রোহিঙ্গা শিশুরা বুঝতে পারছে এই জগতে তাদের ভালবাসার মানুষ রয়েছে


নিজস্ব প্রতিবেদক:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুরা শারীরিক ও মানষিকভাবে আহত। তাদের দেশ মিয়ানমারে তারা ভালবাসা পায়নি। পেয়েছে অত্যাচার আর নির্যাতন। আর এই ভালবাসা বঞ্চিত শিশুরা এদেশে এসে সুযোগ পাচ্ছে লেখা পড়ার। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে বিনোদন। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পুতুলসহ নানা ক্রিড়া সামগ্রী। আর এসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে খুবই খুশি কোমলমতি রোহিঙ্গা শিশুরা।

নির্যাতিত রোহিঙ্গা শিশুরা ভালবাসার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠলে বড় হয়ে তারাও অন্য জনকে ভালবাসবে। আর এই অধিকার প্রতিটি শিশুর বলে জানান, সচেতন মহল।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং ইউএনএইচসিআর সহ বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া তথ্যে, ছয় লক্ষ দশ হাজার রোহিঙ্গা আসার কথা বললেও এ সংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি। আর এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক’ই শিশু।

এসব শিশুদের লেখাপড়ার জন্য আইএমও, ব্রাক, মুক্তি সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার উদ্যোগে দুই শতাধিক স্কুল রয়েছে। যেখানে শিক্ষক দিয়ে হাতে-কলমে লেখাপাড়া শেখানো হচ্ছে। তাদের ইংরেজির পাশাপাশি শেখানো হচ্ছে বার্মিজ ভাষা।

লেখাপড়ার পাশাপাশি এসব শিশুদের বিনোদনের জন্য ইউনিসেফ সহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে রয়েছে শতাধিক বিনোদন কেন্দ্র। যেখানে ক্রিড়া ও নাটকসহ নানা ধরনের বিনোদন দিয়ে আনন্দিত রাখা হচ্ছে এসব শিশুদের। এছাড়া তাদেরকে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে ক্রিড়া সামগ্রী। এসব পেয়ে খুবই খুশি রোহিঙ্গা শিশুরা।

কুতুপালং ক্যাম্পের স্কুলে পড়া রোহিঙ্গা শিশু সাইফুল আলম (১০) জানায়, তারা এতে সুযোগ সুবিধা তাদের দেশ মিয়ানমারে পায়নি। তারা খুবই খুশি লেখাপড়া করতে পেরে।

একই ভাবে ছেনুয়ারা বেগম নামে ৮ বছরের এক শিশু জানান, সে দেশে সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়েছে। এতে তার মন খারাপ থাকত। এছাড়া সে কখনও এত খেলনা দেখেনি। আজ সে পুতুলসহ বিভিন্ন খেলনা পেয়ে খুবই খুশি।

রোহিঙ্গা নারী মরিয়ম আক্তার জনান, মিয়ানমারে থাকা কালিন বাচ্চাদের লেখাপড়া করানো ছিল তার কাছে স্বপ্নের। তার দুই মেয়ে এক সন্তান। তারা সবাই কুতুপালং অস্থায়ী ক্যাম্পের স্কুলে লেখাপড়া করছে। তাই তিনি এদেশের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ।

বাংলাদেশে ঘুড়ি ফেডারেশনের উদ্যোগে উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশুদের মাঝে ক্রীড়াপণ্য বিতরণ করতে এসে ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মৃধা জানান, রোহিঙ্গা শিশুদের মাঝে ঘুড়ি, বল, পুতুল, বাঁশি, হেলিকপ্টার, ব্যাডমিন্টনসহ নানা ধরনের খেলনা দেওয়া হচ্ছে। এ নির্যাতিত শিশুদের মুখে হাঁসি ফুটাতে পেরে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তিনি মনে করেন,  আজকের এ শিশুরা আনন্দিত হলে। তারা বড় হয়ে অনন্দ দেবে এবং ভালবাসবে। যা তার জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে কক্সবাজার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তার জানান, নির্যাতিত রোহিঙ্গা শিশুরা মানষিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। আর এদেশ তাদের সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *