রোববার রোহিঙ্গা শিবিরে যাবেন খালেদা জিয়া


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:
 
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে রোববার(২৯ অক্টোবর) কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
 
খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার চারদিন পর সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাত পৌনে ৯টায় এই বৈঠক শুরু হয়ে সাড়ে ১০টায় শেষ হয়।
 
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখতে ২৮ অক্টোবর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে রাত্রিযাপন করে পরদিন উখিয়া-টেকনাফে যাবেন তিনি।
জানা গেছে, খালেদা জিয়ার এ সফর সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেবে বিএনপি। বৈঠক থেকে সে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকায় খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সমাবেশ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।
 
গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক সফল হয়েছে বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
তিন মাসের অধিক সময় লন্ডনে চিকিৎসা শেষে ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর সোমবার রাতে প্রথম অফিস করতে এসে দলের পরবর্তী কর্মকৌশল চূড়ান্ত করতে এ বৈঠকে বসেন তিনি।
 
বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।
 
এর আগে খালেদা জিয়া দীর্ঘ তিন মাস পর কার্যালয়ে আসলে দলের মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। কার্যালয়ের বাইরে কয়েক‘শ নেতাকর্মী সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকের শুরুতেই চিকিৎসা শেষ সুস্থভাবে দেশে ফেরায় শোকরিয়া আদায় করা হয়। এরপর খালেদা জিয়া দলের নেতাদের কাছে জানতে চান- তারা কেমন ছিলেন এবং দল কেমন চালালেন।
 
এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ, প্রধান বিচারপতির ছুটি পরবর্তী কর্মসূচিসহ সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন।
 
তিনি বলেন, আপনার নির্দেশে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছি। এ সময় খালেদা জিয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে সবাই সমীহ করে।
এ সময় এক নেতা উদাহরণ হিসেবে বলেন, আপনার দেশে ফেরার দিন দুপুর পর্যন্ত পুলিশ নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছে। কিন্ত নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখে পুলিশ পিছু হটে।
 
এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, মহানগরে যেসব কর্মসূচি হ্য় তাতে আপনারা উপস্থিত থাকলে নেতাকর্মীরা সাহস পাবে। পুলিশও সমীহ করবে। প্রতিটি কর্মসূচিতে আপনাদের উপস্থিত থাকতে হবে। আর বিরোধীদলের সব কর্মসূচিরও অনুমতি নিতে হবে তার মানে নেই।
 
বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাড়িতে পুলিশ অভিযানের বিষয়ে জানতে চান খালেদা জিয়া।
 
খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
 
 
image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *