মিয়ানমারের বৌদ্ধ রাখাইনরা বাংলাদেশে ভোটার হচ্ছেন


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

হালনাগাদ ছবিসহ ভোটার তালিকায় মিয়ানমারের বৌদ্ধ রাখাইনরা বান্দরবানের লামায় রাখাইনরা পরিচয় পাল্টিয়ে ও তথ্য গোপন করে ভোটার হচ্ছে। একাজে স্থানীয় কার্বারী, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১০টি আলাদা বুথের মাধ্যমে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, হেডম্যান ও ইউপি মেম্বারদের সহায়তায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে লামা উপজেলা নির্বাচন অফিস। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম চলবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

জানা গেছে, লামায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে কিছু মিয়ানমারের বৌদ্ধ রাখাইনরা পরিচয় পাল্টিয়ে ও তথ্য গোপন করে ভোটার হচ্ছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বৌদ্ধদের ভোটার করে অনেক নেতারা তাদের ভোট বাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দুর্গম এলাকায় অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য উপজাতি হওয়ায় এবং কার্বারীরাও উপজাতি হওয়ায় তাদের সহযোগিতায় মিয়ানমারের উপজাতিদের ভোটার করার অভিযোগ রয়েছে।

ধবার লামার সরই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড কম্পোনিয়া রিটর পাড়ার রিথোয়াই মার্মাকে ভুয়া বাবা সাজিয়ে “রাজসেনা (ভান্তে)” নামে একজন মিয়ানমারের নাগরিক ভোটার হওয়ার জন্য কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাচন অফিসার নব বিন্দু নারায়ণ চাকমা কে অবহিত করলে তিনি রাজসেনা এর সকল কাগজপত্র জব্দ করেন। স্থানীয়রা জানায়, কম্পোনিয়ার রিথোয়াই মার্মার ৩ ছেলে অথচ রাজসেনা সহ হয় ৪ ছেলে।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার নব বিন্দু নারায়ণ চাকমা বলেন, তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে তার কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। তাকে খুঁজে পেলেই আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা তাকে খুজঁছি। বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে স্থানীয় একজন উপজাতি নেতা বলেন, মিয়ানমারের অনেক রাখাইন বৌদ্ধরা আগেই ভোটার হয়েছে। অনেকে এখনও হওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের চেনার একটি উপায় হচ্ছে তারা নামের শেষে মার্মা বা রাখাইন বিশেষণটি লিখে না। তাদের দেখতে মার্মাদের মত হওয়ায়, তারা এই সুযোগটি গ্রহণ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *