যাত্রীবাহী বাস ১’শ ফুট গভীর খাদে পড়ে নিহত ৮


Ramgarh 29.5.17 copy

রামগড় প্রতিনিধি:

করেরহাট রামগড় সড়কের লোহারপুল নামক এলাকায় সোমবার দুপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পার্শ্বে প্রায় একশ ফুট গভীর খাদে পড়ে গেলে এক বন কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৮জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৩৫জন। নিহতদের মধ্যে বনবিভাগের এক কর্মকর্তাও রয়েছেন। বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করতে গিয়েই বাসটি রাস্তার পাশে প্রায় একশ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনাস্থলে একজন মহিলাসহ চারজন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায় ৫জন। তবে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ ৫জনের লাশ  উদ্ধার করেছে বলে জানান।

ঘটনাস্থলে নিহত ৪জনের মধ্যে পুলিশ দুজনের লাশ উদ্ধার করে। এদের একজন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার তাইন্দংয়ের বাজারটিলার বাসিন্দা মৃত মুন্নাফ সওদাগরের স্ত্রী রহিমা বেগম(৪৫)। অপরজন অজ্ঞাত নামা যুবক(২৮)। পুলিশ আসার আগেই অপর দু ব্যক্তির লাশ নিয়ে যায় স্বজনরা। মীরশ্বরাইয়ের মোস্তাননগর হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আবু তালেব(৫৫)। তিনি ফটিকছড়ির আঁধারমানিক বন বিট কর্মকর্তা। অন্যজন হচ্ছেন ফটিকছড়ির হেঁয়াকো বাজার এলাকার বাসিন্দা আলী আশরাফ(৫০)। বারৈয়ারহাট কমফোর্ট হাসপাতালে মারা যান মীরেরশরাইয়ের করেরহাটের বাসিন্দা মো. ইসমাইল(৫০)। এছাড়া ছাগলনাইয়া হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় কয়লাবাজার বাজার এলাকার সুরোজ মিয়ার ছেলে মো. নুরুন্নবী(১৮)। সে বারৈয়ারহাট কলেজের ছাত্র। তার বাড়িতে গিয়ে নিহত হওয়ার কথা জানাগেছে।

দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন জানান, ফেনী থেকে মাটিরাঙার তাইন্দংয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস( নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ৯৬১৮) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের সময় করেরহাট রামগড় সড়কের লোহারপুল এলাকায় উঁচু রাস্তা থেকে নামতি পথে বিপরীত দিক থেকে দ্রুত বেগে আসা শান্তি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী চেয়ার কোচের প্রায় মুখোমুখি হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় মাটিরাঙাগামী বাসের চালক মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষার চেষ্টা করতেই বাসটি রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। এ সময় শান্তি পরিবহনের বাসটি দ্রুত চলে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তাটির দুপাশেই গভীর খাদ। দুটি যানবাহন ওভারটেক করার মত কোন স্থানই নেই। এছাড়া রাস্তার দুধার বন জঙ্গলে ঢেকে থাকার অল্প দূর থেকেও একটি গাড়ি থেকে অন্য গাড়িকে দেখা যায় না। এদিকে জনবসতিহীন ওই এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে নিকটবর্তী রামগড় বিজিবির চেক পোস্টে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা ছুটে আসেন। লোকজনদের ডেকে এনে তারা উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

ওই ক্যাম্পের ইনচার্জ নায়েক সুবেদার মজিবুর রহমান বলেন, তাদের ক্যাম্প থেকে প্রায় ১ কিমি দূরে ওই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার ছুটে যান। ওই সময় গভীর খাদে আহত যাত্রীরা আর্তনাৎ করছিলেন। রাস্তার পাশে গাছের সাথে রশি বেধেঁ ওই রশি ধরে তারা নিচে নেমে আহতদের উদ্ধার করে উপরে উঠিয়ে আনেন। তিনি বলেন, তারা একজন মহিলাসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করেন। মরদেহগুলো  উপরে তুলে আনার পর স্বজনরা দুজনের লাশ নিয়ে যায়।

বিজিবির নায়েক সুবেদার আরও জানান, আহতদের মীরেরশরাই, ফেনী, ছাগলনাইয়া, রামগড় প্রভৃতি স্থানে নিয়ে যায় তাদের স্বজনরা। আহতদের মধ্যে বিজিবি একজন পরিচ্ছন্নকর্মীও রয়েছেন।তাকে গুইমারা সিএমএইচ-এ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রামগড় থেকে বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল এম. জাহিদুর রশীদ ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে নির্দেশনা দেন। পরে জোরালগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার  বিপুল চন্দ্র দেবনাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসেন। হতাহতদের উদ্ধার সম্পন্ন হওয়ার পর মীরেরশরাই হতে দমকলবাহিনীর সদস্যরা  দুর্ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেন। এদিকে দুর্ঘটনা কবলিত বাসের চালক মুনির হোসেনও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বাসটি গভীর খাদ থেকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

বিদেশগামী ছেলেকে বিদায় দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে চির বিদায় নেন রহিমা খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নের বাজারটিলার বাসিন্দা মুন্নাফ সওদাগরের স্ত্রী রহিমা বেগম(৫০) বিদেশগামী ছেলেকে ঢাকা বিমান বন্দরে বিদায় দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সোমবার। সাথে আরেক ছেলে হোসেন(২৮)ও ছিলেন। ফেনী থেকে তারা দুজন মাটিরাঙাগামী ওই বাসটিতে উঠেন। করেরহাট রামগড় লোহারপুল এলাকায়  বাসটি গভীর খাদে পড়ে গেলে রহিমা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। ছেলে হোসেন আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে পাঠায় লোকজন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসান নামে তার এক স্বজন ছুটে আসেন অকুস্থলে। তিনি রহিমা বেগমের মরদেহ শনাক্ত করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, ছেলেকে বিদায় দিয়ে এসে তিনি নিজেই চির বিদায় নিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *