রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ



ডেস্ক নিউজ:
রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরজন্য নোয়াখালীর ভাসান চরে ১৫ হাজার একর জমির উপর২ হাজার কোটি টাকাব্যায়ে শিবির নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ

মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে জীবন বাাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাশরণার্থীদেরব্যাপারে একটি নতুন জাতীয় কৌশল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে “মিয়ানমারের নাগরিক এবং শরণার্থী বিষয়ক জাতীয় কৌশল বাস্তবায়ন টাস্কফোর্স”সোমবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়বৈঠকে বসছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়,অর্থ বিভাগ,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়,সশস্ত্র বাহিনী,গোয়েন্দা বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমারের নিবন্ধনহীন নাগরিকদের বিষয়ে সরকারের একটি বড় ধরনের শিথিলতা রয়েছে। এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান কাজটি হল ছয় জেলায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের পরিসংখ্যান চূড়ান্ত করা।

কর্মকর্তারা জানান,সরকার ইতোমধ্যেশরণার্থীদের জন্যনোয়াখালীতে ভাসান চরে (পূর্ববর্তী নাম ঠেঙ্গার চর) ১৫ হাজার একর জমির উপর ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শিবির স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও চীনে ভেটো ক্ষমতার সম্ভাব্য প্রয়োগ ঠেকাতে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারকরবে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে যোগ দেবেন এমন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রভাব সম্পর্কে বলেন “আমাদের জাতীয় বাজেটে এর প্রভাব খুব বেশী নাও হতে পারে।”

তিনি বলেন, “উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন ও ব্যবস্থাপনায় আটশ’ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে না”।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলমের মতে এই সংকটজাতীয় বাজেটে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঘন ঘন বন্যার কারণে আমরা এমনিতেই খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছি। ফলে এখানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য সরবরাহ করা অনেক কঠিন হবে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার পক্ষেদীর্ঘ সময়ের জন্য খাবার সরবরাহেরসম্ভাবনাও কম।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত কক্সবাজারের সহকারী কমিশনার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম লুৎফর রহমান জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কর্মী সংকটের কারণে নিবন্ধন ধীর গতিতে চলছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি বড় সংখ্যা বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনও জানেনা, কিংবা বাংলাদেশ সরকার তাদের কেন নিবন্ধন করছে তা নিয়েও তারা দোটানায়। তবে আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে সরকার তাদের নিবন্ধন করছে যাতে তাদেরকে সহজেই সনাক্ত করা যায়। এতে তাদের কাছে ত্রাণ পৌছানো সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, শুরুতে কার্ডগুলোতে তাদের পরিচয় হিসাবে আমরা ‘মিয়ানমার নাগরিক’ লিখে নিবন্ধীকরণ করেছিলাম। তবে এখন নিবন্ধনের সময় তাদেরকে ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গা’ বলা হচ্ছে। কারণ, তারা এই শব্দটি পছন্দ করে বলে জানিয়েছে।

গত শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ৩২,২৮৪ রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিবন্ধন হয়েছে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে থাকা ৪০০,০০০ রোহিঙ্গার পাশাপাশি গত ২৪ আগস্টে শুরু হওয়া সহিংসতায় নতুন করে আরও ৫ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

১৯৯৪ সালের রোয়ান্ডা গনহত্যার পর থেকে এটাই সবচেয়ে বড় শরণার্থী অভিবাসন।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *