লক্ষীছড়িতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অসহায়

khagrachari-picture-21-04-2016

বিশেষ প্রতিবেদক:

বিরোধী দলকে দলে পিষে সারাদেশে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দাপিয়ে বেড়ালেও খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে তারা অনেকটা অসহায়। এখানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ হয় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কমান্ড ও সন্ত্রাসীদের ইসারায়।

খাগড়াছড়ির দুর্গম উপজেলা লক্ষীছড়ি উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেকাকর্মীরা আঞ্চলিক সংগঠনের সন্ত্রাসীদের ভয়ে কোণঠাসা। ইউপিডিএফ’র অপরাজনৈতিক তৎপরতায় মাথা তুলে দাঁড়াতে সাহস করে না তারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের কোনটিতে নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিএনপিসহ জাতীয় রাজনৈতিক দলের কোন প্রতিনিধি এ উপজেলায় নেই।

আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করেন না উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারাও।

অভিযোগ রয়েছে,গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সমর্থকদের গণসংযোগে বাধা ও অপহরণের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করে। যার প্রেক্ষিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে গত বছরে ২১ এপ্রিল ভোরে লক্ষীছড়ি উপজেলার সবক’টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

একই বছরের ২৯ নভেম্বর খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জনসভা থেকে ফেরার পথে লক্ষীছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা নীল বর্ণ চাকমাকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। পরে কীভাবে সে ছাড়া পেয়েছে সেটি সবাই জানে। জীবনে আর কখনো আওয়ামী লীগ করবে না এই মর্মে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন তিনি।

লক্ষীছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পাজেপ সদস্য রেম্রাচাই চৌধুরী বলেন, লক্ষ্মীছড়িতে কারা কি করছে তা নতুন করে আর বলার কিছু নেই। তিনি অভিযোগ করেন, গত ইউনিয়ন নির্বাচনে ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা মাঠে নামতে পারেনি। এক কথায় ইউপিডিএফ’র খবরদারীদের আমরা অতিষ্ঠ।

একইভাবে গত ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় তিনিসহ আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে খাগড়াছড়ি সদর থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারী মুঠোফোনে জানান, ৭-৮দিন ধরে লক্ষীছড়ি বাজারে লোকজনকে আসতে দিচ্ছে না ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা। বাজারে গেলে দেখে নেয়ার হুমকি দমকি দেয়া হচ্ছে। লোকজনকে বাজারে আসা ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে চেক পোষ্ট বসিয়ে তল্লাসী চালাচ্ছে। ফলে কেউ বাজারে আসা নিরাপদ মনে করছে না। যারা বাজারে আসবে তাদের এক কেজি হাঙ্গর শুটকি ও এক কেজি পোলাও চাউলের ভাত খেয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকার হুমকি দিচ্ছে। এটা স্থানীয় অর্থে মৃত্যুর হুমকি।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কংজরী চৌধুরী জানান, ইউপিডিএফ যা করছে তা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ছাড়া আর কিছু না। তিনি সরকারকে দ্রুত বিশেষ চিরুনী অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্রধারীদের নির্মূল করার দাবী জানান।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে ইউপিডিএফ নেতাদের সাথে কথা বলার সহজ উপায় নেই। সাধারণত ইউপিডিএফ বিভিন্ন স্থান েথেকে তাদের নেতাদের একেকটি স্থানে সাময়িকভাবে পোস্টিং করে। পরে আবার নতুন নেতাদের এনে পুরাতন নেতাদের সরিয়ে নেয়। তাদের অরিজিনাল নামের পরিবর্তে সাংগঠনিক নাম দেয়া হয়। তাদের একাধিক মোবাইল নম্বর থাকে। কিন্তু সেগুলো কখনো কখনো খোলা হয়, বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে, খুব দ্রুত পরিবর্তন করা হয়। তবু এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ইউপিডিএফ নেতা রক্তিম চাকমা ও সচিব চাকমাসহ একাধিক নেতার মুঠোফোনে কল করে পাওয়া যায়নি।