parbattanews bangladesh

মানিকছড়ির গবামারা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

মানিকছড়ি উপজেলার গবামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ এর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসে অনুপস্থিত থাকা, বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রিসহ ম্যানেজিং কমিটিকে অবজ্ঞা করে কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছে।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পার্বত্য জেলা পরিষদ বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করতে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলা পশ্চাৎপদ জনপদ গবামারা এলাকায় সেই ১৯৯৬ সালে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত‘ গবামারা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখানে প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে রয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ ও সহকারি শিক্ষক হিসেবে তার স্ত্রী বেগম নাজমা খাতুন।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলেও সরকারীকরণের পর প্রধান শিক্ষক বদলে যান। অর্থ্যাৎ তিনি বিদ্যালয়ে গড় অনুপস্থিত থেকে স্ত্রীকে দিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ঠিক রেখে ব্যক্তিগত ব্যবসা-বানিজ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন! স্থানীয় পোল্ট্রি খামারে খাদ্য সরবরাহ করেন। যার ফলে বিদ্যালয়ে নিয়মিত অভিভাবক সভা-সমাবেশ করা যাচ্ছেনা।

এছাড়া গত ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর দিনেও স্কুলে জাতীয় কর্মসূচী পরিপূর্ণভাবে পালন করা হয়নি! সেদিন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ের গাছ কেটে বিক্রি করাসহ নানা অভিযোগ এনে গত ১৬ আগস্ট সভাপতিসহ অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,খাগড়াছড়ির বরাবর আবেদন করেন।

এরই প্রেক্ষিতে বিষয়টি দ্রুত সরজমিন তদন্ত করে কার্য দিবসের প্রতিবেদন দিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে বলা হয়েছে। ফলে গত ২৯ আগস্ট উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শুভাশীষ বড়ুয়া ও জবরুদ খান সরজমিন তদন্তে যান এবং আবেদনকারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিকট প্রধান শিক্ষক সর্ম্পকে জানতে চান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শুভাশীষ বড়ুয়া ২ সেপ্টেম্বর দুপরে এ প্রতিবেদককে বলেন, সরজমিনে প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া না গেলেও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তাকে অন্যত্র বদলীর জন্য সুপারিশ করা হবে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ তার চাকরী সরকারিকরণের পর নিজেকে অনেকটা বদলে ফেলেছেন। বর্তমান সরকারের কর্মসূচীগুলো পালন করতে গিয়ে খামখেয়ালীপনা করেন। তাকে বারবার সর্তক করেও জাতীয় প্রোগ্রাম পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করাতে পারিনি। বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে তাৎক্ষনিকভাবে প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ এর মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।