রাঙামাটিতে প্রাণ ভয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পাহাড়ি নেতাকর্মীদের গণ পদত্যাগ


নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটিতে গত কয়েকদিন ধরে জাতীয় রাজনৈতিক দল আ’লীগের রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে পাহাড়িরা। গণহারে পদত্যাগের হিড়িক, সকলের একটাই কারণ পারিবারিক সমস্যা। কিন্তু পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা।

গেলবারের সংসদ নির্বাচনে পাহাড়ি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে আ’লীগ ভোট পায়নি। ওই অঞ্চলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস ,) ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (ইউপিডিএফ) ও জনসংহতি সমিতি সংস্কারের  (এমএন লারমা গ্রুপ ) সাথে আঁতাত এবং নির্বাচনী কেন্দ্রে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে রাঙামাটি আসনটি দখল করে।

আ’লীগ সরকার গঠন করার পর রাঙামাটির ওইসব পাহাড়ি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এবার জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫জনে উন্নতি করে এবং ওইসব অঞ্চলগুলোতে জেলা পরিষদের প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখে।

জেলা পরিষদের সদস্যরা সরকারের এসব উন্নয়নের প্রকল্পগুলি নিজেদের ক্রেডিট বলে চালিয়ে যেতে থাকে। আর স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যগুলো নিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করেছে বলে ওইসব এলাকার পাহাড়ি আ’লীগ নেতাদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদত্যাগকারী একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালবেসে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়েছে। আর এখন যেকোন মূহুর্তে তাদের জীবন হারাতে হতে পারে জেএসএস সন্ত্রাসীদের হাতে।এজন্য নিজেদের জীবন বাঁচাতে তারা এখন দলে দলে আ’লীগের রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগের জৈষ্ঠ্য এক নেতার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, আ’লীগ এবং ওই সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা জেএসএস’র সন্ত্রাসীদের ভয়ে গণহারে পদত্যাগ করছে। খাদ্য শস্য বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আসলে নেতা-কর্মীরা যা বলছে তা ঠিক না, এগুলোতো এলাকার উন্নয়নের জন্য। তারা জীবন বাঁচানোর জন্য এসব ওলটপালট কথা বলছে।

তিনি বলেন, আমি প্রাণ ভয়ে রাঙামাটিতে অবস্থান করছি। ওই এলাকায় আ’লীগের রাজনীতি থেকে সরে আসার জেএসএস পাঁচদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে, এখন তিনদিন অতিবাহিত হয়েছে আর মাত্র বাকি আছে দু’দিন। ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে বলে তিনি জানান। এদিকে জুরাছড়ি আ’লীগ এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠন থেকে পদত্যাগের মিছিল দিনদিন ভারি হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ডিসেম্বর)  সর্বশেষ পর্যন্ত জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগ থেকে আটজন, উপজেলা যুবলীগ থেকে দুইজন, ছাত্রলীগ থেকে একজন, মহিলা আ’লীগ থেকে একজন, কৃষকলীগ থেকে তিনজন, আওয়ামী সমর্থিত দু’জন জনপ্রতিনিধি এবং আ’লীগের ৩৫জন কর্মী।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে একজন এবং যুবলীগের থেকে একজন পদত্যাগ করেছেন। বাঘাইছড়ি থেকে পদত্যাগ করেছেন ৪ জন। প্রকৃতপক্ষে এই পদত্যাগের সংখ্যা আরো অনেক বেশী। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা তা স্বীকার করতে চাইছে না।

এ বিষয়ে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর জানান, জেএসএস’র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আ’লীগের পাহাড়ি নেতা-কর্মীদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করলেও আ’লীগ তা কখনও মেনে নেবে না।  পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, জেএসএস আ’লীগকে ভয় পায়, কারণ আ’লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এজন্য জেএসএস পাহাড়ি আ’লীগ নেতাদের ভয় দেখিয়ে আ’লীগ থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

এ নেতা আরও বলেন, পাঁচ বছর আগে জেলা কৃষকলীগের সভাপতি অনিল তঞ্চাঙ্গ্যকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজস্থলী উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মংকিউ মার্মাকে গুলি করে হত্যা সর্বশেষ জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমাকে গুলি করে হত্যা, বিলাইছড়ি আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মার্মাকে বেধড়ক পিটুনি এবং জেলা মহিলালীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসাকে বাড়িতে গিয়ে জেএসএস’র সন্ত্রাসীরা হামলা করে।

জেলা আ’লীগের এ  নেতা জানান, শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তিকে ঘিরে সন্তু লারমা পার্বত্য জেলায় আগুন লাগানোর যে হুমকি দিয়েছে তারপর থেকে এ ঘটনা ঘটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *