লামায় সরকারি চাল কালো বাজারে


লামা প্রতিনিধি:

উপজেলায় সরকারের ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনসাধারণ বুধবার সন্ধ্যায় লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া এলাকা থেকে কালোবাজারে বিক্রিত ২শত কেজি চাল আটক করেছে।

ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রয় করার অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানিয়েছেন, শীঘ্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

উপজেলা খাদ্য অফিস জানিয়েছে, লামা পৌরসভায় ওএমএসের চাল বিক্রয় করার জন্য ৬জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। শুক্রবার ব্যতিত সপ্তাহে ৬দিন প্রতি ডিলার দৈনিক ১ মেট্রিকটন করে চাল বিক্রয় করবেন।

স্থানীয় অধিবাসী খাদিজা বেগম, তোরাব আলী ও আনোয়ারা বেগম জানান, লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া এলাকার দোকানদার দিল মোহাম্মদ সরকারি ওএমএসের চাল কালোবাজারে ক্রয় করে চড়া মূল্যে বিক্রি করে।

প্রতিনিয়ত এই অনিয়ম করলে বুধবার বিকালে সরকারি বস্তা হতে প্লাস্টিকের বস্তায় পরিবর্তন করার সময় স্থানীয় জনসাধারণের নজরে আসে। চাল গুলো দিল মোহাম্মদের মুদি দোকানের পাশে লিটন ফার্মিসিতে মজুদকালে জনগণ ধরে ফেলে। সাধারণ মানুষ ওএমএস ডিলারদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করতে গেলে ডিলারগণ চাল নাই মর্মে ফেরত দেন। অভিযোগ উঠেছে ওএমএস ডিলারগণ চড়া মূল্যে ওএমএসের চাল কালো বাজারে বিক্রয় করেন।

জানা গেছে, চাল বিক্রয় তদারকী করার জন্য সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলেও অনেক তদারকী কর্মকর্তা ডিলারের গুদাম চিনেন না। ডিলারগণ নিজেদের কে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট দাবি করে সরকারি খোলা বাজারের চাল দেদারছে কালোবাজারে বিক্রয় করছে।

গত ১৫ অক্টোবর ওএমএসের চাল বিক্রির সর্বশেষ তারিখ থাকলেও সরকারি অপর আদেশে তা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ওএমএস চাল তদারকী না করার জন্য উপজেলা খাদ্য অফিসের মাধ্যমে ওএমএস ডিলারগণ অনৈতিক সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন।

দোকানদার রশিদা বেগম জানান, আমি কয়েকজন মানুষ দিয়ে ডিলারদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ বস্তা করে চাল সংগ্রহ করেছি। ছাগলখাইয়ার নিকটবর্তী লাইনঝিরি পয়েন্টের ডিলার অপু দাশ এর পক্ষে বড় ভাই বাবুল দাশ জানান, এই চাল আমার না।

এবিষয়ে ওএমএসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার যতীন্দ্র মোহন মণ্ডল জানান, ডিলার প্রতিদিনকার ন্যায় আমার কাছে বিতরণকৃত মাস্টাররোল নিয়ে আসে, আমি প্রতিদিনকার ন্যায় মাষ্টাররোলে স্বাক্ষর করেছি। ডিলারের গুদামে কি পরিমাণ চাল মজুদ আছে বা কি পরিমাণ বিতরণ করেছে তা আমার জানা নেই। আমি আজকে সহকারে ডিলারের গুদামে ইতোপূর্বে পরিদর্শন করি নাই।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিলন কান্তি চাকমা আলীকদমে অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, আমার লোকবল কম বিধায় আমার করার কিছুই নাই।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু জানান, অভিযোগকারীরা আমার কাছে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *