রাখাইন ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সই স্থগিত করেছে ইইউ


ডেস্ক নিউজ:
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ নিয়ে তুমুল সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশটির সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) স্বাক্ষর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি)’র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক কমিটি এই ঘোষণা দিয়ে জানায়, যে তাদের প্রতিনিধি দল আপাতত মিয়ানমার সফরে যাচ্ছে না। এই চুক্তি সই হলে ইইউ-মিয়ানমার বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হতো। রাখাইনে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কারণে সফর স্থগিতের ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জানায়।

কমিটির সভাপতি বার্নড ল্যাঙ্গে জানান যে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সফর স্থগিত থাকবে।

তিনি বলেন, ‘ইপি কমিটি মিয়ানমারে প্রতিনিধি দল প্রেরণ অনির্দিষ্টকাল স্থগিত করেছে। দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘ইইউ-মিয়ানমার বিনিয়োগ চুক্তি’ স্বাক্ষরের অনুকূল নয়। এটা স্পষ্ট যে বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সঙ্গে কোন বিনিয়োগ চুক্তি অনুমোদন অসম্ভব।’

গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার, বিশেষ করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে ইপি।

মিয়ানমারের জন্য ইইউ চুক্তিটি হতো কোন বিদেশী বিনিয়োগ সুরক্ষার ব্যাপারে একটি বড় পদক্ষেপ। গত এপ্রিলে মিয়ানমারের ‘ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স’ জানায় যে কয়েক মাসের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হবে। আইপিএ চুক্তি ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি এবং কর্পোরেট মান জোরদারের পাশাপাশি মিয়ানমারে ইইউ দেশগুলোর বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করতো।

গত এপ্রিলে ইইউ’র তৎকালীণ রাষ্ট্রদূত রোল্যান্ড কোবিয়া মিয়ানমার টাইমসকে বলেন, মিয়ানমার ১০টি দেশের সঙ্গে আইপিএ সই করলেও ইইউ’র সঙ্গে করেনি। ফলে মিয়ানমারে বিনিয়োগের ব্যাপারে ইইউ কোম্পানিগুলো নিরুৎসাহিত হচ্ছে। যেসব দেশের সঙ্গে আইপিএ রয়েছে সেগুলোর মতো একই সুবিধা ইইউ কোম্পানিগুলো পাচ্ছে না।

ইইউ বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল কখন মিয়ানমার সফরে আসতে পারবে সে বিষয়েও ইপি কমিটি কিছু জানায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *