মিশন হিল ট্রাক্টস


পর্ব-২

শান্ত চোখে সুমনের দিকে তাকালো মিনহাজ। বললো, তুমি বলেছিলে পল্লীর লোকেরা তোমাদের বাসায় আসবে করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে। কখন আসবে তাঁরা?

: ঘণ্টা খানেকের ভিতর চলে আসবে। উত্তরে বললো সুমুন।

: তোমার বাবাকে বলে সেই মিটিং এ আমাকে রেখো।

: বাবাকে কি বলবো! বাবা আমাকে কিছুক্ষণ আগে নিজেই বলেছেন আপনি যেন থাকেন সেই মিটিংয়ে।

: আলহামদুলিল্লাহ, তাহলে তো কথা নেই। সবাই আসলে আমাকে খবর দিও। বললো মিনহাজ।

 

সুমন রুম থেকে বের হয়ে গেলে মিনহাজ সোফায় হেলান দিয়ে চোখ দুটি বন্ধ করলো। গতকাল থেকে সে স্বপ্নের মাঝে আছে। ডিজিএফআই এর কর্নেল নোমান সাহেবের উদ্বিগ্ন চেহারা তার চোখে ভাসছে। তখন মনে হয়েছিল অহেতুক তিনি উদ্বিগ্ন! এখন কিছুটা বুঝতে পারছে কেন তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। পাহাড়ে এত বড় বড় ঘটনা ঘটে যাচ্ছে  অথচ বিশ্ববাসী দূরের কথা, দেশবাসীও কিছু জানে না! অথচ বিশ্বময় প্রচার আছে এখানে নাকি সেনাবাহিনী উপজাতিদের উপর নির্যাতন করে!

 

গত তিন দিন আগের কথা ভেবে অবাক হচ্ছে মিনহাজ। তিন দিন আগে সে কোথায় ছিল আর আজ কোথায় বসে আছে! বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে মানবাধিকার কর্মীর কভারে রোহিঙ্গাদের সংবাদ সংগ্রহে সমস্যা সংকুল মায়ানমারে ছিল সে। কাজ  শেষ হবার আগেই ডাক আসে দেশ থেকে। বলা হয় একদিনের ভিতর দেশে চলে আসতে। মিনহাজের রিপ্লেসে অন্য একজনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

চ্যানেলের প্রধান সম্পাদক রোকনুজ্জামান চারজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়ে আলাপ করছিলেন। মিনহাজ উপস্থিত হলে হাতের ইশারায় ফাঁকা একটি চেয়ার দেখিয়ে বসতে বলল। রোকনুজ্জামানের চেহারা অতিরিক্ত শান্ত দেখাচ্ছে। এই চেহারাটা মিনহাজের খুব পরিচিত। যখন তিনি কোন জটিল বিষয় নিতে অতিরিক্ত চিন্তিত থাকেন অথবা অতিরিক্ত রাগান্বিত থাকেন তখন উনাকে দেখতে খুব শান্ত লাগে। নির্জন এলাকার গভীর দিঘির শান্ত পানি দেখলে যেমন গা ছমছম করে স্যারের এই শান্ত রূপটি দেখলেও গা ছমছম করে উঠে।

: তোমাকে ধন্যবাদ মিনহাজ। বিদেশের কাজ শেষ হবার আগেই তোমাকে চলে আসতে বলার কারণ এখনো না জানলেও বিষয়টি খুব গুরুতর সেটা নিশ্চয় অনুধাবন করছো, বললেন রোকনুজ্জামান।

: জি ভাইয়া বুঝতে পারছি।

: আমি অন্য কাওকেও নিতে পারতাম কিন্তু তোমার অতীত রেকর্ড দেখে তোমাকে ডাকতে বাধ্য হয়েছি।

: ভাইয়া আমি কৃতজ্ঞ যে, আমার উপর ভরসা রেখেছেন। পেশার প্রয়োজনে যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে আমি প্রস্তুত।

: ধন্যবাদ , আমি জানি। আমরা মুল পয়েণ্টে চলে আসি। বললেন প্রধান সম্পাদক।

: জি ভাইয়া আমি শুনতে প্রস্তুত। উপস্থিত অন্যরা সায় দিলেন।

: তোমাকে পার্বত্য চট্রগ্রামে একটি বড় মিশনে পাঠাতে চাই।

: আপনার যা আদেশ। কোন বিষয়ে মিশন যদি ক্লিয়ার করতেন ভাইয়া, বললো মিনহাজ।

: পার্বত্য চট্রগ্রাম নিয়ে একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রে মেতেছে। এতদিন পার্শ্ববর্তী দেশের সহায়তা নিয়ে সেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি অরাজকতা চালিয়েছে। এখন এদের সাথে যুক্ত হয়েছে ইহুদী গোয়েন্দা সংস্থা।
একটু দম নিলেন রোকনুজ্জামান। টেবিলে রাখা গ্লাস থেকে মুখে পানি নিলেন। তারপর আবারো শুরু করলেন।


এই সিরিজের আগের পর্ব পড়ুন নিচের লিংকে

মিশন হিল ট্র্যাক্টস পর্ব- ১


: আমাদের কাছে খবর আছে গত কয়েক মাসে সেখানে বেশ কিছু বাঙালী নিখোঁজ হয়েছে। চলছে হত্যাকাণ্ড, জমি দখল, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে চলছে বাঙালী উচ্ছেদ।

: কী বলেন ভাইয়া! এই ধরণের কোন খবর পত্র পত্রিকা বা কোন চ্যানেলে দেখেছি মনে পড়ছে না, বললো মিনহাজ।

: হ্যা, ভালো একটি পয়েন্ট ধরেছো। দেখা যায়নি, খবর আসেনি অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবে এখানে এমন কোন গোষ্ঠী জড়িত আছে যারা এই খবর গোপন করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই বিষয়টিও প্রমাণ করে সেখানকার পরিস্থিতি কত জটিল।

: যদি এতই খারাপ হয়ে থাকে তাহলে সরকার সেনা অভিযান চালাচ্ছেনা কেন? জিজ্ঞাসা মিনহাজের।

: যেহেতু বিষয়গুলো প্রকাশ হচ্ছে না তাই সরকার চাইলেই সেনা অভিযান চালাতে পারে না। আবার ষড়যন্ত্রকারীরা খুব করে চাচ্ছে তাদের উপর সেনা অভিযান চালানো হোক, তাতে তারা ভিন্ন উপায়ে ফায়দা লুটবে। কেননা তারা দাবি করছে সকল সেনা ক্যাম্প পাহাড় থেকে সরিয়ে নিতে হবে। এসময় সেনা অভিযান চালালে তারা হইচই করে আন্তর্জাতিক অপপ্রচার চালাবে। সরকারকে চাপে ফেলে পূর্ব তিমুরের মত গণভোটের আয়োজন করে পার্বত্য এলাকা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে।

আঁতকে উঠে মিনহাজ!

: তার মানে বড় এক ষড়যন্ত্রের মাঝে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অখণ্ডতা!

: ঠিক বলেছো মিনহাজ। একারণেই তোমাকে সেখানে পাঠিয়ে সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি বের করে আনতে চাই। এটা যেমন হবে দেশের জন্য কাজ করা, তেমনি আমরা সফল হতে পারলে আমাদের চ্যানেলের রেটিং অনেক বেড়ে যাবে। তোমাকে আরো একটি তথ্য জানিয়ে রাখি। তুমি যখন মায়ানমারে যাও তখন একটা ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য আমাদের চ্যানেলের চারজনের একটি টিম গিয়েছিল সেখানে, সাতদিন ধরে নিখোঁজ তারা। কোনভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে মিনহাজ। এখানে বসেই মনে মনে প্রস্তুত হয়ে যায়।

: এতক্ষণ যা কিছু শুনলে সব সত্য ঘটনা। কিন্তু একটারও প্রমাণ নেই। এসব প্রমাণ যোগাড়ে কোন ক্লুও দিতে পারবো না। তোমাকে সেই এলাকায় ঘুরে ঘুরে ক্লু বের করতে হবে। যাকে বলে খড়ের পালায় সুঁই খোজার মত। তবে আমার বিশ্বাস তুমি দ্রুতই তাদের দেখা পাবে। এক নিশ্বাসে বলে রোকোনুজ্জামান।

 

এভাবেই এই এলাকায় আগমন হয় মিনহাজের।

 

সুমন রুমে ঢুকে দেখে মিনহাজ চোখ বন্ধ করে গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে।  শরীর খারাপ করেছে কিনা চিন্তা করে। ডাকবে কি ডাকবেনা ভেবেও ডাক দিলো।

: স্যার শরীরটা ঠিক আছে আপনার? সোজা হয়ে বসলো মিনহাজ।

: না না শরীর ঠিক আছে। বলো কি খবর?

: উঠানে সবাই অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। বাবা ডাকতে পাঠালেন।

: ওহ, আগে ডাক দিলে না কেন! চলো চলো যাই।

 

বাহিরে তখনও পুড়ে যাওয়া কাঠ থেকে ধোঁয়া উঠছে। বাড়ির উঠোনের মাঝখানে চেয়ার বসানো হয়েছে। ২০/২৫ জন মুরব্বি সেখানে বসে আছে। তাদের পিছন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু যুবক। সামনে রাখা পাঁচটি চেয়ারে সুমনের বাবা এবং পল্লীর আরো তিনজন মুরব্বী বসে আছেন। একটি চেয়ার ফাঁকা রেখেছে মিনহাজের জন্য। মিনহাজ মুরব্বিদের কাছাকাছি এসে সালাম দিলো। সবাই উত্তর নিলে সুমনের বাবা ফাঁকা চেয়ারটি দেখিয়ে বসতে বললেন।

আলোচনা শুরু হলো। এখানে উপস্থিত গ্রামের সব চেয়ে প্রবীণ লোকটির নাম আব্দুল বারেক। বারেক মাতুব্বর বলেই সবাই ডাকে। তিনি মিনহাজের পাশে বসেছেন। শুরুতে তিনি বললেন,

: আসো আমরা আলোচনা শুরু করি। প্রথমে আমি ইমাম সাহেবকে বলতে চাই তার সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছিল। আমাদের আগে থেকে তাদের কথায় গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ ছিল। তাদের দাবি করা টাকা দিয়ে দিলে আজকের ক্ষতি আমাদের হতো না। আমি তোমাদের থেকে অনেক বেশি দেখেছি। এমন ভুল সিদ্ধান্তে অতীতে আমার তিন ছেলেকে হারিয়েছি। আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে পাহাড়ে লাশটি ফেলে গেছে। আমরা কিছুই করতে পারি নি। এখন  আরো বড় ক্ষতি হবার আগে পল্লীর প্রতিটা ঘর থেকে টাকা তুলতে হবে। না হলে প্রতিটা পরিবারের অবস্থা আমার মত হবে।

কেঁপে উঠে সবার অন্তর। বারেক মাতুব্বরের ছেলের করুণ মৃত্যুর কথা সবার মনে পড়ে যায়। উনার ছেলের মাথা এক দিকে ছিল, শরীর অন্যদিকে ছিল এবং মাথার ঘিলুগুলো চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। মাথার ঘিলু বের করে উপজাতি সন্ত্রাসীরা উল্লাস করেছিল। আজও কোন বিচার হয়নি এসব ঘটনার।
সবাই মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানালো বারেক মাতুব্বরের কথায়। সুমনের বাবা ইমাম রফিকুজ্জামান বললেন,

: আমরা আর কতদিন এভাবে টাকা দিবো? দু’মাস পরপর চিঠি পাঠিয়ে টাকা চাচ্ছে আর আমরা ফসল গবাদিপশু বিক্রি করে টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি!  তারপরেও টাকা দিয়ে যদি শান্তিতে থাকতে পেতাম দুঃখ ছিলনা! তাদের দাবিকৃত টাকা দেওয়ার পরেও রাতের আঁধারে আমাদের ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে, আমাদের মেয়েদের ধর্ষণ করছে, আমাদের ছেলেদের হত্যা করছে! জীবনই রক্ষা করতে পারছি না সেখানে দু’মাস পরপর টাকা দিয়ে শুধু ঘর রক্ষা করে কি লাভ? রফিকুজ্জামানের চোখে টলমল করে ওঠে অশ্রু। চারিদিকে নিরবতা। সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে চুপ করে আছে। কেউ কোন কথা খুঁজে পাচ্ছে না। ইমাম সাহেবের কথাও এখন যৌক্তিক মনে হচ্ছে।
এ পর্যায়ে মিনহাজ কথা শুরু করলো। উপস্থিত পল্লীর মুরুব্বিগণ, আপনারা অনুমতি দিলে আমি কিছু বলতে চাই।
সবাই মিনহাজের দিকে ফিরে তাকালো। চিনতে পারলো গত রাতের তাদের উদ্ধারে সাহায্য করা সেই ছেলেটিকে। মুরব্বীরা সমস্বরে বলে উঠলো, হ্যা বাবা বলেন আপনি।
: ইমাম সাহেব যেটা বললেন আমি  মনে করি সেটাই সঠিক বলেছেন। এসব সন্ত্রাসীদের টাকা দিয়ে লাভ নেই। বললো মিনহাজ।
মাঝ থেকে একজন বললেন, তাহলে আমরা কি করবো? ওরা কাল আবার আসবে বলেছে। টাকা না দিলে বাকি সব ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিবে এবং মেয়েদের ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে গেছে।
: এখন একমাত্র সমাধান হলো, প্রতিরোধ করা। ইস্পাত কঠিন শোনালো মিনহাজের কণ্ঠ।
সবাই যেন আকাশ থেকে পড়লো!

: প্রতিরোধ করবো আমরা? কিভাবে? ওরা অস্ত্রধারী। আগে আমাদের পল্লীর পাশে সেনা ক্যাম্প ছিল। সরকারের সাথে চুক্তির পরে সেগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন তো কেউ খবরও পায় না আমাদের দুর্দশার কথা। বললো মিনহাজের পাশে বসা প্রবীণ ব্যাক্তিটি।
: আল্লাহর উপর ভরসা করে নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেদেরকেই করতে হবে। একবার বুক উঁচু করে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন সব পালাবে। বলল মিনহাজ।

মুরব্বিদের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকরা বুক উঁচু করে বললো,

: ঠিক বলেছেন, ঠিক বলেছেন। আমাদের এমনিতেই বাঁচতে দেবে না। সুতরাং বসে বসে মার না খেয়ে প্রতিরোধ করে মৃত্যু অনেক সম্মানের।

যুবক সন্তানদের কথা শুনে তাদের পিতারাও সাহসী হয়ে উঠলো। ইমাম সাহেব উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,

: তোমাদের কথায় আমরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছি। এই সাহসী যুবকরাই পারে বাঙালী পল্লীকে উপজাতি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে।

 

পারিকল্পনা মাফিক দূর পাহাড়ে একজনকে পাঠানো হয় নজর রাখতে। যদি তাদের আসতে দেখা যায়, সে বাঁশি বাজিয়ে সংকেত দেবে।

পল্লীর যুবকদের নিয়ে ৫০ জনের একটি দল গঠন করা হয়েছে। দশজন করে পাঁচটি গ্রুপে ভাগ করে চারটি পাহাড়ের টিলায় তাদের পাঠানো হয়েছে। একটি দলকে রাখা হয়েছে পল্লীতে। তারা পল্লীর চারিদিকে পাহারা দেবে।  সবার কাছে আছে পর্যাপ্ত ইট, পাথর এবং লাঠি। যখন উপজাতি সন্ত্রাসীরা চাঁদা নিতে দুই পাহাড়ের মাঝের সরু পথ দিয়ে আসবে তখন উপর থেকে পাথর নিক্ষেপ করা হবে। সামনাসামনি হয়ে গেলে দরকার হলে লাঠি দিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।

 

বিকালে পাঁচটি দলের অবস্থান দেখে এবং তাদের কাজ বুঝিয়ে দিয়ে মিনহাজ সুমনকে সাথে নিয়ে আশেপাশের এলাকা দেখে নিতে বের হয়। সে পরিকল্পনায় কোন খুঁত রাখতে চায় না।  আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখে বুঝলো পরিকলনায় একটা বিরাট ভুল থেকে গেছে। পাহাড়ি উপজাতি সন্ত্রাসীরা বিনা বাঁধায় ঢুকে পড়বে বাঙালী পল্লীতে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে গেলেও এখানে পাহারারত কেউ বুঝতেও পারবেনা। যখন আগুন আকাশে উঠবে তখন হয়তো রাতের অন্ধাকারে আলো দেখে বুঝবে কিছু একটা ঘটেছে! মিনহাজের শরীর ঘামতে থাকে। নিজের চুল নিজেই ছিঁড়তে চায়।

ধীরে ধীরে মনটা শান্ত করে। চোখ দুটি বন্ধ করে আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনা করে। বিদ্যুৎ বেগে মনে মনে সব গুছিয়ে নিতে থাকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার।

 

যে পথে সবাইকে রাখা হয়েছে এটা সবার চলাচলের পথ। এই পথ দিয়ে এখানকার জনসাধারণ হাটবাজার এবং শহরের দিকে চলাচল করে। কিন্তু এই পথে না এসে কেউ যদি ছোট্ট একটি টিলা পাড়ি দিতে পারে তাহলে সরাসরি গ্রামের কাছাকাছি চলে আসতে পারবে। যারা অন্যায় কাজে আসে তারা সোজা পথে চলাচল করবেনা এটাই স্বাভাবিক। এই পথের কথাটি আগে কেউ জানালে সুবিধা হতো। পাহারার অর্ধেক জনশক্তি এখানে নিয়ে আসা যেত।

 

মিনহাজকে কিছুটা চিন্তিত দেখে সুমন জিজ্ঞেস করলো, কোন সমস্যা স্যার?

: তোমাকে আগেও বলেছি আমাকে স্যার ডাকবে না। আমাকে ভাইয়া বলে ডেকো।

একটু লাজুক হাঁসি দেয় সুমন। চুপ করে থাকে। মিনহাজ আবারো কথা শুরু করে।

: সুমন আমাকে এই যায়গাটার কথা আগে বলোনি কেন?

: এই জায়গার কথা কিছু বলার আছে বলে আমার কাছে মনে হয়নি। কোন সমস্যা হয়েছে এই জায়গার? বললো সুমন।

: ঐ পাহাড়টা দেখো। কেউ যদি এটা পার হয়ে এদিকে আসে তাহলে সরাসরি তোমাদের পল্লীর পিছনে গিয়ে উপস্থিত হবে। আমরা যেখানে পাহারায় বসিয়েছি তারা কেউ জানতেও পারবে না। চারিদিকটা দেখিয়ে বললো মিনহাজ।

মিনহাজের বর্ণণা শুনে সুমনের কাছে মনে হচ্ছে মিনহাজ এই এলাকায় অনেক বছর ধরে আছে! সুমন এখানে জন্ম নিলেও একবারও ভাবেনি এমন কিছু হতে পারে। এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সময় নেই। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। পাহাড়ের চুড়া দিয়ে চাঁদ দেখা যাচ্ছে। একটু পরেই সম্পুর্ণ চাঁদ দেখা যাবে।

: এখন কি করবো ভাইয়া?

: এখন ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিতে হবে। আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তুমি একটা কাজ করতে পারো। এখনি চলে যাও কাছের পাহাড়টায়। ওখান থেকে একজনকে পাঠিয়ে দিবে অন্য পাহাড়ে খবর দিতে। এভাবে সবার কাছে খবর পৌঁছে দিবে। যদি এদিকে কোন গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যায় সাথে সাথে সবাইকে এদিকে রওনা দিতে বলবে।

: আপনি একা এখানে কি করবেন? ভীত হয়ে বললো সুমন।

: আমি তোমাদের অপেক্ষা করবো। তুমি দেরি না করে চলে যাও।

 

সুমন চলে গেলে মিনহাজ একটি ঢিবির আড়ালে সুবিধাজনক অবস্থান বেছে নিলো। পকেটে হাত দিয়ে দেখে নিলো নিজের লাইসেন্স করা আধুনিক অটোমেটিক রিভালবারটি। সাইট ব্যাগে হাত দিয়ে দেখলো অতিরিক্ত গুলি আছে কিনা। এই রিভালবার চেপে ধরলে এক সাথে দুই ম্যাগাজিনে থাকা ২০টি গুলি বের হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *