রামগড় ও মাটিরাঙ্গায় জেএসএস সংস্কারপন্থীর ঘরবাড়ি ভাংচুর করেছে ইউপিডিএফ


রামগড়  প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় ও মাটিরাঙ্গায় জেএসএস(সংস্কার) গ্রুপের দুই সমর্থকের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্যরা। রামগড়ের দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম অন্তুপাড়া ও মাটিরাঙ্গার অভ্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ(প্রসীত)কে দায়ী করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা। বাড়ি ঘরের উপর হামলা চালিয়ে ভাংচুরের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এদিকে, প্রতিপক্ষের হামলা ও হুমকীরমুখে রামগড় ও মাটিরাঙ্গা সীমান্তের দুর্গম প্রত্যন্ত গ্রামের জেএসএস’র(সংস্কার) পুরুষ কর্মী ও সমর্থকরা এলাকা ছেড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, সোমবার (১৬এপ্রিল) দুপুরে রামগড় মাটিরাঙ্গা লাগোয়া দুর্গম এলাকা অভ্যা পাড়ায় ইউপিডিএফের কয়েকজন অস্ত্রধারী আকস্মিকভাবে এসে মানিক চন্দ্র ত্রিপুরা প্রকাশ কালা ত্রিপুরার বসতবাড়িতে হানা দেয়। তারা প্রথমে বাড়ির লোকজনের কাছে কালা ত্রিপুরার সন্ধান চায়। কিন্তু পরিবারের কেউ তার সন্ধান দিতে না পারায় অস্ত্রধারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কালা ত্রিপুরার বসতঘর ভাংচুর করে গুড়িয়ে দেয়। এসময় ঘরের লোকজনদের অস্ত্রেরমুখে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

অপরদিকে, একই কায়দায় রবিবার দুপুরে রামগড় উপজেলার দুর্গম প্রত্যন্ত অন্তুপাড়া এলাকায় চাইন্দে মারমার একটি বসতঘর ও একটি রান্নাঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। চাইন্দে মারমাও জেএসএস’র(সংস্কার) সক্রিয় কর্মী বলে জানাগেছে। চাইন্দের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ইউপিডিএফের লোকজনের হুমকীরমুখে চাইন্দে বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

রবিবার বেশ কয়েকজন অস্ত্রধারী তাদের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এসময় ঘরের মহিলাসহ অন্যান্যদের বের করে দিয়ে এলোপাথারি ভাংচুর চালায়। তারা ঘরের সমস্ত মালামাল তছনছ করে এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দেয়। পরে তারা রান্নাঘরও ভাংচুর করে। অস্ত্রধারীরা চাইন্দে মারমাকে তাদের কাছে এনে দিতে পরিবারের লোকজনদের হুমকী ধমকী দেয়। ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি জানান, ওই দুর্গম এলাকার লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, রামগড়ের লাচারিপাড়া, বৈদ্যপাড়া, পিলাক, অন্তুপাড়া, দাঁতারামপাড়া, মাটিরাঙ্গার অভ্যা, লক্ষীছড়াসহ ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে জেএসএস’র(সংস্কার) কর্মী ও সমর্থকরা প্রতিপক্ষের ভয়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।

বাড়িঘর ভাংচুরের ব্যাপারে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ  তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, চাইন্দে মারমা নামের এক ব্যক্তির ঘর ভাংচুরের খবরটি লোকমুখে শোনা গেছে। তবে লিখিতভাবে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *