লবন উৎপাদনে মাঠে নেমেছে কুতুবদিয়ার চাষিরা: সরকারি মনিটরিং দাবি কৃষকদের


pic-lobon-copy

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে লবন উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে চাষিরা। গত বছরে লবন উৎপাদন কিছুটা কম হলেও রেকর্ড পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধির দরুণ আগাম মাঠ তৈরির শুরু করেছেন তারা। নভেম্বরে মাঠে নামার কথা থাকলেও এবার নেমেছে অক্টোবরের মাঝে। লবনের দাম বৃদ্ধির ফলে জমির দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে দ্বিগুণ। উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের সব ক‘টিতেই কম-বেশি লবন উৎপাদন হয়ে থাকে।

লেমশীখালী ঠাণ্ডা চৌকিদার পাড়ার বাসিন্দা কৈয়ারবিল মাঠের লবন চাষি ছৈয়দ আলম জানান, গত বছরে লবনের দাম ভাল ছিল। এখনো এ মাঠে প্রতিমণ ৫৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। তাই আগাম চাষে নেমেছেন। প্রতি কাণি (৪০ শতক) জমি ৩০ হাজার টাকায় লাগিয়ত নিয়ে চাষ করছেন। আগে যার দাম ছিল প্রতি কাণি ১৪-১৫ হাজার টাকা। লবনের দাম দ্বিগুণ, তাই জমির দামও বেড়েছে। পলিথিন প্রতি কেজি ৬২ টাকা। শ্রমিক মজুরি, জমির দাম সহ প্রতি কাণিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ পড়বে বলে তিনি জানান।

দক্ষিণ ধুরুং মানিক্যার পাড়ার আজিজুল হক, বৈদ্যর পাড়ার মোজাম্মেল, স্থানীয় গোলাম সোবহান মনির প্রমূখ মাঠের  চাষি জানান, লবনের দাম চড়া থাকায় এবার নতুন জমিতে লবন চাষ করছেন। দালাল থেকে জমি লাগিয়ত নিলে প্রতি মণে ২০ টাকা কমিশন বেশি দিতে হয়। সরকারি যদি লবন আমদানি না করেন তবে তারা লবনের ভাল দাম পাবেন বলে আশা করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে লবন মাঠে জমির পরিমাণ জরিপ হয়না। স্থানীয় লেমশীখালীর বিসিক প্রদর্শনী কেন্দ্রের প্রায় আড়াই‘শ কাণি লবন জমি চাষিদের মাঝে লটারীর মাধ্যমে লাগিয়ত দেয়া হলেও বিসিক রাজস্ব খাতে চলে যাওয়ায় এবার তা বদলে যাবে পট।

জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক  মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল বলেন , তারা ৯ জনে বিসিকের ২২৫ কাণি (২৭২ একর) দীর্ঘ মেয়াদে লবন ও চিংড়ি চাষের জন্য লীজ নিতে নীতিমালা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মহলে আবেদন করেছেন। অনুমোদন পেলে প্রান্তিক চাষিদের মাঝে ন্যায্য দামে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

চলতি মওসুমে অন্তত: সাড়ে ৪ হাজার চাষি প্রায় ৭ হাজার একর জমি লবন উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চাষ চলছে।  প্রতি একরে মওসুম ভাল থাকলে ৭‘শ মণ উৎপাদিত হয়ে থাকে। উপজেলার আনাচে-কানাচে রয়েছে প্রায় এক‘শ জন লবন ব্যবসায়ি। মূলত: তারাই নিয়ন্ত্রণ করেন লবন চাষ। লবন বেচা-কেনায় কমিশন(দালালী) পরিবহণ, কয়্যোল, শ্রমিক ইত্যাদি বাবদ আগে ছিল প্রতি মণে ৩০ টাকা। এখন  তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৫০ টাকায়। কাজেই মাঠে চাষিরা প্রতি মণে ৫০ টাকা কম পাবে।

লেমশীখালী ইউনিয়নের লবন ব্যবসায়ি আব্দুর রহিম বলেন, চাষিদেরকে মাঠ লাগিয়ত দিয়েছেন প্রতি কাণি ৩০ হাজার টাকা। ওই মাঠে লবনের দাম ৪৫০ টাকা বলে তিনি জানান। সেখানেও দালালি কমিশন প্রতি মণে ৫০ টাকা।

একই এলাকার যুবনেতা জসীম উদ্দিন সিকদার বলেন, লবন ব্যবসায়িরা অধিকাংশ মাঠে চাষিদের ন্যায্য দাম থেকে অতিরিক্ত কমিশন কেটে থাকেন। মাঠ পর্যায়ে তদারকি না থাকায় এমনটি প্রতিবছরই ঘটছে। মাপেও চলে নানা কারচুপি। তাই চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারি মনিটরিং থাকা দরকার বলেও তিনি মনে করেন।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *