রামুতেও দেখার আছে অনেক কিছু


 

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রামু কক্সবাজারের একটি উপজেলা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সময় পথে রামুর অবস্থান। জেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এ রম্যভূমি। রামুতে সড়কের দুইপাশে সুদৃশ্য সারিসারি রাবার বাগান। যা আপনার চোখকে জুড়িয়ে দেবে।  এখানে রয়েছে শত বছরের পুরাতন বৌদ্ধ মন্দির রামকুট এবং এশিয়ার সর্বৃহৎ বৌদ্ধ মূর্তি। মায়ানমারের কারিগররা মূর্তিটি নির্মাণ করেছেন। এটির দৈর্ঘ্য ১০০ফুট এবং উচ্চতা ৬০ ফুট।  রামুর শ্রীকুলস্থ বাঁকখালী নদীর তীরে ছেংখাইবক্যাং (বৌদ্ধ বিহারটি) অবস্থিত।

এ বৌদ্ধ বিহারে নানা রকম নক্সাখচিত আসন ও কাচের পাত্রে সংরক্ষিত ১০টিরও রেশি পিতল এবং আরও অনেক শ্বেত পাথরের মূর্তি শোভা পাচ্ছে। সব মিলেরামু থানায় ২৩টি বৌদ্ধ বিহারে শতাধিক বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে। রামু উপজেলার কাউয়ার খোপ ইউনিয়নে উখিয়ার ঘোনায় একটি রহস্যময় গর্ত রয়েছে। যার শেষ কোথায় কেউ জানেনা। তাই একে কেন্দ্র করে জন্ম নিয়েছে অনেক কিংবদন্তি। স্থানীয় জনগণ একে আঁধার মানিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এছাড়াও রয়েছে রামুর পোড়া মাটির আধুনিক স্থাপত্য শিল্প, বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহার, ঐতিহাসিক রামকোট তীর্থধাম ইত্যাদি।

রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহার:

রামুর চৌমুহনী স্টেশন থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে রাজারকুল এলাকায় পাহাড় চূড়ায় মন্দিরটি অবস্থিত। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ৩০৮ খ্রিস্টপূর্বে সম্রাট অশোক এটি নির্মাণ করেন। প্রবেশ পথের দু’ধারে সারিসারি ঝাউবাথি আর সাজানো গুছানো বাগান দেখে আপনার মনপুলকিত হবেই। সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠেই দেখবেন বড়বড় দুটি বুদ্ধমূর্তি। বৌদ্ধদের মতে, এর একটিতে মহামতি গৌতম বুদ্ধের বক্ষাস্থি স্থাপিত হয়েছে। আশেপাশে ঘুরলে আরও অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে পাবেন এখানে। বৌদ্ধদের কাছে অতি পবিত্র তীর্থস্থান এটি।

ঐতিহাসিক রামকোট তীর্থধাম:

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহাসিক নিদর্শন রামকোট তীর্থধাম। কথিত আছে, রাম চন্দ্র দেব সপ্তম অবতারে পিতৃ সত্য পালনে চৌদ্দ বছরের জন্য যখন বনবাসী হয়ে ছিলেন, তখন বন-বনান্তরে ঘুরতে ঘুরতে পঞ্চবটি বনে একটি কুটির স্থাপন করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই কুটিরই হচ্ছে রামকোট তীর্থধাম। জনশ্রুতি আছে এখানে শীতার মরিচ বাটার পাটা আছে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, সকলতীর্থ ভ্রমণের পর রামুর রামকোট তীর্থধামে সংরক্ষিত শিব দর্শনেই সকল পুণ্যের পূর্ণতা লাভ হয়।

কীভাবে যাবেন:

রামু যেতে হলে কক্সবাজার আসার পথে রামু বাইপাসে আপনাকে নামতে হবে। ওখানেই রাস্তার দু’পাশে সারিসারি ঝাউগাছ রামুর হয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবে। অবশ্য কক্সবাজার থেকেও গাড়িতে ১৫ কিলোমিটার দূরের রামুতে আসা যায় যখন তখন। থাকার জন্য হোটেল আর সরকারি ডাক বাংলোও আছে।

 

সূত্র: পাক্ষিক পার্বত্যনিউজ, বর্ষ ১, সংখ্যা ২ ও ৩।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *