লামায় ভিজিডি’র জব্দকৃত ১৮৪ বস্তা চাল নিয়ে ধুম্রজাল


লামা প্রতিনিধি:

লামা বাজারের নিউ রনি স্টোরে সরকারের ভিজিডি ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ব্লক সম্বলিত ১৮৪ বস্তা চাল আটককে কেন্দ্র করে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। রনি স্টোর হতে লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাল গুলো জব্দ করার পর হতে চালের বৈধতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

রনি স্টোরের মালিক রনি কর্মকার ও ডিও ব্যবসায়ী ডিলার মো. রহিম একটি বাহিনীর পরিবারের সদস্যদের রেশন সামগ্রী ক্রয়ের ডিও লেটার উপস্থাপন করেছেন। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু ও সহকারী কমিশনার ভূমি সায়েদ ইকবাল বৃহস্পতিবার রনি স্টোরে সরজমিনে গমন করে জব্দকৃত চাল গুলো রেশনের চাল বিবেচনায় ভিজিডি ব্লক সম্বলিত চাল গুলোর উপর হতে আরোপিত সিলগালা তুলে নেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডিও ব্যবসায়ী এবং রনি স্টোরের মালিক থেকে পৃথক মুচলেখা নেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার আলীকদমের চার ইউপি চেয়ারম্যান আলীকদম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, লামায় রনি স্টোরের জব্দকৃত চাল গুলো আলীকদমের ভিজিডি কর্মসূচির নয়।

সরকারের একটি গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য মতে আলীকদম খাদ্য গুদাম হতে সরবরাহকৃত রেশনের চালের প্রতিটি বস্তার ওজন ৫০ কেজি। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তার বেস্টনি যথা ভিজিডি ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ব্লক সম্বলিত চালের বস্তা রেশনের চাল হিসাবে সাধারণত সরবরাহ করা হয়না। যদি কোন ডিলার বা চাল ব্যবসায়ী সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির সরকারি ব্লক সম্বলিত চালের বস্তাকে রেশনের চাল বলে দাবি করেন তবে তা সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে বিব্রত করার অপচেষ্টা। রনি স্টোরে জব্দকৃত চালের বস্তার প্রতিটির ওজন ৩০ কেজি।

বান্দরবান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানিয়েছেন, ১৫/১৬টি ভিজিডি’র ব্লক সম্বলিত বস্তায় রেশনের চাল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ১৮৪ বস্তার প্রতিটিতেই ভিজিডি ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ব্লক লাগানো ছিল।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ভিজিডি’র কর্মসূচির চাল বিতরণের বিষয়টি আরো অধিকতর তদারকির প্রয়োজন রযেছে। খাদ্য গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীগণ লামা ও আলীকদমে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কোন ক্রমেই দায় এড়াতে পারেনা।

আলীকদম উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুস্মিতা খীসা জানিয়েছেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভিজিডি কর্মসূচির ব্লক লাগানো চালের বস্তা রেশনের চাল হিসাবে সরবরাহ করে আলীকদম খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সতর্কতার পরিচয় দেয়নি। যার কারণে এলাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে আমাদের একটি শিক্ষা হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *