রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অর্ধশত অবৈধ হাটবাজার


উখিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে অর্ধশত অবৈধ হাটবাজার বসিয়ে রোহিঙ্গাদের দিয়ে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হাটবাজার গুলো নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ প্রভাবশালী মহল। উখিয়ার থাইংখালী, জামতলীতে বিশাল আকারে নতুন করে রোহিঙ্গা বস্তিতে বাজার বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীর কাছে কোন ধরনের ট্রেড লাইসেন্স ও দোকানের বৈধ ছাড়পত্র নেই। অর্ধশত অবৈধ হাটবাজারে কয়েক হাজার দোকান বসিয়ে স্থানীয় সরকার ও উপজেলা পরিষদকে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব ও কর ফাঁকি দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উখিয়ার থাইংখালী, জামতলী, বাঘঘোনা, হাকিমপাড়া, ময়নার ঘোনা, কুতুপালং লম্বাশিয়া, মধুর ছড়া, ইরানী পাহাড়, মক্কা মদিনা পাহাড়, মদিনার ঘোনা, বাশেঁর কেল্লা, টিভি রিলে কেন্দ্র, রাবার বাগান, বালুখালী, পানবাজারসহ অন্যান্য অনিবন্ধনকৃত রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাটবাজার। প্রতিটিবাজারে অনন্ত দুই থেকে আড়াইশত দোকান রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও জনপ্রতিনিধিরা রাতারাতি ফায়দা লুটার কু-উদ্দ্যেশে রোহিঙ্গাদের দিয়ে দোকান বসিয়ে হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বাজার গুলোতে রয়েছে, মুদির দোকান, ফার্মেসি, কাঁচা তরি তরকারি, হোটেল, ট্রি স্টোল, গ্যাস স্টেপের দোকান, রকমারি স্টোর, মাছ ও মাংসের দোকান। যার একটিরও বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ও কর্তৃপক্ষের ছাড় পত্র নেই।

গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, উখিয়ার জামতলী, বাঘ ঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রোহিঙ্গাদের নিত্যপণ্য ক্রয়ের সুবিধার্থে কয়েকটি দোকান বসায়। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করে আসছিল। ব্যক্তিমালিকানাধিন জোত জায়গায় দোকান বসালেও স্থানীয় ইউপি মেম্বার নুরুল আমিন ওই ক্যাম্পে পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের দিয়ে রাতারাতি হাটবাজার বসায়। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসানো হাটবাজারে দোকান গুলোতে ব্যবসা পরিচালনা করছে রোহিঙ্গা মাঝি থেকে শুরু করে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাগণ। ওই বাজারের দোকান গুলোতে কোন বৈধ কাগজ ও ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স নেই। মেম্বারের নেতৃত্বে গড়ে উঠা ওই বাজারের দোকানদারগণ সবাই রেহিঙ্গা ব্যবসায়ী। বাজার বসাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমন কি স্থানীয়দের সাথে রোহিঙ্গাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন সওদাগার।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কোন প্রকার চাকরি, দোকান পরিচালনা ও ব্যবসা বানিজ্য করার সুযোগ না দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করার পরও কিভাবে প্রশাসনের সামনে ক্যাম্পে বাজার বসিয়ে রোহিঙ্গারা দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করে। শুধু তাই নয়, শত শত  রোহিঙ্গা যুবক এনজিওতে চাকরি করছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসী ও সচেতন মহলে প্রচণ্ড ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা বাজার গুলোতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *