রামগড়ে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘বিজয়’ নষ্ট হবার উপক্রম


২৮ মাসেও কাজ সম্পন্ন হয়নি নিমার্ণ কাজ

ramgarh   31

নিজাম উদ্দিন লাভলু, রামগড়:
রামগড়ে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য ‘বিজয়’ নির্মাণের আগেই বিবর্ন হয়ে গেছে। নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রামগড়ে নির্মিতব্য ভাষ্কর্যটি। ঘটা করে উদ্বোধনের দীর্ঘ ২৮ মাস পরও ভাস্কর্যটির নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এবং ’৭১ এ পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক এইচ টি ইমাম ২০১২ সালের ২০ মে প্রধান অতিথি হিসাবে স্মৃতি ভাস্কর্য বিজয় এর উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের এ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। দেশের প্রখ্যাত স্থাপত্য শিল্পী মৃনাল হক ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন। এদিকে উদ্বোধনের ২৮ মাসের মধ্যেই ধবধবে সাদা মুর্তিগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে। কালচে ও বাদামি রং হয়ে ছয়টি মুর্তিই এখন হতশ্রী।

এছাড়া একটি মুর্তির কাধেঁ ঝোলানো বন্দুকের মাথা ভেঙ্গে গেছে। মুর্তির উপরের পাতলা আস্তরণ জালের মত ফেটে গেছে। এদিকে মুর্তির পিছনে স্থাপিত বিশাল মশালটি ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি। শুধুমাত্র নির্ধারিত তারিখে উদ্বোধনের জন্য তড়িঘড়ি করে কোনরকমে ঐ মশালের প্রতিকৃতিটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের পরে মশালটি যথাযথভাবে পুন:নির্মাণের কথা থাকলেও ২৮ মাস পরও তা করা হয়নি।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: মাসুদ করিম জানান, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রকল্পের অধীনে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। ঐ প্রকল্পের আওতায় এর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার কথা। দ্রুত এ অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।

এদিকে বেদিসহ ভাস্কর্যের চারপাশে কোন প্রাচীর বা ঘেরাবেড়া না থাকায় এটি সম্পূর্ন অরক্ষিত। ফলে প্রতিনিয়ত দর্শণার্থীসহ ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা মুর্তিগুলোতে দোল খেতে দেখা যায়। জুতা পায়ে বেদিতে উঠে হাটাহাটি করায় সব সময় অপরিস্কার অপরিচ্ছন্ন থাকে। রাতের বেলায় অবাঞ্চিত লোকজনের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় এ ভাস্কর্য প্রাঙ্গন। শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে পুষ্প মাল্য অর্পণের জন্য এ ভাস্কর্যের বেদি পরিস্কার করা হয়।

রামগড় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপজেলা কমান্ডার মফিজুর রহমান বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাস্কর্যের সুরক্ষা ও এর চর্তুপাশে সৌন্দর্য্যবর্ধক কাজ করার প্রকল্প গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা আজও কার্যকর করা হয়নি। তিনি জরুরি ভিত্তিতে ভাস্কর্যের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন ও সুরক্ষিত করাসহ বিবর্ন হয়ে যাওয়া মুর্তিগুলো সুশ্রী করার উদ্যোগ নেয়ার দাবী জানান। রামগড় উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো: ইকবাল হোসেন বিজয় ভাস্কর্যের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের এ স্মৃতি স্মারকের পবিত্রতা ও সন্মান রক্ষা সকলেরই দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *