parbattanews bangladesh

রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়ে ছাই: কূটনীতিকদের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

আন্তর্জাতিক দাবির মুখে মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকারের তত্ত্বাবধানেই তারা সোমবার রাখাইন পরির্দশন করেন। তা সত্ত্বেও সেখানকার পোড়া গ্রামগুলো কূটনীতিকদের চোখ এড়ায়নি। তাদের সহিংসতার শিকার মংডুসহ রোহিঙ্গা গ্রাম আহ নোক পিয়েন ও নোরোলাহ ঘুরিয়ে দেখানো হয়।

সহিংসতাকবলিত রাখাইন রাজ্যে বিদেশি কূটনীতিক ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিকে পরিদর্শনে নিয়ে গেছে মিয়ানমার সরকার। সোমবার তিনটি দলে ভাগ করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। মংডুর জেলা প্রশাসক ইয়ে টুট এ তথ্য জানিয়েছেন। রাখাইনে মংডু সফর শেষে সুইস রাষ্ট্রদূত পল সেগার এক টুইটে লেখেন- ‘মংডু ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে।’

মিয়ানমারে কর্মরত অধিকাংশ পশ্চিমা দেশসহ ২০ দেশের রাষ্ট্রদূত এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পরিদর্শনকালে দেখেছেন যে তাদের বাড়ি-ঘর পুড়ে ছাই। মঙ্গলবার বসতবাড়ির বাসিন্দারা অন্য কোথাও পালিয়ে গেছে এবং তারা সেনাবাহিনীর সহিংসতায় ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখেছেন।

গতকাল ওই অঞ্চলে মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতায় রাখাইন সফর শেষে কূটনীতিকরা বলেন, আমরা দেখেছি গ্রামগুলো পুড়ে গেছে এবং সেখানে কোন মানুষজন নেই… সেখানকার সহিংসতা অবশ্যই থামাতে হবে।

জাতিসংঘ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পাঠ্যবইয়ে লিখে রাখার মতো ভয়াবহ জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগ আনে।

কূটনীতিকরা বলেন, আমরা ওই সফরে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখেছি’ এবং ‘আমরা আরেকবার আহ্বান জানাচ্ছি সেখানে যেন মানুষ নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি ওই রাজ্যে জীবন রক্ষাকারী সেবা পৌঁছাতে হবে এবং অন্য রাজ্যের সাথে কোন বৈষম্য রাখা যাবে না।

সন্ত্রাসের অভিযোগে রাখাইনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সেদেশের সেনা বাহিনীর বিশ্বের নৃশংসতম সহিংসতা ঘটনার ৫ সপ্তাহ পর সেখানে বিদেশী কূটনীতিকদের এই সফর ও বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর উচিত কোন প্রকার বৈষম্য না করে রাখাইন রাজ্যের সকল মানুষের জান-মাল রক্ষা করা।

তারা বলেন, এই সহিংসতার বিষযে উচ্চপর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তদন্ত হওয়া উচিত এবং তাদের এই পরিদর্শন ‘কোন তদন্ত মিশন ছিল না। ‘

কূটনীতিকরা ‘ইউএন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন’কে রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের অনুমতি প্রদানের জন্য আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে কূটনীতিকরা বলেন, আরসা ২৫ আগস্ট যে হামলা করেছিল সেজন্য আমরা আবারো নিন্দা জানাই। তবে এজন্যে যে সহিংসতা ও ব্যাপক সংখ্যক মানুষের দেশ ত্যাগ ঘটেছে তার জন্য গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

রাখাইনে ত্রাণ সংস্থা, সাংবাদিক ও বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে না দেয়ায় মিয়ানমার সরকার সমালোচনার মুখে পড়ে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদলকেও রাখাইনে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।এ অবস্থায় সোমবার কূটনীতিকদের রাখাইনে নিয়ে যায় মিয়ানমার সরকার।

মিয়ানমার কূটনীতিকদের নিয়ে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় নিহতদের আত্মীয় ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলান। রোহিঙ্গা মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মংডুর হিন্দু, ম্রো ও ডায়াগনেট সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাপের ব্যবস্থা করেন।

মংডুর জেলা প্রশাসক ইয়ে টুট জানান, কূটনীতিকদের তিনটি দলে ভাগ করে সহিংসতাকবলিত কয়েকটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর বেশি তথ্য তিনি দেননি।

তবে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মোয়ে জাউ জানান, সোমবার সকালে কূটনীতিকদের রাথেডাং শহরের আনাউট পাইন গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এই গ্রামের রোহিঙ্গা মুসলমানরা কূটনীতিকদের জানান তাদের কেউ পালিয়ে যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সার্বিয়া, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের কূটনীতিকগণ এই সফরে অংশ নেন।