রামগড় যুবলীগে চলছে অবাঞ্চিত আর বহিষ্কার খেলা



রামগড় প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রামগড়ে পৌর যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদককে বহিষ্কার করায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতিকে পাল্টা অবাঞ্চিত করেছে পৌর যুবলীগ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে রামগড়ের সাংগঠনিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা নিরসনে শনিবার (২৮ অক্টোবর) খাগড়াছড়িতে জেলা যুবলীগ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

জানাযায়, গত রবিবার দলীয় অফিসে বসাকে কেন্দ্র করে পৌর যুবলীগের সভাপতি ও রামগড় রামগড় পৌরসভার কাউন্সিলর দেলোয়ার দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার কাাউন্সিলর মো. শামিমের সাথে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের কথা কাটাকাটি হয়। তর্কাতর্কির এ পর্যায়ে পৌর যুবলীগের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হন আব্দুল কাদের। এ এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদের গত ২৬ অক্টোবর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অশালীন, অসৌজন্যমূলক, উশৃঙ্খল আচারণের অভিযোগে পৌর যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শামিমকে সাময়িক বহিষ্কার করে তাদের চিঠি দেন। এতে পৌর যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে।

সাধারণ সম্পাদক মো. শামিম বলেন, তাদেরকে এভাবে বহিষ্কার করার কোন সাংগঠনিক এখতিয়ার নেই উপজেলা যুবলীগের সভাপতির। তিনি গায়ের জোরে এ চিঠি দিয়েছেন। এ বিষয়টি জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদককে জানানো হয়েছে। এদিকে, পৌর যুবলীগ এক বিশেষ সভা আয়োজন করে উপজেলা যুব লীগের সভাপতি আব্দুল কাদেরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে।

পৌর যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এ বিশেষ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সাংগঠনিক নিয়মকানুন ও গঠনতন্ত্র সমপর্কে অজ্ঞতা, স্বেচ্ছাচারিতা ও  যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগে আব্দুল কাদেরকে অবাঞ্চিত করা হয়েছে বলে জানান পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শামিম। তিনি আরও বলেন, আব্দুল কাদের বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সাথে গোপন আতাঁত করে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রীয় করে রেখেছেন। নেতাকর্মীদের মধ্য তিনি দ্বন্দ্ব বিভেদ সৃষ্টি করে রেখেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, সাংগঠনিকভাবে কাউকে অবাঞ্চিত করা যায় না। তিনি বলেন, যুবলীগের নেতাকর্মীদের ধোঁকা দিয়ে স্বাক্ষর নিয়েছে তারা। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকায় ওই দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এভাবে পৌর যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদককে বহিষ্কার করার ক্ষমতা উপজেলা কমিটির আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা যাতে সংশোধন হয়ে যায়, সেজন্যই  উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের নেতাদের পরামর্শে সাময়িক বহিষ্কারের চিঠি দেয়া হয়েছে তাদেরকে।

বহিষ্কারের বিষয় নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন ত্রিপুরা বলেন, পৌর কমিটির সভাপতি ও সম্পাদককে বহিষ্কার করার সাংগঠনিক কোন ক্ষমতা নেই উপজেলা যুবলীগের সভাপতির। এটা তার এখতিয়ারের বাইরে। তিনি বলেন, দলীয় পরিপন্থি কাজে কেউ জড়িত থাকলে তা জেলা কমিটিকে জানানোর পর কেন্দ্রিয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা কমিটি ব্যবস্থা নেবে। রামগড়ে যুবলীগের বিশৃঙ্খলা অবস্থা নিয়ে শনিবার জেলা কমিটি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে বহিষ্কার ও অবাঞ্চিত ঘোষণার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগের দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পৌর যুবলীগের বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা প্রতিদিন সন্ধ্যায় শহরে শো ডাউন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *