মিয়ানমারে ফসলের গুদাম তৈরি করে দেবে ইসরাইল


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমারের মান্দালে এলাকায় কৃষকদের ফসল সংরক্ষণের জন্য এক বছরের মধ্যে গুদাম তৈরি করে দেয়ার ব্যাপারে সরকারের সাথে আলোচনা করছে একটি ইসরাইলি কোম্পানি।

ওজ অ্যাগ্রিবিজনেস প্রজেক্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান কৃষিবিদ আভরি বার জুর মিয়ানমার টাইমসকে বলেন যে, স্থানীয় সহায়তায় ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষকদের ফসল সংগ্রহ পরবর্তী প্রযুক্তির অভাব রয়েছে, যেমন তিলের বীজ সংরক্ষণ করা যেটা তারা ফসল তোলার পরপরই বিক্রি করে দেয়, যে কারণে অনেক সময় তারা ভাল দাম পায় না।

তিনি বলেন, “কৃষকদের সাহায্য করার জন্য খামার অবকাঠামো দরকার। যদি তারা ফসল সংগ্রহ পরবর্তী কৌশল সম্পর্কে জানতে পারে, তাহলে তারা তাদের পণ্য কয়েক মাসের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারবে এবং যখন উপযুক্ত দাম পাওয়া যাবে, তখন বিক্রি করতে পারবে।

আভরি বার জুর বলেন, কৃষি শিল্প গড়ে তুলতে এবং এটাকে আরও লাভজনক করতে হলে সরকারী ও বেসরকারী বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, “প্রথমে কৃষকদের তাদের পণ্যকে আরও মানসম্মত করে তুলতে হবে, যাতে তারা চীন, সিঙ্গাপুর অথবা অন্যান্য বাজার থেকে ভাল দাম পায়।”

তিনি বলেন, মিয়ানমারের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি কৃষিকাজে জড়িত কিন্তু তারা দেশের জিডিপিতে তাদের অবদান মাত্র ৩৫ শতাংশ। মিয়ানমারের কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও মান দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে নিম্নমানের।

ইয়াঙ্গুনে ইসরাইলি দূতাবাসতের ডেপুটি প্রধান নির বালজাম বলেন, কৃষির উন্নয়নের জন্য মিয়ানমার ও ইসরাইলের সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সহযোগিতার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

মান্দালেতে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এগ্রিটেক ইসরাইল ২০১৮ প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, সরকারী খাতে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এবং মান্দালের কৃষি মন্ত্রণালয় খামার সম্পর্কে আরও জানার জন্য ইসরাইলে শিক্ষার্থী পাঠাবে।

কৃষি বিষয়ে ইসরাইলের দক্ষতা এবং প্রযুক্তি মিয়ানমারকে তাদের বিশাল কৃষিখাতের পুনর্গঠনে সাহায্য করছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি সম্পাদিত বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির ফলে মিয়ানমারে বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগের পারস্পরিক প্রচারণা এবং সংরক্ষণের ব্যাপারে যে চুক্তি হয়, সেটার বাস্তবায়ন হয় ২০১৭ সালে।

মিয়ানমার তাদের খামার সেক্টরের উন্নয়নে ইসরাইলের অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। সহযোগিতা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারে কৃষি মডেল মাঠ গড়ে তোলা।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *