রাঙামাটিতে পাশের হার ৮২.২৩%, জিপিএ-৫ ১১৪ জন, শীর্ষে লেকার্স পাবলিক স্কুল


 Rangamati 1

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি:

শতকরা পাশের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিসহ সকল ক্ষেত্রেই ২০১২ সালের তূলনয় ২০১৩ সালে আশাতীত ফলাফল করেছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির এসএসসি পরিক্ষার্থীরা । চট্রগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছরই  এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ অর্জন রাঙ্গামাটি জেলার।

২০১৩ সালে রাঙ্গামাটি জেলায় এস .এস.সি পরীক্ষায় পাশের শতকরা হার ৮২.২৩ ভাগ যা গত বছর ছিল শতকরা ৬৮.১২ ভাগ। ২০১২ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা  ছিল ৬০ জনে যা চলতি বছর  এসে দাঁড়িয়েছে ১১৪ জনে।  জেলার সকল বিদ্যালয়গুলোকে পিছনে ফেলে এবছর জেলার সব চাইতে ভাল ফলাফল করেছে  রাঙ্গামাটির সেনা বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লেকার্স পাবলিক স্কুল। অপর দিকে কাপ্তাই উপজেলায় নৌ বাহিনী পরিচালিত  কাপ্তাই নৌবাহিনী উচ্চ বিদ্যালয় । পাশের হারের দিক দিয়ে শতভাগ সফলতার পাশাপাশি লেকার্স পাবলিক স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ জন এবং কাপ্তাই নৌবাহিনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন। এসএসসি পরীক্ষায় নানিয়ারচর উপজেলার বেতছড়ি জেনারেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং কাউখালী উপজেলার পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়  এর পাশের হার শতকরা শতভাগ।

রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা অফিস ষুত্রে জানা গেছে, ২০১৩ বছরের এস.এস.সি পরীক্ষায় জেলার  মোট ৭৬ টি বিদ্যালয় হতে ৫৯১৮ জন পরিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কৃতকার্য হয় ৪৮৫১ জন । পাশের শতকরা হার ৮২.২৩ ভাগ । কৃতকার্য পরিক্ষাতৃীদের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করে ১১৪ জন।  জিপিএ -৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে  জেলায় প্রথম স্থানে রয়েছে লেকার্স পাবলিক স্কুল। এই বিদ্যালয়ের  ২৩ জন পরিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।  কাপ্তাই কর্ণফুলী পেপার মিলস উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৬ জন ,কাপ্তাই নৌ বাহিনী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৫ জন, রাঙ্গামাটি  সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৪ জন, রাঙ্গামাটি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১১ জন পরীক্ষার্থী  জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

রাঙ্গামাটি জেলা সদরের অন্যান্য বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমী হতে ২ জন, শহীদ আব্দুল আলী একাডেমী হতে ১ জন, মোনঘর আবসিক বিদ্যালয় হতে ১ জন, রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১ জন পরিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যান্যা উপজেলার বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে কাপ্তাই উপজেলার নারানগিরি সরকারী উচ্চ বিদ্যারয় হতে ৮ জন, কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যারয় হতে ৫ জন, শহীদ শামসুদ্দীন বালিকা উচ্চ বিদ্যারয় হতে ১ জন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১জন, বাঘাইছড়ি উপজেললার কাচালং মডেল উচ্চ বিদ্যারয় হতে ৩ জন, কাচালং বালিকা উচ্চ  বিদ্যালয় হতে ১জন, নানিয়ারচর উপজেলার নানিয়ারচর উচ্চ বিদ্যারয় হতে ১জন, লংগদু উপজেলার রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৩ জন, জুড়াছড়ি উপজেলার ভূবনজয় সরকারী উচ্চ বিদ্যারয় হতে ১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কাউখারী উপজেলার পোয়াপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১ জন, বেতবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১ জন এবং সৃজনী ট্রাস্ট উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

জেলার ৭৬ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে রাঙ্গামাটির লেকার্স পাবলিক স্কুল, কাপ্তাই উপজেলার নৌবাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়, কাউখালী উপজেলঅর পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় এবং নানিয়ারচর উপজেলার   বেতছড়ি জেনারেল ওসমানী উচ্চ বিদ্যালয় এর শতকরা শতভাগ পরিক্ষার্থী উত্তীর্ন হয়েছে। গতবছর শতভাগ পাশের হারের বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩ টি। গতবছর  শতকরা ১০০ ভাগ পাশ করা বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইসলামিক সেন্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের  এবছর পাশের হার শতকরা ৯৭.১৪ ভাগ। অপরদিকে এবছর শতভাগ সফল  বেতছড়ি ওসমানী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১২ সালের পাশের হার ছিল  শতকরা ৩২.৮৬ ভাগ। অপর দিকে পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১২ সালে পাশের  শতকরা হার ছিল শতকরা মাত্র ১৬.৬৭ ভাগ।

উপজেলা ভিত্তিক ২০১৩ সালের এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় শতকরা পাশের হারের দিক দিয়ে নানিয়ারচর উপজেলা শীর্ষে রয়েছে। এই উপজেলা শতকরা পাশের হার ৯৬.১৯ ভাগ।  পাশের হারের দিক দিয়ে শতকরা ৯২.১৮ ভাগ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জুড়াছড়ি উপজেলা এবং শতকরা ৮৮.৫২ ভাগ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। পাশের শতকরা হারের দিক দিয়ে নীচের তিনটি অবস্থানে রয়েছে রাজস্থলী উপজেলা (৫৬.৪৫%), বিলাইছড়ি উপজেলা (৫৬.৫৪%) লংগদু উপজেলঅ (৮০.৪৩%)।

২০১৩ সালের এস.এস.সি পরীক্ষায় ফলাফলের এই অগ্রগতির বিষয়ে জেলার শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান জানান রাঙ্গামাটির জন্য এটি একটি ইতিবাচক বিষয়। ২০১২ সালে জেলার সার্বিক ফলাফল কাংখিত পর্যায়ে না পৌছানোর কারণে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে  পরীক্ষার ফলাফলের মানোন্নয়নে  বিদ্যালয়সমূহকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয় । পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এই বিষয়ে একাধিক বার সভা সমাবেশ করে পরীক্ষার ফলাফলের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন করনীয় বিষয় নির্ধারন করা হয় । জেলা পর্যায়ের মাসিক মান সম্মত শিক্ষা বিষয়ক সভায় ও এই বিষয়ে এই আলোচনা করা হয়।  মূলত সকল মহলের সহযোগিতায় ফলাফলের এই অগ্রগতি । তিনি জানান শুধু পাশের হারের দিক দিয়ে নয়  বিভিন্ন  নতুন  ভাবে অনেক বিদ্যালয় হতে এবছর জিপিএ-৫ অর্জিত হয়েছে এটি একটি শুভ লক্ষন।

এদিকে শিক্ষা বিষয়ক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর হিল ইনফরমেশন ডেভেলাপমেন্ট এন্ড রিসোর্স এর নির্বাহী পরিচালক জানান দেশের সকল শিক্ষাবোর্ডে সামগ্রিক ভাবে পাশের হারের বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে রাঙ্গামাটি জেলায়। এতে পাশের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। শতভাগ পাশের হারের বিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। গত ১ বছর জেলায় পাশের হার বৃদ্ধির জন্য জেলা প্রশাসন হতে শুরু করে উপজেলা প্রশাসন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে পরিশ্রম করেছেন এপিট হচ্ছে তারই সুফল। ফলাফলের এই  উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য যে সব বিদ্যালয় বিশেষ করে জেলা সদরের বাইরের দূর্গম উপজেলার বিদ্যালয় গুলোকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। গবেষনা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক আরো জানান  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাল ফলাফলের জন্য প্রাতষ্ঠিানিক শৃংখলা কি পরিমান ভূমিকা রাখতে পারে তার প্রমান রাঙ্গামাটি লেকার্স পাবলিক স্কুল এবং কাপ্তাই নৌ বাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল। তবে সামগ্রিকভাবে পরীক্ষার ফলাফল আলো ভাল করার জন্য বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষে পাঠদান ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি বানিজ্যিক হারে টিউশনির প্রবণতা রোধ করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এদিকে বিগত বছরগুলোর ন্যায় চলতি ২০১৩ সালের দাখিল পরীক্ষায় এবছরও ভালো ফলাফল করেছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দাখিল পরীক্ষার্থীরা। এবছর জেলার ১৩ টি দাখিল মাদ্রাসা হতে ২৮১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৬২ জন পরিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের শতকরা হার   শতকরা  ৯৩.২৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ জন। এছাড়া ১৩ টি মাদ্রাসার মধ্যে মাদ্রাসার পাশের শতকরা হার শতভাগ। ২০১৩ সালের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় জেলার ১০ টি উপজেলার মধ্যে জেলার ৬ টি উপজেলা হতে দাখিল পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ৩ টি মাদ্রাসার মধ্যে  রাঙ্গামাটি সিনিয়র মাদ্রাসা এবং বায়ত’শ শরফ মাদ্রাসার শতভাগ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়। রাঙ্গামাটি সিনিয়র মাদ্রাসা হতে ১ জন এবং বায়ত’শ শরফ মাদ্রাসা হতে ৩ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। জেলা সদরের অপর মাদ্রাসা আল-আমিন ইসলামিয়া মাদ্রাসার ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

কাপ্তাই উপজেলার ২ টি মাদ্রাসার মধ্যে দুটিতেই শতকরা পাশের হার ১০০ ভাগ। কাপ্তাই আল-আমীন নূরিয়া মাদ্রাসা হতে ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অপর মাদ্রাসা তৈয়বিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা ২০ জন পরিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়েছে।

কাউখালী উপজেলার ৩ টি মাদ্রাসার মধ্যে বেতবুনিয়া গাঃআঃরঃসুঃ দাখিল মাদ্রাসা হতে ১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।  ২৬ জন পরিক্ষার্থীর মদ্যে পাশ করেছে ২৫ জন। বেতবুনিয়া মূঃ উঃ রেঃ সাঃ দাখিল মাদ্রাসা এবং ছিদ্দিক-ই-আকবর (রাঃ) দাখিল মাদ্রাসায় পাশের হার শতকরা শতভাগ।

লংগদু উপজেলার মাইনূমূখ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা হতে ২ জন জিপিএ-৫ পেলেও এই মাদ্রাসা হতে ৭ জন পরিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া মাদ্রাসা হতে ১৮ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১৬ জন এবং  পশ্চিম সোনাই মোঃ  রঃ দাখিল মাদ্রাসা হতে ৮ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৫ জন।

বাঘাইছড়ির ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা কাচালং দাখিল মাদ্রাসা হতে ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৫৪ জন এবং নানিয়ারচর উপচেলার নানিয়ারচর দাখিল মাদ্রাসার ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জন পাশ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *