের নির্মাণ কাজ প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। বিদ্যালয় সমূহের বাউন্ডারি ওয়ালের নির্মাণ কাজ শতভাগ সমাপ্ত দেখিয়ে জুন/১৮ মাসের শেষ সপ্তাহে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

কাজের সরজমিন গড় অগ্রগতি ৫০ শতাংশের অধিক নয় বলে জানা গেছে এবং ফাইতং নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়ালের নির্মাণ কাজ শুরুই হয়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লামা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ৩য় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত করে।

১নং রিপুজি পাড়া, ৩নং রিপুজি পাড়া ও ফাইতং নয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যাকেজে ৩২ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে মায়াধন কন্সট্রাকশনকে, ছাগলখাইয়া, চেয়ারম্যান পাড়া, অংহ্লারী পাড়া ও ডলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যাকেজে ৬০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে মেসার্স ইউটি মং কন্সট্রাকশনকে, মেরাখোলা, লামামুখ ও মধুঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যাকেজে ৪১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে মেসার্স মার্মা কন্সট্রাকশনকে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। ভূমি সমস্যার কারণে চেয়ারম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের বরাদ্দকৃত ৩৩ লাখ টাকা ফেরত প্রদান করা হয়েছে।

ফাইতং নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার জানান, তার বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের নির্মাণ শুরু করা হয়নি। ছাগলখাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার ও লামামুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবচার জানান, তাদের বিদ্যালয়ের ওয়ালের নির্মাণ কাজ আনুমানিক ৪০ শতাংশ হয়েছে। কাজের অগ্রগতির একইচিত্র সবকয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

অভিযোগে জানা গেছে, যথা সময়ে ওয়ালের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিজের ইচ্ছা মত কাজ করে যাচ্ছেন। কাজের যথাযথ তদারকীর অভাবে সম্পাদিত কাজও খুবই নিম্নমানের এবং অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।

ঠিকাদার ইউটি মং জানান, সরকারি কোষাগার থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি কোথাও স্বাক্ষর করেননি। কাজটি আরেকজন করছে। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তার জানা নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন চৌধুরী বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছু জানিনা। কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী শফিউর রহমান জানান, উপজেলার প্রকৌশলীর নির্দেশে আমি চূড়ান্ত বিল করেছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ বিধায় চূড়ান্ত বিল করে টাকা উত্তোলন করে রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *