parbattanews bangladesh

মানিকছড়ির গৃহবধু সালমা হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি: মাত্র ৯ দিনে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির গৃহবধূ সালমা আক্তার(২০) হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গৃহবধূর স্বামী বেলাল হোসেন(২৬) এ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য দিয়েছেন। দ্রুত সময়ে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হওয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরুস্কৃত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

মানিকছড়ি থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে স্বামী বেলাল হোসেন স্ত্রী সালমা আক্তারকে হত্যার পর নিজে আহত হয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা চালায় এবং বেলাল হোসনের বাবা মমতাজ হোসেন ও মা শিরিন বেগম হত্যাকান্ডে পরোচনা ও তথ্য গোপনের চেষ্টার অভিযোগে তাদের বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার (১ আগস্ট) ভোরে মানিকছড়ির তিনটহরী মধ্যম পাড়ায় বেলালের বাসায় চিৎকার শুনতে পেয়ে প্রতিবেশীরা সেখানে ছুটে যায়। তারা সেখানে গিয়ে দেখেন যে বেলাল হোসেন এবং তার স্ত্রী সালমা আক্তার(২২) রক্তাক্তাবস্থায় উঠানে পড়ে ছটফট করছে। পরে তারা আহত দু’জনকে উদ্ধার করে মানিকছড়ি হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক জানান সালমা আক্তার(২২) মৃত্যুবরণ করেছে। অপর দিকে আহত বেলাল হোসেনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, অপরাধ বিজ্ঞানের পদ্ধতি অনুসরণ করে এ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে দেখা গেছে, স্বামী বেলাল হোসেন পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে হত্যা করার পর নিজে গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে হত্যাকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে বলে ধারণা হয়। সে ধারণা থেকে ৯ আগস্ট বেলাল হোসেন হাসপাতাল থেকে অবমুক্ত হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে এবং শুক্রবার (১০ আগস্ট) অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তারের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

শনিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান সাংবাদিকদের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে বেলাল হোসেন ঐদিন রাতে স্ত্রী সালমা আক্তারকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। স্ত্রী টের পেয়ে পালাতে চেষ্টা করলে এলোপাথারি আঘাত করা হয়। তার পরও সালমা বেগম পালানোর চেষ্টা করে বাড়ীর উঠনে পড়ে গেলে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং ঘটনা অন্যভাবে সাজানোর জন্য ঐ ছোড়া দিয়েই নিজের গলায় আঘাত করে ও চিৎকার করে লোকজন জমায়েত করে সন্ত্রাসীরা করেছে বলে প্রচার করে। পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান আরো জানান, সামলা আক্তারকে হত্যার পর তার শ্বশুর মমতাজ হোসেন(৬০) ও শাশুড়ী শিরিন বেগমকে(৫০) হত্যাকান্ডের আলামত নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে তাদেরও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এদিকে অতি অল্প সময়ে সালমা আক্তার হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হওয়ায় সহকারী পুলিশ সুপার(মানিকছড়ি সার্কেল) আব্দুল আউয়াল চৌধুরী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে শনিবার পুরস্কৃত করেছেন খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান।

প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বেও খাগড়াছড়িতে কলেজ ছাত্রী ইতি চাকমা ও খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে যুবলীগ নুরুল ইসলাম নয়ন ও গুইমারায় ছাত্রদল নেতা রবিউল হকসহ বেশ চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনসহ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।