মেয়র রফিকুল আলমসহ নেতৃবৃন্দের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আওয়ামী লীগের একাংশের স্মারকলিপি ও মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে খাগড়াছড়িতে ব্যাপক শো-ডাউন হয়েছে।

দাবি আদায়ে রবিবার দুপুর ১টায় খাগড়াছড়ি পৌর শাপলা চত্বরে মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও বিএনপি-জামাত থেকে আগত তথাকথিক হাইব্রিড নেতারা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপর হামলা, হয়রানীমূলক মামলা ও বিভিন্ন অপকর্ম চালাচ্ছে। কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি দলীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করতে একের পর এক নির্যাতন করছে।

স্মারকলিপিতে এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির বিরুদ্ধে জামাত-বিএনপি ছাড়াও একটি অঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সাথে যোগসাজসে উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল ও জেলা পরিষদকে পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করে নিয়োগ বানিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।

এর আগে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কামাল পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগের আহবায়ক নুরুন নবী, পানছাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের ও রামগড় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শাহ আলম।

গত ১ আগস্ট রাতে খাগড়াছড়ি শহরের গঞ্জপাড়ায় সন্ত্রাসীরা জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সুরুজ মিয়াকে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করে।

এদিকে সুরুজ মিয়ার উপর হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক জানু সিকদার বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। মামলায় খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম, তার ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে গত দুই বছরে অন্তত অর্ধশতাধিক বার হামলা-পাল্টা হামলার মামলার ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *