মিয়ানমার ধ্বংস করে দেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে: অর্থমন্ত্রী


 

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

ওয়াশিংটন ডিসি, ১৫ অক্টোবর- মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সামলানোকেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংস’ করে দিচ্ছে বলে উপলব্ধি তার।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন চলাকালে শনিবার ইন্টারন্যাশনাল মনেটারি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল কমিটির (আইএমএফসি) বৈঠক শেষে রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রতিবেদকের কাছে এই প্রতিক্রিয়া জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই সম্মেলনের সব বৈঠকেই মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

“সবখানেই আমি বিষয়টি উপস্থাপন করছি। তারা সবাই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। বিশ্ব ব্যাংকও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা অনুদান ও ঋণ দুটোই দিতে চেয়েছে।

“এটা ঠিক যে, বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে। কিন্তু তারপরও আমাদের উপর বড় ধাক্কা আসবে।”

মিয়ানমারের রাখাইনে কয়েক দশক ধরে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের ওপর গত ২৫ অগাস্ট নতুন করে দমন অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। হত্যা, নির্যাতনের মুখে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ অভিমুখী হয়।

গত দেড় মাসে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে, যেখানে এই জনগোষ্ঠীর আরও চার লাখের মতো মানুষ আগে থেকেই এদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে।

মিয়ানমারের তীব্র সমালোচনা করে মুহিত বলেন, “মিয়ানমার একটা ব্লাডি কান্ট্রি, মিয়ানমার একটা বদমায়েশ দেশ। এই মিয়ানমার দেশটি এ বছর বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করবে। এটা বাংলাদেশের জন্য রিয়েল ক্রাইসিস, এটা বাংলাদেশের উপর হামলার শামিল।

“মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিশ্বে একমাত্র জনবিচ্ছিন্ন সেনাবাহিনী। সম্পূর্ণ সম্পদ সেনাবাহিনীর পেছনে খরচ হয়।”

রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের বিশাল অংকের টাকা খরচ করতে হবে। এটা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। দেশে গিয়েই বাজেট অ্যালোকেশন এদিক- ওদিক করতে হবে।”

বিশ্ব ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রোহিঙ্গাদের পেছনে কেন খরচ করা হবে-এ প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, “আমরা মানবিক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রথম থেকেই তাদের জন্য গেইট খুলে দিয়েছেন। তিনি মানবিক বলেই এ কাজটি করেছেন। বিশ্ববাসী তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।”

তবে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং তাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর ঠিকমতো চাপ দেওয়া হচ্ছে না বলে মনে করছেন মুহিত।

“আসলেই তেমন চাপ দেওয়া হচ্ছে না। চীন-রাশিয়া তো কিছুই করছে না। সম্মিলিতভাবে সবাই মিলে মিয়ানমারের উপর অর্থনৈতিক-বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিৎ।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *